ঔরশীষ


ঔ র শী ষ 


বিদায়

যাচ্ছ?
যাও তবে...
দেখি প্রতি শীতে অপ্রস্তুত গাছেদের পাতা খসে
এবং সময় হলে ফিরে যায় রদ্দুরকাতর পাখিগুলো,
তেমন ভাবেই চলে যাচ্ছ?

একটা মিছিল শেষে আরেকটা মিছিলের শুরু হয় প্রতিদিন
কিন্তু একটা সম্পর্কের শেষে আমি শুধু মধ্যরাতের শহর দেখতে পাই
যে ছেলেটা এক মুখ বসন্তের দাগ নিয়ে এই পৃথিবীর সকল আয়নায় পর্দা টেনে দিত
সেও আজ প্রকাশ্য রাস্তায় নেমে এসে চুমু খেল জমাদার কলোনির মেয়েটাকে

এমন দৃশ্যের পর,
আমি একটা সিগারেট দিয়ে জ্বেলে দিতে পারি আরেকটা সিগারেট-
কিন্তু ভালোবাসা দিয়ে ভালোবাসতে শেখাতে পারি না

যাচ্ছ?
যাও তবে
এত সহজেই চলে যাচ্ছ যখন
ফ্যাকাশে ছবির মতো
বিকেলের হলুদ আলোয়
           ফিরো না কখনও

শর্বরী

এই যন্ত্র সভ্যতার সর্বশেষ চুম্বন এঁকেছি তোমার চিবুকে

শর্বরী, এমন বিকেলের দিকে যদি চোখ চলে যায়
আমি দেখি তোমার চশমার কাচে ইতিহাসের সকল পৃষ্ঠা
শাদা হয়ে গেল এইমাত্র,
একটা ফিঙে উড়ে যাচ্ছে শ্মশানের উদ্দেশ্যে 

আরও কিছু পরে সঙ্গীতমুখর যন্ত্রগুলো
অস্ত্রের কারখানায় জড়ো হবে
রাস্তায় ছড়ানো অসংখ্য লিফলেট
এবার প্রেমপত্র হয়ে উড়ে যাবে
তোমার ভ্যানিটি ব্যাগে
লুকোনো রদ্দুর, মেঘের গন্ধ
আমাদের জন্য অপেক্ষা করবে না

এখন সন্ধ্যা নামছে,
দক্ষিণাপনের সিঁড়িগুলো ভরে উঠছে লাল নীল জামায়,
অনেকগুলো শ্যামবাজারগামী মিনিবাস চলে যাচ্ছে,
আমরা ভুলে যাচ্ছি সব
তাই ব্যস্ত ট্রাফিকে একে অপরের আঙুল খুঁজে নিচ্ছি।
তারপর ঘরে ফিরে এসে
আমি পুতুল হয়ে যাচ্ছি আর তুমি এক মোমদানি,
শুধু একটি শীৎকার শুনতে পাওয়ার আশায়
ঘরের সমস্ত পর্দা এখন শাদা


দেবদারু

দেবদারুপাতা দেখলেই কেন যে শীতের গন্ধ পাই
খেলার মাঠের পাশে দেবদারুগুলো দাঁড়িয়ে রয়েছে পাখিহীন।
এত অপমান কিভাবে পাতায় ধরে তারা!
তীক্ষ্ণ পাতা সজারুর মতো সারা গায়ে, অথচ অক্ষম
মানুষের ভালবাসার মতন এক ক্লান্তি
যা তাদের মরেও মরতে দেয় না।
ছয় ঋতু একভাবে কেটে যায়
আর তারা আরও একটু বেড়ে ওঠে আকাশের দিকে।
যে অসুখে মানুষেরা মরে যায়...সেই শোক
তারা ঈশ্বরের দিকে ঠিকরে দেয়,
যেন এতগুলো শীত তারা একা একা কাটাবার জন্য এসেছে
নিজের নারীর থেকে দূরে এই পাখির শ্মশানে


ঈশ্বর জন্মের কথা

নিষিদ্ধ আগুন স্পর্শে  ঈশ্বর জন্ম ঘটেছে আমার
তাই সঙ্গম মুখর শরীর ভেসে থাকে শান্তি জলে 

এখন স্নায়ুর গভীরে কুয়াশার মতো 
এক ঠাণ্ডা ঘোর থেকে জেগে উঠি আমি 
সেখানে অবিকল তোমার চেহারা ফুটে ওঠে
তুমি অন্নজল ভাগাভাগি করতে ব্যস্ত থাকো তখন 
আর আমার মাথার ওপর তৈরি হয় 
তোমারই বানানো, অলীক আলোর চক্র 
অসহ্য যন্ত্রনায় পিঠ ফুঁড়ে জন্ম নেয় দুটো ডানা
এখন বুঝতে পারি আমি ক্রমশ মূক হয়ে যাচ্ছি
চিঠি

নেশার মতো শুনছি আমি চিঠির গল্প
বলছ তুমি মোমের কাছে একপলকে
আকাশনীল অন্ধকার সাক্ষী ছিল,
তুষার বুকে বন্ধু তোমার নাম নিয়েছি

কিন্তু সেই প্রতিধ্বনি ফিরলো না আর,
যেমন পাখি যেমন মেঘ, ফিরছে না কেউ
তুমিও তেমন জলের কাছে পাথর ঘুমে,
ডুবসাঁতারে মাছের পেটে আংটি খোঁজো

বাউল বাতাস স্বপ্নবাতি নিভিয়ে দিলে,
একপলকে শূন্য হবে খেলার মাঠ 
তারার আলোয় হারিয়ে যাবে সঙ্গী-সাথি
আমরা দু’জন থাকবো জেগে, আগুন ঘিরে
আড্ডা দেবো, মৃত্যুমুখর গল্প হবে
তখন সেই চিঠির গল্প শোনাও তুমি
অজান্তেই চোখের থেকে রক্ত ঝরে

------

Comments

  1. ধন্যবাদ। জলদর্চি। আবার অসামান্য কবিতা উপহার দেওয়ার জন্য ।

    ReplyDelete
  2. আবার ধন্যবা।। সুন্দর কবিতা উপহার দেওয়ার জন্য।।

    ReplyDelete
  3. কবিতাগুলি সুন্দর।

    ReplyDelete

Post a Comment

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি