মনোতোষ আচার্য


ম নো তো ষ  আ চা র্য


গল্প

পুরোনো  ভিখিরিরা আজ আর আসে না দুয়ারে
বৈশাখের খর রৌদ্রে লাউতম্বা বাজিয়ে কাকদ্বীপের ইস্টিমার 
পেটুয়াঘাটের কাছে ফেরি করে যেত
নৌকাডুবির গল্প
মা,খুড়িদের সাথে আমরা কেঁদে উঠতাম
বেতের কুঁচো ভরতি চাল আর বাগানের ফল- সবজি দিয়ে 
'আবার আসবেন' বলে বিদায় জানাতাম,
এখন ভিখিরি আসে ফিলমি গানের ঢঙে কথা কয়
নোট চায়, ভোট চায় 
আরও কিছু চায় 
ইড়া ও পিঙ্গলা ছুঁয়ে আরক্তিম হয়ে উঠি ভ্রূ-মধ্যরেখায়।               

শ্রীখোল

তোমার পায়ের ছাপ আগলে আছে ঝরা বটপাতা
দূর্বা মুথা ঘাসে মাথা ছুঁয়েছে ধূলি
চলে গেছো জানি না কোথায়
মহাপ্রভু রোড ধরে হেঁটে চলেছি 
ব্রজবল্লভপুরের কদমতলায়

হারানো বাঁশির খোঁজে
কত শত জীবন হারালো
তুলোট পুঁথির অক্ষরে লেখা হল
কত পাঠান্তর
হে বাতাস খুঁজে নাও শ্রীখোলের আত্মবিলাপ।                


অতসী আলোর দেশে 

অতসী আলোর দেশে আহ্বান উপেক্ষা করিনি
পুরোনো বল্কল খুলে ঢুকে পড়েছি অগস্ত্যগুহায়
আরক্তিম অন্ধকারে স্থিতপ্রজ্ঞ মন্থনের নির্জনতা খুঁড়ে
বানিয়েছো ব্জ্রসড়ক... 
ক্ষমাহীন মহাশূন্য অন্তহীন বাঁকে 
মদিরা বর্ণের ইষ্ট
অতসী আলোর দেশে ভিজে যায় অসহায় প্রেমে অপ্রেমে         

এখানে গোপন মুদ্রা চটুল পাঠক খোঁজ করে
নষ্টজন্ম কাটিয়েছি যাবতীয় বিষণ্ণ অপচয়ে
যুক্তাক্ষর চোখ তোলে কমনীয় বৃষ্টিস্পন্দিত সন্ধ্যায়
এসো তবে মুঠো ভরি চারণের শব্দ-তণ্ডুল
পয়ার খচিত জন্মদাগ চকিত আদরে ওঠে জেগে
অস্ফুট আকাঙ্ক্ষার কাছে রেখে যায় একপশলা স্থবির রোদন।     


রাস

কর্ণগড়ের মেঘ 
দণ্ডভুক্তির সুবর্ণভূমিতে... 
পাহাড়-বাদাড় দল মাদল
করীলাঞ্ছিত বাদা ও বসত 
হে স্রোতজীবী ধীবর
গৌড় জনপদের অগ্রহার পেরিয়ে
এসো বৈশাখী দুপুরে
তালশাঁস নৈবেদ্য নাও
আজ গোষ্ঠবিহারী     
গোঁসাইমহলে কৃষ্ণদাস শুনবেন
তাই রব সাজো সাজো    

কষ্ট পাই গোপন প্রহরে

সরল উপপাদ্যের মতো গাণিতিক জীবন জ্যামিতি
কান ধরে ওঠায় বসায় মিথ্যের ভরা গাঙে
তেমন কিছুর মতো তোমাকে ভাবিনি বলে 
কষ্ট পাই গোপন প্রহরে 

 অনেক জানার মাঝে অজানারা লুকিয়ে রেখেছে ডালপালা
সেইসব পুরোনো সম্পর্ক ভাঙা রোদ্দুরের চিলেকোঠা থেকে 
ডাক আসে অনন্তের ডাক... 

আমাকে বিষাদ মেঘ ভিজিয়ে ভাসায়
বিশ্বাসের ডিঙিখানি টলোমলো আরক্তিম হাওয়া
আমি তো বন্ধুর খোঁজে কাটিয়েছি আসমুদ্র টিলা
সভ্য মানুষ যাকে বানিয়েছে পিকনিক স্পট

তোমার হৃদয়ে বাজে গাজনের মন্দাক্রান্তা মেঘ
তবুতো আঙুরখেতে নেমে আসা অকাল প্লাবন
বিশ্বাসের বনকথা পাশ ফেরে অস্তিত্বের গান
অন্ধ তমালগাছে কীর্তনের বিনম্র আজান 

অজানা জ্বরের কাছে রেখে যাওয়া মেঘলা নূপুর
কবিতা এঁকেছে গ্রাম অভিমানী সারাটা দুপুর...

Comments

  1. কীর্তনের বিনম্র আজান ।
    পরে‌ মুখোমুখি হলে জানবো।

    শ্রীখোল মন‌ছুঁয়ে যায়

    ReplyDelete

Post a Comment

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

মহাভারতের স্বল্পখ্যাত চার চরিত্র /প্রসূন কাঞ্জিলাল

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা -১০৯