কবির প্রথম কবিতা "চাই একটু পবিত্র মাটি "। মাটিকে সৃষ্টির মূল বলতেই পারি। সেই মাটি জীবনের পালা বদলের সাথে সাথে নানা ঘাতে প্রতিঘাতে ক্ষয় হয়েছে, নষ্ট হয়েছে, কবির বুক জমিনে যারা ভালোবাসার অভিনয় করে থাকতে এসেছিল তারা কবিকে ধোঁকা দিয়ে, বিরাট বিরাট ইঁদুর-গর্ত করে, ঝুটা সংসারের দুর্গন্ধময় শ্বাসরোধকারী অন্ধকার উপহার দিয়ে চলে গেছে। এখন কবি নিজেকে নতুন ভাবে আবিষ্কার করতে চান তাই প্রয়োজন___ রাধাকুন্ডের চন্দন-গন্ধী মাটি। কবির বিশ্বাস এই পবিত্র মাটি দিয়ে তিনি নিজেকে আবার নতুন ভাবে তৈরি করতে সক্ষম হবেন।
৩ নং কবিতা " পিপাসা "তে দেখতে পাই জীবন দৌড়ের গল্প। জীবনের দৌড়ে অংশগ্রহণ করতে করতে আমরা সবাই হাঁপিয়ে উঠেছি। আমাদের ঘাস আর সবুজ নেই, হলুদ হয়েছে। আমাদের সবার জীবনেই কোনো না কোনো অব্যক্ত যন্ত্রণা থাকে, আমরা অসহায় হয়ে পড়ি। সেই ব্যথা কাউকে বলা বা বোঝানোর উর্দ্ধে। কবি আবার কীভাবে জীবন স্রোতে ফিরবেন সেই মন্ত্র খোঁজার বা বোঝার জন্যই একমুঠো মহাজাগতিক আলোকে খুঁজেছেন।
"নষ্টনীড়"কবিতায় একটি বেরঙিন নকল দাম্পত্য জীবনের চিত্র এঁকেছেন কবি। যেখানে সংসার আছে, সংগম আছে কিন্তু সংগমের কোনো আনন্দ নেই, নেই রঙ রস, যেন যান্ত্রিক সংগম। কিন্তু সাহিত্য বা জীবনকে সুন্দর ভাবে দেখতে শিখতে হলে বা সবুজ ভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে সংগমকে হতে হবে সৃষ্টির ওষুধ। সংগম এক শিল্প যেখানে আন্তরিক আবেগ থাকবে, থাকবে তুমুল আকর্ষণ। দুজনে দুজনকে নিত্য নতুন ভাবে আবিষ্কার করে নতুন ভাবে ভালোবাসতে শিখবে, কিন্তু এখানে তিনি দেখিয়েছেন সেই সংগম "সংগম তো নয়, এ যেন সাবধানি সংগ্রাম "। আবার বলেছেন এই সংগম যেন ভাঙাচোরা জীবনের বেসুরো গান। সংগম হল সুরের আলো, সেখানে সুর না থাকলে তার কোনো অর্থই থাকে না আর।
"পরজীবী" এক রূপকে মোড়া কবিতা। তিনি লিখছেন যে পরজীবী অর্থাৎ আমরা কোনো একজন ব্যক্তি ধরে নিতেই পারি, তাকে কবি নিজের অন্তস্থলে জায়গা দিলেন, এমনকি নিজের হিমোগ্লোবিন, হাড়ের নির্যাস ফুসফুসের অক্সিজেন সবই দিলেন। অথচ বেইমান সেই জন, তার অপরিসীম চাওয়া। কবি যখন নিজের দিকে তাকালেন দেখলেন সেখানে কোথাও নেই তিনি। কবিতার ভাষা হলো -"আমি আজ আমিহীন "। পরে তিনি পরজীবীর আসল পরিচয় দিলেন, সেই পরজীবী আবারো নতুন শিকার নতুন পোশাকের সন্ধানে...।
রক্তাক্ত কৃষ্ণচূড়া গাছটির নিচে দাঁড়িয়ে থাকা কবির চোখে যেন দেখলাম আস্ত এক জীবনের আক্ষেপ। এক আকাশ আক্ষেপ নিয়ে তিনি দাঁড়িয়ে আছেন "আসব "বলে যাওয়া শামুক হৃদয়ের মানুষটির জন্য। তার শরীর ও মন ধীরে ধীরে রক্তশুন্য, প্রাণ শুন্য হয়ে আসছে।"গ্রহণ লাগা চাঁদের জ্যোৎস্না মেখে "আজও কবি অপেক্ষায় আছেন তাঁর প্রিয়তমর জন্য।
"অগ্নিস্নান " কবিতায় কবি নিজেকে পুড়িয়ে খাঁটি করতে চেয়েছেন। কবিতার ভাষায় -"তাই শরীরে প্রতি নিয়ত আগুন মাখি ", চেতনা পুড়ে ছাই হয়ে যায় "ছাইয়ের কণা মিশে যায় ব্রহ্মাণ্ডের বাতাসে "। ব্রহ্মাণ্ড বাতাসহীন এক স্থান, সেখানের কল্পনীয় বাতাসে তিনি মিশিয়ে দিচ্ছেন তার ছাই, নিজের "শুদ্ধতম জীবনের আকাঙ্খায় "।
কবির লেখালেখির মহাজগৎ দিন কে দিন বাড়তে থাকুক। তাঁর ঝোলা পূর্ণ হোক, এই কামনা করি।
1 Comments
দেসার জন্য ভালোবাসা
ReplyDelete