জ্বলদর্চি

চিপমাঙ্ক (প্রথম পর্ব)/সৌমেন রায়

 চিপমাঙ্ক 

(প্রথম পর্ব)

সৌমেন রায়।

চিত্র – কল্লোল মজুমদার।

পিকলু আর তুতুলের ছোটকাকা থাকে আমেরিকায়। কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে গবেষণা করে।  ইথাকা বলে একটা ছোট্ট শহরে ইউনিভার্সিটিটা। কাকা মাঝে মাঝে ছবি পাঠায়। কি সুন্দর জায়গাটা ! একদম ছবির মতো । ছোট ছোট পাহাড়, লেক আর ঝর্ণা। আকাশটা ঝকঝকে নীল।কাকা থাকেও একটা  ছবির  মত  বাড়িতে। পাহাড়ের  গায়ে  কাঠের  বাড়ি।ওখানে অনেক বাড়ি নাকি কাঠের তৈরি। রাস্তাগুলো কোথাও চড়াই, কোথাও উৎরাই। শীতকালে বরফ জমে গাছ,  রাস্তা সব সাদা হয়ে যায়। লেকের  জল, ঝর্ণার জল  সব জমে যায়। বসন্তকালে আবার লাল - হলুদ রঙে সেজে ওঠে পাহাড়গুলো। গাছগুলো পুরনো পাতা ঝরিয়ে বের করে নতুন পাতা ।ওরা অবশ্য বসন্ত বলেনা ,বলে সামার। মাঝেমধ্যে হরিণ চলে  আসে  রাস্তায়। নায়াগ্রা জলপ্রপাত খুব দূরে নয় ওখান থেকে। কাকা আর তার বন্ধুরা মাঝে মাঝে গাড়ি চালিয়ে চলে যায় ওখানে। এইসব শুনে পিকলু আর  তুতুল একবার আবদার করল কাকার ওখানে বেড়াতে যাবে।

বাবা  পেপার  পড়ছিল। কাগজ থেকে  মুখ  না তুলেই বললো, ‘ হু , বড় হও। নিজেই যেতে পারবে’। বাবার সবেতেই বড় হও! ছোটদের যেন কিচ্ছুটি করতে নেই।

সেই কাকা আসছে কতদিন পর! আমেরিকা থেকে সোজা আসবে ওদের বাড়ি ব্যাঙ্গালোরে। এখানে কি সব কাজ সেরে যাবে গ্রামের বাড়িতে। শোনার পর থেকেই পিকলু আর তুতুলের চোখে ঘুম নেই।

পিকলু বলে, ‘কাকা এলে কি গল্প করা  যাবে বলত’!

‘কি খাওয়া  হবে  তাই  বল’ বলে  তুতুল । 

‘ আচ্ছা,চল কাকাই কি আনবে  আন্দাজ  করি’।  

 সারাক্ষণ বকবক করছে দুটিতে। কাকা এসে পৌঁছাল ভোরবেলা ।ওরা তখন ঘুমোচ্ছে।  ঘুম থেকে উঠে দেখল  কাকা ব্রেকফাস্ট করছে।

‘ তোমাদের দুটির কি খবর’ ?

‘ জানো কাকাই আমাদের না স্কুলে দাবা খেলার কম্পিটিশন হবে।তুমি শিখিয়ে দিও তো আমাদের’।

‘ বেশ বেশ। সে হবে।কিন্তু আমি তো এখন খুব ক্লান্ত। জানো তো এখন আমেরিকায় রাত,মানে ঘুমানোর সময়। আগে একটু ঘুমিয়ে মনটা চাঙ্গা করে ফেলি,তারপর জমিয়ে গল্প করব।দাবা হবে কালকে’। বলে ঘুমোতে চলে গেল কাকা।ঘুম থেকে উঠে একটু দেরিতে লাঞ্চ করল। কাকা আসছে বলে মা তো সারাদিন ধরে রান্না করেছে। খেতে বসেই কাকা  হেসে  ফেলল।

 ‘বৌদি  কি  সারা  বছরের  খাওয়া আজকেই খাইয়ে দেবে ?’

‘ওখানে তো নিজে রান্না করে খাও। মানে যা হোক করে পেটটা ভরাও। দুটো দিন খেয়ে নাও মন ভরে’,  বলল মা।

 খেতে খেতে নানা রকমের গল্প হল। প্লেনে কি খাবার দিল, কিভাবে এল। দুবাইয়ে প্লেন পাল্টে এসেছে। ওখানে কিছুক্ষণ সময় ছিল। বুর্জ খলিফা দেখে এসেছে,তার গল্প বলল । কিন্তু এসব কথায়  খুব একটা মন ছিল না পিকলু  আর  তুতুলের। ওদের মন ছিল বোচকার  দিকে। মানে কাকা কি এনেছে সেই দিকে। কাকা বোধহয় বুঝতে পেরে ব্যাগটা টেনে চেন খুলে দুটো চকলেটের প্যাকেট  বাড়িয়ে  বলল, ‘বন্ধুদের দিয়ে খাবি’ । এই চকলেটগুলো ওরা আগেও খেয়েছে। দারুন খেতে। কিন্তু  শুধু  চকলেট ! মুখ দেখে মনের কথা  বোধ  হয়  বুঝতে  পারলো কাকা। 

 ‘আরো আছে, আরো আছে বলে’ একটা প্যাকেট বের করে নিয়ে এল  কাকা। প্যাকেটটা তুলতেই ঝুরঝুর করে নিচের দিকে কিছু  জিনিস পড়তে শুরু করল। বেরির প্যাকেট ।কিন্তু ছিঁড়ল কি করে? কাকা ব্যাগের মধ্যে উঁকি দিতেই লাফিয়ে বেরিয়ে এলো দুটো কাঠবিড়ালি। জানালা দিয়ে বেরিয়ে গেল ছুটে । সঙ্গে সঙ্গে আবার ছুটে এসে ঢুকে গেল ব্যাগের মধ্যে। 

‘তাহলে এদেরই কান্ড। বেরি এরাই খেয়েছে। কিন্তু এরা  ব্যাগের মধ্যে ঢুকলো কি করে’?   বলতে  বলতে  আবার বেরিয়ে এল কাঠবিড়ালি দুটো ।ঘরের মধ্যে এদিক ওদিক ঘুরতে লাগলো। একবার কাকার গা শুঁকে নিল। বাবা মন  দিয়ে লক্ষ্য করছিল। একটু পরে বলল, ‘এগুলো তো কাঠবিড়ালি নয়’।

 ‘তবে কি? ডাইনোসর?’ মা ফোড়োন কাটলো। 

 বাবা বলল, ‘ডাইনোসর হতে যাবে কেন? এগুলো কাঠবিড়ালির মত দেখতে। কিন্তু ভালো করে দেখো,  লেজটা কাঠবিড়ালির মতো লোমশ নয় কিন্তু। এগুলো মনে হচ্ছে চিপমাঙ্ক। নর্থ আমেরিকার বাসিন্দা’।

‘মানে?

 ওরা কি আমার সঙ্গে আমেরিকা থেকে এসেছে নাকি?’ আঁতকে উঠে কাকা।

 (পরের অংশ পরের পর্বে) 

🍂

Post a Comment

12 Comments

  1. এতো রহস্য😄
    আগামী পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম.

    ReplyDelete
  2. কমলিকাJuly 17, 2026

    Lovely🫐🐿️

    ReplyDelete
  3. AnonymousJuly 17, 2026

    রহস্যের গন্ধ !👍

    ReplyDelete
    Replies
    1. AnonymousJuly 17, 2026

      ধন্যবাদ

      Delete
  4. AnonymousJuly 18, 2026

    উফফ!অসাধারণ! একসাথে কটা চলছে দাদা? হাতিম কী করছে এখন?আর একটা কী যেন----

    ReplyDelete
    Replies
    1. AnonymousJuly 18, 2026

      অনবদ্য সুখপাঠ্য শিশু কিশোরদের এই বিদেশের গল্প। ওদের মেধা ও বুদ্ধির প্রকাশ ঘটে প্রথমে পরিবারের মধ্য থেকে। পারিবারিক ভালোবাসার বন্ধনে রেখে ওদের যদি এমন গল্প শোনানো যায় বা এমনতর কৌতুহলোদ্দীপক ছবি সমাদৃত গল্পের বই হাতে তুলে দেওয়া যায় তাদের উৎসাহের সীমা থাকেনা। অপরদিকে নেতিবাচক ইচ্ছা থেকে দূরে থাকে।আশা করি ভিন্ন স্বাদের গল্প গুলো কিশোর কিশোরী দের প্রিয় সাথী হয়ে উঠবে।

      Delete
    2. AnonymousJuly 18, 2026

      অনবদ্য সুখপাঠ্য শিশু কিশোরদের এই বিদেশের গল্প। ওদের মেধা ও বুদ্ধির প্রকাশ ঘটে প্রথমে পরিবারের মধ্য থেকে। পারিবারিক ভালোবাসার বন্ধনে রেখে ওদের যদি এমন গল্প শোনানো যায় বা এমনতর কৌতুহলোদ্দীপক ছবি সমাদৃত গল্পের বই হাতে তুলে দেওয়া যায় তাদের উৎসাহের সীমা থাকেনা। অপরদিকে নেতিবাচক ইচ্ছা থেকে দূরে থাকে।আশা করি ভিন্ন স্বাদের গল্প গুলো কিশোর কিশোরী দের প্রিয় সাথী হয়ে উঠবে।

      Delete
    3. AnonymousJuly 18, 2026

      সকলকে ধন্যবাদ। আর একটি হেরে গেলেন ভোলে বাবা। হাতিম এখন জঙ্গলের নিয়ম শিখছে।

      কেউ একজন বোধহয় ভুল করে কমেন্ট reply সেকশনে পোস্ট করে দিয়েছেন দেখছি।

      Delete