বাংলার ঘাস পাতা ফুল ফল, পর্ব -- ১৩৮
আমরুল
ভাস্করব্রত পতি
গ্রামাঞ্চলে একে চেনা যায় টক শুশনি নামে। রাস্তার ধারে স্যাঁতসেঁতে জায়গায়, প্রাচীরের পাশে, পোড়ো জমিতে, বাড়ির আনাচে কানাচে জন্মানো এই গাছটি ছোটদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। স্বাদে টক টক। তাই টপাটপ তুলেই সরাসরি মুখে চালান হয়ে যায়। এহেন গাছটি পরিচিত আমরুল নামেই। সংস্কৃতে অম্ললোনী, হিন্দিতে আমবোতি, ওড়িয়াতে আলিতিও বলে। এছাড়াও একে অম্লবতী এবং অম্লবাসুক নামেও চেনা যায়।
আমরুলের পত্রবৃন্ত তথা বোঁটা মূল থেকে গুচ্ছবদ্ধভাবে ওঠে। এর ডাঁটার গোড়া থেকে ফল বেরোয়। পাঁপড়ির রং হলুদ। যবের মতো ফল হয়।পাতাগুলি ৩-৪ ইঞ্চি লম্বা, সূতোর মত দণ্ডের মাথায় ছত্রাকার তিন ভাগে বিভক্ত পাতার সমাহারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর সংখ্যা থাকে চার। তাই একে বলে চাঙ্গেরী। অথর্ববেদের বৈদ্যককল্পের ১৬।৬৫। ২৭ সুক্তে পাই --
বেদ অনুসারে এই 'চাঙ্গেরী' নামকরণের মূল লক্ষ্য ছিল এর দেহের গঠন। 'আম' শব্দার্থে কচি বোঝায়। রোগকেও বোঝায়। আবার অপক্ক দ্রব্যকেও বোঝায়। আর তাকে যে আঘাত করে, সেই তো 'আমরোলিকা'। এই আমরোলিকাই লোকায়তিক সহজিয়া ভাষায় হয়েছে আমরুক বা আমরুল। এটি রোগ বা রুক নাশ করে বলে এর নাম আমরুক।
(রুক = রুজা = রোগ)
আমরুক = আমরুল
অর্থাৎ আম রোগ নষ্ট করে বলেই আমরক। সেইটাই হ'য়ে দাঁড়িয়েছে আমরুল। একে 'চুকা ত্রিপাতী'ও বলে। চুকা অর্থে টক।
আমরুলের ফুলের রঙের ওপর নির্ভর করে হলুদ আমরুল বা গোলাপী আমরুল বলা হয়। Oxalidaceae পরিবারের অন্তর্গত আমরুলের বিজ্ঞানসম্মত নাম Oxalis corniculata। আমরুলের অনেক প্রজাতির মধ্যে অক্সালিক অ্যাসিড থাকে।
বেদোক্ত নামেই চরক, সুশ্রুত, বাগ্ভটে চাঙ্গেরী নামের উল্লেখ মেলে। চরক এবং বাগভটের দৃষ্টিতে চাঙ্গেরী বা আমরুল হল দীপনী, উষ্ণবীর্যা এবং কফযুক্ত বায়ুবিকারে উপশমকারক। চক্রপাণির কথায় আমরল শাক জ্বরের উপশমে ব্যবহার করা যায়। মোটামুটি আমরুল অম্লপিত্ত রোগ, অর্শ, সর্দি বসে গেলে, চুলকানির সমস্যায় নিরাময় করে।
🍂
0 Comments