রম্য কবিতা /পর্ব-৩ /তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায়

রম্য কবিতা
পর্ব-৩

তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায়


বাজ পড়া তালগাছ

আমি এক মুমূর্ষু তালগাছ, ধুঁকছি,
সোজা নই, ধীরে ধীরে বাঁকা হয়ে ঝুঁকছি।
হয়েছি বজ্রাহত, নিস্তেজ, নাজেহাল,
পাতাগুলো পুড়ে গেছে সেই আগুনেই কাল।
যে দুটো বাবুই পাখি ডালে বাস করতো,
মারা যেতোনাকো আহা যদি আগে সরতো!
একে তো অরক্ষিত, উচ্চতা বেশি তাই,
অনাকাঙ্খিত চোট বেশি পাই, আমরাই।
বাতাসের তুলনায় পরিবাহী বেশি তায়,
প্রাণরসে পথ পায় জেদি তড়িল্লতায়।
রস ফুটে নির্গত বাষ্পের দাপটে,
কোষেরা দীর্ণ হয় বজ্রের ঝাপটে।
মাটিতে মেশার আগে দাগ এক নিমেষে,
লম্বালম্বিভাবে চিড়ে রেখে গেছে সে।

লাগাচ্ছে দুর্যোগ-দপ্তরে তাল-চারা,
বাজ পড়ে মানুষের মৃত্যু ঠেকাতে তারা।
বাঁচাতে তোমার প্রাণ, আমাদের বলিদান -
দিতে হবে অথচ যে আমাদেরও আছে প্রাণ!
প্রাণ দেবে, প্রাণ দিয়ে বাঁচানোর জন্য?
হে মানুষ, তোমাদের হোক চৈতন্য।
তালপাতা দিয়ে গ্রামে কাঁচাঘর ছাওনি?
কোনোদিনও তালক্ষীর, তালশাঁস খাওনি?
মিছরি, তালপাটালি, তাড়ি, তালবড়া, গুড়;
পুঁথিপট, হাতপাখা, চাটাই আর মাদুর-
ভুলেছো সেসবই তুমি বেপরোয়া এতোটাই,
হারাবে নগরায়নে আগে তালগাছেরাই।
আমার মৃত্যু হলে দেখো যদি লাগি কাজে-
তাল-কাঁড়ি দিয়ে কারো বাড়ি বা নৌকো সাজে।
তামার বজ্রবহ, আমাদের থেকে উঁচু,
যথোচিতভাবে কেনো বসাওনা গ্রাম পিছু!
ভিতরে পীড়ন কতো হচ্ছে বোঝানো দায়,
ইচ্ছামৃত্যু নিতে চাওয়ারও নেই উপায়।
যোগ্য ভাজক কলা ক্যাম্বিয়ামের মতো-
নেই দেহে নিরাময়ে তাই বেড়ে চলে ক্ষত।
হয়তো ডায়াটমীয় মৃত্তিকা, জল আর-
সাথে রক ফসফেট এবং জৈবসার,
মেশানো পুষ্টিকর কাইয়ের পথ্য,
সারাতে পারতো এই যাতনা অকথ্য।




ঘূর্ণিঝড়ে পরচুলা
 
য’বে থেকে টাকে পরচুলা বগা রেখেছে,
দুনিয়ার যতো ঝড় তারই দিকে বেঁকেছে।
সাইক্লোন, টর্নেডো, হারিকেন, টাইফুন;
ঘূর্ণি দেশি-বিদেশী পিছু নেওয়ার দরুন-
শান্তিতে নেই বগা, মুখের কান্তি ক্ষয়,
পরচুলা উড়ে গেলে, ধরতে ছুটতে হয়।
ঘূর্ণির কোনও ক্ষতি করেনিকো বগা, হায়!
কেন ঝড় তবে তারই পরচুলা নিয়ে যায়?
বেয়াদব ঝড় এতো আগে বগা দেখেনি,
চাষ করে চুল ফলাতেও বগা শেখেনি।



জাদুঘরে পট্টাবতার

যে আপাদমস্তক সাদা পটি পরেছে,
ভেঙে তার সব হাড়ই কে যে গুঁড়ো করেছে!
হাসপাতালেতে নয়, জাদুঘরে শুয়েছে,
কাঁচের বাক্সে তাও, না জানি কে ছুঁয়েছে?
বুঝিনি নাকের কাছে কেন ফাঁক রাখেনি!
বোধহয় ঘুমোচ্ছিল, আমাকে সে দেখেনি।
দেখলে বলতো ঠিকই মোড়কের কি কি গুণ,
ঘেঁষেনাকো ছারপোকা, মশা, মাছি বা উকুন।


জ্বলদর্চি পেজে লাইক দিন👇



Comments

Trending Posts

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা -১০৯

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

পুঁড়া পরব /ভাস্করব্রত পতি

পতনমনের ছবি /শতাব্দী দাশ

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া