দিলীপকুমার মিস্ত্রী


দি লী প কু মা র  মি স্ত্রী 

 
রবি 

রবি মানে নতুন সূর্য  রবি মানে ভোর,
রবি মানে নতুন আশা  খোলে গৃহীর দোর।
রবি মানে প্রখর তেজ  রবি মানে দুপুর,
রবি মানে ঘামঝরা-মাঠ বাজে খুকির নূপুর।
রবি মানে জয়ের ছুটি  রবি মানে বৈকাল, 
রবি মানে রাঙিয়ে ফেরা  ধুলোয় রাঙা রাখাল।
রবি মানে শান্ত কুটির  রবি মানে সাঁঝ,
রবি মানে গাঁয়ের বধূর  ভীষণ প্রিয় লাজ।
রবি মানে আকাশ বাতাস  রবি মানে তারা, 
রবি মানেই দেদার ছোটা  প্রাচীর বিহীন-কারা।
তুমি নেই বলে

ঠাকুর তুমি নেই গো বলে রিক্ত ফুলের সাজি,
ঠাকুর তুমি নেই গো বল একলা বড়ই কাজী।
ঠাকুর তুমি নেই গো বলে ভীষণ ফাঁকা ঘর,
ঠাকুর তুমি নেই গো বলে কাজীর গেছে দর।
ঠাকুর তুমি নেই গো বলে আকাশ কেঁদে মরে,
ঠাকুর তুমি নেই গো বলে বিহ্বল কাজী ঘরে।
ঠাকুর তুমি নেই গো বলে লক্ষ চোখে জল,
ঠাকুর তুমি নেই গো বলে কাজীর গেছে বল।
ঠাকুর তুমি নেই গো বলে গায় না পাখি গান,
ঠাকুর তুমি নেই গো বলে কাজীর বে-হাল প্রাণ।
ঠাকুর তুমি নেই গো বলে হাসছে না আর ফুল,
ঠাকুর তুমি নেই গো বলে ভাঙছে কাজীর কূল।
ঠাকুর তুমি নেই গো বলে বাজছে না আর শাঁখ,
ঠাকুর তুমি নেই গো বলে থামল কাজীর বাঁক।
ঠাকুর তুমি নেই গো বলে সাঙ্গ হল খেলা,
ঠাকুর তুমি নেই গো বলে ডুবল কাজীর ভেলা।
ঠাকুর তুমি নেই গো বলে কে রাখে তাঁর খোঁজ,
ঠাকুর তুমি নেই গো বলে দুঃখ কাজীর রোজ


খোকার প্রশ্ন
                         
মিথ্যে কথা বলতে যে নেই
                          শেখাই হাজারবার,
তবুও খোকা দোষ ঢাকতে
                           বলছে বারংবার।
ভীষণ রেগে কানটি ধরে
                          মারলাম যেই চাঁটি,
অমনি খোকা লোক জানাতে 
                         জুড়লো কান্নাকাটি।
গলা চিরে চেঁচিয়ে বলে
                       খোকার বেলায় দোষ,
বলছে যে রোজ মন্ত্রীরা সব
                       তার বেলা কই ফোঁস ?


প্রশ্ন

দেশের কাজে গেলাম মোরা জাংলা থেকে গুলবাট,
লকডাউনে আটকে সেথায় শুরু হল হুট্-পাট্।
কাজ গিয়েছে, ছাদ গিয়েছে, পকেট বেবাক খালি,
ভাত চাইলে বলছে মালিক বাজাও বসে থালি।
রোজই দেখি বলছে তারা আমরা আছি পাশে,
হাত পাতলেই ঠন্-ঠানাঠন্ মুখ বেঁকিয়ে হাসে।
পরিযায়ী শ্রমিক মোরা নয় গো স্বদেশবাসী,
মালিক তাই বলছে টেঁসে, চুপ রহো সব দাসী।
রোজই তারা দিচ্ছে ভাষণ,রেশন  শুধুই গন্ধ,
ফিরব ঘরে উপায় কোথায়, সব রাস্তাই বন্ধ।
ভোটটা নিয়ে চোখ উল্টে খুব ফোলাচ্ছো ছাতি ?
এক মাঘেতে শীত যায়না, পরের বারেই লাথি।
আমরা যদি পরিযায়ী, তোমরা তবে কী ?
 হেথায় এসে ভাষণ দেবে, কিছুই বলবোনি ?
জাগরণের গান

জাগো জাগো ছাত্র-যুব
জাগো শ্রমিক-কৃষক ভাই,
একবার জেগে ওঠো দেশবাসী
নইলে যে আর রক্ষা নাই।

অঘোর ঘুমে থাকলে কী আর
স্বপ্ন পূরণ হবে তোমার।
যখন ভাঙবে নিদ্রা দেখবে তুমি
সবই গেছে কিছুই নাই।।

ঘুম ভাঙাতে গাইছি এ’গান
জেগে ওঠো বাঁচবে যে প্রাণ,
নইলে আসছে ছুটে মারতে তারা
বাঁচার কোন রাস্তা নাই।।

জেগে উঠে শক্ত হাতে
পথটি চল সবার সাথে,
আমরা জোট বাঁধলে সাধ‍্য কী তার
আমরা জয়ের নিশান ধরবই এবার
আর তো কোন শঙ্কা নাই।।
-----

Comments

  1. ভাল লাগল কবিতাগুলো। সহজ ভাষায় জরুরি কথা।

    ReplyDelete

Post a Comment

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি