পার্থসারথি চক্রবর্তী
নির্বাক স্মৃতি
তীব্র এই দাবদাহ দুপুরে
চোখের জলে ভাঁটা পড়ে যায়,
ভালোবাসা কেড়ে নিল সবটুকু স্নিগ্ধতা-
প্রাসঙ্গিক শুধু একবুক নিস্তব্ধতা।
বহুদিন এই তল্লাটে মেঘ জমেনি,
বৃষ্টি আসেনি ঝমঝম করে।
চায়ের নতুন পাতা শুকিয়ে হলুদ
অনাগত হাওয়ার অপেক্ষায় জেগে ওঠে
পুরনো আঘাত ও ক্ষতচিহ্ন।
নিজস্ব মুহূর্তগুলো ক্রমশ ডুবে যায়
নির্বাক স্মৃতির অতলে।
প্রতীক্ষার প্রহরে ধীরলয়ে সন্ধ্যা নেমে আসে।
নতুন কুঁড়ি ফুটে উঠতে থাকে-
শোনাতে জীবনের সহজিয়া গান।
ঝাপসা চোখে দেখা
জলতরঙ্গের সুরে বেজে ওঠে-
কুয়াশায় দুলতে থাকা চিলাপাতার বন।
ঝাপসা হয়ে আসা দুটি চোখে
দুলে উঠছে শঙ্খচিলের গান।
দৃষ্টির পরপারে আমার চোখ
গাছের পাতার ফাঁকে আলো।
ঝি ঝি পোকার বন্ধনে-
নুয়ে পড়ছে সবুজ গুল্মের বাহার।
সব উন্মুখতা গড়িয়ে পড়ছে-
শাল সেগুনের গা বেয়ে।
তোর্সার পাড়ে জল রক্তিম হয়ে আসে
সূর্যের ডুবে যাওয়া দেখতে দেখতে।
ভাতের স্বর্গীয় গন্ধ
আমাদের জীবনটা এভাবেই কাটে-
হঠাৎ আলো নিভে যাওয়ার মতোই
কোন কোনদিন চাল শেষ হয়ে যায়,
কালশিটে পড়া চোটের মতোই
পুইঁশাকের আঁটি পুরোটাই পচে যায়।
আর সবার মুখ কেমন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।
জীবনটা এমন করেই যায়-
বাবা ঘাম ঝড়িয়ে রেশনের ধান ভাঙিয়ে আনেন,
সূর্যটা লাল হতে হতে বড় হয়ে যায়,
অবশেষে মা ভাত নামিয়ে আনেন
কাঠের উনুন থেকে।
উঠোন, বারান্দা স্বর্গীয় গন্ধে ভরে যায়।
জীবনের অর্থ রচিত হয়।
সেদিনটা এভাবেই কেটে যায়।
জীবনটা এভাবেই কেটে যায়।
0 Comments