জ্বলদর্চি

বাঁচার উত্তরাধিকার : সপ্তম খণ্ড/পর্ব ১ : শিকারি/কমলিকা ভট্টাচার্য

বাঁচার উত্তরাধিকার : সপ্তম খণ্ড
পর্ব ১ : শিকারি
কমলিকা ভট্টাচার্য

(পূর্বকথা : আদর লিয়ামের কৃত্রিম পা এবং নোয়ার কণ্ঠস্বর ফিরিয়ে দেওয়ার গবেষণায় সাফল্যের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়। কিন্তু সেই সাফল্যই বহু বছর ধরে তাকে খুঁজতে থাকা ভিক্টর হারগ্রিভের নজর আবার তার দিকে ফেরায়। এক হামলার সময় নোয়া জীবনের প্রথম শব্দ উচ্চারণ করে আদরকে সতর্ক করলেও গুলির আঘাত অল্পের জন্য এড়ায় সে। সেই মুহূর্তেই স্পষ্ট হয়ে যায়—আদরের অতীত তাকে ছেড়ে যায়নি, আর তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াই এখনও শুরুই হয়নি।)

গুলির ঘটনার পর থেকে আদরের জীবনটা যেন হঠাৎ দু'ভাগ হয়ে গেছে। একভাগে বিজ্ঞান। আরেকভাগে লুকিয়ে থাকা।
প্রফেসর হ্যারিসন তাকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন—
— “কিছুদিনের জন্য তুমি একদম লো-প্রোফাইল থাকবে।”
ইউনিভার্সিটির নিরাপত্তা বিভাগও সতর্ক। ক্লাসে যাওয়া কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ল্যাবে যাওয়ার আলাদা পথ। অনলাইন মিটিং। রিসার্চ ডকুমেন্ট এনক্রিপ্টেড সার্ভারে। সবকিছু যেন একটা অদৃশ্য যুদ্ধের প্রস্তুতি।
কিন্তু আদরের সবচেয়ে বড় কষ্ট ছিল অন্য জায়গায়। সে দৃষ্টিদের বাড়িতে যেতে পারছিল না। নোয়া। লিয়াম। রাকা। সবাইকে ভীষণ মিস করছিল। তবু সে জানত—যদি কেউ সত্যিই তার পিছনে লেগে থাকে, তাহলে দৃষ্টিদের বাড়ির আশেপাশে যাওয়াও বিপজ্জনক। তাই সে শুধু দূর থেকে দেখে। খুব দূর থেকে।
সেদিন সন্ধ্যায় লন্ডনে হালকা তুষার পড়ছিল। রাস্তার ল্যাম্পপোস্টগুলোর আলো কুয়াশার ভিতরে সোনালি বৃত্ত তৈরি করছিল। দৃষ্টিদের বাড়ির বিপরীত দিকের পুরোনো ইটের দেয়ালের আড়ালে দাঁড়িয়ে ছিল আদর। মাথায় হুড টানা। গলায় স্কার্ফ।
দূর থেকে বাড়িটার জানলা দেখা যাচ্ছে। ভিতরে আলো জ্বলছে। ছোট ছোট ছায়া নড়ছে। বাচ্চারা। হয়তো দৃষ্টি।
আদরের বুকের ভিতর কেমন যেন হালকা ব্যথা হচ্ছিল। সে জানালার দিকে তাকিয়ে ছিল।
ঠিক তখনই ভেতর থেকে ভায়োলিনের সুর ভেসে আসে। প্রথমে সাধারণ একটা স্কেল। তারপর হঠাৎ—সুর বদলে যায়।
🍂
আদরের বুক কেঁপে ওঠে।
এটা সেই সুর।
সেই পুরোনো সুর।
যেটা প্রথম দিন রাস্তার মোড়ে শুনেছিল।
যেটা শুধু তাদের দু'জনের।
দৃষ্টি চোখে দেখতে পায় না। তবু সে যেন বুঝে গেছে—আদর এসেছে। দূরে কোথাও দাঁড়িয়ে আছে।
আদর অজান্তেই হেসে ফেলে।
— “তুমি কীভাবে সব বুঝে যাও, দৃষ্টি...”
সে খুব আস্তে ফিসফিস করে।
ঠিক তখনই বাড়ির দরজা খুলে যায়।
আদর দ্রুত সরে যেতে যাচ্ছিল।
হঠাৎ একটা ছোট্ট ছায়া দৌড়ে বেরিয়ে আসে।
নোয়া।
ছেলেটা রাস্তার দিকে তাকিয়ে কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে থাকে। তারপর হঠাৎ চিৎকার করে ওঠে—
— “আ...দ...র্শ!”
আদরের বুক ধক করে ওঠে। সে আর লুকোতে পারে না। নোয়া ইতিমধ্যেই তাকে দেখে ফেলেছে।
পরের মুহূর্তেই ছেলেটা দৌড়ে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে।
— “তু...মি...আ...সো...না...কেন?”
প্রতিটা শব্দ বলতে তার এখনও কষ্ট হয়। তবু সে চেষ্টা করছে। আর সেই চেষ্টার মধ্যেই কত আনন্দ!
আদর হাঁটু গেড়ে বসে তাকে জড়িয়ে ধরে।
— “খুব কাজের চাপ পড়েছিল, চ্যাম্প।”
নোয়া মাথা নাড়ে। সে স্পষ্টতই উত্তরটা বিশ্বাস করেনি। তারপর আবার জিজ্ঞেস করে—
— “ই...ন্ডি...য়া...থে...কে...ক...বে...এ...লে?”
আদর অবাক হয়ে তাকায়।
— “তুমি জানো আমি ইন্ডিয়া গিয়েছিলাম?”
নোয়া গর্বিত মুখে মাথা নাড়ে।
— “দি...ষ্টি...দি...দি...বো...লে...ছে।”
আদর হেসে ফেলে। তারপর চারপাশে তাকিয়ে খুব আস্তে বলে—
— “একটা কথা বলবে?”
নোয়া মাথা নাড়ে।
— “দৃষ্টি দিদিকে বলবে না আমি এসেছিলাম।”
নোয়া অবাক।
— “কে...ন?”
আদর কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকে। তারপর শুধু বলে—
— “সারপ্রাইজ।”
নোয়া অনেকক্ষণ ভেবে গম্ভীর মুখে মাথা নাড়ে। যেন পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোপন দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে।
ঠিক তখনই ভেতর থেকে দৃষ্টির গলা ভেসে আসে—
— “নোয়া? কোথায় গেলে?”
নোয়া চমকে ওঠে।
আর আদর দ্রুত দেয়ালের আড়ালে সরে যায়।
দৃষ্টি দরজার সামনে এসে দাঁড়ায়।
কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর সে ধীরে ধীরে মাথা ঘুরিয়ে ঠিক সেই জায়গাটার দিকে তাকায়, যেখানে কয়েক সেকেন্ড আগে আদর দাঁড়িয়েছিল।
তার ঠোঁটে খুব হালকা হাসি ফুটে ওঠে।
আর সে আবার সেই পুরোনো সুরটা বাজাতে শুরু করে।
আদরের মনে হয়—
হয়তো কিছু মানুষকে সত্যিই চোখ ছাড়াও দেখা যায়।
লন্ডনের শীত দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছিল। সকালবেলার কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত ঝুলে থাকত শহরের উপর। টেমসের জল ধূসর আকাশের প্রতিচ্ছবি হয়ে নিঃশব্দে বয়ে যেত। রাস্তার মানুষজনের ভিড় আগের মতোই ছিল, কিন্তু আদরের কাছে পৃথিবীটা যেন আর আগের মতো স্বাভাবিক লাগছিল না।
গুলির ঘটনার পর প্রায় কয়েক মাস কেটে গেছে। তবু প্রফেসর হ্যারিসন এখনও তাকে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে দিচ্ছিলেন না।
সেদিন বিকেলে ইউনিভার্সিটির সিকিউর রিসার্চ উইং-এর একটি ছোট কনফারেন্স রুমে আদরকে ডেকে পাঠালেন তিনি।
ঘরে ঢুকতেই আদর দেখল প্রফেসরের মুখটা অস্বাভাবিক গম্ভীর।
— “বসো।”
আদর চুপচাপ বসে পড়ল।
হ্যারিসন কিছুক্ষণ ডেস্কের উপর রাখা একটা ফাইলের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর ধীরে বললেন—
— “তোমাকে আরও সাবধানে থাকতে হবে।”
আদর ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
— “আবার কিছু হয়েছে?”
— “হতে পারে।”
প্রফেসর চেয়ারে হেলান দিলেন।
— “আগামী সপ্তাহে একটা আন্তর্জাতিক ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপ আসছে।”
— “তাতে সমস্যা কোথায়?”
— “সমস্যা হচ্ছে, তাদের প্রধান ব্যক্তি তোমার কাজ সম্পর্কে অস্বাভাবিক আগ্রহ দেখিয়েছেন।”
আদর চুপ করে রইল।
হ্যারিসন এবার আরও নিচু গলায় বললেন—
— “আমি জানি না কেন, কিন্তু আমার অনুভূতি ভালো বলছে না।”
— “আমার নাম তো কোথাও নেই।”
— “সেটাই আমাকে আরও চিন্তায় ফেলছে।”
ঘরটা কিছুক্ষণ নীরব।
তারপর প্রফেসর বললেন—
— “এই কয়েকদিন তুমি ল্যাবের বাইরে খুব কম বেরোবে। দৃষ্টিদের বাড়ির কাছেও না।”
আদর মাথা নিচু করল।
এই কথাটাই সে শুনতে চাইছিল না।
— “আমি দূর থেকে দেখলেও?”
— “না।”
— “স্যার—”
— “নো, আদর্শ।”
প্রফেসরের গলায় কঠোরতা নেমে এলো।
— “একবার তোমার উপর গুলি চলেছে। দ্বিতীয়বার সুযোগ দেব না।”
আদর আর তর্ক করল না।
কিন্তু তার বুকের ভিতরটা ভারী হয়ে গেল।
এক সপ্তাহ পরে ইউনিভার্সিটির প্রধান ভবনের সামনে কালো রঙের কয়েকটি বিলাসবহুল গাড়ি এসে থামে। বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারী, গবেষক, প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা এসেছেন।
তাদের মাঝখানে নেমে এলেন একজন লম্বা, ধূসর চুলের ভদ্রলোক। কালো ওভারকোট। চকচকে জুতো। অদ্ভুত শান্ত হাসি।
ভিক্টর হারগ্রিভ।
অনেকের কাছে তিনি একজন সফল প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। কিন্তু খুব কম মানুষই জানে—এই হাসির আড়ালে কত বছরের অন্ধকার ইতিহাস লুকিয়ে আছে।
প্রফেসর হ্যারিসন নিজে এগিয়ে এসে তাকে স্বাগত জানালেন।
— “ওয়েলকাম টু লন্ডন,সায়েন্স ইউনিভার্সিটি, মিস্টার হারগ্রিভ।”
হারগ্রিভ ভদ্রভাবে হাত মেলালেন।
— “ধন্যবাদ, প্রফেসর।”
তার চোখ ইতিমধ্যেই চারপাশ পর্যবেক্ষণ করছে। যেন কাউকে খুঁজছে।
পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন গবেষণাগার ঘুরে দেখানো হয়—রোবোটিক্স, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, নিউরাল ইন্টারফেস।
প্রতিটি বিভাগে হারগ্রিভ মনোযোগ দিয়ে প্রশ্ন করেন। সবাই মুগ্ধ। তিনি যেন একজন আদর্শ বিনিয়োগকারী।
কিন্তু ভেতরে ভেতরে তিনি শুধু একটাই নাম খুঁজছেন—
আদর্শ সেন।
একসময় তারা পৌঁছাল সেই গবেষণা বিভাগের সামনে, যেখানে লিয়ামের জন্য তৈরি প্রস্থেটিক প্রযুক্তির উন্নয়ন চলছিল।
হারগ্রিভের চোখে প্রথমবার সত্যিকারের আগ্রহ দেখা গেল।
— “এটাই কি সেই টিম?”
একজন গবেষক মাথা নাড়লেন।
— “ইয়েস, স্যার।”
হারগ্রিভ ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকলেন।
টেবিলের উপর বিভিন্ন প্রোটোটাইপ। নিউরাল সেন্সর। মডেল। সিমুলেশন।
সবকিছু খুঁটিয়ে দেখলেন।
তারপর খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করলেন—
— “এই প্রযুক্তির মূল গবেষক কে?”
একজন অধ্যাপক উত্তর দিলেন—
— “এটা টিম এফোর্ট।”
হারগ্রিভ হালকা হাসলেন।
— “আমি জানি। কিন্তু সাধারণত এমন ব্রেকথ্রুর পেছনে একজন মানুষ থাকেই।”
কয়েকজন একে অপরের দিকে তাকাল।
কেউ সরাসরি উত্তর দিল না।
অবশেষে একজন বলল—
— “আমাদের টিমের অনেকেই কাজ করেছেন।”
হারগ্রিভ কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।
তারপর আরেকটু এগিয়ে এসে বললেন—
— “আদর্শ সেন নামে একজন কি এখানে ছিলেন?”
ঘরের বাতাস যেন মুহূর্তের জন্য থেমে গেল।
প্রফেসর হ্যারিসনের মুখে কোনো পরিবর্তন এল না।
তিনি শান্ত গলায় বললেন—
— “আমি এমন কাউকে চিনি না।”
হারগ্রিভ তাকিয়ে রইলেন।
দীর্ঘ কয়েক সেকেন্ড।
তারপর মৃদু হাসলেন।
— “বুঝলাম।”
বিকেলের দিকে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর হারগ্রিভ একা করিডোরে হাঁটছিলেন।
তার চোখে এবার স্পষ্ট বিরক্তি।
তিনি অভ্যস্ত নন, কেউ তাকে তথ্য লুকিয়ে রাখলে।
একজন তরুণ গবেষক পাশ দিয়ে যাচ্ছিল।
হারগ্রিভ তাকে থামালেন।
— “একটু শুনবেন?”
— “ইয়েস, স্যার?”
— “একজন ভারতীয় ছেলে ছিল এখানে। খুব মেধাবী।”
গবেষক একটু ভেবে বলল—
— “ওহ... হয়তো আপনি আদর্শের কথা বলছেন?”
হারগ্রিভের বুকের ভিতর যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল।
তবু মুখে কিছু প্রকাশ পেল না।
— “হয়তো।”
— “ও তো অনেকদিন হলো চলে গেছে।”
— “কোথায়?”
— “ইন্ডিয়া।”
— “কেন?”
— “তার মায়ের শরীর খুব খারাপ হয়েছিল। তারপর রিসার্চও ছেড়ে দেয়।”
— “ফিরবে?”
— “জানি না। অনেকদিন হলো কোনো যোগাযোগ নেই।”
হারগ্রিভ ধীরে মাথা নাড়লেন।
— “ধন্যবাদ।”
লোকটা চলে গেল।
করিডোর ফাঁকা হয়ে গেলে হারগ্রিভ জানলার পাশে এসে দাঁড়ালেন। দূরে টেমস নদী। তার চোখ ধীরে ধীরে সরু হয়ে এলো।
তিনি বিশ্বাস করলেন না।
একটুও না।
এত বছর ধরে তিনি মানুষের মিথ্যে চেনার কাজ করেছেন।
আজও করলেন।
তার অভিজ্ঞতা বলছে—
আদর্শ সেন এখানেই আছে।
খুব কাছে।
কেউ তাকে লুকিয়ে রেখেছে।
তিনি কোটের পকেট থেকে ফোন বের করলেন।
একটি নম্বরে কল গেল।
ওপাশ থেকে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর এলো—
— “ইয়েস, স্যার?”
হারগ্রিভ জানলার বাইরে তাকিয়ে বললেন—
— “স্টেজ ওয়ান শেষ।”
— “টার্গেট?”
কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর হারগ্রিভের ঠোঁটে ধীরে ধীরে একটা ঠান্ডা হাসি ফুটে উঠল।
— “টার্গেট লন্ডন ছাড়েনি।”
— “কনফার্মড?”
— “নাইনটি ফাইভ পারসেন্ট।”
ওপাশে নীরবতা।
হারগ্রিভ খুব শান্ত গলায় বললেন—
— “সার্চ এরিয়া কমাও।”
— “আন্ডারস্টুড।”
— “আর একটা কথা—”
— “ইয়েস, স্যার?”
হারগ্রিভের চোখে তখন শিকারির ধৈর্য। বহু বছরের। অপেক্ষার।
— “এইবার আমি ওকে হারাতে চাই না।”
কল কেটে যায়।
গাড়িতে উঠে তিনি জানলার বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়টার দিকে তাকিয়ে থাকেন।
তার পাশে বসা লোকটি ধীরে জিজ্ঞেস করে—
— “স্যার, মনে হয় তথ্যটা সত্যি?”
হারগ্রিভ কিছুক্ষণ উত্তর দেন না।
তারপর আস্তে বলেন—
— “না।”
— “কেন?”
বৃদ্ধ মানুষটার চোখ সরু হয়ে আসে।
— “শিকার যদি সত্যিই পালিয়ে যায়, তার গন্ধ এত তাজা থাকে না।”
গাড়ি ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে যায়।
জানলার বাইরে তুষার পড়তে শুরু করেছে।
আর শহরের অন্য প্রান্তে—
কিছু না জেনেই—
একটা পুরোনো ইটের দেয়ালের আড়াল থেকে আদর চুপচাপ দৃষ্টিদের বাড়ির দিকে তাকিয়ে ছিল।
যখনই সে আসে—
দৃষ্টি এখনও সেই পুরোনো সুরটাই বাজায়।
যেন চোখ ছাড়াই সে জানে—
আদর কাছেই আছে।
কিন্তু আজ তাদের কারও জানা নেই—
লন্ডনের ধূসর আকাশের নিচে কোথাও একজন শিকারি আবার তার খোঁজ শুরু করেছে।
ক্রমশ...

Post a Comment

1 Comments

  1. AnonymousJuly 01, 2026

    প্রথম পর্বেই আকর্ষণ সৃষ্টি করে ফেলেছেন ।🙏

    ReplyDelete