জ্বলদর্চি

চিপমাঙ্ক(দ্বিতীয় পর্ব )/সৌমেন রায়

চিপমাঙ্ক

(দ্বিতীয় পর্ব )

সৌমেন রায়

চিত্র – কল্লোল মজুমদার 

(প্রথম পর্বের শেষ অংশ -বাবা বলল, ‘ডাইনোসর হতে যাবে কেন? এগুলো কাঠবিড়ালির মত দেখতে। কিন্তু ভালো করে দেখো কাঠবিড়ালির মতো লেজটা কিন্তু লোমশ নয়। এগুলো মনে হচ্ছে চিপমাঙ্ক।নর্থ আমেরিকার বাসিন্দা’।

‘মানে? ওরা কি আমার সঙ্গে আমেরিকা থেকে এসেছে নাকি?’ আঁতকে উঠে কাকা।)


মা বলে, ‘হতেও পারে, তোমার গা শুঁকছিল তো’!

‘দুটো এইরকম কাঠবিড়ালি  বল বা  চিপমাঙ্ক বল  রোজ আসতো আমার জানালার কাছে। মাঝে মাঝে আমন্ড খেতে দিতাম। ওরাই তাহলে বেরীর লোভে ঢুকে পড়েছে ব্যাগের মধ্যে। কিন্তু এতটা রাস্তা বেঁচে থাকলো কি করে?’ ব্যাগটা উল্টে কাকা দেখে নিচের দিকে দুটো ফুটো করে ওরা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করে নিয়েছে। 

 ‘ বাইরেটা দেখে ঘাবড়ে গেছে। অচেনা মনে হয়েছে। তাই আবার ছুটে এসে ঢুকে গেছে ব্যাগের মধ্যে। এক কাজ কর। ওরা কটা দিন ওখানেই থাক। যাওয়ার সময় তুই আবার নিয়ে চলে যাব’। বাবা প্রস্তাব দেয়।

কাকা  ভয়ার্ত কন্ঠে  বলে ওঠে , ‘পাগল! আসার সময় ধরা পড়ে যাইনি সেটাই আমার ভাগ্য ভালো। এইভাবে পশুপাখি নিয়ে আসা রীতিমতো অপরাধ’।


চিপমাঙ্কগুলোকে নিয়ে নানা রকম কথা চলতে লাগলো। পিকলু আর তুতুলের কিন্তু ভালো লাগছিল না। কাকাই কি তাহলে শুধু চকলেট আর বেরি এনেছিল ! ওসব তো এখন এখানেও পাওয়া যায়। তবে যে বলেছিল, ‘তোদেরকে এবার চমকে দেব’। নাকি এই ঘটনাটার জন্য ভুলেই গেছে?

শেষমেষ ঠিক হলো চিপমাঙ্ক দুটোকে লালবাগ বা কুব্বন পার্কে ছেড়ে দেওয়া হবে। ওখানে ইন্ডিয়ান আমন্ড, মালাবার চেষ্টনাট এইসব গাছ আছে। খাবার পেয়ে যাবে। তাছাড়া ওরা পাখির ডিম, ছত্রাক এসবও খায়। বিকেলে সবাই মিলে গেল লালবাগ গার্ডেন। একটা জংলি বাদাম গাছের নিচে ঝোপ মত আছে। সেইখানে ব্যাগটা খুলে দিতেই বেরিয়ে কিছুটা ছুটে গেল। তারপর আবার ফিরে এসে দুজনে একসঙ্গে মুখটা তুলে চিকচিক করে আবার ছুটে মিলিয়ে গেল ঝোপের মধ্যে। বোধহয় জায়গাটা পছন্দ হয়েছে।

   তারপর পিকলু – তুতুলরা সবাই মিলে লালবাগ গার্ডেনে বসে গল্প করল। কতক আমেরিকার গল্প, কতক বাড়ির গল্প। মা ঘরে বানানো নিমকি, কুকিস এনেছিল। সেসব খাওয়া হলো। 

তারপর  বাবা  মাকে বলল ‘ চল, চা খেয়ে আসি’।

‘ জানি তো তোমার চা না হল চলবে না! আমি সঙ্গেই এনেছি ।‘ ব্যাগ থেকে ফ্লাক্স বের করে মা চা  দিল  বাবাকে।

পিকলু, তুতুল  আর  কাকা  খেল কাঠি দেওয়া আইসক্রিম। কাকাদের ছোটবেলায়  গ্রামে নাকি শুধু কাঠি দেওয়া আইসক্রিমই পাওয়া যেত। কাকার বোধহয় ছোট হতে মন করছিল। অবাক কান্ড ! ছোটদের বড় হতে মন চায়, আর বড়দের ছোট! সন্ধ্যা তখন হয় হয়। ফিরে আসব বলে উঠে দাঁড়িয়েছে সবাই। তুতুল আইসক্রিমের  কাঠিগুলি ডাস্টবিনে ফেলতে গেছে। এমন সময় কাকা ‘দেখ দেখ’  বলে  দেখাল  জংলি বাদাম  গাছটার  দিকে। পিকলু দেখল গাছের উঁচু ডাল থেকে কি দুটো ধেয়ে আসছে ওদের দিকে। এক মুহুর্ত পরেই ওরা বুঝতে পারল  চিপমাঙ্ক দুটো ডানা মেলে উড়ে আসছে। দুজনের মুখে দুটো বাদাম। একি! চিপমাঙ্ক কি উড়তে পারে নাকি? ততক্ষণে  তুতুল  ফিরে এসে  দাঁড়িয়েছে পাশে। দুটো চিপমাঙ্ক এসে হাওয়ায় থামলো। একটা পিকলুর সামনে, একটা তুতুলের সামনে। সামনের দুটো পা বাড়িয়ে ওদের হাতে  বাদামগুলো দিতে চাইল। মন্ত্রমুগ্ধের মতো ওরা হাত বাড়িয়ে দিতেই দুজনে দুটো বাদাম রেখে দিল দুজনের হাতে। তারপর আস্তে করে ডানা  গুটিয়ে নেমে গেল মাটিতে। দুজনেই অবাক হয়ে তাকাল কাকার দিকে। কাকা তখন মিটিমিটি হাসছে। ওরা দেখল মা-বাবার মুখেও হাসি। 

 ‘ও দুটো আসলে কাঠবিড়ালিও নয়,  চিপমাঙ্কও নয়। ওগুলো রোবট। হাঁটতে পারে, গাছে উঠতে পারে আবার উড়তেও পারে। তোদের দুজনের জন্য এনেছি’, বলল কাকাই।

পিকলু জিজ্ঞেস করল, ‘ওগুলো কি নিজে নিজেই সব করে?’ 

 ‘না না, দুজনের দুটো রিমোট আছে। বাড়িতেও যখন ঘুরছিল আমি পাঞ্জাবির পকেট থেকে রিমোট দুটো চালাচ্ছিলাম। এই নে, দুটো রিমোট দুজনের’। বলে কাকা পকেট থেকে রিমোট বের করে ওদের দুজনের হাতে দিল। ওরা দুজনে আনন্দে জড়িয়ে ধরল কাকাকে। সারপ্রাইজটা তাহলে সত্যিই ছিল! চিপমাঙ্কগুলো পায়ের কাছ থেকে চিকচিক করে উঠল।

🍂

Post a Comment

11 Comments

  1. বাহ
    দারুণ গল্প 🙏🙏🙏🙏🙏🙏

    ReplyDelete
    Replies
    1. AnonymousJuly 24, 2026

      ধন্যবাদ 🙏

      Delete
  2. কমলিকাJuly 24, 2026

    একশোতে একশো চল্লিশ ১৪০/১০০ 🐿️

    ReplyDelete
    Replies
    1. AnonymousJuly 24, 2026

      🫢😂😂 ধন্যবাদ 🙏🙏

      Delete
  3. AnonymousJuly 24, 2026

    বা! তিনটি গল্প হলো। তিনটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটের ,ভিন্ন স্বাদের। ছোটরা আনন্দ পাবে। কলম সচল থাকুক।

    ReplyDelete
    Replies
    1. AnonymousJuly 24, 2026

      ধন্যবাদ নেবেন। 💐

      Delete
  4. AnonymousJuly 24, 2026

    আজ শুক্রবার,আজ চিপমাঙ্কের দ্বিতীয় তথা অন্তিম পর্ব প্রকাশের দিন। আমরা যাঁরা সামান্য লেখালেখি করি তাঁরা এই মতামতের জন্য একরকম মুখিয়ে থাকি। সৌমেন‌ও নিশ্চয়ই তেমন‌ই ছিলেন -- কী হয় কী হয় ভাবনা নিয়ে। এমন লেখার সবথেকে মজার এবং এক‌ই সঙ্গে ভাবনার বিষয় হলো মুড়োর সঙ্গে লেজকে মিলিয়ে দেওয়া। পিকলু আর তুতুলের মতো আমরাও অপেক্ষায় ছিলাম লালবাগের বাগানে শেষ পর্যন্ত কী ঘটবে নিয়ে। গল্পকার একদম সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে রোবোট চিপমাঙ্কদের হাজির করে সবাইকে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। আমরা বেশ উপভোগ করলাম এই পর্বটি। গল্পের প্রেক্ষাপটকে একদম পরিচিত জগতে নিয়ে এসেছেন। এবার পরের গল্পের জন্য অপেক্ষা করা।






    ReplyDelete
    Replies
    1. AnonymousJuly 24, 2026

      আপনাদের ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগছে। পাঠকের সংখ্যা কম।তার মধ্যে আপনারা পড়ছেন এবং মতামত দিচ্ছেন সেজন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

      Delete
  5. AnonymousJuly 24, 2026

    কি ভালো লাগলো!!!!অনেক ধন্যবাদ লেখককে, এতো সুন্দর একটি গল্প উপহার দেওয়ার জন্য

    ReplyDelete
  6. AnonymousJuly 24, 2026

    কি ভালো লাগলো!!!!লেখককে অনেক ধন্যবাদ, এতো সুন্দর একটি গল্প উপহার দেওয়ার জন্য।

    ReplyDelete
    Replies
    1. AnonymousJuly 25, 2026

      অনেক ধন্যবাদ। 🙏

      Delete