ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা -৪২




সম্পাদকীয়,
ছোটো বন্ধুরা, গল্পকার কবি শিল্পী এবং অবশ্যই পাঠক মিলেই আমরা একটা পরিবারের মতো। এই পরিবারের মতো সম্পর্কগুলো যদি একই পরিবারের হয় তবে তো আনন্দ আরো বেড়ে যায়, তাই না?  এবারের ছোটোবেলায় তাই  মা তৃষ্ণা বসাকের কবিতায় মেয়ে সৌতির অলংকরণ, বাবা বিশ্বদীপ দের গল্পে ছেলে রায়ান  ও বাবা ইন্দ্রনীল বক্সীর  গল্পে মেয়ে হিয়ার অলংকরণ,  মা সুস্মিতা কুন্ডুর গল্পে খুদে শিল্পী ঐশিকের ও মা মৌসুমী দাসের গল্পে অলংকরণ করেছে ছেলে প্রবাহনীল অর্থাৎ মা বাবার আদরের টুকরো সোনা-মণিরা। আশ্চর্য এখানেই শেষ নয়। উল্টোটাও ঘটেছে। অর্থাৎ অংশিকার আঁকা দেখে তার মা উপাসনা কবিতা লিখে পাঠিয়েছে। ভাবতে পারছো তোমরা ছোটোরাই কিভাবে আমাদের ছোটোবেলার অলংকরণ শিল্পীর দায়িত্ব নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছো? এটা অবশ্য এই প্রথম নয়। ফুলকুসুমপুর খুব কাছেতে প্রথম থেকেই সায়নী,  ইমণ, আর শ্রীপর্ণার মতো খুদে শিল্পীরা অলংকরণ করে চলেছে প্রথম থেকেই। তোমাদের মতো খুদে শিল্পীদের অলংকরণ দেখে আমি তো আশ্চর্য হতে হতে এখন আশ্চর্য হওয়া ছেড়ে দিয়েছি। শুধু গল্প কবিতা কেন, চিত্রগ্রাহক সুদীপ পাত্রের প্রচ্ছদের ছবিতে দেখেছো শিশুটি মায়ের সাথে তসরের গুটি রোদে দিতে এসেছে? অর্থাৎ এভাবেই তো মা বাবাদের সাথে থাকতে থাকতে তোমরা কত কি না শিখে যাচ্ছ কোভিড কালে। তাই না? আর একটা কথা ফুলকুসুমপুরে তো দুমকা থেকে ছড়া পিসি আসছে। তাই বুম্বা  রাধাগোবিন্দকে নমস্কার বলতে শেখাতে উঠে পড়ে লেগেছে। তোমাদের কি মনে হয় রাধাগোবিন্দ অতিথিদের নমস্কার বলতে শিখে যাবে এত তাড়াতাড়ি? কি জানি কি হয়! - মৌসুমী ঘোষ।



বাড়ির মশা
তৃষ্ণা বসাক
 
এই যে দাদা আসুন না
কাছেই আমার বাড়ি,
পরের ট্রেনেই যাবেন না হয়,
কীসের তাড়াতাড়ি?
 
আসুন দাদা, বাগান দেখুন,
ছাদ দেখেছেন, ছাদ?
সারাজীবন বড্ড ছিল
আকাশ দেখার সাধ!
 
নিন দাদা নিন, শরবত খান
হাজার ফুটের জল,
চিনি দিতে লাগেই না
এমন মিস্টি জল!
 
কই কে আছিস, মাদুরটা পাত,
হাতপাখাটা আন,
ওরে ভূতো, দিদিকে ডাক,
শোনাক একটা গান-
 
কী বললেন? জ্বালিয়ে দিচ্ছে?
হেঁ হেঁ, বাড়ির মশা,
আহা, আহা মারেন কেন?
কত কষ্টে পোষা!



দুই বিল্লি আর একটা টমটম 
লেখা- সুস্মিতা 
ছবি - নিমো 

ম্যাক্স আর জ্যাক্স দুই বিল্লিছানা। দু’জনের যেমন ভাব তেমন ঝগড়া। কাল মাছভাজার ভাগ নিয়ে ঝগড়া তো আজ উলের বল নিয়ে গড়াগড়ি খেলতে গিয়ে ভাব। পরশু দুধের বাটি নিয়ে টানাটানি তো তরশু টমটম কুকুরছানাকে দু’জনায় দল বেঁধে ভেংচি কাটা। এভাবেই ম্যাক্স আর জ্যাক্সের দিন কাটে। 

  একদিন হলটা কী দুজন মিলে পাঁচিলের ওপর বসে বসে রোদ পোয়াচ্ছিল। শুধু রোদ তো আর পোয়াচ্ছিল না! নির্ঘাৎ মতলব ভাঁজছিল কী করে টমটমকে জব্দ করা যায়। টমটম তো আপন মনেই থাকে। সে ভারি ভালো মানুষ... ইয়ে মানে কুকুরছানা। লালরঙা কুকুরছানা। টমটমের গলায় একটা ভারি সুন্দর বকলেস আছে। তাইতে আবার কায়দা করে ‘T’ লেখা আছে। এদিকে ম্যাক্স আর জ্যাক্সের গলায় বকলেস থাকলেও অমন নাম তো লেখা নেই। তাই দু’টিতে মিলে ঠিক করেছে টমটমের বকলেসটি নিয়ে দোকানে যাবে। তারপর দোকানদারকে বলবে ওদের জন্যও ঠিক ওইরকম দুইখান বকলেস বানিয়ে দিতে। 

  তক্কে তক্কে বসে রইল ম্যাক্স আর জ্যাক্স। টমটম যেই না বল নিয়ে খেলতে খেলতে এসেছে পাঁচিলের তলায় ওমনি দু’টিতে ‘মিঁইআআয়ো হো হো হো! আমরা পাইরেট জ্যাকসন আর পাইরেট ম্যাকসন!’ এই বলে হুঙ্কার ছেড়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল টমটমের ঘাড়ে। টমটম বেচারা তো হকচকিয়ে একশা! কোনওমতে ম্যাক্স আর জ্যাক্সের কবল থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে বলল, 
-“ম্যাক্সছানা জ্যাক্সছানা! কী হল তোমাদের? এমনধারা মারামারি করছ কেন শুনি?”
দুই বিল্লি বলে,
-“আমরা তোমার বকলেস ডাকাতি করতে এসেছি মিস্টার টমটম! শিগগির দাও!”



  টমটম অবাক হয়ে বলে, 
-“আমার বকলেস নিয়ে তোমরা কী করবে? ওতে তো আমার নাম লেখা আছে!”
দুই বিল্লি বলে,
-“ওইজন্যই তো! আমাদেরও অমন নাম লেখা বকলেস চাই!”
টমটম হেসে বলে, 
-“তা ডাকাতি কেন করতে হবে খামোখা। আমায় বললেই তোমাদের বকলেসের দোকানে নিয়ে যেতুম আর তোমাদের নাম লেখা বকলেসেরও ব্যবস্থা করে দিতুম। যাবে আমার সঙ্গে?”

  ম্যাক্স আর জ্যাক্স তো বেজায় খুশি। লাফাতে লাফাতে টমটমের পেছন পেছন চলল বকলেসের দোকানে। তাপ্পর দু’জনে দু’টো বকলেস গলায় ঝুলিয়ে নাচতে নাচতে বাড়ি ফিরল। 
ফিরে কী করল জানো? 
  ‘মিঁইআআয়ো হো হো হো! আমরা পাইরেট জ্যাকসন আর পাইরেট ম্যাকসন!’ এই বলে লাফ দিল টমটমের ঘাড়ে। 
  আর এইবার টমটম কী করল বলো দেখি?
‘ভৌউউউ হৌ হৌ হৌ, আমি পাইরেট টমসন’ বলে দুই বিল্লির সঙ্গে খেলায় মাতল।



উপাসনা সরকারের কবিতা

(১)

শান্ত থাকাই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নিয়ম

জারণ অথবা বিজারণ
অভিযোজন এবং অভিজ্ঞতা নিরিখে
আঘাতের প্রতিশব্দ আঘাত নয়

বামনেরা ক্রমশ দীর্ঘকায়
অহংকারে
মিথ্যের অনিয়ন্ত্রিত শব্দচালনায়

পৃথিবীর সব নিরাশ্রয় এক হোক
তোমার করুণায়

(২)

নিজেকে জয় করা কঠিন
অর্থ অনর্থের সন্ধি বা দ্বন্দ্ব

দুইই এড়িয়ে চলতে হবে এমন
যেন কত তুচ্ছ

 এক অনন্ত মহাপ্রস্থান
খসে পড়ে সুখ,দুঃখ,বেদনা,অভিমান

গন্তব্য নয়,যাত্রাই প্রকৃত সঞ্চয়

(৩)

তুমি যা ভেবে চলেছ
তাই তোমাকে রূপ দেবে অবিকল

ঈশ্বর অথবা দানব
সৃষ্টি ও ধ্বংস
অতীতের ভয়াবহতা
ভবিষ্যৎ আশঙ্কা

ঘৃণার উপশম ঘৃণা নয়

আত্মস্থ করো
আত্মাই সর্বশ্রেষ্ঠ মন্দির
তাকে সাজাও

ত্যাগের অঞ্জলিতে



টিটো ও বাঘ

বিশ্বদীপ দে

চিড়িয়াখানার একটা বাঘ নাকি টিটোর নাম ধরে ডেকেছিল! বলো তো, কোনও মানে হয় এসব কথার? 
তখন অবশ্য টিটো আরও ছোট। নার্সারিতে পড়ে। কিন্তু মজার কথা হল, ক্লাস টু-তে উঠেও টিটো এই গল্পটা ভোলেনি। না, মানে টিটো এটাকে মোটেও গল্প বলে মানতে চায় না। জোর গলায় বলে যায়, এটা এক্কেবারে সত্যি, সত্যি, সত্যি। দাঁড়াও, শুরু থেকে বলি। ব্যাপারটা হল, শীতকালের এক দুপুরে আমরা দল বেঁধে চিড়িয়াখানায় গেছি। টিটোর সবথেকে বেশি কৌতূহল বাঘকে নিয়ে। আমরা শিম্পাঞ্জি দেখছি। টিটো আমার হাত ধরে টানছে। ‘এটা দেখব না। টাইগার দেখব।’ হরিণ দেখছি। তখনও এক কথা। এমনকী সিংহ। পশুদের রাজাকে দেখে খুশি হলেও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ফের বাঘ দেখানোর বায়নাক্কা শুরু। 
  কী করি! টিটোর অন্তরামাসিও মেয়ে তিন্নি আর মেসোকে নিয়ে এসেছে। তারাও ব্যতিব্যস্ত। টিটোর মাও বিরক্ত, ‘আরে বাবা, বাঘটা একবার দেখিয়েই দাও না ছেলেটাকে।’ অগত্যা এরপর পড়িমরি করে বাঘের খাঁচা খোঁজা শুরু। তা খানিক পরে পেয়েও গেলাম। টিটো, তিন্নি আনন্দে লাফিয়ে উঠল।
  এদিকে বাঘই চিড়িয়াখানার সেরা স্টার। তাকে দেখার জন্য সে কী ভিড়! শীতের দুপুরে খাঁচার সামনে সব্বাই হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। মোবাইলে ছবি তুলছে খচাখচ। ভিড়ের চোটে টিটো বাঘ দেখতে পাচ্ছে না। ওকে কোলে করে ভিড় ঠেলে সামনের দিকে এগোতে শুরু করলাম। 
সেদিন বাঘমামা, মানে মামারাও দারুণ মুডে। চনমনে রোদে পায়চারি করছে তিনটে বাঘ। বোঝাই যাচ্ছে, বেশ জমিয়ে মাংস-টাংস খেয়েছে। তাই এমন ফুর্তি। হলদে রোদ্দুরে ঝলসে যাচ্ছে গায়ের ডোরাকাটা। একটা বাঘ একটু পিছনে। দু’টো সামনে। হাঁটতে হাঁটতে তার একটা বসে পড়ল। অন্য বাঘটাই সবচেয়ে উৎসাহী। একবার খাঁচার সামনে আসছে। আবার পিছনে যাচ্ছে। ফের এগিয়ে আসছে। সবাই খুব খুশি। আশপাশ থেকে বাচ্চাদের হইহই শুনতে পাচ্ছি। তিন্নিও ওর বাবার কোলে উঠে বাঘ দেখছে জমিয়ে। 
   কিন্তু টিটোর যে মুখ গম্ভীর! কোনও মতে কানের কাছে মুখ এনে বলল, ‘বাবা, এবার অন্য অ্যানিম্যাল দেখব।’ বোঝো! এতক্ষণ বাঘ দেখানোর জন্য আমাকে পাগল করে শেষে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই নাকি তার শখ মিটে গেছে। কত বোঝালাম। সে থাকবে না। হঠাৎ দেখি চোখে জল ছলছল করছে। কান্নাটা চেপে রেখেছে। নেহাত অন্তরামাসির মেয়ের সামনে কাঁদবে না বলেই। ছেলের আমার প্রেস্টিজ প্রবল। 
  সে যাই হোক। এরপর তো আমরা লুচি-আলুর দম খেলাম। দল বেঁধে খানিকক্ষণ ব্যাডমিন্টন খেলা হল। তারপর ফের ভাল্লুক, হাতি, পাখি, সাপ, কুমির সবই দেখা হল। রাতে ঘুমনোর আগে টিটোর সঙ্গে একহাত লুডো খেলতে গিয়ে আমার বাঘের ব্যাপারটা মনে পড়ল। তখনই জিজ্ঞেস করলাম, ‘হ্যাঁ রে, তুই যে বাঘ বাঘ করে লাফালি অত। তারপর বাঘের সামনে গিয়েই চলে এলি কেন? বাঘ ভালো লাগেনি?’ আমার কথা শুনে টিটোর চোখ দুটো বড় বড় করে বলল, ‘তুমি জানো টাইগারটা আমার নাম ধরে ডাকছিল? আমি ঠিক শুনেছি। হাঁটতে হাঁটতে সোজা আমার দিকে তাকিয়ে বলল, এই টিটো। আস্তে আস্তে বলেছে বলে তোমরা কেউ শুনতে পাওনি।’
  জানি, এটা শুনে তোমরা সব হাসতে শুরু করে দিয়েছ। আমিও হাসি চাপতে পারিনি। আর তাতেই টিটো রেগে গিয়ে লুডোর বোর্ড উলটে দিয়ে পাশের ঘরে মায়ের কাছে চলে গেল। তারপর আমার আর কিছু জিজ্ঞেস করার সাহস হয়নি। তা এখন তো টিটো বড় হয়েছে। তাই এবার চিড়িয়াখানায় যাওয়ার কথা উঠতেই বললাম, ‘চিড়িয়াখানায় গিয়ে কী করবি? বাঘ তো দেখবি না। আর বাঘ না দেখলে...’
আমার কথা শুনে টিটো গম্ভীর হয়ে গেল। তারপর বলল, ‘তোমার মনে আছে?’ 
‘ওই গল্পটা তো? বাঘ তোর নাম ধরে ডাকল। সেটার কথাই তো বলছি।’
  ‘গল্প?’ টিটোর নাকটা সঙ্গে সঙ্গে লাল হয়ে গেল। ‘ওটা গল্প নয়। বাঘটা সত্যি সত্যিই...’ 
‘হ্যাঁ হ্যাঁ, সত্যিই তো। সত্যি গল্প।’ কোনও মতে সামলে নিলাম, ‘আবার বাঘের সামনে যাবি?’
‘যাব।’ ফিক করে হাসল টিটো, ‘দেখি এবার কী বলে।’ এরপর আর আমার কী বলার থাকে!
  পরের রবিবার সবাই মিলে চিড়িয়াখানায়। আমাদের সঙ্গী টিটোর মামা, মামি আর মামাতো বোন পিকু। এবার অবশ্য শুরুতে টিটো কিছু বলেনি। বড় হয়েছে তো। বোনকে তাই গাইড করছিল বিভিন্ন খাঁচার সামনে। কিন্তু খানিকক্ষণ পরেই এমন উসখুস করতে শুরু করল, বুঝলাম ফের বাঘের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। 
বাঘের খাঁচার সামনে এবারও ভিড়। সেই একই শীতকাল। একই রকম মিষ্টি রোদ্দুর। এবার যদিও একটাই বাঘ পোজ দিয়েছে। বাকি দুটোর একটা খাঁচা থেকে বেরিয়ে পাশের মাঠে চলে গেছে। আর অন্যটা দিব্যি দেওয়ালে একটা থাবা তুলে ঘুমোচ্ছে। দেখে মনে হল একটা পাশবালিশ দিলে খুশিই হবে। কিন্তু এই একটা বাঘ দিব্যি পায়চারি করছে। এই বাঘটাই কি আগের বার...? মনে পড়তেই টিটোর দিকে তাকালাম। দেখি ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। বোঝা যাচ্ছে, ভয় পায়নি। 
  খানিক পরে জেব্রার খাঁচার সামনে দাঁড়ানোর সময় টিটোর কানের কাছে মুখ এনে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কীরে, কিছু বলল?’ টিটো মাথা নাড়ল, ‘বলল তো। তুমি শুনতে পাওনি?’
‘না রে। কী বলল?’
‘আসলে আস্তে আস্তে বলেছে বলে শুনতে পাওনি। জিভ দিয়ে একবার ঠোঁটটা চেটে নিয়েই বলল, খেয়ে উঠলাম।’
  ‘তাই নাকি? মানে যেমন তোর মা দুপুরে বা রাতে দিদাকে ফোনে বলে? এই খেয়ে উঠলাম। সেরকম?’ বিশ্বাস করো, মুখটা সিরিয়াস করেই বলেছিলাম। কিন্তু টিটো ঠিক বুঝে গেল। আমার দিকে কটমট করে তাকিয়ে পিকুর কাছে চলে গিয়ে জেব্রা নিয়ে কীসব বলতে লাগল। আমার কাছে আর এলই না। এমনকী মাছের ঘর দেখার সময়ও মা’র কোলে উঠে মাছ দেখল।
এরপর আর টিটোকে কিছু বলার সাহস হয়নি আমার। ভাবছি বাঘটাকেই একবার জিজ্ঞেস করে আসব। তোমরা কী বলো?



ডোডোর App

ইন্দ্রনীল বক্সী 

ডোডোর মন খারাপ করলেই ও একোয়ারিয়মের কাচে নাক ঠেকিয়ে বসে থাকে।  ওর তখন মনে হয় ওই বুঝি জলের ভিতরে নেমে পড়েছে,  ঘুরে বেড়াচ্ছে মাছেদের সাথে!  এই ওর মাথার উপর দিয়ে চলে গেল এঞ্জেলটা  ওই পেট্রাটা ওর গলার কাছে এসে সুরসুরি দিচ্ছে ! কম্প্রেসার পাম্পের থেকে বেরোনো অক্সিজেনের বুদ বুদ গুলো গ্লুব গ্লুব শব্দে ফেটে যাচ্ছে।

  কিন্তু ডোডোর কেন মন খারাপ করে খালি ? 

  করবে না !আজ এক বছর হতে চলল ওর বাড়ির বাইরে পা রাখা বারন।  শুধু ওর নয়,  টুকাই,  বনি,  টফি , রিমলি সবার।  ওদের খেলতে যাওয়ার ছোট্ট যে পার্কটা আছে সেখানে রানী থাকে।  রানীর চার চারটে ছানা হয়েছিলো সেই কবে!  সাদা কালো ছোপ ছোপটা ডোডোর বিশেষ পছন্দ ছিলো, নাম দিয়েছিলো জ্যাকি।  ডোডো ওর জন্য পকেটে করে বিস্কুট নিয়ে যেত।  সেগুলো যে কত বড় হলো দেখাই হলো না!  স্কুলে যাওয়া নেই, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা নেই , মন তো খারাপ করবেই।  সারাদিন বাবা মার বকর বকর,  হাত ধোয়া,  গরম জল খাওয়া,  ভিটামিন খাওয়া এই সব বোরিং ব্যাপার স্যাপার খালি!  

  তাই ডোডো ঠিক করেছে ও একটা App তৈরী করবে মোবাইলের জন্য ! কি করে করবে সে বিষয়ে অর্কদাদা,  ওর পিসতুতো দাদা,  তার সঙ্গে আলোচনা করবে। অর্ক দাদা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে যে! 

  App টা হবে এমন ঠিক ও এখন যেমন একোয়ারিয়মে ডুবে আছে সেরকম!  App খুলে ক্যামেরা অন করে রাস্তার দিকে ধরলে স্ক্যান হবে, আর তারপরেই ডোডো রাস্তায়!  ছবি থেকেও হবে স্ক্যান।  যেমন মাসির বাড়ির পুকুরঘাটের ছবির উপর রেখে স্ক্যান করলেই ছবিতে মাসি ,পুতুল দিদি আর পায়ের কাছে বসে থাকা মাসির পোষা বেড়াল মিনির পাশে নিমেষে হাজির হবে ডোডো! কিংবা অনলাইন ক্লাশে পৌঁছে যাবে ওদের ক্লাশ রুমে,  সিলেক্ট করলে এমনকি পাশে এসে পিকাচু বা সিজুকাও এসে বসতে পারে!

  মোড়ের মাথায় যে আইসক্রিম পার্লার , সেখানেও পৌঁছে যাবে এক পলকে!  …. কিন্তু … কিন্তু সমস্যা একটাই … আইসক্রিমটা সত্যি করে খাওয়া যাবে না যে!  

  এটা ভেবে বেশ একটু মন খারাপ হয়ে গেলো ডোডোর। সে নাহয় একটা ব্যাবস্থা করা যাবে,  বাবাকে বলে আইসক্রিম আনিয়ে রাখতে হবে ফ্রিজে আগে থেকে।  

  ডোডো বেশ উত্তেজিত ওর App নিয়ে তাই কদিন ধরেই।  সব কাজ গুছিয়ে রেখেছে ও এবার শুধু অর্কদাদা এলেই হয়!  মায়ের দিয়ে যাওয়া এক বাটি ম্যাগি খেয়ে তাড়াতাড়ি ডোডো ভার্চুয়াল এলবাম বানাতে বসে যায় কম্পিউটারে।  পেন্টিং বের করে একের পর এক আঁকতে থাকে খেলার মাঠ,  স্কুলবাস, রাস্তা,   পার্কের দুলতে থাকা দোলনা , রানীর ছানাগুলো , পপকর্নের দোকানে ফুট ফুট করে ফুটতে থাকা গরম পপকর্ন    …. সব তো ফোটো নেই তাই যেগুলো নেই তাদের ছবি এঁকে আপলোড করতে হবে App এ ।সবাই নিজের নিজের পছন্দ মতো করতে পারবে।  কি যে মজা হবে! 

  এবার একটা নাম ঠিক করতে হবে App টার।  কি নাম রাখা যায় বলতো!  ডোডো সেই থেকে নাম ভেবে যাচ্ছে,  কিছুতেই পছন্দ হচ্ছে না।  তোমারাও ভেবে রেখো কিন্তু!  

  এই যাঃ …  হরলিক্স হাতে মা আবার ডাকছে .. উফ আবার অনলাইন ক্লাস!  So boring …

                                                     


ছোট্ট মেয়েটা আর একটা দুপুর
মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস

টুই টুইই টুইইই
আমাকে ডানা নেড়ে নেড়ে পাখিটা ডাকছে৷ পাখিটা বসে আছে শুভদাদাদের পাঁচিলের থেকে বাইরের দিকে দোল খাওয়া মালতিলতার থোকার ওপর আর নিজেও দোল খাচ্ছে৷ আমি সব গাছের নাম জানি না৷ এটার নাম মা বলেছে৷ মা পাখিও চেনায়৷ কিন্তু একে চিনি না৷
আমি বারান্দা থেকে দেখছি পাখিটাকে৷ ও বলল, আয় না রে, দোল খাবি আমার সঙ্গে৷ আমার বন্ধুটা আজ বনশিমূল গ্রামে চড়ক দেখতে গেছে৷
আমি তো অবাক! চড়ক না কি আজ? বড়জেঠু গত বছর দেখতে নিয়ে গেছিল৷ ও সে কি আনন্দ! ওরা ঘুরতে ঘুরতে সাঁই সাঁই করে বাতাসা ছুঁড়ে দিচ্ছিল৷ ওখানে কত খেলনা বিক্রি হচ্ছিল৷
আজ কি আমায় কেউ নিয়ে যাবে?
  পাখিটাকে বললাম, তোমার বন্ধু তোমায় নিয়ে গেল না কেন?
আমি যেতে চাই নি যে৷ অত ভিড় আমার মোটে ভালো লাগেনা৷
  আমি ভাবলাম মেলায় যখন কেউ নিয়ে যাবে না তাহলে ওই মালতিলতার ডালেই ওর পাশে বসতে যাই৷ রেলিংএর ধাপে উঠে দাঁড়িয়ে পা বাড়ালেই পাঁচিল৷ তাছাড়া আমিও তো উড়তে পারি৷
  ঠিক এমন সময় ছোড়দিদুর পুষি চুপিচুপি কখন এসে রেলিংএ দুই পা তুলে গোঁফ ঝুলিয়ে পাখির দিকে চেয়ে জোরে বলল, ম্যাঁও৷
সাথে সাথেই পাখি ফুড়ুৎ৷ আমাকে টাটা পর্যন্ত করল না৷
পুষি ঘাড় ঘুরিয়ে বলল, বেশ মেয়ে তো তুমি! পড়ে গেলে কী হতো?
  বললাম, ধুর! আমি তো উড়তে জানি৷
পুষি হঠাৎ কেসে বিষম খেয়ে একশা হয়ে মেঝেতে পিঠ দিয়ে পেছনের দুই পা বাতাসে ভাসিয়ে শুয়ে পড়ল৷ আমি পাখিটাকে খুঁজবো ভাবছি এমন সময় একটা প্রজাপতি নাচতে নাচতে হাজির৷ ও মনে হয় মালতিলতাতেই ছিল কিংবা বাবার সাধের চাঁপা গাছে৷
কী? পড়েছিলে তো দুষ্টুটার খপ্পরে? প্রজাপতি বলল৷
আমি উড়তে পারি তো!
ভালো, উড়তে জানলে ক্ষতি কী? তা, নাচতে পারো তো?
আমি আবার নাচতে পারি না?
তাহলে এসো, নাচি৷
  এই বলে প্রজাপতি নাচ শুরু করল৷
অমনি কোথা থেকে হাজির হলো দুটো মৌমাছি৷ বলল, গান ছাড়া নাচ জমে না বাপু৷
তারপর ওরা বারান্দার এ কোণ থেকে ও কোণ ছোটাছুটি লাগালো গান জুড়ে৷ গুনগুন ভুনভুন ঘুনঘুন— কত কথা৷
  প্রজাপতি খুশি হয়ে নেচে নেচে একবার দরজার পর্দায় বসে, একবার বারান্দার কোণে রাখা ঢাউস ফুলদানিতে বসে আর কখনও পুষির পেটে বসে৷ আমিও ওর সাথে কি সুন্দর নাচছি দেখ৷ হাত ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে, পায়ে ছোটো ছোটো তাল দিয়ে দিয়ে৷ চোখের মণি ডান দিক বাঁ দিক করে৷ যেমন করে তুলতুলি দিদি নাচে৷
  দুপুরে খাওয়া দাওয়া করে মা আমায় ঘুম পাড়াতে পাশে শুয়েছিল৷ না হলে আমি ঘুমোই না তো৷ মা তো ঘুমিয়ে কাদা এক মিনিটে৷ আর আমি চুপি চুপি বারান্দায় এসে ঘরের দরজাটা দিয়েছি টেনে৷ মায়ের পাশে যদি এখনও ঘুমিয়ে থাকতাম তবে কি আর এমন মজা পেতাম, বলো?


ফুলকুসুমপুর খুব কাছে ১৫

রতনতনু ঘাটী

 ইচ্ছেদাদু নাকের উপরে নেমে আসা চশমাটা ঠিক করে নিয়ে মোবাইলের মেসেজটা পড়তে শুরু করলেন, ‘বাবা, আমরা সকলে সামনের শনিবার ফুলকুসুমপুরে যাচ্ছি। কবিগুরু এক্সপ্রেসে টিকিট কাটা হয়ে গেছে। ওদের দশ দিন বড়দিনের ছুটি পড়েছে। লিমেরিক আর হাইকুও যাবে। তোমার জামাইবাবু একটা জরুরি কাজে যেতে পারছে না। তবে আমাদের নিতে ফুলকুসুমপুরে যাবে পরের শনিবার। মাকে খবরটা বলে দিও। তিন্নি, বিন্নি আর বুম্বাকেও জানিয়ে দিও।’
   এ খবর শুনে দাদুর কাছটিতে হাসি-হাসি মুখে এগিয়ে এলেন ইচ্ছেঠাকুরমা, ‘হ্যাঁ গো! সত্যি? কতদিন আসেনি মেয়েটা!’ তারপর ছোটদের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘দারুণ খবর রে! সামনের শনিবার তোদের ছড়াপিসি আসছে! সঙ্গে আসছে লিমেরিক আর হাইকুও!’ 
   এই কথাটা বলেই ঠাকুরমা নীচে ছুটলেন মাধুরীজেম্মা, করবীকাকি আর বকুলকাকিকে খবরটা পৌঁছে দিতে। 
   ছড়াপিসির দুই মেয়ে। বড়মেয়ে ‘লিমেরিক’, ক্লাস থ্রিতে পড়ে দুমকা সেন্ট্রাল স্কুলে। আর ছোটমেয়ে ‘হাইকু’ পড়ে ক্লাস ওয়ানে ওই স্কুলেই। এই নাম দুটো ইচ্ছেদাদুই রেখেছেন। এটা ওদের ডাকনাম! কেউ যখন নাম দুটোর মানে বুঝতে পারেন না, তখন দাদুকে জিজ্ঞেস করেন, ‘ইচ্ছেকুমারবাবু, নাম দুটোর মানে কী বুঝিয়ে দিন তো?’
   ‘দাদু বুঝিয়ে বলেন, ‘আরে বাবা, ‘লিমেরিক’ মানে হল পাঁচ লাইনের মজাদার ছড়া! প্রথম, দ্বিতীয় এবং পঞ্চম লাইনের চেয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন ছোট হয়। আমাদের লিমেরিক তো ওরকমই মজাদার মেয়ে কিনা! আর ‘হাইকু’ হল—তিন লাইনের এক ধরনের ছোট জাপানি কবিতা! এক লাইনেও জাপানে হাইকু লেখা হয়। মোদ্দা কথা হল, আমাদের ছোট নাতনি তো ছোটই, তাই ওর নাম রেখেছি ‘হাইকু’! 
   ছড়াপিসি ফুলকুসুমপুরে এলে আনন্দের হাট বসে যায় গোটা বাড়িতে। এখনও ছড়াপিসি দারুণ-দারুণ ছড়া বলতে পারেন। এখনও কত ছড়াই তাঁর মুখস্থ! এ ছাড়া মজার বাড়তি কারণ হল অবশ্যই লিমেরিক আর হাইকু।

   এমন সময় কোত্থেকে ফিরে এল বিলম্বদাদু। বাড়িতে এক হইচই কেন জানতে চাইল ইচ্ছেদাদুর কাছে, ‘বড়বাবু, কী এমন ঘটল যে, বাড়িময় এই ভরসন্ধেবেলা এমন হইচই?’ বুম্বাদের নেকাপড়ার পাঠ উঠেই গেল মনে হচ্ছে?’
   ইচ্ছেদাদু হাসতে-হাসতে বললেন, ‘আরে বিলম্ব, দুমকা থেকে ছড়াপিসি আসছে তার দুই মেয়েকে নিয়ে আগামী শনিবার। বানিতে এ নিয়ে আনন্দ হবে না তো, কী নিয়ে আর আনন্দ হবে বল?’
   ‘তা ঠিক!’ তারপর বিলম্বদাদু ঠাকুরমার কাছে যেতে-যেতে গজগজ করে বলে গেল, ‘তোমাদের আর কী বড়বাবু? এই বিলম্বের তো খেটে-খেটে দম বেরিয়ে যাবে!’ 
   তিন্নিকে খাঁচার কাছে আসতে দেখে মিঁউ একদম খাঁচার দরজার কাছে এসে চোখ বন্ধ করে গরর গরর করতে লাগল। তিন্নি খাঁচার ফাঁক দিয়ে হাত গলিয়ে মিঁউর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগল! বুম্বার প্রিয় হল রাধাগোবিন্দ। এর খাঁচার সামনে গিয়ে বুম্বা বলল, ‘বলো রাধাগোবিন্দ, ‘নমস্কার!’ টিয়া পাখিটা অভ্যাসবশত দু’বার ‘ট্যাঁ-ট্যাঁ’ করে ডেকে উঠল।
   বুম্বা বলল, ‘হল না রে রাধাগোবিন্দ! বাড়িতে নতুন কোনও অতিথি এলে বলতে হয়, ‘ভাল আছেন?’ এটুকুই এখন শিখে ফ্যাল। তোকে টানা পাঁচদিন টাইম দিলাম। এটা তোর এই পাঁচদিনের পড়া! হাইকুরা শনিবার যেই বাড়িতে ঢুকবে, অমনি তুই বলে উঠবি—‘ভাল আছেন? ভাল আছেন?’ কেমন? ভুলে যাবি না কিন্তু! তারপর রোববার থেকে অন্য পড়া দেব!’
   তারপর বুম্বা নিজের মনেই ফিসফিস করে বলল, ‘তুই যদি এটুকুও না শিখতে পারিস, তা হলে ইচ্ছেঠাকুরমা আমাকে পুজোর সবচেয়ে বড় সন্দেশটা দেবেন না! বুঝলি কিছু?’
   এ কথারও স্পষ্ট কোনও উত্তর পাওয়া গেল না রাধাগোবিন্দর কাছ থেকে। তবু ঠাকুরঘরে সন্ধ্যারতি করে বেরিয়ে এসে ঠাকুরমা সকলের আগে বুম্বার হাতে সবচেয়ে বড় সন্দেশটা তুলে দিলেন। তখন পিটপিট করে ঘটনাটা দেখছিল রাধাগোবিন্দ। বুম্বা সন্দেশে একটা বড় কামড় বসিয়ে বলল, ‘দেখলি তো রে রাধাগোবিন্দ, আমার অনুমান মিথ্যে নয়? তুই এখন ওই পড়াটাই মুখস্থ করতে থাক। আমি এখন পড়তে যাই!’ 
    তিন্নি, বিন্নি আর বুম্বাদের একঘরে বসে তিনটে ছোট-ছোট চেয়ার টেবিলে পড়াশোনা করার নিয়ম। ওরা এসে স্কুলের পড়া করতে বসে গেল। আরও একটা নিয়ম আছে এই বাড়িতে। ছোটদের কারও বয়স পাঁচ বছর পূর্ণ হলে সে আর বাবা-মা’র কাছে রাতে শোয় না। সেই নিয়ম মেনে ওদের তিনজনেরই এখন একটাই শোবার ঘর। মস্ত বড় একটা একটা পালঙ্ক। এটা ইচ্ছেঠাকুরমার বাপের বাড়ি থেকে বিয়েতে পাওয়া। এটাতেই ছড়িয়েছিটিয়ে ঘুমোয় ওরা তিনজন। 
   রাতে ঘুমোতে গিয়ে বিন্নি বলল, ‘তিন্নিদি, আমি মিঁউকে নিয়ে একটা ছড়া বানিয়েছি। শুনবি?’
   ঘুম-জড়ানো গলায় তিন্নি বলল, ‘ছড়াটা বল! ছোট তো? বড় হলে কিন্তু শুনতে পারব না। আমার দু’ চোখে ঘুম ঝেঁপে আসছে।’
   বুম্বার গায়ে ঠেলা দিয়ে দেখল বিন্নি। বুম্বা ছড়া শোনার আগেই ঘুমিয়ে গেছে! তিন্নির দিকে পাশ ফিরে বিন্নি বলল, ‘বুম্বা শুনবে না। ও ঘুমিয়ে গেছে! তুই শোন, ছড়াটা বলি---
                       তোর নাম কী, মিঁউ?
                        হেসে বলল, ‘কিঁউ?’
                        ‘নামটা কী রে পুসি?’
                             ‘না না গো, উর্বুশী!’
   ‘অ্যাই তিন্নিদি, ছড়াটা কেমন হল রে?’ বিন্নির ডাকে তিন্নির কাছ থেকেও কোনও সাড়া পাওয়া গেল না। মনে হয় সেও কখন ঘুমিয়ে কাদা!


লকডাউন
সমাদৃতা রায়
নবম শ্রেণী, উত্তরপাড়া গার্লস হাই স্কুল, হুগলি

লকডাউনে বন্ধ হয়ে সব গিয়েছে থেমে।
ঘরের ভিতর বসে আমি উঠছি নেয়ে ঘেমে।।
বন্ধ বাজার, বন্ধ দোকান ,বন্ধ সব গাড়ি।
সবাই বলে লকডাউনে থাকুন শুধু বাড়ি।।
কাওকে চেনা যাচ্ছে না যে সবার মুখে মাস্ক।
মাস্কটি পরে বুকের ভেতর প্রাণ করে হাসফাস।।
কবে আবার আসবে সুদিন আনন্দে ঝলমল।
স্কুলে গিয়ে আবার মোরা করব কোলাহল।।
খুলবে বাজার খুলবে দোকান চলবে সব গাড়ি।
সেই দিনটা দিও ঠাকুর ভীষণ তাড়াতাড়ি।।



কম্পিউটার মেকানিক
অনুষ্কা চক্রবর্তী
অষ্টম শ্রেণী, স্টার্লিং ইন্টার ন্যাশানাল স্কুল
শ্যামনগর, উত্তর ২৪ পরগণা

খোলা আকাশ, আজ কালের মধ্যেই বোধহয় পূর্ণিমা, জ্যোৎস্নায় ছাদ ভেসে যাচ্ছে। বাবা আর আমি চুপচাপ ছাদে বসে আছি। মা এক সপ্তাহ হল ভাই কে নিয়ে মামার বাড়ি গেছে। বাবা একটা পুরস্কারের জন্য চেষ্টা করছে, যেটা বছরের সেরা শিক্ষক বা শিক্ষিকাকে দেওয়া হয়। যেটার জন্য কিছু ফাইল তৈরি করতে হয়। এখন বাড়ি ফাঁকা তাই তাড়াতাড়ি কাজটা শেষ করে ফেলার চেষ্টা করছিলাম আমি আর বাবা।  দুদিনে বাবার কাজ কিছুটা এগোল যদিও অনেকটা বাকি থাকল। আমার আর বাবার দুজনের অনলাইন ক্লাস, তাই সন্ধ্যে বেলাটাই কাজ করা যায়। তৃতীয় দিন বাবা আমায় আর ডাকল না। আমার একটু রাগই হল। গল্পের বই হাতে নিয়ে শুয়ে পরলাম নিচের ঘরে। ঘড়িতে দেখি সাড়ে সাতটা বাজে। উপরে উঠে গেলাম কারণ বাবার স্কুলের যাবতীয় কাজ উপরেই করে। একটা সুন্দর পার্ফ্যুমের গন্ধ পেলাম। রোগা করে একটা ছেলে বসে আছে ডেস্কটপটার সামনে। চোখদুটো ঢুলু ঢুলু, শ্যামলা রঙ, বেশ লম্বা, চোখে হাল ফ্যাশনের বড় বড় চশমা। রাগটা বেড়ে গেল, সোজা নিচে নেমে এলাম। আবার বই টা নিয়ে শুয়ে পড়লাম। খুব রাগ হচ্ছে, বাবা আমাকে ছেড়ে অন্য কাউকে সহযোগী করবে এটা ভাবতেও পারিনি।  বাবা বুঝতে পেরে বলল, " ল্যাপটপে একটা সমস্যা হচ্ছে, তাই ডেকেছিলাম রে বাবা, এখনো তুই ছোটদের মতন রাগ করিস!" হাবিজাবি চিন্তা করতে করতে মনে হল, আচ্ছা দাদাটা  যে এল কই আমি তো দেখতেও পেলাম না, পায়ের আওয়াজ ও পেলাম না। আমার ঘর থেকে ড্রয়িং রুমটা সোজা দেখা যায়, কেউ ঢুকলে বোঝাও যায়, কিন্তু না, এর বেলায় কোনো আওয়াজ পাইনি। পরের দিনও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। বাবাকে জানাতে বলল, " ছেলেটার নাম আকাশ, ভালো কম্পিউটার জানে। কম্পিউটার সেন্টারের ড্যানির কাছ থেকে ওর নম্বর পেয়েছি। খুব শান্ত ছেলে, হাঁটতে গেলেও পায়ে শব্দ হয় না। তাই বোধ হয় তুই ভুল করছিস।" একদিন পেরিয়ে গেল আমরাও ভুলে গেলাম। একসময় আমার নিজেরই বিষয়টাকে খুব হাস্যকর মনে হল। কিন্তু দুপুরে খাবার সময় বাবা একটা অদ্ভুত কথা বলল, " আকাশকে সেদিন পাঁচশো টাকার নোট দিলাম, কিন্তু পরে হিসাব মেলাতে গিয়ে দেখলাম যা টাকা ছিলো, তাই আছে। মাঠের পাশে ওর বাড়ি আজ ওর বাড়ি যাব ঠিক করলাম কিন্তু সন্ধেবেলা আমি আর বাবা কিছু দূর গিয়ে দেখি ও দাঁড়িয়ে আছে। বলল, " স্যার আজ তো আমার বাড়ি যাওয়া হবে না! আমি বরং আপনাদের বাড়ি কাল যাব।" আমার মা সাহসী হলে কি হবে, আমি আর আমার বাবা দুজনেই একটু ভিতু ধরনের। কোনমতে রাত্রিটা কাটিয়ে দিলাম। পরেরদিন সন্ধেবেলা বাবা বলল সামনে, পিছনের দুটো দরজাই বন্ধ করে রাখতে। যাতে আকাশ বলে ছেলেটা আসলেই বোঝা যায় যে কেউ বাড়িতে ঢুকছে। সাতটায় আসার কথা কিন্তু এখনো তো আসছে না, ঘড়ি বলছে সাড়ে সাতটা। বাবা দুবার ফোন করেছে, কিন্তু বলছে, "এই নম্বর টি নেটওয়ার্ক সীমার বাইরে আছে।" অতঃপর ছাদে উঠে গেলাম, যদি নেটওয়ার্কের উন্নতি হয়। কিন্তু না, কিছুতেই হল না। শেষে ড্যানিকে ফোন করা হল। একতরফা কথা শুনতে পেলাম, "হ্যালো", "হ্যাঁ, ভালো আছি", "যার নম্বর পাঠিয়েছিলে", "কী বলছ", "আচ্ছা  ঠিক আছে রাখছি"। "কী হয়েছে?" জিজ্ঞেস করলাম। উত্তর এল, " আকাশ বলে কারুর নম্বর ও পাঠায়নি, কয়েক বছর আগে আকাশ বলে ওর দোকানে একজন কাজ করত সে একবছর আগে মারা গেছে" বলেই বাবা ধপ  করে পিছনে রাখা চেয়ারটায় বসে পড়ল।



গল্পে গল্পে ক্যুইজ
রাজীব কুমার ঘোষ

পর্ব ৪ ।। উত্তর
১।। ফেলুদার গল্প অনুসারে সিধু জ্যাঠার পুরো নাম সিদ্ধেশ্বর বোস। 

২।। মনে করা হয় বাস্তবে নির্মল চন্দ্র কুমারের আদলে এই চরিত্রটি সত্যজিৎ রায় তৈরি করেছিলেন। কলকাতার তালতলা অঞ্চলে (৭৯/২৩ লোয়ার সার্কুলার রোড) নির্মল চন্দ্র কুমারের একটি ব্যক্তিগত লাইব্রেরি ছিল। কলকাতার প্রথম অ্যান্টিকুইরিয়ন (antiquarian - প্রাচীন বই ও জিনিসপত্রের সংগ্রাহক) হিসাবে তার নাম স্মরণ করা হয়। পুরনো জিনিস নিলাম থেকে সংগ্রহ করতেন তিনি। ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’ চলচ্চিত্রে তার সংগ্রহের অনেক জিনিসপত্র ব্যবহার করেছিলেন সত্যজিৎ রায়। বর্তমানে নির্মলচন্দ্রের ছেলে অলোক কুমারের কাছে এই সংগ্রহশালা। তিনি থাকেন লেক গার্ডেন্সে।

৩।। ‘অ্যাপ’ (app) শব্দ অ্যাপ্লিকেশন (application) শব্দের সংক্ষিপ্তকরণ। অ্যাপ্লিকেশন বলতে সফট্ওয়্যার পোগ্রাম বোঝায়। অর্থাৎ কম্পিউটারে কম্পিউটারের ভাষা ব্যবহার করে দরকারি যে কোনো সমস্যার সমাধান বা তথ্যের প্রক্রিয়াকরণ করার জন্য যে পোগ্রাম তৈরি করা হয় (যেমন এম এস ওয়ার্ড, এম এস এক্সেল) তাকে আমরা অ্যাপ্লিকেশন সফট্ওয়্যার বলি। সুতরাং ‘অ্যাপ’ বলতে সেটাই বোঝানো উচিত কিন্তু বর্তমানে ‘অ্যাপ’ বলতে আমরা মোবাইলে বা ট্যাবে ব্যবহৃত প্রোগ্রামগুলোকে বোঝাই। এই ‘অ্যাপ’ শব্দটা আসলে জনপ্রিয় হয়েছে অ্যাপেল কোম্পানি  প্রথম আই ফোন মার্কেটে আনার প্রায় এক বছর পরে ২০০৮ সালে তাদের ‘অ্যাপ স্টোর’ শুরু করার পর। যার জন্য ‘অ্যাপ’ শব্দ মোবাইলের প্রোগ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। এনড্রয়েডের ক্ষেত্রেও এখন ‘অ্যাপ’ শব্দ ব্যবহার করা হয়। ব্যবহার করা হয় উইন্ডোজ ফোনের ক্ষেত্রেও। হয় মোবাইলে আগে থেকে ‘অ্যাপ’ ইনস্টল করা থাকে অথবা এগুলো নির্দিষ্ট ‘অ্যাপ স্টোর’ থেকে ডাউনলোড করতে হয়। অনেক ‘অ্যাপ’ ফ্রি আবার অনেক ‘অ্যাপ’ টাকা দিয়ে কিনতে হয় আবার কিছু ‘অ্যাপ’ ফ্রিতে কিছুদিন ব্যবহার করতে দেবার পর টাকা দিলে তবেই ব্যবহার করা যায়।

৪।। ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় সেই বছর সাহিত্যে কোনো নোবেল প্রাইজ ঘোষণা হয়নি। 

৫।। PlagAware একটি সার্চ ইঞ্জিন যার মাধ্যমে Plagiarism অর্থাৎ কুম্ভীলকবৃত্তি চিহ্নিত করা হয়। কুম্ভীলকবৃত্তি শব্দটা খটোমটো শোনাল বোধহয়। এর অর্থ অন্যের কোনো রচনা, চিন্তাভাবনা নিজের বলে চালানো। 

৬।। বিশ্ব সুখ দিবস পালন করা হয় প্রতি বছর ২০ মার্চ। রাষ্ট্রসংঘের পক্ষ থেকে এই বছরে সুখী দেশের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে (২০২০ সালের সমীক্ষার ফল) তাতে ভারতের স্থান ১৩৯, আগের বছর ছিল ১৪০তম স্থানে। এই তালিকা তৈরি করা হয় অনেককটি বিষয়কে বিবেচনা করে, যেমন দেশের অর্থনীতি, সামাজিক অবস্থা, ব্যক্তির স্বাধীনতা, দুর্নীতির হার, সামাজিক বৈষম্য কমানোর প্রচেষ্টা ইত্যাদি। এবারে তালিকাতে প্রথম ফিনল্যান্ড আর তালিকায় সবচেয়ে নিচে আফগানিস্তান।

৭।। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে, ড্রোন প্রস্তুতকারী কোম্পানি ইফাই গ্রুপ আর চিনের তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়, তিয়ানজিন শহরে রাতের আকাশে ছ’শোটি ড্রোন উড়িয়ে ২৬ মিনিট ১৯ সেকেন্ড ধরে তৈরি করা হয়েছে ভ্যান গঘের নানা ছবি। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এটি। মানুষ ছাড়া কোনো উড়তে থাকা বস্তু দিয়ে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে এনিমেশন তৈরি করার রেকর্ড। 

৮।। ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী দিল্লির আগে ছিল কলকাতায়। ১২ ডিসেম্বর ১৯১১ সাল থেকে ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী দিল্লি।

৯।। চাকরির বাজারে ‘কপি পেস্ট জব’ বলতে বোঝায় প্রধানত ডাটা এন্ট্রি ধরণের একটি কাজ যা কোনো টেকনিক্যাল জ্ঞান ছাড়াও করা যায়। বিশেষ কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতাও দরকার হয় না তবে ওয়ার্ড বা এক্সেলের প্রাথমিক জ্ঞান দরকার হতে পারে। এই কাজে প্রধানত ডাটা এক জায়গা থেকে কপি করে অন্য জায়গায় পেস্ট করতে হয়। 

১০।। “কি ঘর বানাইমু আমি শূন্যেরও মাঝার” এটি হাসন রাজার বিখ্যাত গান “লোকে বলে বলেরে/ঘর-বাড়ি ভালা নাই আমার”-এর একটি পংক্তি। ‘হাসন রাজা’ নামটি অনেকে ‘হাছন রাজা’ বলেন এবং লেখেন। অধুনা বাংলাদেশের শ্রীহট্টের প্রেম, বৈরাগ্য ও বিরহের মরমী পল্লীকবি হাসন রাজার বহু গান এই বাংলার বুকে ছড়িয়ে আছে। ইংরাজি ১৮৫৪ সালে হাসন রাজা বর্তমানে বাংলাদেশের শ্রীহট্ট জেলার লক্ষণশ্রী তেঘরিয়া মৌজায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। মূল আরবী ভাষায় তার নাম ছিল ‘হাসন্-আল-রিদা’ যার ফার্সি রূপ ‘হাসন রেজা’ যা পরে ‘হাসন রাজা’ হয়ে দাঁড়ায়। বংশানুক্রমিকভাবে হাসন রাজার পরিবার কৌড়িয়া পরগণার মোগল সরকারের রাজস্ব আদায়কারী রূপে নিযুক্ত ছিল। ব্রিটিশ যুগে তারা বড় জমিদার হয়ে দাঁড়ান। মাত্র পনেরো বছরে তার বাবার মৃত্যু হওয়ায় তাকে সংসারের দায় দায়িত্ব নিতে হয়েছিল। তার মোটেই জমিদারি মেজাজ ছিল না। প্রজাদের সঙ্গে তিনি সহজে মিশে যেতে পারতেন। সাম্প্রদায়িকতা তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। দরিদ্রদের উপকারে তিনি ছিলেন মুক্তহস্ত। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় গান রচনা করাই ছিল তার নেশা। দৈনন্দিন জীবনের উর্দ্ধে উঠে অপরূপকে তিনি ধরতে চেয়েছিলেন তার গানে। এই সব গান স্থানীয় আউল বাউল দরবেশ ফকিররা গাইতেন। তাদের মুখে মুখে এইসব গান ছড়িয়ে পড়ে। হাসন রাজার গান রবীন্দ্রনাথের নজরে আনেন সিলেটের প্রভাতকুমার শর্মা। তিনি প্রথমে আটটি ও পরে পঁচাত্তরটি গান রবীন্দ্রনাথের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। ১৯২৫ সালে ইন্ডিয়ান ফিলসফিক্যাল কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে রবীন্দ্রনাথ তার সভাপতির অভিভাষণে হাসন রাজার গানের উল্লেখ করেছিলেন। যেহেতু এই অভিভাষণ তিনি ইংরাজিতে দিয়েছিলেন, তাই উল্লেখ করা দুটি স্তবকের ইংরাজি অনুবাদ তিনিই করে শুনিয়েছিলেন। এরপর ১৯৩০ সালে অক্সফোর্ডে হিবার্ট লেকচারে রবীন্দ্রনাথ আবার এই গান দু’টির উল্লেখ করেন। হাসন রাজার গানগুলি লোকসাহিত্যের অন্যতম সম্পদ। হিন্দু মুসলমান দুই ঐতিহ্যের ধারা হাসন রাজার গানে মিলিত হয়েছিল। ১৯২২ সালে তার জীবনাবসান ঘটে। হাসন রাজার গানের মুগ্ধ শ্রোতারা তাকে লালনের মতোই একজন মরমী সাধক হিসাবেই দেখেন।


পাঠ প্রতিক্রিয়া -১

( জ্বলদর্চির ৩৯ তম ছোটোবেলা সংখ্যা পড়ে বন্দনা সেনগুপ্ত যা লিখলেন) 

ছোট্ট বন্ধুরা ভালো আছো আশা করি! "ছোটবেলা" পড়া হয়ে গেছে নিশ্চয়ই। এই বই কি আর হাতে পাওয়ার পর ফেলে রাখা যায়! নাওয়া খাওয়া ভুলে পড়ে ফেলতে হয়, কি বলো?

এই করোনা কালে মন ভালো রাখা একটু দুস্কর। তাই না? একটু একা একা লাগে। বন্ধুদের সাথে গল্প খেলা তো হয়ই না, এমনকি ঝগড়াও হয় না। কি মুশকিল, বলো তো! এই রকম সময়ে দুই বন্ধু বা দুই ভাই কিনা রাস্তায় খেলনা ট্রাক চালাচ্ছে! কারুর যদি হিংসে হয়, তাহলে আমি অন্তত কিন্তু তাকে দোষ দিতে পারবো না। এই প্রসঙ্গে মনে পড়লো বেশ কিছু দিন আগে দেখা এক দৃশ্য। ডুম ডুম ডুমা ডুম ডুম ধরণের আওয়াজ শুনে গিয়ে দেখি একটা ছোট্ট বাচ্চা, ৮-১০ বছর বয়স হবে, একটা ফাটা বাক্স বাজিয়ে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে, সে বাক্স আবার একটা শাড়ির পাড় দিয়ে গলায় বাঁধা! আর, অন্য একটা বাচ্চা করুণ মিনতি করছে তাকে বাজাতে দেওয়ার জন্যে। তাহলেই দেখো, খুশি হওয়ার জন্যে কিন্তু দামি দামি খেলনা পাতির অত প্রয়োজন নেই। কিন্তু, একটা সমমনস্ক ভাই বা বোন বা বন্ধু খুব দরকার। সাধারণতঃ মা বাবাও খুব ভালো বন্ধু হয়ে থাকেন। তবুও, এক সময় নিজের সমবয়স্ক ও সমমনস্ক কেউ প্রয়োজন হয়ে ওঠে।

তোমরা কে কেমন লিখেছো, এঁকেছো, পাঠ প্রতিক্রিয়া দিয়েছো সে নিয়ে অনেকেই লিখছেন, লিখবেন। আমি একটা অন্য কথা বলি, কেমন? বেশ কয়েকটা সংখ্যা ধরে আমি এই "ছোটবেলা বিশেষ সংখ্যা" পড়ছি। এর কয়েকটি বৈশিষ্ট্য বেশ অন্য রকম।

মৌসুমী ঘোষের সম্পাদকীয় পত্রিকাটির এক অন্য মাত্রা দেয়।পত্রিকার শুরুতেই ভিতরে কি কি আছে জানতে পেরে প্রত্যাশার পারদ বেশ উঁচুতেই চড়ে থাকে।

তারপর ধর, ছবি। ছোটদের আঁকা এত্ত সুন্দর ছবি কিন্তু খুব কম পত্রিকাতেই দেখা যায় … সে ছবি সামান্য তরমুজের টুকরোর হোক, বা নদীর ধারে বেড়াতে যাওয়ার বা পাখির অথবা অন্য কিছুর। এত সুন্দর সুন্দর ছবি পত্রিকাটির একটি বিশেষত্ব। 

তারপর, লেখা। ছোটদের লেখা গল্প ও কবিতা … অপূর্ব! কেউ লিখছ রূপকথা, কারুর লেখায় উঠে আসছে মুল্য বোধ, কেউ নিয়ে আসছ জীবনের নানা দিক! আশ্চর্য তোমাদের সবার ক্ষমতা। 

ছোটদের লেখা পাঠ প্রতিক্রিয়া আমাকে অবাক করেছে। কি মুন্সিয়ানা তোমাদের লেখার। কি গভীর ভাবে ভাব তোমরা আর সেই ভাবনাকে প্রকাশ করো ভাষায়! 

আমি এখানে আলাদা করে কারুর নাম দিলাম না কারণ, আমার প্রত্যেকের ছবি, কবিতা, গল্প, পাঠ প্রতিক্রিয়া ভালো লেগেছে  … শুধু এই সংখ্যার নয়, সব সংখ্যার। অবশ্য সেই জন্য মৌসুমী ঘোষ মহাশয়ার যোগ্য সম্পাদনাই অনেকাংশেই দায়ী। 

এবার আসি, কেমন! আবার আসব অন্য কোন লেখা নিয়ে। ততদিন সবাই ভালো থেকো। সুস্থ থেকো। সাবধানে থেকো। আর, বাইরে বেরোতে হলে মাস্ক পরে বেরিয়ো।



পাঠ প্রতিক্রিয়া ২

( জ্বলদর্চির ৪১ তম ছোটোবেলা সংখ্যা পড়ে বেথুয়াডহরীর বানীয়া সাহা যা লিখল🖋️)

যতই কোভিড পরিস্থিতি আমাদের বাইরে বেরোতে বারণ করুক না কেন আমাদের এখানে রথের মেলায় মানুষের ভিড় কিন্তু আগের বারের মতোই হয়েছিল! আমিও তালে তালে বেরিয়ে পড়েছিলাম রথের রশি টানতে। খুব ছোটোতে, সম্ভবত.... যখন আমার ক্লাস টু, তখন একবার রথের মেলা থেকে বাবা একটা সাদা রঙের মাটির ঘোড়া কিনে দিয়েছিল। আশ্চর্য লাগে এটা ভেবে যে, প্রায় বারো বছর হয়ে গেল তবুও ওই ঘোড়াটা আমার কাঁচের সোকেশেই এখনও কী সুন্দর ভাবেই না দাঁড়িয়ে আছে! 'জ্বলদর্চি' র ৪১ তম সংখ্যার কভার পেজের ছোট্ট ভাইটা মাটির পুতুল তিনটে হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্যটা আমার শৈশবের রথের সেই দিনটার কথা মনে করিয়ে দিলো, ছোট্ট ভাইটা বোধহয় পুতুল কেনার পর আমার মতোই এক দৃষ্টে মেলার প্রতিটি কোণের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে উপভোগ করতে চায়ছে এই সুন্দর দিনটাকে। চিত্রগ্রাহক কল্যাণ সাহা মহাশয় কে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই এরকম একটা ছবি আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য।
এবারের সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ভালো লাগলো একেবারে প্রথমে শ্রদ্ধেয় লেখক সুকুমার রুজ এর লেখা 'বন্ধু' গল্পটি। বর্তমান প্রজন্মকে ইংরেজি শিক্ষিত করে তুলতে ব্যস্ত তার পরিবার ভুলেই যেতে বসেছে তার মাতৃভাষাকে। বাংলা ভাষার প্রতি এই অবহেলাকে লেখক অত্যন্ত সচেতন ভাবে তুলে ধরলেন গল্পে। লেখক যথার্থই বলেছেন,
  "তোমার মাতৃভাষা হল বাংলা। বাংলা ভাষাকে আগে ভালোবাসতে হবে, তারপর অন্য ভাষা। মাতৃভাষাকে ভালো না বাসলে কোনও ভাষাকেই ভালোবাসা যায় না।"
গল্প শেষের চমকটাও দারুণ ছিলো। মেয়েটির বন্ধুটা যে আসলে ওর দাদুই, তা বেশ অবাক করলো। আরেকটি জায়গা যেখানে ছোট্ট মেয়েটি স্কুলে 'মিত্র' শব্দের অর্থ শুনে 'টেলিফোন গাইড বুক' থেকে 'মিত্র'  শব্দটা খুঁজে বন্ধু পাতালো, সেখান থেকেই বোঝা যায় একটা শিশু কতটা নিষ্পাপ আর অবুঝ। এককথায়, নিজের মাতৃভাষা কে সর্বাগ্রে মূল্য দিয়ে তারপর অন্যান্য ভাষাকে সমান ভালোবাসায় গ্রহণ করার যে বার্তা লেখক দিলেন দাদু ও নাতনির এই মিষ্টি গল্পটার মধ্য দিয়ে তা আমার কাছে অন্যতম একটি সেরা লেখনী।
আসলে দাদু, দিদার কাছে বেশির ভাগ নাতি নাতনিরাই ভীষণ আদরের। একটা মজার  কথা জানো ছোট্টবন্ধুরা, আমি দুষ্টুমি করলেলেই বাবা কিংবা মায়ের বকা আর কানমোলা থেকে বাঁচতে দিদানের কাছে লুকিয়ে পড়তাম। তবে আগের মতো এখন আর দিদান মাননীয়া কবি নন্দিনী সেনগুপ্তের ছন্দে মোড়া 'হাসি' কবিতার সৃজনীর দিদার মতো নেচে নেচে রুটি, লুচি করতে পারেনা। তবে সৃজনীর দিদার মতো খুকিপনা করতে আমার দিদানও একসময় ওস্তাদ ছিল। এই প্যানডামিক সিচুয়েশন এর ঘুমপাড়ানি একঘেয়ে অনালাইন ক্লাসে ক্লান্ত সৃজনীর দিদার মধ্য দিয়ে যেন আমার দিদান কে দেখতে পেলাম। কবিতার শেষ অংশে কবির,
"....মনের খাদ্য কী, জানো তার খোঁজ?/ হাসিখুশি থাকাটা যে বড় দরকারি/ মনের সঙ্গে চলে শরীরের গাড়ি"- এই লাইন তিনটির মাধ্যমে ছোটদের দেহ এবং মনের প্রতি যত্নশীল হওয়ার নির্দেশটি ভীষণ সুন্দর লাগলো। এই মন আরও ভালো হয়ে গেল 'ভোলানাথ' এর সাথে আলাপ হয়ে। পথে কুকুরের পাল, কেউটে সাপ আর বুলবুলির মতো আমার কাছেও ভোলানাথ খুব পছন্দের একজন হয়ে উঠলো, তবে লকডাউনে আটকে পড়া বুলবুলির বাবা- মা বাড়ি ফিরে তাকে উঠোনে শুয়ে থাকতে দেখে সন্দেহ করলেও মানুষটা যে ততটাও খারাপ নয় তা গল্পের শেষে ভালোই বোঝা গেছে। 
  এই 'লকডাউন' শব্দটা শুধু বুলবুলির বাবা- মা কেই বাইরে আটকে রেখে ক্ষান্ত হয়নি, ছোটো ছোটো শিশুদের মিষ্টি দুষ্টুমি গুলোকেও আটকে দিয়ে তাদেরকে কেমন যেন কঠিন করে তুলেছে গল্পকার সুধাংশু চক্রবর্তী র গল্পের বছর দশেকের ছেলেটার মতো। সত্যি বলতে কী, একসময় আমার ভাই আর দাদাদের সাথে আমিও সঙ্গ জুড়তাম পরের বাগানে লুকিয়ে লুকিয়ে লিচু, আম, কুল এসব কুড়োতে। তবে তখন ছোটো ছিলাম তো তাই গাছের উঁচু ডালে হাত যেত না। ঢিল ছুঁড়ে আর না হয় কুড়িয়ে কুড়িয়েই কাজ সারতাম! এসবের এক মজাই অন্যরকম, বিশেষ করে আম কুড়োতে গিয়ে বড়োদের হাতে ধরা খেয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকাটার মধ্যে যে কীরকম একটা আবেগ কাজ করত তা বোঝানোই মুশকিল। এইরকম একটি দৃশ্যে অভ্যস্ত কোনো লেখক যখন দেখেন যে, যেই ছেলেটির আম পেড়ে মজা নেওয়ার কথা সে আমগাছে বাসা বাঁধা কচি শালিখ ছানা দুটোকে বাড়িতে নিয়ে যেতেই ব্যস্ত, তখন এরকম একটি ভাবনাই তো উঠে আসে "আম না শালিখছানা" গল্পে। একদম বাস্তবসম্মত একটি ঘটনাকে তুলে ধরার প্রয়াসে সৃষ্ট এই গল্পটি মন ছুঁয়ে গেলো। 
  আমের সিজন তো চলে যেতেই হাজির হয়েছে বর্ষা তার মন ভেজানো গন্ধ নিয়ে বংলার মাটিতে। শুধু কী মাটি, 'জ্বলদর্চি' র পাতাকেও সে ভিজিয়ে দিচ্ছে খুব করে, ওই যে কবি বিপ্লব চক্রবর্তীর 'বৃষ্টি ছড়া' তে দোদনের বৃষ্টি থামার অপেক্ষা আর টিনের চালায় ঝমঝম শব্দ আমাকেও এবার ভিজেয়ে দেবে মনে হচ্ছে। ওদিকে তো আবার দেখছি এই বৃষ্টিতে ভিজে ব্যাঙ বাবাজীর ঠান্ডা লেগে যা তা কান্ড! ভাগ্যিস ব্যাঙের গিন্নি, কবি মহুয়া ব্যানার্জীর কলমে "ব্যাঙের ছাতা" দিয়ে পুরো ব্যাপারটা ম্যানেজ করলো! তা নাহলে হয়তো ব্যাঙ বাবজীর মনে জোরও আসত না আর আমরাও এত সুন্দর, মজার, ছন্দ মেলানো কবিতাটা পেতাম না! 
ব্যাঙেরও সর্দি লেগে গেছে দেখেছো তো বন্ধুরা! তোমরা কিন্তু দুষ্টুমি করে বৃষ্টিতে ভিজতে যেওনা, বড়োদের কথা শুনো তা নাহলে কী হবে সেটা আহিতাগ্নির গল্প পড়লেই বুঝতে পারবে। ভালো হাঁস, কী যেন নাম! ও হ্যাঁ, রিচার্ড। ওর বন্ধু ব্রান্টির বুদ্ধিতে কেমন করে জ্যাক, 'দুষ্টু হাঁস জব্দ হলো' দেখলে তো? রিচার্ডের এই ভূত সেজে জ্যাককে ভয় দেখানোর পর ওর ভুল বুঝতে পারার মজার গল্পটি সত্যিই অসাধারণ, আর হাঁসের নাম গুলো তো কোনো কথাই হবে না! জানালার ধারে নীল আকাশে মেঘের খেলা দেখতে দেখতে এরকম একটা মিষ্টি গল্পপাঠ মন ভরিয়ে দিলো। 
  উমম্! আকাশ যখন নীল মেঘ তো সাদা হবেই কারণ শরৎ এসে গেছে। এই মেঘটাই কখনো বা বর্ষারদিনে বিদ্যুৎতের ভেলকি দেখায়, কখনো আবার ব্যস্ত থাকে জ্যোৎস্না আর রৌদ্রের সাথে লুকোচুরি খেলতে। এক এক সময় এক এক রকম এই মেঘ। সত্যিই "মেঘকুমারী" র এই রূপসৌন্দর্য্য আর তার প্রকৃতিকে যেভাবে অনন্যা তার কবিতায় প্রকাশ করেছে তা মনকে কোথায় যেন হারিয়ে নিয়ে গেলো, ভীষণই ভালো লাগল কবিতাটা।  
  মন তো হারালোই আবার ফিরেও এলো। আগ্রহী হয়ে পড়লাম কিছু অজানা তথ্যের খোঁজে শ্রদ্ধেয় রাজীব কুমার ঘোষের 'গল্পে গল্পে ক্যুইজ' এর মধ্যে। দু একটি প্রশ্নের উত্তর নিয়ে একটু কনফিউজ তবে আরেকটু খুঁজে দেখতে ক্ষতি কী! পরের রবিবার পর্যন্ত খুঁজে দেখি! যদি পাই তাহলে মিলিয়ে নেব। ক্যুইজের এই বিভাগটা সত্যিই অন্যরকম। আগে ক্যুইজে ভয় পেতাম তবে এখন মনে হচ্ছে অতটাও ভয়ের কিছু নেই! উত্তর গুলো খুঁজতে খুঁজতে যখন আরও অনেক অজানা বিষয় সমূহ জানতে পারি তখন সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে।
  জানার কী আর শেষ আছে! ওই তো, প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক রতনতনু ঘাটী মহাশয়ের 'ফুলকুসুমপুর খুব কাছে' র চর্তুদশ পর্বেও কুকুর সমন্ধে কত্ত কিছু জানতে পারলাম! ভীষণ বিস্মিত হলাম। রাধাগোবিন্দকে কথা শেখানোর প্রচেষ্টাও চলছে দারুণ রকম। তবে ইচ্ছে দাদুর ফোনে যে কী মেসেজ এসেছে তা জানতে খুব ইচ্ছে করছে। দেখা যাক এই ত্রিপাঠী পরিবারে আর কী কী ঘটতে চলেছে! খুবই ভালো লাগছে ধারবাহিকটা। যদি সম্ভব হতো তাহলে আমিও চিকলু, নীলুফার এদের মতো বুম্বা, তিন্নি, বিন্নির সঙ্গে ওদের বাড়ি "হ য ব র ল চিড়িয়াখানা" দেখতে যেতামই। 
  ধারাবাহিকের অলংকরণটিতে টিনটিন আর স্নোয়ি র ছবিটা দুর্দান্ত হয়েছে। শুধু এই ছবিটাই নয়, চতুর্থ শ্রেণীর অংশিকা শহুরে চিত্রের যে মিক্স মিডিয়া টি করছে জলরঙের ওপর কালো জেল পেনের শেডে সেটিও অসম্ভব সুন্দর লাগল। স্রুজন বেরার অ্যাভেনজারদের টিমটিকেও রঙিন প্যাস্টেলে দারুণ মানিয়েছে। অনুভব বোসের গাছের ডালে বসে থাকা নীল পাখিটি অনেকটাই রিয়েলিস্টিক হয়েছে। রঙটা খুব সুন্দর ভাবে মেশানো হয়েছে ছবিতে। মোহনা বাগের তুলির টানে আইসক্রিমওয়ালার কম্পোজিশনটাও বেশ সুন্দর। সান্ধ্যদীপের গ্রীষ্মের একটি দিনে মাটির বাড়ির সামনের রোয়াকে বসে হাতপাখা দিয়ে হাওয়া খেতে খেতে উপভোগ করা বাইরের কোনো এক পথিকের ছাতা মাথায় দিয়ে যাওয়ার দৃশ্যটিও নজর কাড়লো। ভবিষ্যতে প্রতিটি স্ট্রোক আরও নিঁখুত হয়ে উঠুক, এই আশা রাখি। অনুরাগের পৃথিবী থেকে রকেট নিক্ষেপের পোস্টারটিও সত্যিই অবাক করলো আমাকে। মাত্র কে জি তেই এত আউটলাইন মেনটেন্স করে রঙের ব্যবহার এবং কোথায় কোন রঙটা ব্যবহার করতে হবে তার সুস্পষ্ট ধারণা বোধহয় আমারও ছিল না ওই বয়সে।  এই অসাধারণ প্রচেষ্টার জন্য তোমাকে কুর্নিশ জানাই। ছোট্ট সোনারা, তোমাদের প্রত্যেকের আঁকার প্রতি এই আগ্রহ আমাকে মুগ্ধ করলো।তোমাদের জন্য রইলো একরাশ শুভেচ্ছা।
  সপ্তম শ্রেণীর নীলাঞ্জনার 'জ্বলদর্চি' র ৪০ তম সংখ্যার পাঠপ্রতিক্রিয়া পড়ে তার এই অনবদ্য বিশ্লেষণী ক্ষমতাকে তারিফ না করে উপায় নেই। আর সবচেয়ে অন্যরকম লাগলো মাননীয় কবি পীযূষ প্রতিহার মহাশয়ের ছড়ায় লেখা পাঠ প্রতিক্রিয়াটি, একটি ইউনিক কিছু খুঁজে পেলাম এই রিভিউটাতে।
আর সবশেষে যার কথা না বললেই নয় সেই বিশিষ্ট ব্যক্তি মৌসুমী দিভাই, সম্পাদকীয় তে একটা লাইন লিখেছেন, " কোনো প্রিয় জিনিস পেতে গেলে বড়ো ছোটো প্রত্যেকেই অপেক্ষা করতে হয়।"- কথাটা আমার একটি মৃতপ্রায় আশাকে অনেকখানি শক্তি জোগালো। দেখা যাক, ওনার কথা সত্যি হয় কিনা!
অপেক্ষাই করি তাহলে, প্রিয় জিনিসটা পাওয়ার আর অবশ্যই 'জ্বলদর্চি' র পরবর্তী সংখ্যার জন্য!

জ্বলদর্চি পেজে লাইক দিন👇
আরও পড়ুন 

Comments

Trending Posts

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা -১০৯

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

পুঁড়া পরব /ভাস্করব্রত পতি

পতনমনের ছবি /শতাব্দী দাশ

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া