জ্বলদর্চি

তিনটি কবিতা / বাসুদেব গুপ্ত

তিনটি কবিতা 
বাসুদেব গুপ্ত 

 ভ‍্যালেনটাইন

এসেছে গোলাপী  দিন। 
গোলাপী  জানালায় জাগে মুখ
ক্লান্ত কিশোরী, চোখে তার কাজলা  অসুখ
বুড়োরা মশারি খুলে ছাতে ওঠে  দেয়  হাতছানি 
সাদা সাদা গাড়ী যায় বেজে ওঠে নিশুতি সানাই 
ডাকে কুলফি মালাই খাবে কুলফি মালাই। 

পাথর হয়ে বসে আছ সারাদিন 
ছুঁয়ে দেহ তার কোন ভাবনায় লীন?
হয়ত বা সেও ছুঁয়ে আছে পরাচেতনায় 
সার্ভারে ছবি  নৌকোর সারি ভেসে যায়। 
রোদ ঘোরে কাক দুপুরমিটিং শেষ করে
কোকিলের স্বরে কেঁপে  ওঠে ফাঁকা বাড়িটা। 

বসন্ত আসে হৃদয় সাঁটিয়ে  পতাকায়
কে কখন আসে! কখন হঠাৎ চলে যায়। 


 পৃথিবী খান্ডব

আলো আসছে। মাছেরা দেয় ঘাই
কৃষ্ণ জল। চলো গল্প বেঁধে গলায় ডুবে যাই। 
ডুবো জাহাজ , অক্টোপাস জটিল   ঘর বাড়ি 
মানুষ বেরিয়েছিল। অচেনা পথে উল্টে গেল গাড়ী। 

যুদ্ধ যুদ্ধ যুদ্ধ।  যুদ্ধ এল স্নিগ্ধ যুঁই ভোরে
রাগে জ্বলত চোখ? প্রেম গিয়েছিল মরে?
ষুদ্ধ মানে হাওয়ায় ওড়ে  শিশুর নরম খুলি
বেচলে সোনা।  অন‍্যমনে আকাশ আঁকে তুলি। 

আলোয় ভরা আকাশ । আসছে আলোর রাজা। 
অমৃতঘট আকাশযানে, পৃথিবীটাই  গাজা। 
মৃত‍্যু ঝরে সারাবেলা। গল্প করে পন্চ পাণ্ডব 
বেদব‍্যাস  ভিডিও তোলে, জ্বলতে থাকে পৃথিবী খান্ডব। 


 রাজার কাগজ কৈ

লাইনে দাঁড়াতে হলে   নজরুলও  ভুলে যেত গান 
মাতংগিনি যে রোহিঙ্গা নয় কি করে  দিত প্রমাণ?
বুক ধুকপুক এককোটি  লোক  খেত ছেড়ে আজ লাইনে  
 বর্গী  এসেছে মাথা কাটতে বাম হোক কিবা ডাইনে। 
ইঁদুর মানুষ খোঁড়ে ইতিহাস খোঁজে  সিন্দুকে পর্চা
 রাজা বলেছেন কাগজ‍ না  পেলে ভিটেমাটি হবে খরচা।  

এককোটি লোক বসে গোল হয়ে পেঁচা কেঁদে যায় রাতভর 
প্ল‍্যানচেট করে  যদি পাওয়া যেত নাম তুলবার মন্তর। 
 ঠাকুমার ভূত ডাকলে কি চলবে? 
কবে জন্মাল  বুড়ী? জানতে চাইলে  বলবে? 
আকাশে উড়ছে কাউন্ট ড্রাকুলা, দাদু আসে নাচে প্ল‍্যানচেট 
দাদু তাড়াতাড়ি বলে দাও  তোমার এপিক  আর বারথডেট। 
 
ভীড়ের মাঝে কোথ্থেকে এক হাড়হাভাতের ছেলে
হাঁকে রাজা তোর কাগজ কোথায়? তাকে নিয়ে গেল জেলে।

🍂

Post a Comment

2 Comments