জ্বলদর্চি

চিন দেশের গল্প: ৯ ( মেষপালক আনিজ)বাংলা ভাষান্তর : নিখিলেশ ঘোষ

চিন দেশের গল্প: ৯ ( মেষপালক আনিজ)

বাংলা ভাষান্তর :  নিখিলেশ ঘোষ

(একটি উইঘুর লোককথা। মূল চিনা ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন : জন মিনফোর্ড)


একদা এক গাঁয়ে বাস করতেন এক মস্ত বড় জমিদার। তাঁর ঘরে যেমন ধন-দৌলত ছিল, তেমনই ছিল মস্ত বড় মনের এক মেষপালক—নাম তার আনিজ। আনিজের মিঠে স্বভাবের জন্য গাঁয়ের আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই তাকে বড্ড ভালোবাসত, আর ব্যাকুল হতো তার বাঁশির সুরে।  সাধারণ এক টুকরো  বাঁশের বাঁশি।অথচ আনিজ যখনই সেই বাঁশিতে তার ঠোঁট ছোঁয়াত, জাদুকরের মতো তার আঙুলগুলো নড়তে শুরু করত, বেরিয়ে আসত অপূর্ব সুর। 

দিনের খাটুনি শেষে গাঁয়ের মানুষ যখনই একটু ফুরসত পেত, ছুটে আসত আনিজের খোঁজে, তার চারপাশে গোল হয়ে বসতে।  সেই বাঁশির মায়াবী সুর মুহূর্তের মধ্যে সারাদিনের ক্লান্তি ধুয়ে-মুছে দিত। সেই সুরের আলোয় খেটে খাওয়া মানুষগুলো খুঁজে পেত এক অদ্ভুত রূপকথার আনন্দ।

কিন্তু জমিদারের মন ছিল অত্যন্ত নিষ্ঠুর। আনিজের এই সরল আনন্দ এবং তার বাঁশির সুন্দর সুর—কোনোটাই জমিদার সহ্য করতে পারতেন না। তিনি প্রতিনিয়ত আনিজের কাজে খুঁত ধরতেন এবং সামান্য কারণে তাকে বকাঝকা করতেন। প্রায়ই চিৎকার করে বলতেন, "তুই একটা পাজি ছোটলোক! আমি কি তোকে ওখানে বসে বাঁশি বাজানোর জন্য টাকা দিই? কাজে মন দে!" অথচ বাস্তবে, বাঁশি বাজানোর জন্য আনিজের কাজে কোনোদিন বিন্দুমাত্র অবহেলা হতো না। সব ভেড়া ঠিকঠাক থাকত।একদিন একটা ভেড়া কিছুক্ষনের জন্য হারিয়ে গিয়েছিল। অমনি অজুহাত পেয়ে গেলেন জমিদার।জমিদার লোকলস্কর নিয়ে এসে তাকে প্রচণ্ড মারধর করতে শুরু করলেন।  

শুধু মারধরেও তাঁর মন শান্ত হলো না। তিনি আনিজকে চিরকালের জন্য তাঁর জমিদারি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার আদেশ দিলেন। যাওয়ার আগে জমিদারের নজর পড়ল আনিজের মাটিতে পড়ে থাকা সাধের বাঁশিটির দিকে। পরম আক্রোশে তিনি নিজের ভারী বুট জুতো দিয়ে মাড়িয়ে আনিজের প্রাণের চেয়েও প্রিয় বাঁশিটি টুকরো টুকরো করে ভেঙে ফেললেন। ভাঙা বাঁশির টুকরোগুলোর দিকে তাকিয়ে অহংকারের হাসি হেসে জমিদার বললেন, "বেশ! এবার আমি দেখতে চাই তুই কীভাবে বাঁশি বাজাস!"

হতভাগা আনিজ রক্তাক্ত শরীরে, ভাঙা মন নিয়ে জমিদারের বাড়ি ছেড়ে  চলে গেল। কিন্তু অহংকার দিয়ে মানুষের শরীর আর জিনিসপত্র ভাঙা যায়, মানুষের ভেতরের সুর বা আত্মাকে কখনো ধ্বংস করা যায় না।

সে  অসহায় হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে লাগল। হঠাৎ করেই তার এক বৃদ্ধ লোকের সাথে দেখা হলো। আনিজকে দেখে বৃদ্ধ লোকটির করুণা হল। তিনি অনিজের মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, " ওহে, কী সমস্যা, তরুণ বন্ধু? তোমার বাবা-মা কে? তুমি একা একা এখানে কাঁদছ কেন?"  " 
দাদু! আমি একজন  মেষপালক। আমার নাম আনিজ। জমিদার আমাকে মেরে তাড়িয়ে দিয়েছে এবং আমার সুন্দর বাঁশিটি ভেঙে টুকরো টুকরো করে ফেলেছে..." 

আনিজ আর কোন কথা বলতে পারলনা, আবার কাঁদতে শুরু করল। বৃদ্ধ লোকটি সদয়ভাবে বললেন, "কেঁদো না, আনিজ, আমার সাথে এসো এবং আমার কাছেই থাকো! আমি তোমাকে প্রতিশোধ নেওয়ার পথ দেখাব।"
🍂
 তিনি আনিজকে তার বাড়িতে নিয়ে গেলেন। সেখানে তিনি এক টুকরো বাঁশ দিয়ে তাকে একটি নতুন বাঁশি তৈরি করে দিলেন, যা তার পুরানো বাঁশিটির চেয়ে অনেক ভালো ছিল। তিনি তাকে এটি বাজানো শেখালেন, এবং বৃদ্ধ লোকটির কাছে তালিম নেওয়ার পর আনিজ আগের চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর করে বাঁশি বাজাতে শুরু করল।।

আনিজের বাঁশির সুরে এমন এক জাদুকরী শক্তি ছিল, যা কেবল মানুষের মনকেই ব্যাকুল করত না, প্রকৃতির অবুঝ প্রাণীদেরও টেনে আনত। সে যখনই মাঠে বা বনের ধারে বসে আপন মনে বাঁশিতে ফু দিত, সেই সুরের মায়াজালে  বনের বিভিন্ন পশুপাখিরাও এসে তার চারপাশে বসত, শান্ত হয়ে তার বাঁশি শুনত। গভীর এক শান্তি যেন তাদেরকে আনিজের চারপাশে ধরে রাখত। দিন যত যেতে লাগল, আনিজের একাকীত্ব দূর হয়ে গেল। এই অবুঝ পশুপাখিরাই হয়ে উঠল তার সবচেয়ে আপনজন। সময়ের সাথে সাথে আনিজ এবং বনের প্রাণীদের মধ্যে গড়ে উঠল এক  গভীর মিতালী।

এদিকে একদিন জমিদার তার ছেলেদের ডেকে বললেন, "গত রাতে আমি বরফের মতো সাদা একটি সুন্দর খরগোশের স্বপ্ন দেখেছি, যার মাথার ওপরে একটি কালো দাগ ছিল। এটার রূপ আমার খুব পছন্দ হয়েছে। তোমরা অবশ্যই বন থেকে  এটিকে ধরে আনার যথাসাধ্য চেষ্টা করবে।"
"বাবা, আমরা তো কখনো এমন খরগোশের কথা শুনিনি!" তার ছেলেরা উত্তর দিল। 
"আমরা এটি আপনার জন্য কোথায় খুঁজতে যেতে পারি?" 
"তোমরা এক একটা অপদার্থ," জমিদার রাগে চিৎকার করে উঠলেন। "আমি এইমাত্র কী বললাম তোমরা কি শুনতে পাওনি? যাও এবং এটি খুঁজে বের করো। যে এটি খুঁজে পাবে, সে আমার মৃত্যুর পর আমার সমস্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে।" 

বড় ছেলে মনে মনে ভাবল, "আমিই বড়। খরগোশটা ধরি বা না ধরি, বাবার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী তো আমারই হওয়া উচিত। কিন্তু যদি তারা..."এই সাত পাঁচ ভেবে সে এগিয়ে এসে বলল, "ভাইয়েরা, আমাকে যেতে দাও! আমি কোনো বিপদকে ভয় পাই না, আমি শুধুমাত্র বাবাকে খুশি করতে চাই!" সে  চারপাশ সাবধানে দেখতে দেখতে তার পথ চলতে শুরু করল। 

কিছুক্ষণ পথ চলার পর, সেই বৃদ্ধলোকর সঙ্গে বড় ছেলেটির দেখা হল। তাঁর সাদা দাড়ি আর শান্ত চোখদুটি দেখে বড় ছেলেটি থমকে দাঁড়াল। বৃদ্ধ মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করলেন, "যুবক, এই গভীর বনের দিকে তুমি কোথায় যাচ্ছো?" বড় ছেলেটি বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে বৃদ্ধকে তার বনে আসার আসল কারণ ।সব শুনে বৃদ্ধ লোকটি হাসলেন। তিনি বনের ভেতরের একটি সরু পথ দেখিয়ে বললেন, "তাহলে আর দেরি না করে বনের আরও গভীরে যাও এবং খরগোশটি খোঁজো!" তিনি আরো বললেন, "আনিজ নামের এক যুবক সেখানে আমার গবাদি পশু চরাচ্ছে। সে এই বনের সবকিছু চেনে। তাকে গিয়ে বলো তুমি কী চাও, সে নিশ্চয়ই তোমাকে সাহায্য করবে।"

বড় ছেলেটি বনে গেল, আনিজকে খুঁজে পেল এবং তার কাছে সাহায্য চাইল। "অবশ্যই!" আনিজ হেসে বলল, "আমি তোমাকে অদ্ভুত খরগোশটি খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারি। আজ সন্ধ্যায় এসে এটি নিয়ে যাও। কিন্তু এটার দাম চুকানোর জন্য তোমাকে নগদ এক হাজার মুদ্রার তোড়া নিয়ে আসতে হবে।"বড় ছেলেটি মনে মনে খুশিতে হিসাব করল, "আমি যে সম্পত্তি পেতে যাচ্ছি, তার তুলনায় এক হাজার সুতোর নগদ টাকা তো কিছুই নয়!" 

সন্ধ্যায় সে টাকা নিয়ে বনে ফিরে এল এবং দেখল আনিজ একটি গাছের গুঁড়ির ওপর বসে বাঁশি বাজাচ্ছে। সমস্ত ছোট ছোট প্রাণীরা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তার চারপাশে উবু হয়ে বসেছিল এবং  বাঁশির সুর শোনার জন্য কান খাড়া করে রেখেছিল। বড় ছেলেটি তাদের মধ্যে সাদা খরগোশটিকে এক পলকেই দেখতে পেল। সত্যি সত্যিই সেটির মাথার ওপর একটি ছোট্ট কালো দাগ ছিল। আনিজও খরগোশটিকে দেখতে পেল। সে তার বাঁশিটি নামিয়ে রাখল, হাত বাড়িয়ে খরগোশটির লম্বা কান দুটি ধরে সেটি বড় ছেলের হাতে তুলে দিল। 

"এই নাও। শক্ত করে ধরো! যদি এটি পালিয়ে যায়, তবে তাতে আমার কোনো দায় নেই।" বড় ছেলেটি টাকা পরিশোধ করল, আনিজকে অশেষ ধন্যবাদ জানাল এবং  মনের আনন্দে ছোট সাদা খরগোশটিকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো। সে যখন বন থেকে বের হতে যাবে, ঠিক তখনই সে শুনতে পেল আনিজ আবার বাঁশি বাজাচ্ছে। সুরটি শোনার সাথে সাথেই খরগোশটি তার হাত থেকে ফসকে গেল এবং নিজের সবটুকু শক্তি দিয়ে দৌড়ে পালাল।

 বড় ছেলেটি অনেকক্ষণ ধরে সেটিকে খুঁজলো, কিন্তু কোথাও কোনো হদিস পেল না। শেষ পর্যন্ত সে আশা ছেড়ে দিল এবং আবার আনিজের কাছে গেল। 
"সাদা খরগোশটি পালিয়ে গেছে। আমি এখন কী করব?" সে জিজ্ঞেস করল। আনিজ উত্তর দিল: "এই ব্যাপারে তো আমার কিছু করার নেই। আমি কি একটু আগেই তোমাকে এটি শক্ত করে ধরতে সাবধান করিনি? এখন আমাকে দোষ দিয়ে কোনো লাভ নেই।"

বড় ছেলেটির খালি হাতে বাড়ি ফিরে জমিদারকে সমস্ত ঘটনা জানানো ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না। মেজো ছেলেটি বলল: "বাবা, চিন্তা কোরো না। আমি আগামীকাল গিয়ে ওটাকে ধরে আনব।" পরদিন মেজো ছেলেটি তার ভাগ্য পরীক্ষা করতে গেল এবং বড় ভাইয়ের মতোই একই দশায় পড়ল—সময়ও নষ্ট হলো আর আরও এক হাজার মুদ্রার তোড়া জলে গেল।

 দেখতে দেখতে তৃতীয় দিন চলে এলো। প্রথম দুই ভাইয়ের ব্যর্থতার পর, এবার ভাগ্য পরীক্ষা করতে ছোট ছেলেও বনের দিকে রওনা হলো। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস, তার কপালও একটুও ভালো হলো না। বড় ভাইদের মতোই সে-ও খালি হাতে, ব্যর্থ হয়ে প্রাসাদে ফিরে এলো। একে একে নিজের তিন তিনটি ছেলেকে এভাবে ব্যর্থ হয়ে ফিরতে দেখে এবং সেই সাথে তিন হাজার স্বর্ণমুদ্রার তোড়া খোয়ানোর পর জমিদারের রাগের আর সীমা রইল না। রাগে তাঁর চোখমুখ লাল হয়ে উঠল, কপালের শিরাগুলো আক্রোশে ফুলতে লাগল।ক্ষোভ আর অপমানে ফেটে পড়ে তিনি চিৎকার করে উঠলেন, "তোরা আস্ত এক-একটা বোকা! অপদার্থের দল! তোদের দিয়ে কিচ্ছু হবে না।" রাগে কাঁপতে কাঁপতে তিনি ঘোষণা করলেন, "আগামীকাল আমি নিজেই বনে যাব এবং নিজের হাতে ওটাকে ধরে আনব!"

তাই পরের দিন জমিদার নিজে বনে গেলেন। আনিজ যখন তাকে দেখতে পেল, তখন তার চোখ দুটো ঘৃণায় জ্বলে উঠল। জমিদার কিছু বলার আগেই আনিজ তার বাঁশি বের করে বাজাতে শুরু করল। বনের সমস্ত পশুপাখি—খরগোশ, ভালুক, সাপ, নেকড়ে, শেয়াল এবং আরও হরেক রকমের পাখি চলে এলো এবং জমিদারকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলল। 

বনের হিংস্র পশুদের গম্ভীর গর্জন আর চারপাশের থমথমে পরিবেশ দেখে জমিদারের বুক যখন দুরু দুরু কাঁপতে লাগলো,  ঠিক তখনই মেষপালক যুবকটি সামনে এসে দাঁড়াল। চোখে চোখ পড়তেই জমিদারের পায়ের তলার মাটি সরে গেল। এ তো অন্য কেউ নয়, এ যে সেই আনিজ! যাকে তিনি একদিন পাজি ছোটলোক বলে চাবুক মেরেছিলেন, যার সাধের বাঁশিটি বুট জুতো দিয়ে পিষে খণ্ড-বিখণ্ড করেছিলেন। 
নিজের ভুল বুঝতে পেরে জমিদারের সমস্ত অহংকার মুহূর্তের মধ্যে ধুলোয় মিশে গেল। তিনি চরম হতাশায় ও আতঙ্কে আনিজের সামনে মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন। দুই হাত জোড় করে কাঁপতে কাঁপতে আকুতি জানালেন, " আমাকে বাঁচান! দয়া করে আমাকে এই জানোয়ারদের হাত থেকে বাঁচান!" 

আনিজের ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক অদ্ভুত ও রহস্যময় হাসি। সে শান্ত অথচ গম্ভীর গলায় বলল, "জমিদার মশাই! আপনার কি এই অভাগা আনিজের কথা মনে পড়ছে? ভালো করে চেয়ে দেখুন, এই সেই আনিজ। অহংকারের বশে আপনি হয়তো ভুলে গেছেন, কিন্তু প্রকৃতি ভোলেনি। আমার এই হাতের বাঁশির আর একটিমাত্র সুরের শব্দ হলেই চারপাশের এই ক্ষুধার্ত প্রাণীরা আপনার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। মুহূর্তে আপনাকে জ্যান্ত চিবিয়ে  ফেলবে!"

 প্রাণীদের হিংস্র চোখের চাহনি আর আনিজের কথা শুনে জমিদারের মেরুদণ্ড দিয়ে হিমশীতল স্রোত বয়ে গেল। তিনি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। কান্নায় ভেঙে পড়ে বললেন, " আঃ!  অতীত কর্মের জন্য আমি লজ্জিত। আমি আপনার সাথে অতীতে যে জঘন্য ও অমানবিক ব্যবহার করেছিলাম, দয়া করে আজ আমার সাথে তেমন প্রতিশোধমূলক ব্যবহার করবেন না! আমি হাত জোড় করে মিনতি করছি, ওদের আমার দিকে আসতে দেবেন না। ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। আপনি যা চান, আমি তা-ই দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি!" 

জমিদারের এই শোচনীয় দশা দেখে আনিজের মনে দয়ার উদ্রেক হলো। সে তার বাঁশিটি নামিয়ে রাখল, যা দেখে হিংস্র পশুগুলোও শান্ত হয়ে এক পা পিছিয়ে গেল।

 আনিজ জমিদারের দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় বলল, "খুব ভালো। আপনার ভেতরের ভয়টাই আজ আপনার অন্যায়ের শাস্তি। এবারের মতো আমি প্রাণভিক্ষা দিলাম। কিন্তু মনে রাখবেন, আজ থেকে গরিব ও অসহায় মানুষদের ওপর আর কখনো কোনো অত্যাচার করবেন না! যদি আপনি নিজেকে সংশোধন না করেন, তবে পরের বার এই বনের পশুরা তো দূর, প্রকৃতিও আপনাকে এত সহজে ছেড়ে দেবে না। আর হ্যাঁ, এখনই বাড়ি ফিরে যান এবং আপনার যাবতীয় পার্থিব ধন-সম্পত্তির অর্ধেক গ্রামের গরিব ও দুস্থ মানুষদের মাঝে বিলিয়ে দিন। আমার কথা পরিষ্কার মনে থাকবে তো? তাই না হলে বিপদ আছে।" 

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে জমিদার যেন নতুন জীবন ফিরে পেলেন। তিনি আনিজের পায়ে মাথা ঠেকিয়ে বারবার বলতে লাগলেন, "হ্যাঁ! হ্যাঁ! পরিষ্কার মনে থাকবে। আমি আজই গিয়ে সব সম্পত্তি বিলিয়ে দেব। আমাকে ক্ষমা করুন!"

জমিদার কোন রকমে  উঠে দাঁড়ালেনএবং চরম আতঙ্কে সেখান থেকে পালিয়ে গেলেন। সে আনিজের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করলেন এবং তার জমিদারির অর্ধেক গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দিলেন। 

এই অভাবনীয় ঘটনা চারদিকে বিদ্যুৎবেগে ছড়িয়ে পড়ল।  সে আগের চেয়েও অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠল।  চারদিকে তার নামে ধন্য ধন্য পড়ে গেল। শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের মুখে ফুটল হাসির ঝিলিক, আর আনিজ হয়ে উঠল তাদের পরম আশ্রয় ও সত্যিকারের নায়ক।

Post a Comment

0 Comments