মেদিনীপুরের মানুষ রতন, পর্ব -- ২১৫
দেবেন্দ্রনাথ মাইতি (স্বাধীনতা সংগ্রামী, শিক্ষাবিদ, ভগবানপুর)
ভাস্করব্রত পতি
যখন ১৯২৯ সালে বিখ্যাত মুগবেড়িয়া গঙ্গাধর হাইস্কুলে পড়াশোনা করতেন, তখন মাত্র আঠারো বছর বয়সেই তিনি আইন অমান্য আন্দোলনের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। যোগ দিলেন ভারতের স্বাধীনতার যুদ্ধের আবহে। তিনি একাধারে ছিলেন একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী, অন্যদিকে ছিলেন শিক্ষাবিদ।
ভগবানপুরের বায়েন্দাতে ১৯১১ এর ৫ ই নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন স্বাধীনতা সংগ্রামী দেবেন্দ্রনাথ মাইতি। বাবা ছিলেন অবিনাশ মাইতি এবং মা হৈমবতী দেবী।
১৯২৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বায়েন্দা পল্লী সংসদ। এটিকে বলা হত এখানকার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মানসকন্যা। এখানে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সম্পাদক পদে আসীন ছিলেন। পরবর্তীতে এই সংসদের সভাপতি পদও অলঙ্কৃত করেছেন। দায়িত্ব নিয়ে তিনি এখানকার নানা সামাজিক উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন নিষ্ঠাভাবে।
১৯৩২ সালে আইন অমান্য আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায়ে মুগবেড়িয়া ইউনিয়নের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে দেবেন্দ্রনাথ মাইতি বেআইনী ঘোষিত বায়েন্দা কংগ্রেস অফিসের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন। যথারীতি গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। ফলে নয় মাসের জন্য কারারন্তরালে যেতে হয়।
কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে সান্নিধ্যলাভ করেন মেদিনীপুরের অবিসংবাদিত জননায়ক নিকুঞ্জবিহারী মাইতির সাথে। আবারও পড়াশোনা শুরু হয়। ফতেপুর শ্রীনাথ ইনস্টিটিউশন থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে পরবর্তীতে বি. এ. পাশ করেন। সবংয়ের দশগ্রাম এবং বেলদায় শিক্ষকতার কাজে যুক্ত হন। সেসময় সদ্য প্রতিষ্ঠিত পানিয়া সারদাবাড় এম. ই. স্কুলে প্রধানশিক্ষক রূপে নিয়োগপত্র পান। আবার কিছুদিন কাঁথি শহরের কাঁথি ক্ষেত্রমোহন বিদ্যাভবনে শিক্ষকতার পর কাঁথির নবরূপকার ঈশ্বরচন্দ্র মালের পরামর্শে এবং অনুপ্রেরণায় ভূপতিনগর কন্যা বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। প্রায় ২৫ বছর ধরে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। এর মধ্যে দুটি টার্মে প্রায় দেড় বছর প্রধানশিক্ষকের গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন। এখানে থাকাকালীন এলাকার শিক্ষাবিস্তারে অসামান্য কৃতিত্বের সাক্ষর রেখে গিয়েছেন এই মানুষটি। সেইসাথে এলাকার সমবায় আন্দোলনেও তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। তিনি বায়েন্দা সমবায় সমিতিরও প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। ২০০২ এর ৫ ই সেপ্টেম্বর মেদিনীপুরের এই মহান মানুষ রতনটির মৃত্যু হয়।
0 Comments