গৌতম হাজরা


গৌ ত ম  হা জ রা


শীত জুড়ে

শীত জুড়ে পড়ে থাকে ঐ বর্ণমালা
ছায়ার অক্ষরে লিখি বনের আদিম
তুহিন পাথরে কাটি দম্ভের চূড়া
হিম আশ্লেষে মৃতদের হাড়

কী অসীম দৃষ্টি তার শ‍্যেনপাখি যেন
রক্তের বাঁধনে খোলে ভগ্ন দেওয়াল
পাতালে গর্জন তোলে আন্তর্মহাদেশ
কম্পিউটারে ওঠে গণনা তাহার

সাজিয়ে বদল করি অসম বিন‍্যাস
বরফে আতান্তরে ক্রান্তদর্শী ওঝা
তাহাদের কথা লিখি খ্রিস্টীয় মঠে
মানুষের উত্থানের আর কিছু দেরি আছে

জলপ্লাবনের দশা আকাশে স্পুৎনিকে
ভূমিগর্ভ চিরে দেখি কেটেছে বাংকার
কামান বন্দুক সব নিমজ্জিত দেশে
তবু হই-হুল্লোড় ওঠে বানাই ক্রিসমাস

কাঁধের ওপর থেকে সরে যায় বিকেলের মায়া
শ্বেতকায়া আইভরি ওই জ‍্যোৎস্নাও
কল্পভাগ করে নিই লভ্যাংশ শেয়ারে
প্রতীচ‍্যেও নড়ে ওঠে শেষ গ্লেসিয়ার !


সার্কাসের খেলা

কিছু কি মুঠিতে আছে স্বপ্নের বজ্র বিদ‍্যুৎ
কেবলি আসে যায়, আনাগোনা ভয়ের মুখোশ
দেরাজের প্রান্তদেশে সাঁতারের পুরানো পোশাক
তোরা তো বলেছিলি, পাখি ওড়ে পাখি ধরে দিবি।

আমি তো অন্ধকার বিলে লক্ষ‍্যহীন বন্দুক বারুদে
টোটা সাজিয়ে রেখে অকারণে তির ধনুক খেলি
কিছুই হয় না জানি, ক্রমান্বয়ে তবু শব্দ হয়
ধর়া দিবি বলে কেন দূরে সরে গেলি?

সময় পেরিয়ে যায় দেরাজের অভিসন্ধি খুলে
বাঘের খাঁচার পাশে, ধ্বস্ত মুখ, তবু ঐ চোখ
জানে এ সার্কাসের খেলা ওঠানামা করে
অকাল বর্ষণে একদিন ধুয়েমুছে যাবে !
 

পায়জামা

তালিতাপ্পির ছেঁড়া পায়জামা
পাঞ্জাবিটার মতো,
আকাশে আকাশে হেঁটে চলে যাই
ছাইপাশ ঘেঁটে যত।

কাগজ ছেঁড়ার ফরফর ধ্বনি
তারাদের আনাগোনা,
দেখি আর ভাবি রহস‍্যময়
জীবনের গান শোনা।

পোশাকের বাঁধা কবে খোলা যাবে
পাখি ত্রাসে উড়ে যায়,
দমকা বাতাস লাফিয়ে পড়ছে
দিন করে হায় হায়।

হে নক্ষত্র তোর গোপন অশ্রু
শহরের ফিকে আলো,
চোখে চোখ রাখি, কাঁধে কাঁধ রাখি
আমার কি লাগে ভালো?

তবুও নিরস্ত্র পায়জামা জোড়া
দু'হাতে আঁকড়ে ধরি,
কূট হাসি হেসে প্রতিচ্ছবির
সাম‍্যের গান করি।


মানুষ

মানুষের ভেতরেই থাকে আর এক প্রকৃত মানুষ
সে কখনো উঠে বসে, হেঁটে যায়, কখনো বা ভেঙেচুরে যায়
আবার কখনো কখনো কাকতাড়ুয়ার মতো ঠা ঠা রোদে
একাকী দাঁড়ায়

দৃষ্টির সীমানা ছাড়িয়ে সে কখনো চলে যায় দূরে
দুঃখের পাহাড় ভেঙে বসতি গড়ে
ঝড়ে আঁকড়ে ধরে মাটি আর
বৃষ্টির ভেতরে সে হয় আলোয় মাখামাখি...

খাদের নীচে যে অন্ধকার, সে অন্ধকারও ভাঙে
জানালা থেকে জানালা, দরজা থেকে দরজা
চৌকাঠ পেরিয়েও সে থামে ?

থামে না বলেই সে পাথরে ফুলকি ছোটায় আজও
থামে না বলেই মেতে ওঠে রক্ত আর ঘামে!

ভাঙচুর

সমস্ত ভাঙচুরের পর নেমে আসে বিষণ্ণ নীরবতা
তখন আকাশের পাখিও যেন উড়তে ভয় পায়
দেখি, এ এক অশান্ত দহন বেলা
ছড়িয়ে রেখে গেছে কেবলই শিমূলের ক্ষয়।

দুর্দান্ত রোদ থেকে এইমাত্র সরে গেল ছায়া
ভাষার দূরবিন দিয়েও সেইসব গোপন ত্রাস
ধ্বংস? তাওতো, চোখের বাইরে গিয়ে এক দীর্ঘশ্বাস
শহর লন্ডভন্ড, কবিতার চোখে জল আর অবিশ্বাস।

ভাঙচুর হতে হতে পালটে যায় গাছেরও শাখা প্রশাখা
পাতা হয়, পাতা ঝরে চুরমার সব নির্জনতা
বারুদের গন্ধ ওঠে রক্ত মাংস পোড়া গন্ধ ধূপ
মানুষ মরছে জেনেও, মানুষেরাই আজও নিশ্চুপ! 
------

Comments

  1. প্রতিটি কবিতা খুব সুন্দর। পড়লাম বেশ কয়েকবার।

    ReplyDelete
  2. বেশ সুন্দরকবিতাগু। ভালোথাকুন।

    ReplyDelete

Post a Comment

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

মহাভারতের স্বল্পখ্যাত চার চরিত্র /প্রসূন কাঞ্জিলাল

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা -১০৯