জ্বলদর্চি

মুক্তি /প্রথম পর্ব /স্বাতী ভৌমিক

মুক্তি 
           
প্রথম পর্ব 

স্বাতী ভৌমিক 
            

 সুভাষিনী আর প্রকাশবাবুর ছোট্ট সংসার। প্রকাশবাবু সরকারি দপ্তরের একজন চাকরিজীবী। আয় খুব একটা না হলেও হাসিখুশি ভরা সুখের সংসার। বাবা, মা ও পরিবারের বেশ কিছু আত্মীয় পরিজন গ্রামের বাড়িতে থাকেন। চাকুরীসূত্রে প্রকাশবাবুরা ছোট্ট এক চিলতে মাথা গোঁজার ঠাঁই  এই শহরে বানিয়েছেন। এই মাস ৯ হল, তাঁদের কোল আলো করে এসেছে সমৃদ্ধি-সুভাষিনী আর প্রকাশবাবুর কন্যা সন্তান। খুব আদরে- যত্নে ধীরে ধীরে ছোট্ট সমৃদ্ধি বড় হচ্ছে। সারা ঘরময় কত পুতুল- খেলনা! প্রকাশবাবুর আয় খুব একটা নয়। কিন্তু আত্মীয়েরা প্রায়ই আসা-যাওয়া করেন ওনার বাড়িতে। তাঁরাই মোটামুটি ছোট্ট খুকীর খেলনার শখ প্রায় পূর্ণ করে দেন।

 সুভাষিনী খুব করে চান, মেয়ে যেন বড় হয়ে ভালো মানুষ হয়। শুধু মেয়ে বলে যেন সে পিছিয়ে না থাকে। নিজে একান্নবর্তী পরিবারে সবার মতের গরমিলে যে স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন নি, মেয়ের ক্ষেত্রে যেন তা না হয় -সে যেন নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। নিজের পায়ে দাঁড়ায়। প্রকাশবাবু এমনিতে ভালো মানুষ কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে একটু রক্ষণশীল। সুভাষিনী তবে সব মেনে -মানিয়ে বর্তমানে সে এখন মোটামুটি ভালোই আছে।
তার বেশিরভাগ চেতনা জুড়ে এখন ওই একরত্তি মেয়ে।

 ক'দিন হল তাঁর বাড়িতে কাকীশাশুড়ি এসেছেন। প্রকাশবাবু অফিসে বেরিয়ে গেলে চলে প্রাণমন খুলে গল্পগুজব। সুভাষিনীর নামও যেমন, কথাও তেমনি সুমিষ্ট। সবাই এর মন জয় করে নেন। মাঝেমধ্যে এ বাড়িতে এভাবে কোনো না কোনো আত্মীয় আসা-যাওয়া করতে থাকেন। আর এভাবেই চলতে থাকে জীবনের পথচলা।
🍂

 প্রকাশবাবু অফিসে যাবেন- সকাল থেকেই প্রচুর ব্যস্ততা। 
   "সুভা, সুভা...... খাবার হল? দেরি হয়ে যাচ্ছে তো!"
 "এইতো টেবিলে তোমার খাবার দিয়েই রেখেছি ১০ মিনিট হয়ে গেল।"_
 কথা শেষ হতে না হতেই প্রকাশ বাবুর আবার বিরক্তিপূর্ণ আপত্তি- "ওহ্, কী যে করো না- আমার ফাইলটা কোথায় ? কাল যে তোমায় রাখতে দিলাম! একটা কাজেরও গুরুত্ব নেই তোমার। বলেছিলাম যে সকালে মনে করে দিতে!
 সুভা এবার একটু বিরক্তির সুরে বলে উঠলো-" সকালেই তো তোমার অফিসের ব্যাগে ফাইলটা রেখে দিয়ে বলেছিলাম যে- ব্যাগে ফাইলটা দিয়ে দিলাম। তুমি কী নিজের কথা ছাড়া কারো কথা মন দিয়ে শোনো!"
 নিজের বিরুদ্ধে ওঠা আপত্তি এড়িয়ে যাবার জন্য প্রকাশবাবু সুভাষিনীকে বলে ওঠেন, " তুমি কাজের চাপের কি বুঝবে? ঘরে তো থাকো, বাইরের দুনিয়ায় যে কত চাপ তা যদি বুঝতে- তাহলে আমার উপর বিরক্ত হতে না।" 
 সুভাষিনী এবার পরিস্থিতি বুঝে চুপ করে গিয়ে ধীর স্বরে বললেন, " খেতে বসো।" 
 প্রকাশবাবু খেতে বসে একটি গ্রাস মুখে  তুলেছেন, এমন সময় ফোন এলো-" তাড়াতাড়ি আসুন, আজ খুব জরুরী ভিজিট আছে। "
 এমনিতেই কথায় কথায় একটু দেরী হয়ে গিয়েছিল। ওই গ্রাসটি গিলেই জল ঢকঢক করে খেয়ে প্রকাশ বাবু উঠে পড়লেন। বললেন, " আজ আর খাওয়া হবে না। আমি এলাম। " 
 "ও কী, কিছুই তো খেলে না!" সুভাষিনীর এই কথায় প্রকাশবাবু তাঁর পূর্বের মতে আরও একটু নিশ্চয়তার মাত্রা জুড়ে দিয়ে বললেন, " ওই যে একটু আগে চাপের কথা বললাম......" এরপরই ব্যাগ নিয়ে প্রকাশবাবু গন্তব্যের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লেন। 

 ক্রমশ

Post a Comment

0 Comments