বাঁচার উত্তরাধিকার : সপ্তম খণ্ড
পর্ব ৩ : জালের বুনন
কমলিকা ভট্টাচার্য
লন্ডনের শীত যেন ধীরে ধীরে শহরটাকে গ্রাস করে নিচ্ছিল।
সকালবেলার কুয়াশা এখন অনেক সময় দুপুর পর্যন্ত সরত না। টেমসের উপর ঝুলে থাকা ধূসর পর্দার আড়ালে শহরটা যেন অন্য এক পৃথিবী হয়ে যেত। দূরের আলো ঝাপসা, মানুষের মুখ অস্পষ্ট, আর শব্দগুলোও যেন কুয়াশার ভেতর ঢুকে নরম হয়ে যেত। নদীর উপর দিয়ে ভেসে আসা ঠান্ডা বাতাসে ভেজা পাথরের গন্ধ মিশে থাকত। মাঝে মাঝে দূরে লন্ডন আই-এর অস্পষ্ট অবয়ব কুয়াশা ভেদ করে দেখা দিত, আবার মুহূর্তের মধ্যেই মিলিয়ে যেত।
রাস্তার দু'ধারে পুরোনো ভিক্টোরিয়ান ভবনগুলো দাঁড়িয়ে থাকত নিঃশব্দ প্রহরীর মতো। লাল ডাবল-ডেকার বাসগুলো ধীরে ধীরে কুয়াশা কেটে এগিয়ে যেত। কোথাও দূরে বিগ বেনের ঘণ্টাধ্বনি ভেসে এলে মনে হতো শহরটা এখনও জেগে আছে, শুধু নিজেকে আড়াল করে রেখেছে।
আদর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিজেকে পুরোপুরি কাজে ডুবিয়ে রেখেছিল।
নোয়ার ভোকাল ডিভাইসের নতুন সংস্করণ এখন আগের চেয়ে অনেক স্থিতিশীল। ছেলেটা ছোট ছোট বাক্য বলার চেষ্টাও করছে। প্রতিটি নতুন উচ্চারণ যেন আদরের কাছে আরেকটি জয়।
🍂
লিয়ামের নতুন প্রস্থেটিক পা-ও এখন অসাধারণ কাজ করছে। প্রথম দিকে কয়েক কদম হাঁটতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ত সে। এখন ছোটাছুটি করে বেড়ায়, মাঝে মাঝে দৌড়েও ফেলে। প্রতিটি সফল পদক্ষেপ দেখে আদরের মনে হয়—বিজ্ঞান শুধু প্রযুক্তি নয়, কারও জীবনে নতুন করে স্বপ্ন ফিরিয়ে দেওয়ারও নাম।
ইউনিভার্সিটির গবেষণা বিভাগে আদরের কাজ নিয়ে নীরব উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলছে না।
তবু করিডরে হাঁটতে হাঁটতে অনেকেই তার দিকে নতুন চোখে তাকায়। গবেষণাগারের বাইরে নাম নেই, সংবাদমাধ্যমে কোনো পরিচয় নেই, কোনো পুরস্কারও নয়।
সবকিছুই ইচ্ছে করে আড়ালে রাখা হয়েছে।
প্রফেসর হ্যারিসনের নির্দেশে গবেষণার অধিকাংশ তথ্য এখন এনক্রিপ্টেড সার্ভারে রাখা হচ্ছে। ল্যাবে ঢুকতে আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপত্তা পেরোতে হয়। প্রত্যেকবার আইডি স্ক্যান, বায়োমেট্রিক যাচাই, এমনকি নতুন মুখের নিরাপত্তারক্ষীরাও যোগ হয়েছে।
সেদিন রাতে ল্যাব থেকে বেরোতে বেরোতে হঠাৎ সে লক্ষ্য করল, প্রধান ভবনের সামনে একজন নিরাপত্তারক্ষী দাঁড়িয়ে আছে।
আগে তাকে কখনও দেখেনি।
লোকটা খুব স্বাভাবিকভাবেই দাঁড়িয়ে ছিল।
হাতে কফির কাপ।
মাঝে মাঝে ফোন দেখছে।
তবু আদরের ভেতরে অদ্ভুত একটা অস্বস্তি জন্ম নিল।
কেন জানি মনে হলো লোকটা তাকে লক্ষ্য করছে।
কয়েক সেকেন্ডের জন্য।
তারপর আবার যেন কিছুই হয়নি।
আদর হাঁটতে হাঁটতে নিজের হোস্টেলের দিকে চলে গেল।
রাস্তার পাশে ছোট্ট এক ক্যাফে থেকে সদ্য ভাজা কফি বিনের গন্ধ ভেসে আসছিল। কয়েকজন ছাত্রছাত্রী হাসতে হাসতে বেরিয়ে গেল। দূরে আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনের মুখে মানুষের ভিড়।
সবকিছু এতটাই স্বাভাবিক।
তবু অস্বস্তিটা রয়ে গেল।
পরদিন সকালে প্রফেসর হ্যারিসন তাকে নিজের অফিসে ডাকলেন।
ঘরে ঢুকতেই আদর দেখল টেবিলের উপর কয়েকটি ফাইল খোলা।
প্রফেসরের চোখে ঘুম নেই।
মনে হচ্ছে সারারাত কাজ করেছেন।
"কিছু হয়েছে?" আদর জিজ্ঞেস করল।
হ্যারিসন কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইলেন।
তারপর বললেন—
"আমি চাই তুমি আগামী কয়েকদিন খুব সীমিত চলাফেরা করো ,চাইলে ল্যাবেই তোমার থাকার ব্যবস্থা করি।"
আদর হেসে ফেলল।
"স্যার, আমি তো প্রায় বন্দির মতোই আছি।"
হ্যারিসন হাসলেন না।
"আমি সিরিয়াস।"
আদরের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
"হারগ্রিভ?"
প্রফেসর ধীরে মাথা নাড়লেন।
"আমার কাছে প্রমাণ নেই। কিন্তু কিছু জিনিস ঠিক লাগছে না।"
"কী ধরনের জিনিস?"
"ইউনিভার্সিটির নেটওয়ার্কে কয়েকবার অননুমোদিত অনুসন্ধানের চেষ্টা হয়েছে।"
আদরের বুক কেঁপে উঠল।
"আমার ফাইল?"
"শুধু তোমার না।"
হ্যারিসন জানলার বাইরে তাকালেন।
কুয়াশার মধ্যে ক্যাম্পাসের পুরোনো ঘড়ির টাওয়ারটা অস্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
"তোমার সঙ্গে যুক্ত মানুষদেরও।"
ঘরটা হঠাৎ নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
দৃষ্টি।
নোয়া।
লিয়াম।
জেনিভা।
সব নাম একসঙ্গে মাথার মধ্যে ভেসে উঠল।
"তাহলে ওরা—"
"আমি নিশ্চিত নই," হ্যারিসন বললেন, "কিন্তু আমি ঝুঁকি নিতে চাই না।"
"তুমি এখন শুধু নিজের জন্য নয়, তাদের জন্যও সতর্ক থাকবে।"
আদর ধীরে মাথা নাড়ল।
ল্যাব থেকে ফিরে সেদিন রাতে অনেকদিন পর আদর ফোনটা হাতে নিল।
ভারতে তখন সকাল হচ্ছে।
প্রথমেই ভিডিও কল করল মাকে।
স্ক্রিনে নাতাশার মুখটা ভেসে উঠতেই আদরের মুখে অনেকদিন পর সত্যিকারের হাসি ফুটল।
"কেমন আছিস বাবা?"
"ভালো আছি, মা। তুমি কেমন আছ?"
"আমি ভালো। কিন্তু তুই খুব শুকিয়ে গেছিস। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করছিস তো?"
আদর হেসে বলল—
"তুমি সব সময় আমায় রোগা দেখো মা,এই সেদিন পুরোনো জিন্সটা টাইট হচ্ছিল ।"
নাতাশা মৃদু হেসে মাথা নাড়লেন,
"মার সামনে এমন কথা বলে না,আমি জানি তুই কত রাত ঘুমোস না, খাওয়া তো ছেড়েই দিলাম।"
ঠিক তখনই স্ক্রিনে ইরা এসে বসল।
"যশোদা মা,
ছোট্ট ম্যাডাম,আপনিও কি আমাকে শুকিয়ে গেছি দেখছেন!"
কিছুক্ষণ হাসি-ঠাট্টা চলল।
হঠাৎ আদর মুখ গম্ভীর করে বলল—
"শোন, তোমরা এখন দর্শনকে(দর্শন অনির্বাণ আর ঋদ্ধিমানের বানানো আদরের হিউম্যানইয়েড)পেয়ে আমাকে আর আগের মতো ভালোবাসো না।"
ইরা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইল।
তারপর হেসে ফেলল।
"একদম বাজে কথা।"
আদর ভান করে মুখ ভার করল।
"হুঁ, এখন সব সময় দর্শন... দর্শন..."
ইরা এবার খুব শান্ত গলায় বলল—
"তোমরা দুজনই আমার ছেলে। একজনকে বেশি আর একজনকে কম—এভাবে ভালোবাসা যায় নাকি? একজনকে আমি সৃষ্টি হতে দেখেছি, আর একজনকে মানুষ হতে দেখেছি। দুজনের জায়গা আলাদা, কিন্তু ভালোবাসা সমান।"
নাতাশা হেসে বললেন—
"আগে একটা ছেলেকে নিয়ে চিন্তা করতাম, এখন দুটো ছেলেকে নিয়ে ঘুম উড়ে যায়।"
তিনজনেই হেসে উঠল।
হাসির সেই মুহূর্তটা আদরের বুকের ভেতরের চাপা অন্ধকারকে কয়েক মিনিটের জন্য হলেও সরিয়ে দিল।
কিন্তু সে কাউকেই বলল না গত কয়েকদিনের অস্বস্তির কথা।
ওদের অকারণে চিন্তা বাড়াতে চাইল না।
কল শেষ হওয়ার আগে নাতাশা শুধু বললেন—
"যত বড়ই বিজ্ঞানী হও না কেন, নিজের শরীরের যত্ন নিতে ভুলবি না।"
আদর মৃদু হেসে বলল—
"প্রমিস।"
তার কিছুক্ষণ পরই অনির্বাণের ফোন এল।
"কী রে, লন্ডনের বিজ্ঞানী!"
আদর হেসে উঠল।
"বল, কেমন আছিস?"
অনির্বাণের পাশে বসে ছিল ঋদ্ধিমান।
ওদের দুজনকে একসঙ্গে দেখে আদরের মনটা হঠাৎ দেশের জন্য কেমন করে উঠল।
অনির্বাণ বলল—
"তোর নতুন ভোকাল সিস্টেমের খবর শুনলাম। অসাধারণ কাজ করছিস।"
ঋদ্ধিমান যোগ করল—
"আমি তোর পাঠানো পারফরম্যান্স রিপোর্টগুলো দেখেছি। অ্যাডাপটিভ অ্যালগরিদমটা আগের চেয়ে অনেক বেশি স্টেবল হয়েছে।"
আদর বলল—
"আরও কিছু পরিবর্তন করছি। লেটেন্সি আরও কমানো গেলে অনেক ভালো হবে।"
গবেষণার নানা দিক নিয়ে প্রায় আধঘণ্টা আলোচনা চলল।
নিউরাল ইন্টারফেস, সিগন্যাল প্রসেসিং, এআই মডেলের অপ্টিমাইজেশন—একটার পর একটা বিষয় উঠে এল।
আলোচনার শেষে অনির্বাণ একটু গম্ভীর হয়ে বলল—
"একটা কথা জিজ্ঞেস করি?"
"কর।"
"ওখানে এখন ভয়টা একটু কমেছে তো?"
আদর এক মুহূর্ত চুপ করে রইল।
হারগ্রিভের কথা, অজানা ফোনকল, নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা—সবকিছু চোখের সামনে ভেসে উঠল।
তবু সে হেসে বলল—
"সব ঠিক আছে। চিন্তা করো না।"
ঋদ্ধিমান স্ক্রিনের ওপার থেকে বলল—
"তবু সাবধানে থাকিস। কোনো ঝুঁকি নিবি না।"
"জানি।"
আদর জানত—ওরা সত্যিটা জানলে এক মুহূর্ত শান্তিতে থাকতে পারবে না।
তাই সত্যিটা নিজের কাছেই রেখে দিল।
কল শেষ হওয়ার আগে আদর বলল—
"দর্শন কোথায়?"
অনির্বাণ হেসে বলল—
"দর্শনকে এখন থামানোই যায় না। সকাল থেকে দর্শনের বই পড়ছে, মাঝে মাঝেই আবার আমাদেরই প্রশ্ন করে বসে। মনে হচ্ছে আর কদিন পর আমাদেরই পরীক্ষা নেবে। তবে মাঝে মাঝে ল্যাবে কিছু চেক করে ,জিজ্ঞাসা করলে বলে কিছু না খালি দেখছি ।"
আদর হেসে বলল—
"সময় পেলে ওর সঙ্গে একটু কথা বলব। অনেকদিন কথা হয়নি।"
ঋদ্ধিমান বলল—
"হবে। তবে আগে তুমি নিজের কাজ শেষ কর। আমরা সবাই তোমার জন্য খুব গর্বিত।"
ফোনটা কেটে যাওয়ার পর আদর কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইল।
হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও মানুষগুলো যেন ঠিক তার পাশেই আছে।
কিন্তু সেই উষ্ণতার মাঝেও তার মনে হচ্ছিল—
কোথাও যেন অন্ধকার আরও একটু ঘন হয়ে এসেছে।
একই সময়ে শহরের অন্য প্রান্তে।
একটি পুরোনো ভিক্টোরিয়ান ভবনের সর্বোচ্চ তলায় বসেছিল ভিক্টর হারগ্রিভ।
বাইরে কাঁচের গায়ে জমে থাকা কুয়াশার ফোঁটা ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসছে।
নিচে আলোয় ভরা লন্ডন।
টেমসের উপর আলোর রেখা।
দূরে টাওয়ার ব্রিজের নীল আলো।
সবকিছু এত সুন্দর।
আর সেই সৌন্দর্যের মাঝেই বসে আছে এক শিকারি।
টেবিলের উপর ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ছবি।
একটায় আদর।
একটায় লিয়াম।
একটায় নোয়া।
আরেকটায় দৃষ্টি।
হারগ্রিভ ছবিগুলোর দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইলেন।
তারপর ধীরে বললেন—
"ইন্টারেস্টিং।"
পাশে দাঁড়ানো সহকারী জিজ্ঞেস করল—
"স্যার?"
হারগ্রিভ দৃষ্টির ছবিটা হাতে তুলে নিলেন।
"এই মেয়েটা।"
"ব্লাইন্ড ভায়োলিনিস্ট।"
"হুম।"
তার ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটল।
"ছেলেটা এখানে বারবার কেন আসে?"
সহকারী উত্তর দিল—
"সম্ভবত আবেগগত সংযোগ।"
"প্রেম?"
"হতে পারে।"
হারগ্রিভ আবার ছবিটার দিকে তাকালেন।
তারপর শান্ত গলায় বললেন—
"মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা কী জানো?"
সহকারী চুপ।
"ভালোবাসা।"
তিনি ছবিটা আবার টেবিলে রেখে দিলেন।
"যাকে ভালোবাসে, তাকে রক্ষা করতে গিয়ে মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুল করে।"
এখন কদিন হল আদর মন শক্ত করে, আর দৃষ্টিদের বাড়ির দিকে যায় না সোজা ল্যাব থেকে নিজের রুমে ফিরে যায়।
একদিন একটু তাড়াতাড়ি ফিরে এলো রুমে।বাইরে তখন কুয়াশার মধ্যে হালকা তুষার পড়তে শুরু করেছে।
জানলার কাঁচে ছোট ছোট সাদা কণা এসে গলে যাচ্ছে।
হঠাৎ তার ফোন কেঁপে ওঠে।
অজানা নম্বর।
সে ধরল না।
কয়েক সেকেন্ড পরে আবার।
আবার একই নম্বর।
আদর ভ্রু কুঁচকে ফোনটা রিসিভ করল।
"হ্যালো?"
ওপাশে কোনো উত্তর নেই।
শুধু নিঃশ্বাসের শব্দ।
খুব ক্ষীণ।
আদর আবার বলল—
"হ্যালো?"
নীরবতা।
তারপর লাইন কেটে গেল।
অস্বস্তি নিয়ে সে ফোনটা নামিয়ে রাখল।
কিছুক্ষণ পর সে জানলার পর্দা সরিয়ে বাইরে তাকাল।
হোস্টেলের সামনে রাস্তা প্রায় ফাঁকা।
একটা কালো গাড়ি কয়েক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে থেকে ধীরে ধীরে চলে গেল।
সে নিশ্চিত হতে পারল না—গাড়িটা কি কাকতালীয়, নাকি সত্যিই তার জন্য অপেক্ষা করছিল।
ওদিকে নিজের অফিস রুমে বসে হারগ্রিভ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিল।
একজন লোক বলল—
"ভয়েস কনফার্মেশন সম্পন্ন।"
হারগ্রিভ ধীরে মাথা নাড়লেন।
"সুতরাং?"
"এটা সেই ছেলেই।"
হারগ্রিভের চোখে ঠান্ডা সন্তুষ্টি ফুটে উঠল।
"গুড।"
"এখন কি অপারেশন শুরু হবে?"
কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর তিনি বললেন—
"না।"
লোকটা অবাক।
"স্যার?"
"এখনও না।"
তিনি ধীরে উঠে দাঁড়ালেন।
জানলার সামনে গিয়ে থামলেন।
"ওকে ধরতে তাড়াহুড়ো করলে ভুল হবে।"
"তাহলে?"
হারগ্রিভের চোখে তখন শিকারির ধৈর্য।
"আরও কিছুদিন ওকে মুক্ত রাখো।"
"কেন?"
হারগ্রিভ ধীরে উত্তর দিলেন—
"কারণ আমি জানতে চাই—ও কতদূর যেতে পারে। ওর এক্সপেরিমেন্টগুলো আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ছেলেটাকে নয়... ওর গবেষণাও আমার চাই।"
তিনি কয়েক সেকেন্ড থেমে আবার বললেন—
"যখন সময় আসবে, তখন ও বুঝতেও পারবে না—কবে সব শেষ হয়ে গেছে।"
সেই রাতে আদর ঘুমোতে পারল না।
কেন জানি মনে হচ্ছিল—
অন্ধকারের আড়ালে কেউ তাকে দেখছে।
শুধু তাকে নয়।
তার চারপাশের সবাইকে।
প্রথমবারের মতো তার মনে হলো—
হয়তো হ্যারিসন ঠিকই বলছেন।
বিপদটা এখন অনেক বেশি করে শুরু হয়েছে।
আর লন্ডনের কুয়াশার আড়ালে—
একজন বৃদ্ধ শিকারি ধৈর্য ধরে নিজের জাল বুনে চলেছে।
শিকার এখনও স্বাধীন।
কিন্তু জাল ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসছে।
আর খুব শিগগিরই—
কুয়াশার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সেই জাল, শিকারকে ঘিরে ফেলবে।
0 Comments