গৌতম বাড়ই
তুষারের ভিড়ে মানুষ
বহুদিন ধরে স্বপ্নগুলো তুষারের মতো ঝরে
বুকের পকেটে জমে থাকে সাদা কণা
যেন নিজেরই নকল এক জীবন বয়ে বেড়াই
বেঁচে থেকেও না-বাঁচার এক অদ্ভুত ব্যাকরণ আছে
সেই ব্যাকরণই আমাকে রাতে রাজপথে টেনে আনে।
মৃত্যুর মতো ঠান্ডা নীরবতা দুলতে থাকে বাতাসে
আমি পকেটে ভরা তুষারকণা গায়ে মাখি
যেন স্মৃতিকে শরীরের গোপন জায়গায় ছড়িয়ে দিচ্ছি
আলো-হীন রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে
দেখি হাজার মুখ—একেকটি মুখে আমারই পুনরাবৃত্তি।
তারা বলে, বেঁচে থাকার মধ্যেই
বহুবার মরে যাওয়া যায় অনায়াসে
আমিও মাথা নাড়ি—এই শহরই সাক্ষী
একই শরীরে কতবার তুষার জমেছে, গেছেও হারিয়ে.....
আত্মার জলযান
জীবন এক নৌকা
নেমে পড়েছে দিশাহীন সময়ের জলে
কালের রথচক্র ঘুরে যায়
অন্ধকারের ম্লান আলোয়
সূর্যরশ্মি এখন শরীরের ক্ষয়
অভিলাষ শুধু ভিজে রয়ে গেছে
প্রকৃতি, তুমি আজ মৃত্তিকার গভীর উচ্চারণ—
যেখানে মৃত্তিকা মানে দেহ নয়
বরং স্মৃতির ধ্বনি
মৃত্যু এক অপূর্ব আহ্বান
জলের নিচে আত্মার মৃদু ফিসফাস।
আমি হারিয়ে যেতে চাই—
নামহীন, বর্ণহীন,
ধ্রুব সেই বিন্দুতে
যেখানে অনন্তেরও শেষ নেই...
মোমোর দেশে
মোমোর গন্ধে বাতাস ম্ ম্ করে,
খুশবু পাক খেয়ে উঠে যায় আকাশে।
শাড়ির আঁচল নেচে ওঠে যেন পালের ভেতর হাওয়া ঢুকে পড়েছে।
মোমোর ভিতরে পুর থাকে—
মাংস, শাকসবজি, কিংবা স্মৃতির গন্ধ।
আমাদের মনেও তো পুর ভরা থাকে,
নিরামিষ, আমিষ, ভালোবাসা, অনিচ্ছা।
কেউ ব্যালেন্স করে,কেউ কেবল খাওয়াতেই মগ্ন থাকে।
আমার গিন্নী হাউমাউ করে খায়
আমি তাকিয়ে থাকি তৃপ্ত চোখে।
এখন ঠিক হয়েছে,এরপর থেকে আমরা শুধু ভেজ মোমোই খাব।কারণ, এই পৃথিবী যতই ভাগ হয়ে যাক—
আমাদের বেঁচে থাকতে হবে
একসাথে, আরও অনেক দিন
0 Comments