চিত্রা ভট্টাচার্য্য
হৈমন্তীর সাঁঝের আকাশের কালচেনীলে রাস পূর্ণিমার সোনার থালার মত গোল চাঁদ জ্বলজ্বল করছে। ,জোৎস্নাভেজা আকাশ বাঁধভাঙা চাঁদের হাসিতে প্লাবিত খোয়াইয়ের তীরের কাশ পারুলের বন। বৈকালিক ভ্রমণে ভারী অশান্ত চঞ্চল কবি -- যথেষ্ট অর্থের প্রয়োজন তাঁর স্বপ্নের শিক্ষামন্দির শান্তিনিকেতনের সার্বিক উন্নয়নে কিন্ত উপায় কী ? বিশাল আম্রবীথিকার তল পেরিয়ে সপ্তপর্ণী ছাতিমের স্নেহছায়ায় কবি সতীর্থদের সাথে। ১৯১৩ সালের ১৩ই নভেম্বর বিদেশ থেকে তখনই অপ্রত্যাশিত বার্তা এসেছিলো ''জোব্বার পকেট থেকে টেলিগ্রামের কাগজটা বার করে ভাঁজ খুলে বার দু’য়েক পড়লেন। উদাস চোখে চেয়ে রইলেন দূরের বনপথে। তারপর উদাসীন ভাবে নোবেল প্রাপ্তির টেলিগ্রামটা সচিবের দিকে এগিয়ে বললেন, ‘‘নিন, নেপালবাবু। এই আপনার ড্রেন তৈরির টাকা!’ কবির কথা শুনে একেবারে নির্বাক আশ্রম-সচিব নেপালচন্দ্র রায়! ''দু’চোখের কোণ ভিজে এল ! কাব্য সাহিত্যের দরবারে এশিয়ার প্রথম নোবেল পুরস্কার জয়ী কবির গীতাঞ্জলি 'কাব্যগ্রন্থ। 'দুশ্চিন্তা মুক্ত কবি বলেন ,নোবেল প্রাইজের টাকায় শান্তিনিকেতনের ড্রেন তৈরির সমস্যার দূর হবে। ''
🍂
রবীন্দ্রনাথের পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর শহরের কোলাহল থেকে মুক্তির উপায়ে নিভৃতে ঈশ্বরচিন্তা ও ধর্মালোচনার উদ্দেশ্যে ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দে রায়পুরের জমিদার সিংহ পরিবারের কাছ থেকে কয়েক বিঘা জমি কিনে নির্জন প্রান্তরে দুটি ছাতিম গাছের ছায়াতলে “শান্তিনিকেতন” আশ্রম তৈরি করেছিলেন। সেকালে বীরভূম জেলার বোলপুর শহরের ঠিক পাশেই অবস্থিত শান্তিনিকেতনের দক্ষিণদিকের জলাশয়ের ধারে জমিদার ভুবনমোহন সিংহের ভুবনভাঙা বা ভুবনডাঙা ঐতিহাসিক গ্রামটি ছিল কুখ্যাত ডাকাতদের আড্ডা । ১৮৬২ সালে এই গ্রামের কাছেই বিস্তীর্ণ জমিতে মহর্ষি তাঁর সাধনার আশ্রমটি গড়ে তোলেন। এবং ডাকাতসর্দার অবশেষে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে আত্মসমর্পণ করে এলাকার উন্নতি ও বিকাশের জন্য ডাকাতি ছেড়ে কৃষিকার্য শুরু করেছিল। পরবর্তীসময়ে তাঁরই পুত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বভারতী তথা শান্তিনিকেতন বিশ্ববিদ্যালয় ও আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু সেকালের সেই ছাতিম গাছ দুটি আজ না থাকলে ও অন্য ছাতিম গাছ রোপণ করে মহর্ষির ছাতিম তলার ' স্মৃতি আজো উজ্জ্বল হয়ে আছে। সেই ' ছাতিম তলার দক্ষিণ দিকের গেটে লেখা আছে -'তিনি আমার প্রাণের আরাম, মনের আনন্দ ও আত্মার শান্তি '।
পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলা কে পরম স্নেহাদরে অজয়নদ ও কোপাইনদী ঘিরে থাকায় শান্তিনিকেতনের ঠিক পাশ দিয়ে আপনছন্দে ঢেউ তুলে তরতরিয়ে বয়ে গিয়েছে কোপাই --যার তীর জুড়ে আছে সোনাঝুরি শাল মহুয়ার গভীর অরণ্যে পাখপাখালির অবাধ বিচরণে। নদীরপাড় জুড়ে শরতে শুভ্র কাশের বনভূমি হিল্লোলে মাতলে ও খটখটে শুখনো রুক্ষ লাল মাটি ক্ষয়ে যাওয়ায় স্থানীয় জনগণ এ অঞ্চলের নাম দিয়েছে খোয়াই । কিন্তু সে যুগ থেকেই উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ভিদ সংগ্রহ করে রোপনে ও যত্নে শান্তিনিকেতনের রুক্ষ মাটির কিছু অংশে সবুজের সমারোহে ভরে ওঠে। কৃষ্ণচূঁড়া পলাশের লালে অমলতাস দেবদারু শিরীষ সোনাঝুরিরা রঙেরঙে আকাশ মাতিয়ে বসন্তের উদাসী ঝরো বাতাসে পাতা ঝরার রিনরিন শব্দে ব্যাকুল হয়ে বন কাঁপায়। শান্তিনিকেতনের স্নিগ্ধ পরিবেশ হয়ে ওঠে যেন এক কবির নিখুঁত কাব্য ।
হিমালয়ভ্রমণের সময় ১২ বছরের কিশোর রবীন্দ্রনাথ ১৮৭৩-এর ফেব্রুয়ারীতে পিতার সাথে প্রথম শান্তিনিকেতনে বেড়াতে এসেছিলেন।১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে দেবেন্দ্রনাথ একটি ট্রাস্টের মাধ্যমে সমগ্র এলাকাটিকে একটি ব্রহ্মবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। প্রকৃতির স্পন্দনের সাথে আত্মাকে একাত্মকরতে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ "শান্তিনিকেতন" নামে অতিথি শালাটি তৈরি করেছিলেন। এবং আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে তাকে আরো বিকশিত করে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতন কে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহরে পরিণত করেছিলেন। ১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনের ছাতিমতলায় একটি আদর্শ আশ্রম-বিদ্যালয় (‘ব্রহ্মচর্যাশ্রম’) প্রতিষ্ঠা করেন, যা ১৯২১ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। এই স্থানটি তাঁর সাহিত্য, দর্শন ও শিক্ষাচিন্তার মিলন ক্ষেত্র।কবি তাঁর জীবনের বেশির ভাগ সময় শান্তিনিকেতন আশ্রমে কাটিয়েছেন। তাঁর আজীবন নিরলস সাহিত্য সাধনা ও সৃষ্টিকর্মে এই আশ্রম ও তৎ-সংলগ্ন প্রাকৃতিক পরিবেশের উপস্থিতি আজো সমুজ্জ্বল। অধুনা ২০২৩ সালে এই বিশ্ব সাহিত্য সংস্কৃতির পীঠস্থান ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট-এর মর্যাদা লাভ করেছে।
পিতার শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট থেকে বছরে আঠারশ টাকার মত পাওয়া গেলেও রবীন্দ্রনাথ নিজের সীমিত আর্থিক সঙ্গতি দিয়ে ১৯০১ সালের ২২ডিসেম্বর প্রকৃতির কোলে মাত্র পাঁচ জন ছাত্র নিয়ে এই বিদ্যালয়টি শুরু করেছিলেন। শুরুতে এর ব্যয়ভার নির্বাহের জন্য স্ত্রী মৃণালিনীদেবীর অলংকারও পুরীর বাংলো বিক্রি করেছিলেন এবং পরে তাঁর নোবেল পুরস্কারের সমুদয় অর্থ এবং ১৯২২সালে তাঁর বাংলা গ্রন্থাবলির গ্রন্থস্বত্ব বিশ্বভারতীকে দান করে আশ্রমের কাজে লাগিয়েছিলেন। প্রাথমিক অবস্থায় সামান্য বেতনের শিক্ষকদের ও সাহায্য এসেছিল। এই প্রসঙ্গে বলাযায় শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথঠাকুরের শিক্ষাদর্শন শুধু ভারতীয়দেরই নয়,বহু বিদেশি শিক্ষক ও চিন্তাবিদকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। রবীন্দ্র মিত্র উইলিয়াম পিয়ার্সন , সি.এফ. অ্যান্ড্রুজ,আলেকজান্ডার আরমস্ট্রং, স্টেলা ক্রামরিশ প্রমুখ বিদেশি শিক্ষকরা রবীন্দ্রনাথের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শান্তিনিকেতনে এসেছিলেন।
আশ্রমিকদের বসবাসের জন্য রবীন্দ্রনাথ এখানে বিশেষ স্থাপত্য শিল্পের উৎকর্ষতা সহ একাধিক ভবন নির্মাণ করিয়েছিলেন। কালক্রমে আশ্রম নিবাসী বিভিন্ন শিল্পী ও ভাস্করের সৃষ্টিকর্মে সজ্জিত হয়ে উঠলো। ১৮৬৪ সালে ছাতিম গাছের পাশেই মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের নির্দেশে নির্মিত হলো শান্তিনিকৈতনের দ্বিতল আদি বাড়িটি । বাড়ির উপরিভাগটিতে লেখা আছে,'মহর্ষির প্রিয় উপনিষদের উক্তি। 'সত্যাজ্র এাণারামং মন ত আনন্দং ''। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই বাড়িতে ক্লাস নিতেন, এখানে কিছুদিন বাসও করেছিলেন। তখন এর সামনে যে পুকুর টি ছিল তার পাশেই উঁচু মাটির টিবিতে মহর্ষি আরাধনায় বসতেন , এখানে বসেই প্রত্যহ সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখতেন। পাশেই, ১৮৯২ সালে রবীন্দ্রনাথের বড়দাদা দিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর রঙ্গিনকাঁচ দিয়ে উপাসনা মন্দির তৈরি ও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এখোনো প্রতি বুধবার সকালে ব্রাহ্ম সমাজের প্রতিষ্ঠা দিবস হিসাবে সেখানে উপাসনা রীতি প্রচলিত আছে।
তালগাছ কে কেন্দ্র করে কাঁচেরমন্দিরের সামনে আশ্রমের এক বৃক্ষপ্রেমী সদস্য তেজশচন্দ্রসেন যে বাড়িটি বানিয়েছিলেন সেখানে তালগাছের পাতাগুলি 'ধ্বজা'র মত করে বাড়িটির উপরে শোভিত হওয়ায় তার নাম ছিল "তালধ্বজ"। উপাসনা গৃহের পাশেই “আম্রকুঞ্জ”।মহারাজা মহতাব চাঁদ তার মালি রামদাসকে পাঠিয়ে এই বাগানের গোড়াপত্তন করেছিলেন। এর সামনেই শাল বীথি, ঘণ্টাতলা, গৌরপ্রাঙ্গণ রয়েছে । মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষাগ্রহণ স্মরণ করে পৌষ উৎসব শুরু হয়ে পৌষমেলায় এবং ১৯০৭ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি, বসন্তপঞ্চমীতে,কবির ছোটপুত্র শমীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগে, যে ঋতু উৎসবের সূচনা হয়েছিল তাই আজ ও বসন্ত উৎ্সব নামে পালিত হয়। এছাড়া বর্ষাঋতুতে বৃক্ষরোপণ এবং হলকর্ষণ উৎসব প্রকৃতি ও মানুষের মেলবন্ধনের প্রতীক। তাঁর রেখে যাওয়া শিল্পকর্ম, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠভবন, কলাভবন এবং রবীন্দ্রভবন মিউজিয়াম ইত্যাদিতে পূর্ণ শান্তিনিকেতন কবির স্মৃতিবিজড়িত একটি জীবন্ত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। ।
উত্তরায়ণ' ও আশ্রম এলাকায় কবি বেশ কয়েকটি বাড়ি নির্মাণ ও ব্যবহার করেছিলেন। এই বাড়িগুলো তৎকালীন প্রকৃতি-ভাবনা ও আধুনিক স্থাপত্যের এক অপূর্ব সমন্বয়। এরমধ্যে প্রধান বাড়িগুলোর নাম যেমন --
প্রথম নির্মিত চারদিক খোলা একটি বারান্দা বা ঘরের আদলে তৈরি করা কোনার্ক বাড়িটি । উদয়ন বাড়িটি সর্বাপেক্ষা বড় ও আকর্ষণীয় স্থাপত্যে বিভিন্ন দেশের ছোঁয়া রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবনের শেষ বছরগুলোর বেশিরভাগ সময় এই বাড়িতে কাটিয়েছেন। তিনি ভালোবাসতেন খোলা প্রকৃতির মাঝে বসে কবিতা ও নাটক পাঠ করতে। গ্রামীণ নির্মাণশৈলী ও শান্তিনিকেতনের মাটির সঙ্গে মিল রেখে মাটির দেওয়াল ও খড়ের চাল দিয়ে তৈরি শ্যামলী একটি সুন্দর দোতলা বাড়ি। সামনে গোলাপ বাগান ও বসার জন্য খোলামেলা বারান্দা সমেত 'সেঁজুতি', উদিচী ,পুনশ্চ নামের বাড়িগুলি কবির কাব্যগ্রন্থের নামে জেষ্ঠ্যপুত্র রথীন্দ্রনাথের নকশায় তৈরি হয়েছিল। শান্তিনিকেতনে স্থায়ীভাবে বাস করতে এসে কবি কিছুদিন দেহলির বাড়িতে থেকেছিলেন ।
শান্তিনিকেতন গড়ে উঠেছে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের জ্ঞান ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে। কবির ঐকান্তিক ইচ্ছে ছিল মুক্ত আকাশের নিচে, প্রকৃতির সান্নিধ্যে শিক্ষার্থীদের মানবিক ও সৃজনশীল বিকাশ ঘটাতে। তাঁর ঐকান্তিক ইচ্ছে ছিল প্রকৃতির কাছাকাছি থেকে আদর্শ প্রাকৃতিক পরিবেশে শিশুদের বেড়ে ওঠা ও পরিবর্তনশীল জগতের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষার উদ্দেশ্যে শিক্ষাদান। কবির অক্লান্ত প্রয়াস ছিল প্রকৃতি,মানুষ ও শিক্ষার সমন্বয় যাতে ঘটাতে পারেন। এই কারণে এই আশ্রমের ছাত্রছাত্রীদের বই মুখস্থবিদ্যা নয় ,শ্রেণিকক্ষের বাইরে প্রকৃতির মধ্যে আম্রকুঞ্জে গাছের তলায় বা বনবীথিকার মাঝে শিক্ষা দেওয়ার প্রথা চালু থাকায় শান্তিনিকেতনের পাশাপাশি গ্রাম ও তার মানুষদের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। বৃহত্তর জগতকে নিজের মধ্যে হাতেকলমে গড়ে তোলার ও শিক্ষা গ্রহণের জন্য আজীবন তিনি সচেষ্ট ছিলেন । নানাবিধ গ্রামীণ মেলা গ্রামীণ উৎসব, গ্রামীণ যোগাযোগে শান্তিনিকেতনের শিক্ষা হয়ে উঠেছিল মানবতা বোধের শিক্ষা। শান্তিনিকেতনের ধারণা শুধু বাংলা বা ভারতে নয় পৃথিবীর ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কবির একান্ত বিশ্বাস ছিল "বইয়ের জ্ঞান নয়, কাজের মধ্য দিয়েই শিক্ষা স্থায়ী হয়"। যখন শিশুরা নিজ হাতে মাটি স্পর্শ করে, তখন বিজ্ঞান বইয়ের চেয়ে ভালোভাবে তারা বুঝতে পারে জীবনচক্র।"
রবীন্দ্র ভক্ত উইলিয়াম পিয়ার্সন শান্তিনিকেতনের স্মৃতিচারণায় লিখেছেন --''সেইসময় শান্তিনিকেতনের ছাত্ররা সাঁওতাল গ্রামে নৈশ বিদ্যালয় তৈরি করেছিল। প্রার্থনা মন্দিরে আলো হাওয়া প্রবেশের কোনো জায়গা ছিল না। ছাত্ররা রঙিন শাল গায়ে জড়িয়ে এলোমেলো ভঙ্গিতে সহজভাবে বসে প্রার্থনা করত। বোলপুরের ছাত্রদের কণ্ঠে আবৃত্তি কখনও ভোলেননি তিনি । রবিকবির রচিত গানগুলি ছাত্রদের শেখাতেন দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর। একবার শুক্লপক্ষের রাতে ছাত্র ও শিক্ষকরা বিদ্যালয় থেকে একটু দূরে জমায়েত করে অনুষ্ঠান করেছিলেন। পিয়ার্সন সেই আসরে বলেছিলেন রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে লন্ডনে তাঁর প্রথম দেখা হওয়ার ও আলাপের গল্প।''
'' শান্তিনিকেতনে তখন আশ্রম চারখণ্ড উঁচু জমির উপর ছিল। দূর থেকে আশ্রমের আলো দেখা যেত। বিদ্যালয়ের চারিদিকে ছিল সারি সারি গাছ। চাঁদনি রাতে ওইসব বৃক্ষছায়ায় স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ একলা এসে দাঁড়াতেন। পিয়ার্সনের প্রথম মনে হয়েছিল তিনি কোনো সাধকের পুণ্যভূমিতে তীর্থযাত্রায় এসেছেন। তখন ছাত্রাবাসের ছাত্ররা রাতের বেলাও রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়ে ঘুমাতে যেত। ‘প্রত্যেক রাত্রিতে শুতে যাবার আগে তারা কবির রচিত একটি গান গায়। আমরা যে বাড়িতে বসে ছিলাম গানের দল ধীরেধীরে সে বাড়ির দিকে এগিয়ে এল। তারপর আবার তারা ফিরে গেল। গানের সুর ক্রমশ অস্পষ্ট হতে হতে শেষে একেবারে মিলিয়ে গেল। তারার আলোতে পাহাড়ের উপর যেমন করে ছায়া নামে তেমন করে চারিদিকে নীরবতা নেমে এল। আর সেই নিস্তব্ধতায় আমি যেন উপলব্ধি করলাম, এই জায়গাটির নাম ‘শান্তিনিকেতন’ রাখা হয়েছে কেন।’'
1 Comments
অনেক কিছু জানলাম দিদি।প্রাঞ্জল উপস্থাপনা।🙏
ReplyDelete