মেদিনীপুরের বিজ্ঞানী নারায়ণ চন্দ্র রানা : শূন্য থেকে 'শূন্যে' উড়ানের রূপকথা― (ষষ্ঠ পর্ব)পূর্ণ চন্দ্র ভূঞ্যা

বিজ্ঞানের অন্তরালে বিজ্ঞানী ।। পর্ব ― ২৫
মেদিনীপুরের বিজ্ঞানী নারায়ণ চন্দ্র রানা : শূন্য থেকে 'শূন্যে' উড়ানের রূপকথা― (ষষ্ঠ পর্ব)

পূর্ণ চন্দ্র ভূঞ্যা


স্বদেশে পি এইচ ডি আপাতত কমপ্লিট। এবার লক্ষ্য পোস্ট-ডক্টরাল ডিগ্রি। সেজন্য আপাত গন্তব্য বিদেশ।  পাশ্চাত্যের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়। ইংল্যান্ডের ডারহামের সাউথ রোডে অবস্থিত ইউনিভার্সিটির ফিজিক্স বিভাগের সায়েন্স ল্যাবরেটরি। সেখানকার প্রথিতযশা জ্যোতির্বিজ্ঞানী প্রফেসর আর্নল্ড উলফেনডেল। জ্যোতির্বিজ্ঞানে বিশ্বের সমীহ আদায় করা এক নাম। নারায়ণের কাছে এ হেন বিজ্ঞানীর অধীনে গবেষণার সুবর্ণ সুযোগ এসে গেল। সেই মোক্ষম সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নয় সে। ১৯৮৩ সাল। বিশ্বের কাছে নিজের জাত চেনাতে ইংল্যান্ডে রওনা হয়ে গেল সে। 
      
এদিকে প্রফেসর উলফেনডেল ছাত্রের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। তিনি অবগত আছেন― নারায়ণের দুর্বল হার্টের সংবাদ। বছর পাঁচেক পূর্বে কৃত্রিম পেসমেকার বসেছে। সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা একদম বারণ। এমনকি লিফটে যাতায়াত না করাই শ্রেয়। অথচ এ হেন দুর্বল হৃৎপিণ্ডের অধিকারী শীর্ণকায় ছাত্রটি বেজায় মেধাবী এবং পরিশ্রমী। আর প্রবল জেদী। যে-জিনিস একবার শুরু করে, তার শেষ না-দেখে সহজে ছাড়ে না। শারীরিক অসুবিধার কথা তখন স্মরণে থাকে না তাঁর। সেজন্য ছাত্রের স্বাস্থ্যের সব দিক বিবেচনা করে গ্রাউন্ড ফ্লোরে নারায়ণের থাকার ব্যবস্থা করেছেন 'স্যার' উলফেনডেল। নীচতলায় সম্পূর্ণ পৃথক একটি কক্ষ এবং থাক-থাক সাজানো বই সংবলিত একখানা দুর্দান্ত লাইব্রেরী তাঁর জন্য বরাদ্দ। দিবা-রাত্র চব্বিশ ঘণ্টা খোলা। এ যেন এক শব্দ-কল্প-দ্রুম। কী নেই সেই লাইব্রেরিতে? দেশবিদেশের নোবেলজয়ী বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের মহামূল্যবান গ্রন্থ থেকে সমকালীন সমস্ত পণ্ডিতের বেস্ট-সেলার পুস্তক ঠাঁই পেয়েছে সেখানে, যা ইন্ডিয়াতে কল্পনাতীত। এককথায়, দিবাস্বপ্ন। অসম্ভব।

এমন ব্যবস্থাপনায় যারপরনাই খুশি নারায়ণ। সবচেয়ে বেশি আনন্দিত, লাইব্রেরির সুবিধা পেয়ে। এত্ত সব রেফারেন্স বই হাতের নাগালে থাকা মানে তাঁর কাছে আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতন ব্যাপার। কেননা, তাহলে তাঁর অফুরন্ত পড়াশুনায় ছেদ পড়বে না। গবেষণার সুবিধা হবে। তাঁর গবেষণা মহাশূন্য নিয়ে। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের হালহকিকত অনুসন্ধান। প্রতিটি গ্যালাক্সির জঠরে যে অফুরন্ত হাইড্রোজেন গ্যাসের জোগান, কোত্থেকে এল সেই হাইড্রোজেন? কে জোগান দিল এত এত গ্যাস? ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির শুরুতে কোন ধরনের রাসায়নিক পদার্থের সৃষ্টি হয়েছিল? অসীম শক্তি থেকে কীভাবে তৈরি হল হাইড্রোজেন? এমন সব প্রশ্নের সঠিক দিশা দেখাবে তাঁর গবেষণা। মাত্র উনিশ বছরের গবেষণা-জীবনে জ্যোতির্বিজ্ঞানে তাঁর গবেষণার ক্ষেত্রটি বেশ প্রসস্থ। নভোবিজ্ঞানের ছয়টি শাখায় তাঁর অবাধ স্বাচ্ছন্দ্য বিচরণ―
   (১) অ্যাস্ট্রোকেমিস্ট্রি
   (২) স্টেলার অ্যাস্ট্রোফিজিক্স
   (৩) সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদ তত্ত্ব এবং কসমোলোজী
   (৪) সেলেস্টিয়াল মেকানিক্স
   (৫) হাই এনার্জি অ্যাস্ট্রোফিজিক্স, এবং
   (৬) সেমি-পপুলার ওয়ার্কস

ডারহাম বাসকালে ১৯৮৩ সালে তাঁর গবেষণা শুরু হল অ্যাস্ট্রোকেমিস্ট্রি নিয়ে। এই ব্রহ্মাণ্ডে এক বিপুল শক্তির ব্যুৎপত্তি ঘটেছিল ১৩৭০ কোটি বছর আগে, এক বিন্দুর হাত ধরে। যা 'সিঙ্গুলারিটি' নামে পরিচিত। সোজা ভাষায়, 'বিগ-ব্যাঙ' - অসীম ঘনত্ব ও অসীম উষ্ণতার একটি বিন্দু , যা একটি প্রোটনের চেয়েও ক্ষুদ্র।

এ হেন বিগ-ব্যাঙের বিস্ফোরণে এই মহাজাগতিক বিশ্বের জন্ম বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা। কিন্তু ওই 'সিঙ্গুলারিটি' কীভাবে সৃষ্টি হল, কোথা থেকে এল, কতটুকু সময় সে পরিব্যাপ্ত ছিল― এমন হাজারো প্রশ্নের আজও কোন‌ও সদুত্তর নেই। তার একটি বড় কারণ সম্ভবত এই: যে নিয়মে, অধিকাংশ পণ্ডিতের মতে, এই মহাবিশ্বের পথ চলা শুরু কিংবা যে-গণিতের সাহায্যে এর সৃষ্টিলগ্নে পৌঁছতে চায় পণ্ডিতবর্গ, সেই নিয়ম বা গণিত কোনওটাই মহাবিস্ফোরণ ক্ষণে ও তার আগে কার্যকর নয়। বিস্ফোরণের ক্ষণিক পরে সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল অবস্থা তখন ব্রম্ভাণ্ডের। লক্ষ নিযুত কোটি বিকিরণের সমাহার শুধু। কোনও গণিত মানে না, নিয়মের তোয়াক্কা নেই। তাই ওই সময়কার ঘটনা-দিগন্ত অজানা থেকে যায়।

ব‍রং মহাবিস্ফোরণ ক্ষণের এক সেকেন্ডের একশো ভাগের মাত্র এক ভাগ সময় ( যখন থেকে মহাবিশ্বে গণিতের বর্তমান নিয়ম শুরু হয় বলে কণাবিজ্ঞানী স্টিভেন ওয়েনবার্গ (জন্ম - ৩ মে,১৯৩৩)-এর ধারণা ))-এর পর থেকে ব্রম্ভাণ্ডের নাড়িনক্ষত্রের খোঁজখবর শুরু করে মানুষ। এই ০.০১ সেকেন্ড সময়কে শূন্য ধরে ( কারণ এর আগে দেশ-কালের অ-গাণিতিক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ) মহাবিশ্বের প্রথম ধাপের পথ চলা শুরু। এমন অনেক ধাপ বা অধ্যায় পেরিয়ে আজকের দশায় পৌঁছেছে বিশ্ব।

তাহলে, প্রশ্ন জাগে ওই নব্য ব্রহ্মাণ্ডে কীভাবে এল হাইড্রোজেন, ভারী ডয়টেরিয়াম, হিলিয়াম প্রভৃতি পদার্থ? কসমিক রশ্মি, যার জন্য মেরু প্রদেশে 'অরোরা' দেখা যায় অথবা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আয়নস্তরের গড় তাপমাত্রা ১২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ২০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়, মহাবিশ্বে কোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে? অল্প শক্তির বিপরীত প্রোটন কণিকা কীভাবে একটি গ্যালাক্সি এবং তার বিপরীত গ্যালাক্সির সন্ধান দেয়? এসব বিষয় নিয়ে ড. রানা এবং তাঁর গাইড প্রফেসর উলফানডেল গবেষণা শুরু করেন ডারহামে, ১৯৮৩ সালে। পরের বছর ১৯৮৪ সালে দুজনে আরও একধাপ এগিয়ে কসমিক রশ্মি আর কসমোলজীর মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে বেড়ান তাঁদের দ্বিতীয় পেপারে।

ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির ০.০১ সেকেন্ড সময় পরে প্রথম ধাপ থেকে পরের পঞ্চম ধাপ পর্যন্ত মোট সময় তিন মিনিট দু'সেকেন্ড। এত অল্প এ সময়ে বিশাল পরিবর্তন ঘটে গেছে নবজাতক বিশ্বের! ততক্ষণে সে পদার্থ-শক্তির ঘন তরলায়িত স্যুপ-এর অবস্থা থেকে প্রথমে হালকা, পরে ভারী কণিকার জন্ম দিতে চলেছে ; তার আয়তন অবিশ্বাস্য হারে ( বিজ্ঞানী অ্যালান গুথ (জন্ম: ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৭)-এর মতানুসারে― এক সেকেন্ডের ক্ষুদ্র ভগ্নাংশের মধ্যে মহাবিশ্বের ব্যাসার্ধ ১০^৩০ গুন ) বেড়েছে, তাপমাত্রা আয়তনের ব্যস্ত অনুপাতে দ্রুত গতিতে ( মহাবিস্ফোরণ ক্ষনের ১০^(–৪৩) সেকেন্ড পরে সর্বোচ্চ উষ্ণতা ১০^৩২ ডিগ্রি কেলভিন ধরলে পরের ৩ মিনিট ২.০১ সেকেন্ড সময়ে তাপমাত্রা কমে হয়েছে ১০^৯ ডিগ্রি কেলভিন) কমছে। ০.০১ সেকেন্ডের অব্যাহত পরে নিউক্লিয় কণা― প্রোটন বা নিউট্রন আবির্ভূত হয়। এ সময় প্রোটন নিউট্রনের সংখ্যা ১০^৯ (দশের নয় ঘাত পরিমাণ বা ten to the power nine বা ১০০০,০০০,০০০ পরিমাণ) ফোটনের অনুপাতে একটি হবে। এদিকে নিউট্রন প্রোটনের চেয়ে সামান্য ভারী। তাই নিউট্রন প্রোটনে রূপান্তরিত হতে কোনও বাধা নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিউট্রন-প্রোটনের আনুপাতিক ভাগ হারে সেজন্য বৈষম্য দেখা যায়। প্রোটনের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে, নিউট্রনের সংখ্যা কমে। কিন্তু অত্যাধিক উষ্ণতা ( ১০^১১ ডিগ্রি কেলভিন)-র জন্য প্রোটন নিউট্রন জোট বেঁধে নিউক্লিয়াস সংশ্লেষণ ঘটাতে পারে না তখনও। সৃষ্টির প্রায় ১৩.৮৩ সেকেন্ড পরে বিশ্বের উষ্ণতা ৩ × ১০^৯ ডিগ্রি কেলভিনে নেমে এসেছে আর নিউট্রন ও প্রোটনের শতকরা হার ছিল যথাক্রমে ১৭ ও ৮৩। এই উষ্ণতায় একটি প্রোটন আর একটি নিউট্রন জোড়া লেগে ডয়টেরন নিউক্লিয়াস (হাইড্রোজেন-২, ভারী হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস) গড়ে তোলে। উৎপাদিত ডয়টেরন নিউক্লিয়াস আবার একটি প্রোটন অথবা একটি নিউট্রনের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটিয়ে যথাক্রমে দুটি স্বল্পায়ু নিউক্লিয়াস তৈরি করে। প্রথমত, হিলিয়ামের হালকা সমস্থানিক হিলিয়াম-৩ নিউক্লিয়াস গঠন করেছে, যার কেন্দ্রে দুটি প্রোটন আর একটি নিউট্রন বিদ্যমান। অথবা দ্বিতীয়ত, হাইড্রোজেনের সবচেয়ে ভারী আইসোটোপ ট্রাইটিয়াম (হাইড্রোজেন-৩) উৎপন্ন হয়, যা একটি প্রোটন আর দুটি নিউট্রন দিয়ে গঠিত। শেষমেশ, হিলিয়াম-৩ একটি নিউট্রনের সঙ্গে এবং ট্রাইটিয়াম নিউক্লিয়াস (হাইড্রোজেন-৩) একটি প্রোটনের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটিয়ে উভয় ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক হিলিয়ামের আইসোটোপ হিলিয়াম-৪ তৈরি করে, যা দুটি প্রোটন আর দুটি নিউট্রনের সমন্বয়ে তৈরি। অর্থাৎ, ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির ঠিক তিন মিনিটের মধ্যে বিশ্বে নিউক্লিয় সংশ্লেষণ সংঘটিত হয়ে গেছে, যা পরেও অব্যাহত থাকে। সেখান থেকে ভারী থেকে আরও ভারী মৌলের ব্যুৎপত্তি ঘটতে দেখা যায়। আর এটাই কেমিক্যাল এভালিউসন অফ দা ইউনিভার্স (Chemical Evaluation of the Universe)-এর নেপথ্য কাহিনী।

ঐ প্রথম তিন মিনিটে ঈশ্বর বিশ্ব সৃষ্টি রহস্যের নেপথ্যে থাকা গণিতকে নির্দিষ্ট বিধি অনুযায়ী বিবর্তনের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন― যে গণিতের সূত্র ধরে পণ্ডিতগণ মহাবিস্ফোরণের আদি লগ্নে পৌঁছনোর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন, মাইক্রোত‍রঙ্গ পটভূমি বিকিরণের পশ্চাদ-গণনার মাধ্যমে ; এমনই ধারণা মহাকাশ বিজ্ঞানী, তাত্বিক পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং (১৯৪২-২০১৮)-এর।
     
ঠিক এই সময়ে, ড. রানা আর অধ্যাপক উলফেনডেল অঙ্ক কষে কিছু মহাজাগতিক সংশ্লেষণ সংঘটিত হয় ধারণা করেন। যেমন গ্যালাক্সি বহির্মুখী গামা রশ্মির পশ্চাৎপট, সর্বোচ্চ শক্তির সংশ্লেষিত কণিকার সমস্যা, মহাজাগতিক কণার স্রোতে স্বল্প শক্তির অতিরিক্ত বিপরীত প্রোটনের গুরুত্ব, গতিশীল গ্যালাক্সিতে কসমিক রশ্মির ভূমিকা, নির্দিষ্ট গ্যালাক্সির পতনের ইতিহাস প্রভৃতি বিষয়ে আলোকপাত করেছেন তাঁরা। তাঁদের গবেষণাপত্রে এদের বিবর্তনের ইতিবৃত্ত তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন সযত্নে।

(দুই)
গ্রেট ব্রিটেনের ডারহামে থাকাকালীন সময়ে দুটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পান বিজ্ঞানী রানা। প্রথমটি 'কমনওয়েলথ বারসেরি অ্যাওয়ার্ড' (Commonwealth Bursary Award) এবং পরে, 'সার্ক ফেলোশিপ' (SAARC Fellowship)। তাঁর এই সময়ের নিবন্ধ রচনার পর তিনি এমন এক স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছলেন যা তাঁর কথায়, 'Though most astrophysicists thought much of the Universe was made of exotic particles in the form of invisible of so called 'dark matter'. All of that in the immediate neighborhood of the sun could be in the form of non-luminous stars.' এমন মতবাদের নিরিখে অধ্যাপক রানা সেসময় পৃথিবীতে সপ্তম স্থান দখল করলেন। যে সব পণ্ডিত উক্ত মতবাদ বিশ্বাস করেন, তাদের কাছে পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্য পুরুষ হলেন তিনি। 

কিন্তু এক্সোটিক পদার্থ কী? ডার্ক ম্যাটার-ই বা কী জিনিস? খায়, না মাথায় মাখে!

বিগব্যাঙ ঘটনার পর নিউক্লিয় সংশ্লেষণ থেকে ব্যারিয়ন (প্রোটন, নিউট্রন সহ আরও কিছু ভারী কণিকা) ও ফোটন (আলোকীয় কণা)-এর অনুপাত নির্ণয় করলে মহাজাগতিক তুল্য ভরঘনত্ব (Ω)-এর মান দাঁড়ায় ০.১। অথচ ছায়াপথের আবর্তন রেখা থেকে সাধারণ বলবিদ্যা প্রয়োগ করে আমাদের আকাশগঙ্গা ছায়াপথের ভর হিসাব করলে তা হবে ১০^১১ গুণ সৌরভরের সমান। এখন সমস্ত ছায়াপথের এই একই মাপের ভর আছে ধরে নিলে Ω-এর মান হয় ০.০১। ওমেগা (Ω)-র এমন মান প্রসারণশীল ব্রম্ভাণ্ডের ধারণা দৃঢ় করে। 

শুধু তাই নয়, একটি গ্যালাক্সির চারদিকে আরেকটি গ্যালাক্সি আবর্তন করছে ধরে নিলে কেবল একটি ছায়াপথের ভরের মান হবে প্রায় ১০^১২ গুণ সৌর ভরের সমান। অর্থাৎ আগের মানের চাইতে দশ গুণ বেশি ভর।এই অতিরিক্ত ৯ গুণ ভরের উৎস কী? তবে কি প্রতিটি ছায়াপথের মধ্যে দৃশ্যমান অঞ্চলের ভরের বাইরে আরও অতিরিক্ত ভর লুকিয়ে আছে, যা থেকে কোন বিকিরণ নির্গত হয় না? সেজন্য আজ পর্যন্ত প্রত্যক্ষ শনাক্ত করা যায়নি তাকে? এ হেন ভর-ই কি 'অন্ধকার ভর'? ডার্ক ম্যাটার? পণ্ডিতগণ বলছেন― হ্যাঁ, ওই অতিরিক্ত ভরই ডার্ক ম্যাটার। তাহলে কেমন হবে তার আচরণ?

বুড়ো পণ্ডিত বলছেন, ব্রম্ভাণ্ড জুড়ে গুচ্ছের ছায়াপথ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সেগুলি প্রতিনিয়ত পরস্পর পরস্পরের চারদিকে আবর্তিত হচ্ছে। এদের মধ্যে থেকে একটি গ্যালাক্সির ভর হিসাব করলে তার মান হবে প্রায় ১০^১৩ গুণ সৌরভরের সমান। সব ছায়াপথের যদি এরকম ভর থাকে, তাহলে ওমেগার মান এক-এর সমান হবে। সুতরাং ০.১ মানের থেকে ওমেগার মান বেশি হওয়া সম্ভব। আর তা যদি হয়, তবে ব্যারিয়নই ব্রম্ভাণ্ডের মূল উপাদান হতে পারে না। নিশ্চিতরূপে কিছু অজ্ঞাত ভর আছে বিশ্বে যা সম্ভবত অন্ধকার ভর (ডার্কম্যাটার)-এর উৎস।

আর, এক্সোটিক পদার্থ হল সেই কাল্পনিক পদার্থ যার ঋণাত্মক ভর ও ঋণাত্মক শক্তি আছে। এদের চাপও ঋণাত্মক। এরা ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রনের মতো ব্যারিয়ন গ্রুপের পদার্থ নয়, নয় ডার্ক ম্যাটার অথবা অ্যান্টিম্যাটার। এই সব পদার্থ ফিজিক্সের প্রচলিত বিধিগুলি মানে না। শূন্যস্থানে আলোকের চাইতে দ্রুত গতিতে ছোটে। এমন পদার্থের উদাহরণ হল ট্যাকিয়ন কণিকা। 

শুধুমাত্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের রাসায়নিক বিবর্তন কিংবা এক্সোটিক পদার্থের উপর আলোকপাত করে ক্ষান্ত হলেন না ড. রানা। ব্রহ্মাণ্ডে যেখানে যত নিহারিকা, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি আছে; সকলের বিবর্তনের মূল রহস্য কী, তা জানতে উদগ্রীব তিনি। সেজন্য তাঁর পরবর্তী টার্গেট 'কেমিক্যাল ইভালিউশন অফ দি গ্যালাক্সি' (Chemical Evaluation of the galaxy)। একটি গ্যালাক্সির রাসায়নিক বিবর্তন। এ সময় থেকে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞানে তাঁর অবাধ বিচরণ একজন নির্ভীক সৈনিকের মতো। যা একবার ছুঁয়ে দেখেন, সোনা ফলে তাতেই। সেজন্য বিজ্ঞানী মহলে তাঁর গবেষণা যথেষ্ট সমীহ আদায় করে নিয়েছে। তাঁর রিসার্চ ওয়ার্ক নভোপদার্থবিজ্ঞানের অনেক রহস্যাবৃত তত্ত্বের অবগুণ্ঠন উন্মোচন করেছে। নভোবিজ্ঞানকে প্রাচীন থেকে আধুনিক সমাজের কাছে উন্নত স্তরে উন্নীত করেছে।
        
সেটা ১৯৮৫ সাল। শুরু হল গ্যালাক্সির গর্ভে হাইড্রোজেন অণুর তথ্য জানতে চিরুনি তল্লাশি গবেষণা। যেকোনও প্রকারে খুঁজে বের করতে হবে হাইড্রোজেন সৃষ্টির নেপথ্য রহস্য। যা একটি আপাত দুঃসাধ্য কাজ। এ দক্ষযজ্ঞে তাঁর সহযোদ্ধা মি. উইলকিনসন। মি. উইলকিনসন তখন জ্যোতির্বিজ্ঞানের একজন মনোযোগী উঠতি শিক্ষানবিশ। প্রফেসর রানা'র অধীনে পি এইচ ডি করতে এসেছেন। ডারহামে ১৯৮৫ সালে তিনি ড. রানার অধীন গবেষণা শুরু করেন। দুজনে যৌথভাবে বেশ কিছু রিসার্চ পেপার প্রকাশ করেছেন। তারায় তারায় রাসায়নিক পদার্থের ব্যুৎপত্তি নিয়ে ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৮ সালের মধ্যে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রিসার্চ পেপার পাবলিশ করলেন দুজনে। ১৯৮৬ সালে দুজনের প্রথম পেপারটি প্রকাশ পায়। রিসার্চের বিষয়বস্তু আমাদের মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সি― 'কেমিক্যাল এভালিউশন অফ আওয়ার গ্যালাক্সি' (Chemical Evaluation of our Galaxy)। সেখানে নক্ষত্র তৈরির হার গণনা করতে একটি 'মডেল' প্রস্তাবনা করেন দুজনে। সূর্যের চারপাশে মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সির রাসায়নিক বিবর্তনঘটিত মডেল। যে-মডেল নক্ষত্র তৈরির হারের সঙ্গে তারকার পৃষ্ঠতলে আনবিক হাইড্রোজেনের তলমাত্রিক ঘনত্বের আভাস দেবে। আভাস থেকে উঠে আসবে একটা সম্পর্ক। এই সম্পর্ক ধরে এগোলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার মূলে পৌঁছনো সম্ভব হবে। জি-ডোয়ার্ফ (G-Dwarf) সমস্যা, ধাতবতার নতিমাত্রা, ধাতবতার সঙ্গে নক্ষত্রের বয়সের সম্পর্ক প্রভৃতি বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় প্রথম পেপারে। ১৯৮৭ সালে তাঁদের দ্বিতীয় পেপারে প্রথম পেপারের মূল্যায়ন করে বেশ কিছু অনুসিদ্ধান্তে পৌঁছয় তাঁরা। বিজ্ঞানী নারায়ণ চন্দ্র রানা ১৯৮০ সালের শেষার্ধে এবং ১৯৯০ সালের প্রথম ভাগে গ্যালাক্সিসমূহের রাসায়নিক বিবর্তন নিয়ে আরও গবেষণা চালিয়ে যান।

(তিন)
সারাক্ষণ গবেষণার জটিল চিন্তায় মগ্ন বিজ্ঞানী। মনপ্রাণ জুড়ে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের রহস্যের জাল ছিঁড়ে সত্য ঘটনা আবিষ্কারের নেশা। আপাত সামঞ্জস্যশূন্য ঘটনাগুলোর মধ্যে যোগসূত্র উদ্ভাবনের নেশা ঘুরপাক খায় মাথার মধ্যে। সমান্তরালে চলছে বিজ্ঞানের প্রবন্ধ লেখার কাজ। তেমনই একটি প্রবন্ধ লিখলেন 'নিউটন এবং আপেল'। মাতৃভাষা বাংলায়। সেটা ১৯৮৪ সালের এপ্রিল মাস। প্রবন্ধটি লিখে পাঠিয়ে দিলেন সুদূর মেদিনীপুরে। অধ্যাপক সন্তোষ কুমার ঘোড়াই স্যারের ঠিকানায়। প্রফেসর ঘোড়াই তখন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলেজগুলোর তদারক। আর, ইউনিভার্সিটির অ্যাপ্লায়েড ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের বিভাগীয় অধ্যাপক তিনি। অধ্যাপনা তাঁর ধ্যানজ্ঞান। ফিজিক্সের জটিল তত্ত্বগুলি তিনি গল্পের ছলে এত সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে দেন যে, বিদ্যার্থী সকল বুঝতেই পারে না ক্লাস কখন সমাপ্ত হয়েছে! এতক্ষণ যেন এক ইন্দ্রজাল বিছানো ছিল ক্লাস জুড়ে। মোহিত হয়ে সকলে শুনছিল অধ্যাপকের বক্তব্য। মন্ত্রমুগ্ধের মতো। কখন পড়ানো শেষ হয়েছে বুঝে উঠতে, ধাতস্থ হতে বেশ কিছুটা সময় অতিবাহিত হয়ে যেত। এ যেন এক প্রকারের ম্যাজিক-শো। তো, ক্লাসে ছাত্রছাত্রীদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখার পাশাপাশি প্রফেসর ঘোড়াই স্যার সম্পাদনা করেন 'বিজ্ঞান মনীষা'। বাংলা ভাষার একটি বিজ্ঞান পত্রিকা। মাতৃভাষায় বিজ্ঞান চর্চা জনপ্রিয় করতে প্রতি মাসে মেদিনীপুর শহর থেকে পত্রিকাটি ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হয়। পত্রিকার প্রকাশক-সম্পাদক তিনি, ড. সন্তোষ কুমার ঘোড়াই। 
        
ড. ঘোড়াই-এর সঙ্গে তখন বিজ্ঞানী রানা'র নিয়মিত যোগাযোগ। যোগাযোগের মাধ্যম হয় চিঠি, নতুবা ইংল্যান্ডের ০৩৮৪ এস টি ডি কোড-সহ ডারহামের ৬৪৯৭১ টেলিফোন নম্বর। তবে যোগাযোগ মূলত চিঠির মাধ্যমে সম্পন্ন হত। এদিকে দেশে চিঠি লেখায় বিরাম নেই বিজ্ঞানীর। ১৯৮৪ সালের এপ্রিল মাসের ছাব্বিশ তারিখে লেখা একটি চিঠিতে তিনি জানান, ওই বছর জানুয়ারি মাসে 'ফেলো অফ রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি' (FRAS) নির্বাচিত হয়েছেন। সেজন্য তাঁর ব্যস্ততাও দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আরও অনেক খবর বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরা হয়েছে চিঠিতে। এক্ষণে ড. নারায়ণ চন্দ্র রানা'র পত্রখানি উল্লেখ করা হল।

            UNIVERSITY OF DURHAM

                              Department of Physics
                    Science Laboratories, South Road
                        Durham, DHI 3LE, England
                 Telephone 64971 (STD code 0385)
                                                                 . 26.04.1984
To
Prof. S. K. Ghorai
পরম শ্রদ্ধেয় স্যার,
                   আপনার চিঠি গতকাল পেলাম। গতকাল রাতে ফিরে গিয়ে বিজ্ঞানমনীষার জন্য ছোট্ট একটা লেখা লিখলাম―সেটি এই সঙ্গে পাঠাচ্ছি।      
      বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (ড: তদারক, মহাবিদ্যালয়গুলির) হিসেবে নিযুক্তির খবর পেয়ে আনন্দিত হলাম। আপনার বৃহত্তর কর্মপথে রইলো আমার আন্তরিক অভিনন্দন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা কর্মসূচির সঙ্গে পরিচিত থাকতে ইচ্ছা করি―সময় এবং সুযোগ পেলে বিস্তারিত খবর দেবেন।
       এদেশে আসার পর আর দেশে যাইনি। আমার রহড়া মিশনে যাওয়ার খবর গুজব মাত্র। জানি না এর উৎস কি।
       আমি এখন ভীষণ ব্যস্ত রয়েছি। গত জানুয়ারি মাসে FRAS নির্বাচিত হয়েছি। সামনের 10 May, Royal Society of London থেকে একটি আমন্ত্রণ পেয়েছি from the President & the Council of Royal Society― একটা formal dinner-এ attend করবার জন্য। ওতে নানা দেশের Ambassador সহ সমস্ত FRS অধ্যাপকরা থাকবেন। তার জন্য বিশেষ dinner suit-র দরকার― Professor Wolfundale, তার ব্যবস্থা করবেন এবং তিনি (FRS) সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন আমাকে। 17th Royal Society-তে একটা talk দিচ্ছেন Rozer Taylor যিনি Big Bang Nucleosynthesis নিয়ে কাজ করেছেন। Professor Wolfundale এটাতেও সহযাত্রী হবেন। গত February-তে Cardiff visit করে এসেছি। এদেশে এসে একটা জিনিস দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছি যে, বড় বড় লোকের সঙ্গেও খুব সহজভাবে মেশা যায়। লোকে, even sir Fred Hoyle-এর মতো নামকরা ব্যক্তিদের কাজের সম্বন্ধে আমার remark এবং সমালোচনা ধৈর্য ধরে শোনেন এবং অনেক ক্ষেত্রে আমার মতামতের মূল্যায়নও হচ্ছে। June-এ Cambridge visit করছি দুতিন দিনের জন্য। সামনের মাস May-তে ব্যস্ত থাকবো এখানকার Ph.D student-দের জন্য একটা lecture course দেওয়াতে। 
       Pace maker এ যাবৎ ভালই service দিচ্ছে। এবছরই replacement-এর দরকার হবে। ডাক্তাররা সেজন্য প্রস্তুত রয়েছেন। এখানে আমার কোন অসুবিধা হচ্ছে না। আজ এখানেই উঠছি। আপনি আমার সশ্রদ্ধ নমস্কার ও ভালোবাসা জানবেন।

                                                             ইতি
                                                আপনাদের নারায়ণ


বিদেশে থাকলেও তাঁর মন পড়ে থাকত দেশে, নিজের গ্রামে। তিনি ভোলেননি তাঁর প্রিয় মাস্টার মশাই শ্রী মণীন্দ্র নারায়ণ লাহিড়ীকে। ভোলেননি তাঁর অবদান। তাই ইংল্যান্ড থেকে ফেরার সময় তাঁর প্রিয় মাস্টার মশায়ের জন্য গুরুদক্ষিণাস্বরূপ একটি দশ ইঞ্চি ব্যাসের প্রতিফলক দূরবীন (১০'' Motordriven equatorially mounted reflector telescope) কিনে আনেন তিনি। যাতে রাতের আকাশ স্পষ্ট দেখতে অসুবিধা না হয় প্রিয় মাস্টার মশায়ের। তখনকার সময়ে টেলিস্কোপটির দাম ছিল দশ হাজার টাকা। 
       
সেটা ছিল ১৯৮৪ সাল। সেবছর খুব ব্যস্ততার মধ্যে কাটছে বিজ্ঞানীর। সে-কথা তাঁর চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে। কাজের এত চাপ আর দৌড়াদৌড়ি―মাঝে মাঝে হাঁপিয়ে ওঠেন তিনি। অনিয়ম হয়ে যায়। ভুলে যান শরীরের যত্ন নিতে। আর তখন কাজ আর ইউরোপের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে-বেড়ানোর ধকল―এই জোড়াফলার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হল শরীর খারাপ। বছর ঘুরতে না ঘুরতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন বিজ্ঞানী। ডারহামের হাসপাতালে তড়িঘড়ি ভর্তি করা হল তাঁকে। ডাক্তাররা খুব চিন্তায়। যে-পেসমেকার নিয়ে এতদিন নির্ভাবনায় ছিলেন বিজ্ঞানী, সেটি আসলে কার্যক্ষমতা হারিয়েছে। অবিলম্বে নূতন পেসমেকার স্থানান্তরকরণের ব্যবস্থা করতে হবে। নূতন উন্নত পেসমেকার আরও সাবলীল ও মসৃণভাবে কার্য করতে সক্ষম। সুতরাং দ্বিতীয় বার পেসমেকার বসল তাঁর শরীরে। কিছুদিন হাসপাতালে কাটিয়ে পুনরায় পুরোদস্তুর কাজে যোগ দিলেন তিনি।

ইংল্যান্ডে পোস্ট ডক্টরাল রিসার্চ সম্পূর্ণ করে ড. রানা ভারতে প্রত্যাবর্তনের হাওয়াই জাহাজে চড়ে বসেন ১৯৮৫ সালের দোসরা অক্টোবর তারিখে। সেদিনই দেশের মাটিতে পা রাখলেন দীর্ঘদিন বাদে। দেশে ফিরে টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ-এ যোগদান করেন একজন সম্মানিত ফেলো হিসাবে। পরে, তাঁকে টি এফ আই আর-এ রিডার পদে উন্নীত করা হয়। (চলবে)

তথ্য সহায়তা :
'নিউটনের আপেল ও নারায়ণ'― ড. সন্তোষ কুমার ঘোড়াই,
'মেদিনীপুরের বিশ্বজয়ী ড. নারায়ণ চন্দ্র রানা জ্যোতির্পদার্থ বিজ্ঞানী'― বাদল চন্দ্র দে
'বিস্মৃতপ্রায় বাঙালি জ্যোতির্বিজ্ঞানী নারায়ণচন্দ্র রানা'― নন্দগোপাল পাত্র,
'N C Rana : Life and His Contribution on Astrophysics Science'― Utpal Mukhopadhyay and Saibal Ray,
'মেদিনীপুরের বিজ্ঞানীদের কথা'― ভাষ্করব্রত পতি,
উইকিপিডিয়াসহ বিভিন্ন ব্লগ

জ্বলদর্চি পেজে লাইক দিন👇

Comments

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি