মুখোশ
তুমি কি ভাবছো আমার সঙ্গে শত্রুতা করে অন্য কাউকে বিয়ে করলেই খুব জব্দ হয়ে যাব আমি? আর তাতেই ছিঁড়ে যাবে আমার ভয়ংকর সব মুখোশ, হাতে পায়ের দীর্ঘ সব নখ? তুমি জানো না, এতে আরো, আরো নিষ্ঠুর হয়ে যাব আমি! যে সব নখে এতদিন তোমায় রক্তাক্ত করেছি, তারা এরপর ক্রমাগত ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাবে আমার সব কলা কোষ, যে সব মুখোশে এতকাল ভয় পেয়ে এসেছ তুমি, তারা আর কাউকে না পেয়ে ক্রমাগত ভয় দেখাবে আমাকে– আমি ক্রমশ ভয় পেয়ে পালাতে পালাতে, নিজের কাছে লুকোতে লুকোতে একদিন ক্লান্ত হয়ে স্হানু হয়ে গেলে মাটি বেঁধে ফেলবে আমায় শেকড়ে বাকড়ে। সেইসব শেকড় বাড়তে বাড়তে যেদিন পৃথিবীর আরো গভীরে লাভার স্পর্শ পাবে, সেইদিন প্রচন্ড অগ্নুৎপাতে ধ্বংস করে ফেলব, জ্বালিয়ে ফেলব আমার এই ভগ্ন শরীর আর তাতে ধীরে ধীরে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে আমার সব নিষ্ঠুর পূর্ব ইতিহাস। তখন? তখন কে জব্দ হবে? তার চেয়ে ভালোয় ভালোয় এসব মতলব ছাড়ো তুমি! বরং চেষ্টা করে দেখো নিজের হাতে এইসব মুখোশ ছিঁড়ে ফেলতে পারো কিনা!
হয়তো
বহুদিন পরে হঠাৎ কোথাও দেখা হয়ে গেলে বুঝি চিনতে পারবে না আমায়? তখন না হয় একটুখানি পাক ধরবে চুলে! দাঁতগুলোও না হয় নড়বড়ে হয়ে যাবে দু একটা – তাই বলে ভালোবাসার রঙও কি বদলে যাবে তখন? তুমি চিনতে না পারলে কিন্তু প্রচণ্ড রাগ হবে আমার, রক্তচাপ বাড়তে থাকবে হু হু করে, দুম করে হয়তো কটু কথাও বলে দিতে পারি তোমায়। তখন তোমারও কি হাইপার-টেনশান? তাহলে কিন্তু ভারী মুশকিলে ফেলবে আমায়! বাড়ী ফিরে সারারাত না পারব ঘুমোতে, না পারব স্থির হয়ে থাকতে। স্মৃতির তর্পণও তো করতে পারব না এটুকুও! শুধু খারাপ খারাপ চিন্তা আসবে মাথায়। কোনক্রমে সকাল হলেই তোমায় ফোন করে জানতে চাইবো – কী, সবকিছু ঠিকঠাক চলছে তো?
নাগাল
বহু হাওয়া মিশে গেছে ঝড়ে
বহু আলো ছায়া পাশাপাশি
একই চাঁদ একই আলো হাওয়া
একই সুখের সন্তান সন্ততি
বলোনি তো, ব্যথা জমে আছে!
সময়ও তো জীর্ণ হয় সময়ের কাছে
গোলাপ দিয়েছি কাঁটা ভেঙে কি দিইনি?
মেঘের হৃদয় ছুটে সীমানা ছেড়েছি
বৃষ্টি তবু নিরিবিলি সুযোগ ছাড়েনি
নারী কি মেঘের মতো বৃষ্টি ধরে রাখে?
আজ রাতে এসো তবে চাঁদ ছুঁয়ে বলি
কোন কথা কষ্ট দেয় নিভৃতে আড়ালে
কি এমন ব্যথা আছে মোছাতে পারিনি,
ব্যথার ভিতর কোন অন্য ব্যথা আছে?
0 Comments