বিশেষ ছোটোবেলা সংখ্যা -২৪


সম্পাদকীয়
ছোট্টবন্ধুরা, তোমরা কখনও বিশাল একটা মাঠ পাখির মতো উড়ে পেরিয়েছ? আমি পেরিয়েছো। তবে সেই কোন ছোটোবেলায়। এবারের প্রচ্ছদের ছবিটি দেখে, সেই ছোটোবেলায় দৌড়ে পাঠ পেরোনোর স্মৃতি ফিরে পেলাম। এমন স্মৃতি ফেরানো ছবি উপহার দেবার জন্য বিশিষ্ট চিত্রগ্রাহক কল্যাণ সাহার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। এই মন ভালো করা ছবিটি শুধু ছোটোবেলার স্মৃতিই নয়, আবার ছোটোবেলার মতো পাখি হবার সাধও জাগিয়ে তুলল। তবে শোনো, ছোটোবেলায় একদিন খেলাধুলার পর পাখির মতো উড়তে উড়তে মাঠ পেরিয়ে বাড়ি ফিরে দেখি, মা অসুস্থ হয়ে বিছানায় চোখ বুজে শুয়ে আছে। তার আগে মাকে কখনও এমন ভাবে শুয়ে থাকতে দেখিনি। তাই ভয়ে কেঁদে ফেললাম। বাবা বললেন, "তুমি এখন বড়ো হয়েছ, তোমাকে কাঁদলে চলে?" বাবার কথায় কান্না গিলে সেদিন থেকে রান্না করতে শিখলাম। আর মা সুস্থ হবার আগেই বুঝলাম আমি সত্যিই আগের চেয়ে বড়ো হয়ে গেছি। ঠিক যেমন রতনতনু ঘাঁটির গল্পের পাখির ছানাটা মায়ের অসুস্থতার সময়ে বড়ো হয়ে গেছিল। শিশু সাহিত্যিক রতনতনু ঘাটীকে শ্রদ্ধা। তুমি আমি নাহয় খেলার পর উড়ে মাঠ পেরোনোর গল্প বলছি, কিন্তু আমাদের মধ্যে যারা বরফের দেশে থাকে তারা? তোমরা কী জানো তারা বরফ পরা শীতে বরফ নিয়ে কীভাবে খেলে? ওমা তোমরা জানো? আমি তো জানতামই না, যদি না অদিতি ঘোষ দস্তিদারের গল্পটা পড়তাম। ধন্যবাদ প্রবাসী গল্পকার অদিতি ঘোষ দস্তিদারকে। অনন্তদেব মুখোপাধ্যায় আর সোনালিকেও ধন্যবাদ ছড়া লিখে পাঠানোর জন্য। আর প্রতি সংখ্যায় তোমরা যারা পড়াশুনা সামলেও লিখে ও এঁকে পাঠাচ্ছ, তাদের বলি আরো লেখো, আঁকো, আরো সৃজনে থাকো আগামী দিনে আর ছোটোবেলা সংখ্যা পড়ে পাঠপ্রতিক্রিয়া পাঠাও।।  মৌসুমী ঘোষ

বাড়ি ফিরছে টিটি                                                           
রতনতনু ঘাটী

শালিক পাখিটা সবে উড়তে শিখেছে। মা-শালিখ আদর করে নাম রেখেছে ‘টিটি’! বেশি দূর উড়তে পারে না টিটি। টিকলিদের জানলার পাশে একটা দেবদারু গাছে ওদের বাসা। মা-পাখি বলে দিয়েছে, ‘টিটি, ওই দূরে যে ছাতিম গাছটা দেখছ, তুমি কখনও ওর থেকে দূরে যাবে না।’
   টিটি নরম ঠোঁট নেড়ে ঘাড় বাঁকিয়ে বলল, ‘আচ্ছা মা!’
  ক’দিন হল টিটির মা বাসার বাইরে যেতে পারে না। যাবে কী করে? ওই যে একটা কালবৈশাখী ঝড় হল না? ওই ঝড়ের সময় সাঁইসাঁই করে বাসায় ফিরছিল। ছোট্ট টিটি একলা বাসায় আছে না? মা-পাখির মাথা-ভরতি কত না চিন্তা।
   তক্ষুনি বুড়ো আমগাছের পোকায় খাওয়া একটা ডাল ঝড়ে ভেঙে এসে পড়ল টিটির মায়ের গায়ে। বাঁ দিকের পা-টা ভেঙে গেল। সেই থেকে মা-পাখিটা বাসার বাইরে উড়ে যেতে পারে না। ঠোঁটে করে দুটো খাবারও জোগাড় করে আনতে পারে না। যেটুকু খাবার আনে বাবা-পাখি একাই। ওই খাবারটুকুই টিটি তার মা-বাবার সঙ্গে ভাগ করে খায়। তাতে কি আর তিনজনের কুলোয় নাকি?
   একদিন বৃষ্টি হচ্ছিল খুব। সেদিন বাবা-পাখি দরকার মতো খাবার পেল না। খুব মন খারাপ করে বৃষ্টিতে ভিজে ফিরে এসে বসেছিল বাসাটার খড়কুটোর ভিতরে মুখ ডুবিয়ে। 
   মা-পাখিটা বলল, ‘টিটি, তুমি এবার থেকে তোমার খাবারটা নিজেই জোগাড় কোরো বাবা! দেখছ না, বাবা বুড়ো হয়েছে। আগের মতো আর খাবার জোগাড় করে আনতে পারে না?’
   বাবা-পাখি হাঁ-হাঁ করে বলে উঠল, ‘না না, ওইটুকু পুঁচকে পাখি! ও আবার খাবার আনবে কোথা থেকে?’
   কথাটা যখন কানে এল টিটির, চুপ করে কি আর বসে থাকতে পারে? সে তার পর দিন থেকেই খাবার খুঁজতে বেরোল। আর কী ভাগ্য তার, সেদিনই তার সঙ্গে ভাব হয়ে গেল ছোট্ট বুলবুলি পাখির। সে বলল, ‘আমার নাম টুকুই! আমরা আজ থেকে বন্ধু!’ 
   দু’জনে উড়ে-উড়ে খেলে বেড়ায়। খাবার খুঁজে বাসায় ফিরতে-ফিরতে বিকেল রাঙা হয়ে সন্ধের গায়ে গড়িয়ে পড়ে। 
   এখন ছাতিমগাছের নিষেধ মানে না টিটি। মানবে কেন? তার সঙ্গে বন্ধু টুকুই থাকে না? ভয়টা কী? 
   ওরা বনপলাশ গাছের ডালের ফাঁকে লুকোচুরি খেলছিল। হঠাৎ আকাশের দিকে তাকিয়ে মা-পাখির মুখটা মনে পড়তে টিটির মনখারাপ হয়ে গেল। 
   টুকুইকে বলল, ‘চল, তাড়াতাড়ি একঠোঁট খাবার জাগাড় করে বাসায় ফিরি। আজ আর খেলব না রে!’
   টুকুই বলল, ‘কতটুকুই বা খেললাম? চল, আর একটু খেলি।’
   টিটি বলল, ‘না রে! মায়ের জন্যে খাবার নিয়ে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে হবে। মায়ের বাঁ পা-টা তো ভাঙা। কোথাও যেতে পারে না!’
   তড়িঘড়ি করে একঠোঁট খাবার জোগাড় করে টিটি সাঁইসাঁই করে উড়াল দিল বাসার দিকে। বাসার কাছে গিয়ে টিটি দেখল, মা-পাখি খড়কুটোর ফাঁক দিয়ে তার ফিরে আসার পথের দিকে তাকিয়ে আছে!

ফাল্গুন

সোনালি ভট্টাচার্য মুখোপাধ্যায়

ফাগুন বলেই গান শুনি আর 
দিদান বলেন ফাল্গুন 
ইংরেজিতে মার্চ এপ্রিল
গান গাই তাও গুনগুন। 
মিষ্টি লাগে শব্দ গুলো 
বাতাস এখন অন্য 
ঠান্ডা হাওয়ার কামড় গেছে 
গরম রোদের জন্য। 
দোল আসছে আবীর ফাগ
 আর বেলুন ভরা রঙ
পিচকিরিতেও হইচই 
আর পাড়ায় সরগরম। 
মিষ্টি মুখের আরাম হবে 
সন্ধ্যেবেলায় হেসে 
একটাই ভয় 
বাঁদুরে রঙ লাগায় না 
কেউ এসে। 
তক্কে তক্কে থাকে পাজি 
বিচ্ছু জগা গৌর
ওদের দেখলে দিতেই হবে 
বাড়ির দিকে দৌড়।

বরফ বিলাস

অদিতি ঘোষদস্তিদার

ডিপার্টমেন্ট স্টোরটায় ঢুকতেই কানে এলো,"আই নিড স্নো প্যান্ট!"
বছর সাতেকের একটা মেয়ে মায়ের কাছে বায়না করছে।
কতদিন পর স্নো প্যান্ট কথাটা কানে এলো। মন যেন স্লেজে চড়ে দশ বছর আগে।
একই বয়েসের একটা মেয়ে বায়না করছে।
"মা আমাকে স্নো প্যান্ট কিনে দেবে! চাইই চাই! স্কুলে বলেছে!"

বরফের প্যান্ট? চমকে উঠি। ওঠাই স্বাভাবিক। 

সবে এসেছি গড়িয়া থেকে একেবারে আপস্টেট্ নিউইয়র্ক, মানে কিনা নিউইয়র্ক রাজ্যের একেবারে উত্তরে। প্রায় কানাডার কাছে। প্রথম শীত।
"স্কুলে স্নো প্যান্ট কী হবে?"
"বা রে বাইরে বরফে খেলতে যাব না?"
আঁতকে উঠি প্রায়। বলে কী?
"বরফে খেলবি স্কুলে? ঠান্ডা লেগে গেলে? না না ওসব দরকার নেই!"
"আমি কি তাহলে ক্লাসরুমে বসে থাকব রোজ? আজ ছিলাম। প্যান্ট ছিল না বলে টিচার অ্যালাও করল না! না চাইই আজই!"

সরু নাকি গলায় ঘ্যানঘ্যান!

নভেম্বরের শেষ থেকেই শুরু হয়েছে বরফ পড়া।  প্রথম দিন তো দেখেই আনন্দে আত্মহারা! কিন্তু উৎসাহে ভাটা পড়তে দেরি হল না।

ডিসেম্বরের প্রথম থেকেই শুরু হল পর পর বরফ ঝড়। বাইরের মাঠ ঘাট সব সাদা, ঠান্ডাও শূন্যান্কের নিচে। সেই ঠান্ডায় বাইরে খেলবে বাচ্চারা? নিমোনিয়া হবে না?

ভয়ে কাঁপি।

বাবা অফিস থেকে আসতেই মেয়ের বায়না বাড়ল তিনগুণ।

গেলাম স্নো প্যান্ট কিনতে।  বেশ মজার ব্যাপার এই প্যান্টগুলো। বাইরেটা অনেকটা আমাদের রেনকোটের মত ওয়াটারপ্রুফ, কিন্তু ভেতরে মোটা উলের আস্তরণ।

কেনা হল স্নো বুটও সক্কলের জন্যে। মোটা ভারী জুতো, ভেতরের ফেল্ট আটকাবে ঠান্ডা আর জুতোর তলায় আছে বরফে পা না পেছলানোর ব্যবস্থা।

লাফাতে লাফাতে মেয়ে গেলো স্কুলে। আজ আকাশ পরিষ্কার।  ঝকঝকে রোদ।  তাপমাত্রা শূন্যের বেশ নিচে।

আমি ফোন করি ডাক্তারকে। ঠান্ডা লাগার হাত থেকে কন্যাকে বাঁচাতে কী কী করণীয় জানতে।

"ম্যাডাম, আপনাদের দেশের মত ভাগ্য তো এদেশের বাচ্চাদের নেই। গরমকাল ছোট। তাই ওদের শীতেও বাইরে খেলতে হয় ঠিকঠাক পোশাক পরে। ভিটামিন ডি পাওয়াটা তো দরকার।"

সায় দিই। ডাক্তার আরো উপদেশ দেন।

"প্রায় ছয়মাস ঘরে বসে থাকলে বাচ্চাদের নানান মানসিক সমস্যা হয়। তবে আপনি ভাববেন না, যেদিন অত্যন্ত বেশি ঠান্ডা পড়ে, নিষেধাজ্ঞা থাকে।"

সেই শুরু।  উইকেন্ডেও পাড়ার সব বাচ্চারা ঝেঁটিয়ে বাইরে এসে বরফে গড়ায়।  আমারটিও একপায়ে খাড়া। কত রকমের সরঞ্জাম। গোল, লম্বাটে স্নো বোর্ডিঙের জিনিস। বোর্ডে বসে অথবা বুক দিয়ে শুয়ে গড়িয়ে নামা। কখনো বা পেছনের একটা বাচ্ছা ঠেলছে বোর্ড বা দিস্কে বসা বন্ধুকে।

আমার মনে পড়ে ছোটবেলায় সুপুরী পাতার ডোঙ্গায় আমায় বসিয়ে কত টেনেছে দাদা, বন্ধুরা।

একসঙ্গে বাইরে খেলার আসলে মজাটাই আলাদা! সে বরফ থাক না না থাক!

ওমা! মেয়ে যে শুয়ে পড়েছে বরফে!

বরফে শুয়ে পড়ে দু হাত আর দু পা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে নাড়ছে। পাশে বন্ধু দাঁড়িয়ে শেখাচ্ছে। উঠে পড়ল এবার গা ঝেড়ে।

ছাপ পড়ে রইল এঞ্জেলের।! কী মজা!

বরফ এখন অনেক অনেক। শুরু বরফের পুতুল বা স্নো ম্যান তৈরীর পালা। কে কত ভালো করে সাজাতে পারে।

এমনও হয়েছে, স্নো ম্যান ঢেকে গেছে আরো বরফে, তারপর বরফ গলতে উদ্ধার হয়েছে তার মাফলার, টুপি। সব আমার সেগুলো।

নতুন টুপি কেনার পর হয়ত একদিন সব বরফ গলে যেতে পুরনোটি বেরোল! কখন চুপি চুপি নিয়ে গেছে দুষ্টুটা!

ভাবতে ভাবতে অন্যমনস্ক হয়ে গেছিলাম। সম্বিৎ ফিরলো মেয়ের ডাকে।

"এই ব্ল্যাঙ্কেটটা নেব মা?"

বড় হয়ে গেছে মেয়ে।  চলে গেছে কলেজ ডর্মে, মানে ওই যাকে আমরা বলি হোস্টেল। শীতের ছুটিতে এসেছে, তাই কেনাকাটা করতে এসেছি দুজনে।

বছর বছর শীত আসে, বরফও পড়ে। চারপাশে বরফ জমা মাঠে ঘাটে বাচ্চাদের হুল্লোড় দেখতে পাই।

কিন্তু আমার বাড়ির উঠোনে এখন আর কেউ স্নো প্যান্ট পরে বরফের পুতুল বানায় না।

অনর্থক ছড়া

অনন্তদেব মুখোপাধ্যায়

ফুলকি রে ফুলকি
       বাঁধবি বসে চুল কি? 
              বসতে নিবি টুল কি? 

না হয় বুনিস উল কি,
মাথায় সাজাস ফুল কি,
হাতে আঁকিস উল্কি 
কানে দিয়ে দুল কি।
মুখে কী তোর কুল কি 
পেরিয়ে হাওড়া পুল কি -
        যা লিখেছি ভুল কি
                শুধুই কথার ফুল্কি!

করোনা কাল

সমাদৃতা হালদার
অষ্টম শ্রেণি, পাঠভবন, কলকাতা

বছরের শেষ হতে যায়...
খুললো না স্কুল এখনও!
স্কুল যে খুলবে কবে, ভাবি
করোনা কি যাবে না কখনও!

করোনকালে বন্ধ আজ
বাইরে একদম বেরোনো।
কি করবো বলো তো...
খেলনা যে পুরানো!

গেলাম না ঘুরতে একবছর
ঘরেই বসে আছি;
ভাবি সারাদিন গালে হাত দিয়ে
করোনাটা গেলেই বাঁচি।
উপলব্ধি

সুশ্রী কোলে
দশম শ্রেণি, ঋষি অরবিন্দ বাল্-কেন্দ্রম, চন্দননগর

ধুর! এবার যেন বিরক্তি ধরছে খুব, আর কিছুই ভাল লাগছেনা সমাদৃতার। প্রথম প্রথম ত খুব মজা লাগছিল, আর স্কুল যেতে হবেনা! কতদিনের জন্য যেতে হবেনা সেটা কেউই জানেনা। স্কুলের অত চাপ থাকবে না, যা ইচ্ছা তাই করা যাবে। প্রথম বেশ কয়েকটা দিন মন বেশ আনন্দে ছিল তার। কিন্তু কয়েকদিন পর যেন কিছু একটা কমতি ঠেকতে আরম্ভ হল, দিন যেন কাটতেই চায় না! কতদিন হল কোনো বন্ধুদের সাথে দেখা নেই, বাইরে যাওয়া নেই, কিচ্ছু নেই। জীবনটা কেমন একঘেয়ে হয়ে গেছে। ইদানীং মনটাও খুব একটা ভাল নেই, কী কারণে সেটাও ওর অজানা। খুব রাগ হচ্ছিল এই ভাইরাস আর এই লকডাউনের ওপর। উফফ! জ্বালিয়ে মারলে।
সব পক্ষীরা কী সুন্দর উড়ে বেড়াচ্ছে আর আমাদের দেখ!
এসবের মধ্যেই একটা ঘটনা ঘটল।
এক দুপুরের কথা, সমাদৃতা খেয়ে-দেয়ে দিদিকে ফোন করেছে। তাকে নানান কথার মাঝে তোর লকডাউন কেমন কাটছে জানতে চাইতেই সে বলে,"খুব ভাল রে ! তুইও বোঝার চেষ্টা কর খুব ভাল লাগবে।" ফোন রেখে দিল । দিদির কথাগুলো ঠিক বুঝল না সে। ঘুমিয়ে পড়ল তারপর। 
বেশ খানিকটা পর কে যেন তাকে সজোরে নাড়া দিতে লাগল। সমাদৃতা কাচুমাচু মুখ করে উঠে চোখ রোগঢ়ে দেখল তার চারিদিক পাতলা  মেঘে আছন্ন, আর একটা মিষ্টি গন্ধ আসছে নাকে। কে যেন ওর কানে কানে বলল আরেকটু সোজা এগিয়ে যাও।  সে অন্য কোনো কথা না ভেবে কিসের এক টানে যেন খানিকটা ভেসে ভেসেই সোজা পথ ধরল। একটু দুরে গিয়েই সেই অজানা আওয়াজ কানে এসে বলল দাঁড়াও এখানে। সমাদৃতা তাই করল।
একটু পরেই দেখল প্রকৃতি, পৃথিবী, পশুপাখিদের প্রতিনিধি, কীটপতঙ্গ দের প্রতিনিধি প্রভৃতি নানান জন তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে, মুখ দেখে তাদের কী বলার থাকতে পারে বোঝা গেল না। 
পৃথিবী বলল, "আমরা এসেছি তোমার মনের শঙ্কা দূর করতে। প্রকৃতি শুরু করো"
প্রকৃতি- "সমাদৃতা, আমরা সবাই এই একই পৃথিবী মা এর সন্তান। আমরা জানি তোমার বাইরে না বেরতে পেরে মন বিষণ্ণ।  প্রচন্ড রাগ হচ্ছে তোমার ভাইরাস আর এই লকডাউন এর ওপর। কিন্তু এই দেখ আজ আমরা সবাই তোমার কাছে এসেছি, এই যে পশুপাখিদের প্রতিনিধি, কীটপতঙ্গ দের প্রতিনিধি প্রভৃতি নানান জন দেখতে পাচ্ছ, বেশিরভাগ মানুষের জ্বালাতে সবাই জর্জরিত ছিলাম এতদিন। বানর থেকে মানুষদের আসা এর কারণ ছিল তারা যাতে সবাইকে নিয়ে ভাল থাকে, মা কে আরো সুন্দর করে তোলে। কিন্তু ক্রমে মানুষ স্বার্থপর হয়ে আজ মা এর, আমাদের কী দুরবস্থা করেছে! তাদের অত্যাচারে আমরা বাঁচার রাস্তা পেতাম না। এখন দেখ ওরা সবাই উচিত শিক্ষা পাচ্ছে। নিজেরা বন্দি হয়ে আছে, যেমন করে পশুপাখিদের বন্দি করত টাকা আয় করতে। পরিবেশ কতটা হালকা লাগছে। এখন আমরা ভাল আছি যদিও জানিনা কতদিন। সৃষ্টিকর্তা সবার বাঁচার অধিকার দিয়েছেন। সেটা মানুষের ভুলে যাওয়া উচিত না। ছাদে গিয়ে দেখ নীল আকাশের দিকে, বাগানে গিয়ে দেখ। আগের মলিন চেহারা তাদের অনেকটা কেটেছে।"
"এই সমু!!! সমু রে, ওঠ। ক্লাস আছে ত অনলাইনে !"
চোখ মেলে তাকাল সে, আরে কোথায়ে গেল সবাই! স্বপ্ন দেখছিল তাহলে নির্ঘাত!
উঠে ছাদে গেল দৌড়ে , দেখল আকাশের দিকে, শ্বাস নিল জোরে। পৃথিবীটা সত্যিই খুব ভালো লাগছে। এমন ভাবে ত কোনোদিন ভাবেনি সে! নতুন করে ছোটো ছোটো জিনিস এর সুন্দরতা উপলব্ধি করতে পারছে সে। বাতাসের আওয়াজ ছাড়া সব চুপচাপ, সুন্দর এই পৃথিবীর ভাষাহীনতা কতকিছু বলে, বোঝে সবাই, বোঝেনা সর্বশ্রেষ্ঠ জীব "মানুষ"।


সাঁতরাইচেঙ্গার রহস্যময় সাতকাহন

গৌতম বাড়ই

রাতের অন্ধকারে ওরা কারা?

তারা সব অদ্ভূত। ভূত আবার ভূত- ও না। এই দেখছি এখানে। আবার পরক্ষণেই ঐ দোলাপাড়ের ঘাস-জমিতে মাঠের ধারে। কখনও তাদের শরীরে সেই গুপিবাঘার সিনেমার মতন আলো আবার কখনও অন্ধকার। বিচ্ছিরি গলার আওয়াজ। এগিয়ে গেলেই পেছনে ডাকে। আবার পেছনে গেলেই বা সামনে দলবেঁধে দেখতে গেলেই ওরা দূর থেকে ডাকে। এই ছোটখাটো আবার এই অনেক বড় আকার ধরেছে। সাংঘাতিক কান্ড! পুলিশের লোকেরা পর্যন্ত ভয় পেয়েছে। লোকের জমায়েত, বড়-বড় আলো নিয়ে আসতেই বেপাত্তা। তবে আমাদের ততক্ষণে সারাটা গা- দেহ ভারী হয়ে উঠেছে। কি যে হচ্ছে রে বাপু, বলে বোঝাতে পারব না---  এই বলে বংশীকাকা অনুপের প্রশ্নের উত্তরে থামলেন। 

  অনুপ, আমি আর সুশান্ত সাঁতরাইচেঙ্গার এফপি স্কুলের মাঠের ধারে বসে গল্প করছিলাম। অনুপ বংশীকাকার কথাগুলো বললে আমাদের। আমাদের খেলাধূলা এখন বন্ধ প্রায়। শুনেছি শিলিগুড়ি থেকে বড় খবরের কাগজের আর আকাশবাণী শিলিগুড়ির সংবাদ প্রতিনিধি এসেছেন। উত্তরবঙ্গ সংবাদেও সাঁতরাইচেঙ্গার এই রহস্যময় ঘটনা ছেপেছে। আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের এই গ্রাম নিয়ে লোকেদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। আমি জানি এই রহস্যের গোড়ার কথা। তবে কী ইলু-বিলু- তিলু ঐ তিনজন ভিনগ্রহীবন্ধু এইসব করেছে গতরাতে? জানিনা, আমাকে কি আর বিশ্বাস করছে না? না হলে ওরা গেল কোথায় ফের ভয় দেখিয়ে? সুশান্ত- কে বললাম-- সেই যে ইউএফও বা আলোর চাকতি আমরা দেখেছিলাম মধ্যরাতে এখানের মাঠে নামতে তার থেকে নেমে আসা ইটিগুলো আমাদের এখানে এখনও আছে। তোর এতে কোন সন্দেহ আছে? সুশান্ত কিছু বলতে গিয়েও চোখ বড়- বড় করে ভয় পাওয়ার মতন করে আমার দিকে তাকাল। আমি বললাম-- কেন রে কী হল? সুশান্ত বিকেলের আলোয় একটু দূরের মাঠের কোণে, ঠিক আমার পেছনে দেখতে বলল। আমি পেছন ঘুরতেই মাঠের ধারে দেখলাম ইলু- বিলু আর তিলু দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসছে। হাত নাড়িয়ে ডাকছে আমাদের। আমি বললাম ওদের- চল যাই। দেখি ওরা কী বলে? 

  আজ সুশান্ত আর অনুপ আমার কথা শুনে একদম আপত্তি করল না। আমরা পা চালিয়ে ইলু- বিলু- তিলুর দিকে এগোতে থাকলাম। 

  সামনে যেতেই ওরা বললে-- তোমরা এখানকার গ্রামবাসীরা লোকজনে মিলে বানজারাদের গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিলে?  ওরা তো এমনিতেই দেশের নানান জায়গায় অস্থায়ী ডেরা বাঁধে। কদিন থাকে, আবার অন্য কোথাও বেরিয়ে পড়ে। এখানে তো ওদের কোন দোষ- ই ছিল না। তোমরা মানুষরা খুব হিংস্র। যে গ্রহ থেকে এ পৃথিবীতে এসেছিলে সেটা এক বদখজ গ্রহ ছিল। তোমরা সেইজন্য আর ওখানে হয়ত ফিরে যাওনি কিন্তু স্বভাবে ঐ হিংস্রতা লেগে রয়েছে। আমরা ওদের চলে যাওয়াতে গৃহ বা বাসস্থান হীন পড়ে রয়েছি। তাই মাঠে- জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছি। 

  ইলু-বিলু- তিলু আমার মুখের দিকে তাকিয়ে কথাগুলি বলছে, সুশান্তও অনুপ চুপ করে শুনছে। একসময় আমাকে ওরা বললে --  যাও বাড়িতে, সন্ধে হয়ে এলো। পরে অনেক কথা বলব আমরা। আমরা তিনজন বিকেলের শেষ  আলোয় ঘরে ফিরি। ঐ সময়ে রাস্তায় বড় মানুষদের ছোটো- ছোটো জটলা। জানিনা আজ রাতে বড়রা গ্রামে পাহারা দেবে কিনা? ঘরে ফিরে দেখি দেওয়ানি কাকা বাবার সামনে কাছারি-ঘরের দাওয়ায় চুপ করে বসে আছেন। বাবা কিছু বলছেন তাকে।

  আমরা রাতে তাড়াতাড়ি খাওয়া- দাওয়া সেরে শুয়ে পড়তে যাচ্ছি। বাবা আজ রাত- পাহারায় থাকবেন। সঙ্গে থাকবেন আমাদের স্কুলের পণ্ডিত স্যার কাব্যতীর্থ সনাতন পাণ্ডেবাবু।  অল্পবয়সীদের সাহস যোগাবেন। বাবাও বেড়িয়ে পড়লেন তাড়াতাড়ি। মা আর দিদি দুয়ারে খিল এঁটে আমাদের সবার শোয়ার ব্যবস্থা করেছে। আমি আর ভাই শুয়ে পড়েছি একঘরে আর একঘরে মা ও দিদি। দু- ঘরের মাঝের দরজা পর্দা তোলা আর খোলাই থাকে এখন। টুলের ওপর একটা লন্ঠন রাখা ডিম করে। এতে একটু আলো পেয়ে ঘরের জমাট অন্ধকার কাটে ঠিকই, তবে আলো- আঁধারের এক বড় মায়াময় পরিবেশ তৈরী করে। আমি চোখ খোলা শুয়ে রয়েছি। বাইরে বয়স্করা পাহারায় আছেন, গরমের গুমোট ভাবে জানালার কপাট  খোলা আছে। আমি রাতের অন্ধকারে বরাবর আকাশ দেখতে ভালবাসি। বইয়ে পড়া লুব্দ্ধক, সপ্তর্ষি- মণ্ডল, কালপুরুষ খুঁজি। তবে কেউ তো ঐ রাতে এসে চিনিয়ে দেবে না। আমি খুব ঝকঝকে আকাশে কল্পনায় মেলাতে চাই ওদের, কিন্তু মেলাতে পারিনা। আজও তাই চেয়ে রয়েছি, ভুলে গিয়েছি আর সব কথা। বাইরের অন্ধকারে আর ঘরের ভেতরের আলো- আঁধারের মধ্যে আমার পায়ের দিকের খোলা জানালায় দেখতে পেলাম ছায়া- ছায়া তিনটে মুখ। ইলু- বিলু- তিলু। আমায় গলা নামিয়ে বললে- বুদ্ধদেব, দেওয়ানিকে যা দেখিয়েছি আর যা শিক্ষিত করেছি, তাতে ও আর বাদবাকি জীবনে খুব একটা বেশি কথা বলবে না‌। তোমাদের বয়স্কদের, উঠতি বয়সীদের কালরাতে ভয়- ভয় খেলা দেখিয়ে কুপোকাত করে দিয়েছি। আজ পাহারা দিচ্ছে ঠিকই তবে জড়সড় হয়ে গায়ে গা লাগিয়ে। একটু বিপদে পড়লে যে যার মতন কেটে পড়বে। এই তো মানুষের স্বভাব। আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে গিয়েছি পৃথিবীর যাবতীয় কিছুর অনুসন্ধান করতে। আজ রাতে একটি মজার ঘটনা ঘটিয়ে কিছুদিনের জন্য তোমাদের নিশ্চিতে রাখতে, শান্তিতে রাখতে আমাদের গ্রহে ফিরে যাব বন্ধু। আস্থা রেখো আমাদের প্রতি আর খুব বেশি কিছু বলতে যেও না। তোমাদের সামনেই বড় উৎসব দূর্গাপূজা আসছে। আনন্দ করো। আবার পুজোর পরে হালকা শীতে আমরা ফিরে আসব এই সাঁতরাইচেঙ্গায়, ভূটনীর- ঘাটে। বন্ধু টা- টা- বাই- বাই।

  কতরাত হয়েছে জানি না। চোখে ঘুম নেই। তাকিয়ে আছি পায়ের দিকে উত্তরের জানালায় আর কখনো আমার মাথার পাশে বাম দিকের জানালায়। হঠাৎ পশ্চিমের জানালায় দেখি সেই রাতের অন্ধকার আকাশে আলো আর আলো। সেই আকাশ আলো করে এক উড়ন্ত চাকি স্পষ্ট হল রাতের আকাশে। উড়ন্ত সেই আলোর চাকি আকাশের আরও উপরে উঠে যাচ্ছে। আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি ইলু- বিলু- তিলু আমায় হাত নাড়ছে। শুনতে পারছি বলছে- বন্ধু আমরা আবার শিগগিরই ফিরে আসব, মন খারাপ করো না। আমাদের কিছু কাজ এখনও বাকি আছে। 

  বাইরে শতকন্ঠের হৈ- হৈ শুনছি। তারপর আর জানিনা, কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।

এরপর পরের পর্বে। আগামী রবিবার।


পাঠ প্রতিক্রিয়া ১
(জ্বলদর্চির ২২ আর ২৩ তম ছোটোবেলা সংখ্যা পড়ে ছোট্টো বন্ধু সাঁঝবাতি কুন্ডু যা লিখল🖋️)

মৌসুমী মাসির জ্বলদর্চির প্রতি সংখ্যাই আমি আমার মার সাথে পড়ি। এবারের সংখ্যাও পড়েছি।
কি আশ্চর্য জানো ক'দিন আগেই মা আমাকে সুকুমার রায়ের ]'খাই খাই ' বইটা কিনে দিয়েছে। কি মজার মজার সব ছড়া সত্যিই পড়তে পড়তে আমি হাসিতে লুটোপুটি।
আমি অল্প-আধটু মার খাই কিন্তু বেত দিয়ে কোনদিনও মার খাইনি। বেতের মার নিশ্চয়ই খুব লাগে তাই তো লেখক অসিত বরন বেরা ভীত হয়ে থাকতেন। আমার বেশ মজা লেগেছে যখন উনি ঘুমের ঘোরে হাতড়াতে হাতড়াতে প্রেমচাঁদবাবুর রুমে ঢুকে যান।
আমি চাই রজতাভর স্বপ্নটা সত্যি হোক। ও যেন মস্ত বড় রকস্টার হয় কিন্তু ও যখন চোখ খুলে সামনে নিজের মা কে দেখে তখন আমার একটু মজা লাগে।
জানো তো আমিও খুব দুষ্টু কিন্তু চার বছরের বিরক্তিকর ছেলেটার মত ওতটাও না।
আমার বাঁটুলের ছড়াটা দারুণ লেগছে। কি ভাল না,লেখক নারায়ণ দেবনাথ পদ্মশ্রী পেয়েছেন। এই খবরটা মা আমাকে আগেই বলেছিল। ছানার কারসাজির গল্পটার সাথে আমি সিংহ আর ইঁদুরের গল্পের মিল খুঁজে পেলাম। তবে এই গল্পটাও ভাল লেগেছে কারণ এখানে একটা ছোট্ট হরিণ ছানা আর জোনাকি ছিল। 
সবকটা আঁকাই আমার খুব ভাল লেগেছে কিন্তু হিয়া দিদির বুদ্ধ আঁকাটা সব থেকে ভাল।

আমি তো জানতামই না 'হাট্টিমা টিম টিম' এত্তো বড় একটা ছড়া। কে লিখছে সেই নামটাও জানতে পারলাম মুক্তি দাশের লেখায়।
'উমনো মেঘ আর ঝুমনো মেঘ' এর গল্পে মেঘ কেমন করে হয় আবার বজ্র চমকায় সব বুঝিয়েছে কিন্তু মজা করে। উমনো-ঝুমনোর মত আমিও দিভভাইয়ের সাথে ঝগড়া করি। দিভভাই এমন এমন কথা বলে যে রাগ হয় তাও হেসে ফেলি।
অমিত মামার জেদি গল্পটা ভীষণ ভাল লেগেছে। সায়নী ম্যাম বলেছিল অনুদিদি মাধ্যমিকে ইংরেজিতে পাস করতে পারবেনা কিন্তু অনুদিদি জেদ করে ঠিক পাস করে আবার এম এ ও করে ইংরেজিতে। তার মানে জেদ ভাল তবে ভাল কাজে।
আমি পুলিশ গোয়েন্দা গল্পটা খুব একটা বুঝিনি।
আয়ুষ্মান দাদা যেন আবার ক্রিকেটের মাঠে যেতে পারে।দাদার যেন স্বপ্নপূর্ণ হয়। একদিন যেন দেশের হয়ে খেলতে পারে।


পাঠ প্রতিক্রিয়া ২
(জ্বলদর্চির ২৩ তম ছোটোবেলা সংখ্যা পড়ে আমাদের নদীয়ার বানীয়া সাহা যা লিখলেন🖋️)

বেশ কিছু দিনের শারীরিক অসুস্থতাকে কিছুটা ছুটি দিয়ে আবার চোখ রাখলাম সাহিত্য ক্যানভাসে। যখন হলুদ বসন্তের কোকিলের সুর আর লাল পলাশের সান্নিধ্য পিছু ডাকতে থাকে তখন কী আর অসুখের সাথে বন্ধুত্বের বাধন সুদৃঢ় থাকে! এমনিই তা শিথিল হয়ে যায়। মানুষের তীব্র ইচ্ছে শক্তি আর চরম তাগিদ তথা প্রেষণা ই হয়তো তার চাওয়া পাওয়াকে, তার চলার পথকে আবার নতুনরূপে সাজিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়, ঠিক যেরকম "জ্বলদর্চি" র প্রতিটি সংখ্যার হৃদয় আঙিনায় লক্ষনীয়। থিতিয়ে পড়া প্রাণগুলোতে আরও একটিবার শ্রদ্ধেয় চিত্রগ্রাহক মৃণাল ঘোষের পলাশ ঘেরা জীবন্ত শাখাটির স্পর্শ নতুন জীবনশক্তির সঞ্চার ঘটিয়েছে মাননীয়া মৌসুমী ঘোষের সম্পাদনায় প্রকাশিত "জ্বলদর্চি" র "ছোটোবেলা ২৩" সংখ্যাটির চনমনে পৃষ্ঠার শরীরে।
বিশিষ্ট লেখক মুক্তি দাশ ছোট্টবেলা থেকে জানা "হাট্টিমাটিম টিম " ছড়াটি সম্পর্কিত এক নতুন তথ্যকে অজানার খনি থেকে নিষ্কাশন করেছেন, যা সমৃদ্ধ করে তোলে মানুষের জ্ঞানের আধারকে। তিনি তুলে ধরেছেন শৈশবে পড়া এই ছড়াটির সমগ্র রূপটিকে।
"এই ছড়াটি লিখেছেন অধুনা.....ছড়াটির একেবারের শেষের স্তবক।"
কীভাবে বৃষ্টির ধারা পৃথিবীর মাটিতে নেমে এসে তার ভয়ংকর স্বরূপকে প্রকাশ করে আবার আগের মতন শান্ত হয়ে রামধনুর আলোকে মিষ্টি রোদের স্পর্শ এনে দেয়, তারই একটা অনবদ্য ছাপ প্রস্ফুটিত হয়েছে প্রবাসী শিশু সাহিত্যিক শ্রদ্ধেয়া সুস্মিতা কুন্ডু র "উমনো মেঘ আর ঝুমনো মেঘ" লেখাটির বয়ানে, যা নির্দ্বিধায় শিশু মনে ভালোবাসার জায়গা করে নেয়।
"এই নদী ওই পুকুর.....আকাশের দেশে খবর নেয়।"/ "সে কী চিৎকার গর্জন....শনশন লড়াই চলে।"/ "হঠাৎই ঝুমনোর হাতের.....তুলোর মত হতে থাকে।"/ "দুই বন্ধু ঝগড়া ভুলে....জড়াজড়ি করে রওয়ানা দেয়।"
ছোটোবেলাকে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্খা তোলপাড় করে তোলে হয়তো সকল মনকেই, আর সেই ছোট্টবেলার বেশিরভাগ সময়যাপনের সঙ্গী গুলোর কখনো ছোটা ভীম,কখনো পোকেমন, কখনো টম অ্যান্ড জেরি, কখনোবা ইন্দুমতির সাজে সেজে লেখক রামকিশোর ভট্টাচার্য মহাশয় ও চান হারিয়ে যেতে, আকাশমণি ফুল সেজে সমস্ত আনন্দকে ছড়িয়ে দিতে চান স্নিগ্ধ পরিবেশে।
"ও পোকেমন খুশির দানা.....মতই মনরাঙা ইস্কুল?"/ "তোদের মতই সাজতে আমি.....সাতরাঙা সন্দেশে।"
প্রযুক্তির আলো গ্রামের কিছু কোণকে আলোকিত করতে না পারার পাশাপাশি কোভিড19 পরিস্থিতিতে শিক্ষা পদ্ধতির বর্তমান অবস্থায় কীভাবে 'অনু' র মনের জোরে নেওয়া ইংরেজি অনার্স ছোটো শিশুদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে একটি সহযোগিতার ডালি সহায় হয়েছে এবং কীভাবে অনুর প্রতিভা ছড়িয়ে পড়েছে সমাজের মানুষের মধ্যে তারও একটি দারুন স্বাদ পাওয়া যায় মাননীয় লেখক অমিত মজুমদারের "জেদি" গল্পটিতে।
"ওদের গ্রামে ইংরেজি ছাড়াও.....অ্যানড্রয়েড ফোনও নেই"/"আমি তো প্রাইভেট পড়তে....চলে এলাম দিদি।"/ "আজ আরও তিনটে ছেলে.....বিষয়টাও দ্রুত ছড়িয়েছে।"/ "খুব জেদ করেই সে....আবার সে কাঁদছে।"
  সম্পত্তির লোভে কীভাবে ভাইপো, লোক লাগিয়ে তাদের কাকাদের খুন করেছিলো তা বুদ্ধি খাটিয়ে থানার বড়োবাবু যেভাবে খুঁজে বের করেছিল সেই কাহিনীর পাশাপাশি এক ডিটেক্টটিভ মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায় বাঁকুড়ার সরস্বতী দেবী ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ঋতব্রত সিংহ মহাপাত্রের "পুলিশ গোয়েন্দা" গল্পটিতে।
"কিন্তু ওঁরা নাকি কিছুদিন.....ভেবে উঠে পড়লেন।"/ "সে লোকানোর চেষ্টা....তাহলে এবার জেলেই চলুন।"
ক্রিকেট পছন্দ করেন না এমন বাঙালি খুব কমই আছেন বোধহয়। ক্রিকেট সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত কিছু তথ্য নিয়ে উপস্থাপিত সেন্ট স্টিফেন্সের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আয়ুষ্মান ব্যানার্জীর "ভালো লাগা খেলা" তে ভারতীয় দলের হয়ে খেলার স্বপ্ন তার পূরণ হবে কিনা এ বিষয়ে তার ভাবনাকে সুন্দর অক্ষরে গেঁথেছে সে।
"ব্রিটিশরা এ খেলা আমাদের....রায় পরিবারের সদস্য।"/ "কবে যে আবার.....স্বপ্ন পূর্ণ হবে কী?"
শ্রদ্ধেয় লেখক অসীম হালদারের "জলদর্চি" ২২ এর পাঠপতিক্রিয়া সত্যিই অনবদ্য যা প্রতিটি পাঠকেই হয়তো "জ্বলদর্চি" র প্রতি আকৃষ্ট করবে।
  এছাড়াও সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অনুভব বোসের রঙের ছোঁয়া নীরব প্রাকৃতিক দৃশ্যটিকেও যেনো জীবন্ত করে তুলেছে। ঐশিকের আঁকাটিতে "উমনো মেঘ আর ঝুমনো মেঘ" গল্পটির অনেকখানিই প্রকাশ পেয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণির ছোট্ট অস্মিতা র কল্পনা, রঙের স্পর্শে অঙ্কনকলার মাত্রাকে অনেকখানি বাড়িয়ে তুলেছে। গৌতম বাড়ই এর "সাঁতরাই চেঙ্গার রহস্যময় সাতকাহন" এর প্রতিটি পর্বই পরবর্তী পর্বকে পাঠ করার ব্যকুল আগ্রহ সৃষ্টি করে পাঠক হৃদয়ে। শেষাংশে মাননীয় মনোজিৎ বেরা র 'জানো কি' প্রতিটি পাঠকবর্গের জানার ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করে তুলবে বলে মনে করা যেতেই পারে। বিভিন্ন বিশিষ্ট লেখক, লেখিকা,কবি এবং ছোট্টদের কল্পনায়, তুলির টানে ও লেখার জাদুতে প্রকাশিত মেধা "জ্বলদর্চি" র প্রতিটি সংখ্যাকেই নতুনত্ব দান করার পাশাপাশি নব প্রতিভার উন্মোচনের সুযোগ করে দেবে বলে আশা রাখি।

আজকের বিষয়- কিছু পরিচিত পুরোনাম।

১. AIFF এই পুরো নাম বলো।
২. BCCI এই পুরো নাম বলো।
৩.BIS এর পুরো নাম বলো।
৪. BKU এর পুরো নাম বলো।
৫. CBI এই পুরো নাম বলো।
৬. CID এর পুরো নাম বলো।
৭. CCP এর পুরো নাম বলো।
৮. CGA এর পুরো নাম বলো।
৯. CNG এর পুরো নাম বলো।
১০. CVR এর পুরো নাম বলো।

গত সপ্তাহের উত্তর:
১.তিব্বতের লাসা ২.চিনে ৩.ভারতে ৪.দ্যা গ্রান্ড ৫. ইংল্যান্ডে ৬.দক্ষিণ আমেরিকায় ৭.শিকাগো ৮.হিমালয় ৯.পামির মালভূমি ১০.রেড উড।

পেজ-এ লাইক দিন👇
আরও পড়ুন 



Comments

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি