গুচ্ছ কবিতা
মৈত্রেয়ী চট্টোপাধ্যায়
মর্ত্যের ঘুম
এসো নতজানু হও বিহ্বল প্রেম
বাতাস ছুঁয়েছে আজ শাখা পল্লব
দাওনি সুধা, মাখোনি আলোর যোনিপথে
বিছানো যে প্রত্যয়
কেন তবে হাতে হাত
পিচ্ছিল এই বাঁধানো খোয়াপথ
আমি এখন ঘুমিয়ে আছি হ্রদে
বুকে আমার জ্যোৎস্না এসে পড়ে
মর্ত্যলোকের ঘুম দিয়েছে ঢেকে
মসিঢালা দিনের আলোর খোঁজে।
অলি বারবার ফিরে যায়
ভুলে গেছি অশথ তলায়
জ্বেলেছো যে বাতি
সংবিগ্ন ক্ষুৎপিপাসা তার মেখেছে রোজ আবির রঙা আলো
রেশমি চাদর কে বিছালো দেখো নিদাঘ দুপুর
জড়ায়নি ঘুম চরাচর
বিষিয়েছে শুধু চিরন্তন সুধা
ঊরস ভেঙেছে কি বারবার
দেখো আজ কৌমুদী রাত।
ছায়াবৃত মরুঝড়
যামিনী গিয়েছে চলে
স্মৃতিপট হোক উতরোল
শালবনে আজ হাহাকার রব
কতকাল নিশ্চুপ বলো গুঞ্জা ফুলের পাড়া
প্লাবন ডেকেছে দেখো উজানের ঢেউ
অন্তরীক্ষে দাপিয়ে বেড়ায়
উজাগর কুহকিনী রাত।
অনাসক্ত ফাল্গুন ও মোহজাল
মহাকালের বিচ্ছেদ বাঁশি
বেজেছিল নক্ষত্রের নিবিড় পাহারায়
ক্লান্তি এল হেমন্ত সমীরনে হায়
শুষ্ক জরায় অতীত কি অবসান?
সেদিন জাগেনি প্রাণে অনাসক্ত ফাল্গুন
সঁপিনি নিমজ্জ বিষাদ
ধূলিকণা মেখেছে আদিম ঘ্রাণ
আজ অস্থির শ্রাবণ মাস
বকুলগুলি ঝরে
প্রহর গুনেছে কত রোদচাপা দুপুরের ঘ্রাণ
মেলেনি উত্তর তার
উদগ্র বাসনার খণ্ডিত মায়াজাল
পরতে পরতে রেখে গেছে দেবদারু ছায়া
মিলেছে বিষাদ তার জ্যোৎস্না আঁধারে
মায়াবী অপেক্ষমাণ তিমির
অনাসক্ত গোধূলি বুকে
আখর লিখেছে কত উদাসী সমর্পণ
অতল, তুমি ছিলে তাই
চেতনা বিলুপ্তির পথে হেঁটেছি যে কটা রাত
দাঁড়িয়েছি বিষ্ময়ে !
আশীবিষ দংশায় মলিন হৃদয়।
ঝঞ্ঝাবাতে ভেঙেছে যে কঠিন দ্বার
স্থিতপ্রজ্ঞ পুরুষের অজেয় নির্মম পরিহাস।
অতল, তুমি ছিলে তাই
কুয়াশার রাত
সহজ হয়েছে দেখো
তয়োনিধি পারাপার।
কালান্তরে বসন্ত আজ
প্রতিদিনের নিয়ম মেনে
উঠেছে চাঁদ জোয়ারজলে
লাগেনি রং ধূলিকণায়
বলবে না, কেন হারালে?
উজাগর রাত, জোৎস্নামলিন
হিজলবনের সুবাস
আমিও দেখেছি শুকতারা গ্রহ
কে যেন দিল আভাস!
এসো পথ হাঁটি আমরা দুজন
খসেছিলো তারা, মোহ আবরন
কেতকীর ঝার মশগুল আজ
কালান্তরে বসন্ত যাপন॥
🍂
0 Comments