জ্বলদর্চি

কাকমাছি/ভাস্করব্রত পতি

বাংলার ঘাস পাতা ফুল ফল, পর্ব - ১৩৭
কাকমাছি

ভাস্করব্রত পতি

কাকমাছিকে কথ্য বাংলায় বলে গুড়কামাই। অনেক এলাকায় বলে তিতবেগুন এবং গুলগুলি। তবে সংস্কৃতে এটি কাকাদনী, কাকমাচী, গুজরাটিতে পীলডী, হিন্দিতে কবৈয়া, তেলুগুতে কামাঞ্চি, ইংরেজিতে European Black Nightshade, Simply Black Nightshade এবং Blackberry Nightshade নামে পরিচিত। এটিকে অবশ্য কাকমাচী, বায়সাহ্বা, বায়সী, সর্বতিস্তা, মৎসাক্ষী, মাকো, মাকাই, কাকমাতা, চন্দ্রাবিনী, স্বাদুপাকা নামেও চেনা যায়। 

মূলতঃ আগাছা হিসেবে বিবেচিত এই কাকমাছি হল Solanaceae পরিবারের অন্তর্গত। এর বিজ্ঞানসম্মত নাম Solanum nigrum। এর আরও কিছু প্রজাতি হল --
Solanum nigrum subsp. nigrum
Solanum nigrum subsp. schultesii
Solanum nigrum subsp. vulgare

বর্ষজীবী এই গুল্মজাতীয় গাছটি রাস্তার ধারে বেশি দেখা যায়। এছাড়াও পতিত জমিতে অনাদরেই জন্মায়। মোটকথা, ছায়াযুক্ত স্থান এর বেড়ে ওঠার পক্ষে আদর্শ। এর আদিনিবাস ইউরেশিয়া এলাকায়। তবে অষ্ট্রেলিয়া, আমেরিকা এবং দক্ষিণ আফ্রিকাতেও ছড়িয়েছে। 
কাকমাছির কাঁচা ও পাকা ফল

অন্য কোনও গাছে জড়িয়ে ওঠে। মোটামুটি ১-২ মিটার উঁচু হয়। সাদা রঙের ফুল দেখতে লঙ্কাগাছের ফুলের মত। আবার কখনো বেগুনি রঙেরও হয়। কাকমাছির ফলগুলি বেশ নরম। মটরদানার মতো ফল হয়। কাঁচা ফলের রঙ সবুজ। তবে পেকে গেলে প্রথমে লাল রঙের হয় এবং পরে কালো রঙের হয়ে যায়। 

কোথাও কোথাও কাকমাছির পাকা ফল এবং পাতা রান্না করে খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ওষধি হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। এর নির্যাস থেকে প্রাপ্ত রাসায়নিক আমাশয়, পাকস্থলীর সমস্যা, লিভার সমস্যা এবং জ্বর নিরাময়ের সমাধান করতে কাজে লাগে। এছাড়াও আলসার, চর্মরোগ, কোষ্ঠকাঠিন্য, হুপিং কাশি, জণ্ডিস, হাঁপানি, ক্ষুধামান্দ্যের সমাধানে উৎকৃষ্ট এটি। টমেটো গাছের 'গ্র্যাফটিং প্ল্যান্ট' হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যাতে টমেটো গাছে তেমন কোনো রোগবালাই না আসে।
🍂

Post a Comment

0 Comments