অথবা এ দেশ কি আমার? মিছে জন্মস্থান/গৌতম বাড়ই

অথবা এ দেশ কি আমার? মিছে জন্মস্থান

গৌতম বাড়ই

অনুভূমিক জীবনটা যে কোনদিন নিতেই হবে,
জানতাম।
এত বিষ! এত বিষাক্ত! আবহাওয়ার সামাজিক
আরে! এ বালিকা দ্রাঘিমারেখায় খেলা দেখাস্
চমকাচ্ছিস?
টসকে যেতিস, ঘুঙুর- আঙুর তোড়ায় বাঁধা 
ফুলকুসুমা মাধবপুর পেরিয়ে গেলেই।
এখন তোরা চাঁদ গিলে খা, প্রেতপুরীতে 
ভাসান দিবি কলার খোলা,
চাঁদোয়া আর চাঁদমালায়
শপ্ শপা শপ্ মারছে দেখো চামড়া চাবুক।

একগলাজল গণতন্ত্র রোজ খেয়ে যাও
ধোঁকার ডালনা হাতাখুন্তি চামচবাটি
খেলনাপাতি, 
অক্সিজেন? দেব তোমার গলা টিপে
আমি বললে আছে, আমি বলব নাই।

রাষ্ট্র তবে অচল এক সজলধারা,
পুঁজিবাদীর পুঁজি বাড়ুক 
হাড়গোড় আর কঙ্কালে শ্মশান কিংবা গোরস্থানে
লাশ তো ভাসুক নদীর জলে,
ঘুম- ঘুম চাঁদ, এ মায়াবীরাত, 
এ মায়াবীবাত, কাটছে মধুমাস
বে- রোজগেরে?  কুছ পরোয়া নেহী
চুপ! প্রকল্প চলছে। থালা বাজাও আর
থালি পাতো।

সুরয্ ডোবার আগে সুরমা ভোপালী
খালি পেটে নুন গিলে জল করে
চাঁদের আলোয় স্তনবৃন্তে লিখে যায় আদুরে কথা
চাঁদের আলোয় রাজপথে মহিলার বে- আব্রু বুক 
প্রাণবায়ু খুঁজতে গিয়ে ধপাস করে পড়ে
-- এই নিয়ে ভারতবর্ষে আজ নামমাত্র ৩১৭৮ জন বুঝি মরল!

আমার শরীরটা আরও দূর্বল হচ্ছে
আমার মনটা আরও সতেজ হচ্ছে
ভেবেই নিয়েছি শরীরকে নিহত করুক
মনটাকে খুন হতে দেবনা।

সহকর্মীরা কেউ-কেউ  দুম করে শেষ নোটিস ধরিয়েছে,
দুরন্ত এক ছুটির দরকার ছিল---
(" এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি")

বাতাসকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নাক দিয়ে 
যাচাই করতে গিয়ে 
একটা মূর্তি দেখতে পেলাম
যে অনর্থক জড়তায় অক্সিজেন গিলছিল
পনেরশ কোটি টাকার।
পোড়া কপাল আমাদের 
ভণ্ডামী যতটা পেলাম, 
পেলাম না মানবিক দরদ! 

হয়ত কেউ- কেউ বা অনেকেই বেঁচে উঠবে
আর এই পঙ্গুত্ব দেখাবে বেমানান চিত্র,
কারণ-- আমরা এখনও সঠিক মানচিত্র 
আঁকতে না পেরেও, তা ভাঙ্গিয়ে খাই
এবং এত খাই, দাঁতের ফাঁকে লেগে থাকে
ফাঁক গললেই দেখতে পাই।

আফিমডোজে স্বপ্ন দেখ্ সারাবেলা,
শেষে দিনউল্টে খেতে গিয়ে 
পকেটের ভেতরে কবেকার ধর্মগুরুর 
কিছু বাতাসার গুঁড়ো পড়েছিল
বিবর্ণ কলুষিত।
চরণামৃত ছিটিয়ে দেবে তার উপায়ও নেই
একলা বাঁশি বাজায় উপদ্রুত গাড়ি 
চব্বিশেঘন্টায়।

একবার করে ভাবছে সবাই 
যে ভালো আছে সে, আর যে নেই সেও।

ভাবতে গিয়েও কত গোল,
রাষ্ট্র হাত তুলে দিয়েছে 
কোন দায়িত্ব নেবে না।
রাষ্ট্র হাত পেতে দাঁড়িয়েছে
মুঠোয় করে ভোট দাও।
এইসব আঁকাজোকা লেখায় ফুটছিল 
কিছু সত্যি কথা ভীষণভাবে
আসলে ঐ রাষ্ট্র বা সাম্রাজ্য মুষ্টিমেয় ক'জনের,
আমরা সবাই প্রজা, আমাদের প্রজার রাজত্বে।
( মাপ করবেন, রবিঠাকুর ধার করলাম আমি)
আড়ালে হাসে মহারাজা বিষ্ণুচরণ----

অনুভূমিক জীবনটা ছায়ার মতন দাঁড়িয়ে,
মুখবন্ধ হাতে হ্যারিকেন আর বাঁশ।
আমরা আমাদের প্রাপ্য অতিমারি পেয়েছি,
একটা নিদারুণ ছবি,
শিক্ষার থেকে ভিক্ষে জীবনে
এই একবিংশ শতাব্দীতে ভারত এগুচ্ছে
গুটিকতক প্রকল্প আর পালোয়ানকে নিয়ে----

চতুরালির খেল দেখে যাও চৌপরভর
তোমায় ঝোলা থেকে কী দেখিয়েছে--
রঙ্কুরাণী? 
এবার তবে ছুটে বেড়াও ভেড়ার দলে।
বাঁচলে তুমি একাই বাঁচো
মরলেও তুমি একা, এই শেখাবে জীবনভরে
ভয় নেই অনুভূমিক এক জীবন পাবেই পাবে ।

আরও পড়ুন

Comments

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি