জ্বলদর্চি

গুচ্ছ কবিতা/ দুলাল কুমার দে

গুচ্ছ কবিতা
দুলাল কুমার দে

          
আমি তোমাদেরই

আপ্লুত হই যখন জড়িয়ে ধরো,
অবাক হই যখন হাতে হাত মেলাও,
খুব ভালো লাগে যখন কানে শুনি
তোমার অন্তর থেকে ভেসে আসা
একটি কথা—‘আমি তোমাদেরই’।

সুখে-দুখে, বিপদে-আপদে,
পথে-ঘাটে, বন্ধুর মতো
আগলে রেখে বলো, ‘আমি তোমাদেরই’।
মনে হয়, ‘এটাই স্বর্গ, জন্ম সার্থক’,
যেন চাওয়া-পাওয়ার সর্বোচ্চ শিখরে আছি।

কিন্তু অতীতের সমস্ত কিছু
জোর করে ভুলতে চাইলেও,
মনে বারবার সংশয় জাগে—
বর্তমানের দেখানো রূপ 
ভবিষ্যতে একই থাকবে তো?
আবারও শুনতে পাব তো
সেই অভয়বাণী, ‘আমি তোমাদেরই’?
  

সময় ও আমি

"আমি সময়কে জানতে চেয়েছিলাম—
তুমি কাকে পছন্দ করো? 
যে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে চলে , 
নাকি যে তোমাকে উপেক্ষা করে?"
সময় বলল, "সঙ্গে নাও বা না নাও, 
আমি কারও অপেক্ষায় থাকি না। 
আমার থামা নেই।"
জানতে চাইলাম, ‘তোমার মূল্য কী?’
বলল, "আমার মূল্য আমার উপস্থিতিতে। 
আমার উপস্থিতি সহজে বোঝা যায় না,
 কারণ আমাকে দাম দিয়ে পেতে হয় না। 
কিন্তু, সঠিক ব্যবহারে জীবনে দাম পায়, 
 বুঝতে পারে আমার মূল্য।’"
               
🍂
শান্তি

জীবনে সুখের হিসেবের সূত্র,
আর দুঃখের হিসেবের সূত্র,
যখন গুলিয়ে যায়, সেখানেই দেখা দেয়
শান্তি-অশান্তির গরমিল।
সুখকে আমরা যতটা আনন্দে গ্রহণ করি,
দুঃখকে ঠিক ততটাই সহজে মেনে নিতে পারি না।
জীবনে মেনে নেওয়া আর মানিয়ে নেওয়াতেই
লুকিয়ে থাকে শান্তি ও অশান্তির মূল সূত্র। 
জন্ম-মৃত্যু, সুখ-দুঃখ, শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো
অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে থাকে জীবনে,
চাওয়া বা না চাওয়ার ওপর নির্ভর করে না।
একটিকে সাগ্রহে মেনে নিলে
অপরটিকেও মেনে নিতে বাধ্য হতে হয়, 
অপ্রত্যাশিত হলেও।
এটাই বাস্তব, অনিবার্য, অপ্রতিরোধ্য।

চাওয়া-পাওয়ার সমঝোতায়
মনকে সন্তুষ্ট রাখার নামই শান্তি।
জীবন যেমন আনন্দ উপভোগ করতে পারে,
জীবন তেমনি দুঃখকেও হজম করতে পারে;
শুধু চাই মানসিকতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও সহনশীলতা।

চরম সুখেও যেমন অশান্তি থাকতে পারে,
কঠিন দুঃখেও তেমনি শান্তি পেতে পারি!
কঠিন দুঃখকে ভয় না পাওয়াই দুঃখ জয়।
দুঃখকে জয় করার নামই জীবনে এগিয়ে চলা,
জীবনে এগিয়ে চলার নামই সাফল্য,
জীবনের সাফল্যই নিয়ে আসে মনের সন্তুষ্টি,
মনের সন্তুষ্টিই নিয়ে আসে প্রকৃত শান্তি।

                      
সমর্থক

যে কোনো প্রতিযোগিতায়
থাকে একে অপরের প্রতিপক্ষ,
থাকে সমর্থক, থাকে আবেগ,
থাকে বিশ্বাস, অন্ধ সমর্থন।
যুদ্ধ হোক, খেলা হোক, হোক নির্বাচন—
বা অন্য যে কোনো প্রতিযোগিতায়
থাকে জয় ও পরাজয়।
প্রতিযোগিতার ধর্মই এই,
এটাই অতি বাস্তব।

পরাজয় মানেই সবকিছু হারিয়ে ফেলা নয়,
কেবল পূর্বতন ভুলের সংশোধনের সুযোগ;
তারপর এগিয়ে যাওয়া সাফল্যের দিকে।
জয় মানেই সব কিছু পেয়ে যাওয়া নয়,
বা অহংকারের শীর্ষে উঠে 
নিজেকে সর্বেসর্বা ভেবে নেওয়া।
জয় মানেই দীর্ঘ কর্মপ্রচেষ্টার সাফল্য,
দায়িত্ববোধ বেড়ে যাওয়া,
সাফল্যকে ধরে রাখা, আরও উন্নত হওয়া,
সমর্থকদের বিশ্বাস ও ভক্তিকে সম্মান করা।
কিন্তু....................
বিজেতা এবং বিজিত সমর্থকেরা
 যদি ফলাফলের পরে হিংসায় মেতে যায়,
 শুরু হয় মারামারি, খুনোখুনি;
তখন প্রতিযোগিতা হয়ে যায় ভয়ঙ্কর বিভীষিকাময়—
ভয় দেখানোর, ভয় পাওয়ার খেলা।
কিন্তু সমর্থক, যারা জড়িয়ে পড়ে এই খেলায়,
একটু ভাবুন তো—
আজকের বিজেতারা কালকে যখন হবেন বিজিত,
তখন........!



প্রাপ্তি

তুমি যদি আমায় ভাল বল
আমি খুশি হই, সবার মত।
তুমি যদি আমায় ঘৃণা কর
আমি অখুশি নই, সবার মত।

শুধু অপেক্ষা করি,
ভালো প্রমাণ করবে বলে,
সেটাই হবে পরম প্রাপ্তি।

Post a Comment

0 Comments