জ্বলদর্চি

ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকার কবিতা /অনুবাদ : অর্হণ জানা


ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকার কবিতা

অনুবাদ: অর্হণ জানা

[ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা (১৮৯৮–১৯৩৬) — স্পেনের জনপ্রিয়তম কবি, গীতিকার, নাট্যকার, সংগীতশিল্পী, চিত্রশিল্পী, নাট্য-পরিচালক। স্কুলজীবনেই তাঁর কবিতা লেখার হাতেখড়ি। দর্শন ও আইন পড়ার জন্য তরুণ বয়সে গ্রানাডা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েও হঠাৎই আইন পড়া ছেড়ে দিয়ে শিল্প-সাহিত্য ও মঞ্চ নিয়ে পড়তে আরম্ভ করলেন। ১৯২১ সালে বেরোয় তাঁর প্রথম কবিতার বই। 'দ্য জিপসি ব্যালাড' তাঁকে সাহিত্যজগতে পরিচিতি এনে দেয়। তাঁর উদারবাদী বামপন্থী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে উদীয়মান উগ্র দক্ষিণপন্থীরা তাঁকে ১৯৩৬ সালের ১৯ অগস্ট গুলি করে হত্যা করে।]


বোকার গান

মা,
আমি যদি রুপোর মানুষ হই

ছেলে,
তোর খুব শীত করবে সোনা

মা,
আমি চাই জলমানব হতে

ছেলে,
তোর খুব শীত করবে সোনা

মা,
বরং আমায় তোমার বালিশে এঁকে নাও
সুঁচ-সুতোয় গেঁথে রেখো সময়মতো

ছেলে আমার, আয় এদিকে...


বিদায়

আমি যদি মারা যাই
ব্যালকনি খোলা রেখে দিয়ো। 

ছেলেটা কমলালেবু খায়
(ব্যালকনি থেকে আমি শুনি।) 

গম কাটা হয় গমখেতে
(আমি তাকে অনুভব করি।)

যদি আমি মারা যাই
ব্যালকনি খোলা রেখে যেয়ো।


প্রতিটি গান

প্রতিটি গান 
প’ড়ে-থাকা 
        ভালবাসা

প্রতিটি নক্ষত্র 
প’ড়ে-থাকা 
              সময় 
সময়ের 
        একটি গ্রন্থি

প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস
প’ড়ে-থাকা 
          আর্তনাদ।

🍂
গিটার

গিটারের কান্না 
শুরু হল
ভোরের পানপাত্রাদি
চূর্ণ-বিচূর্ণ।
বৃথাই 
চেষ্টা করো 
অসম্ভব 
তাকে থামানো।
কাঁদছে একঘেয়েমিতে 
যেমন কাঁদে জল
যেমন কাঁদে হাওয়া
বরফ ঢাকা মাঠে-মাঠে। 
অসম্ভব তাকে 
চুপ করানো।
সে কাঁদছে দূরের কিছুকে 
চেয়ে।
দক্ষিণের তপ্ত বালুরাশি
শুভ্র ক্যামেলিয়াদের জন্য প্রতিক্ষারত।
কাঁদছে তীর লক্ষ্যবস্তু বিনা
সন্ধ্যা কাঁদছে সকালকে না-পেয়ে
আর কাঁদছে প্রথম মৃত পাখিটি
বৃক্ষশাখায়।
অহো, গিটার!
হৃদয় মরণাহত
পাঁচ পাঁচটি খঞ্জরে।’


কান্না

আমার ব্যালকনির জানলা বন্ধ ক'রে রেখেছি 
কারণ, কান্নার শব্দ আমার পছন্দ নয়।
তবু ধূসর দেয়ালের পিছন থেকে
কান্না ছাড়া আর কোনও কিছুরই শব্দ শোনা যায় না।

খুব কম দেবদূত আছে যারা গান গায়
খুব কম কুকুর আছে যেগুলি ডাকে
আমার হাতের তালুর উপর 
নীরব হয়ে পড়ে থাকে হাজার ভায়োলিন।

কিন্তু ঐ কান্না হয়ে যায় এক দুর্দান্ত কুকুর
হয়ে যায় এক বিরাট দেবদূত
হয়ে যায় এক প্রবল ভায়োলিন
      বাতাস বেয়ে গড়িয়ে পড়ে অশ্রু
কান্না ছাড়া আর কোনও কিছুরই শব্দ শোনা যায় না।

Post a Comment

0 Comments