পরিমার্জন ও অনুবাদ/ ঋত্বিক ত্রিপাঠী

ফোটোগ্রাফি - সৈয়দ স্নেহাংশু

পরিমার্জন ও অনুবাদ

ঋত্বিক ত্রিপাঠী

নিবিড় অন্ধকার থেকে উন্মোচিত হচ্ছে প্রবাহ। হাসিমুখে বিশ্বজয়। স্রোত। স্রোতের ইতিহাস নেই। শুধু ভবিষ্যৎ। এগিয়ে চলা। ধর্মের জাড্য। জাড্যের পিছনে অর্বাচীন  অন্ধকার। সেখান থেকেই কুসুম-প্রস্তাব। কী আছে প্রস্তাবনায়! ভালো থেকো। বিপুল এই পৃথিবীর সহজিয়া গানের পসরা! সেখান থেকেই জন্ম আনন্দময়ীর! স্বরও নির্বাক! নির্বাক যা কিছু সে তো সরব, স্তুতি! বিশ্বাসের লতাপাতা। পুরোনো পুঁথির মত সে অহংকারী, নিভন্ত আগুনের মতো তার অবশ্যম্ভাবী অনুরাগ! অনুরাগের ধর্ম নেই। যা আছে সে শুধু বিশ্বাস। সংস্কৃতি গড়ে তুলছে নিত্য নতুন দেশ। দেশ ছাড়িয়ে পৃথিবী।


  অন্ধকারেও বাজে বাঁশি। অন্ধকারেরও থাকে হাত-পা। অন্য কোনও পৃথিবী থেকে এসে পড়েছে সে। ভেজা অস্ত-মাঠ। চিরকাল ঋণী! এক আর্ত ধ্রুবতারা! সন্তর্পণে পার হচ্ছি স্বজনহারা পাখি। ঋতুবদলের মতো ওজনহীন, দিকশূন্য। অথচ দারুণ সে হোমশিখা!প্রজ্জ্বলনে ফের অনন্ত প্রবাহ। সোনালি অভিমান মালা। হে... ছুঁয়ে দেখব, কত গভীর ভিজেছে পা! নিষ্পাপ ঠোঁট। ভেসে উঠছি জেগে উঠছি। লিখছি মহার্ঘ দিনলিপি! ভূমিকার বদলে হরিজন পল্লির কথা! অনুবাদ ও পরিমার্জন!

 এরপর আমি নত হই। অমীমাংসিত কথা সব প্ৰণত বিশ্বাস। বরং ভালো আত্মসমর্পণ। প্রিয় মৃত্তিকা, দেখা দাও বীজ হয়ে। শান্তিজলের কাছে চুপিচুপি নিজেকে যতটা সম্ভব গোপন করা যায়। এও একরকম অবশ্যম্ভাবী বন্দিসুখ। আমি ও আমি! সমান্তরাল! অন্তর্বতী দূরত্বের মাঝে স্তিমিত হয়ে নিঝুম অস্ত্র, হিংসা, রক্ত! না-জানা ও সব জেনে যাওয়া এক! নীরবতারও এক মানে আছে! 

  ফুলের সঙ্গে ধুলোর সঙ্গে সখ্যদান! শান্তিপুরুষ এখন একা থাকতে চায়! তার জন্যও দাও সুর। মুগ্ধতায় শ্বাস প্রশ্বাস। সুর হচ্ছে। স্বর হচ্ছে। বর্ণমালার মতো তার দিনযাপন। হোক ক্ষণ আয়ু, তবুও লক্ষণসীমা টেনে ছায়ার মধ্যে নির্মাণ করি উষ্ণ প্রস্রবণ। পাশেই থাকো। ঘাসের জীবনেও থাকে মহার্ঘ আয়ু। একটি সেতুর দুঃখ হলো এই মাত্র একটি সূর্য ডুবল বলে, রাত্রি হল বলে। বিলুপ্ত জীবের রাত্রি হল। রাত্রি। ঝুপড়ি মেলার শেষ রাতে ক্লান্ত তরু সকরুণ বৃষ্টির মাঝে ঘুমিয়ে। নিঃশব্দে জন্ম নিল আগামী শিশু।


  দুঃখ হল সেতুর এক পাগলের প্রতি নিহত প্রজ্ঞার প্রতি। জীবনের জাড্য ধর্মের প্রতি। একদিন আকাশে আকাশ, পাথর সময়ের ওপর আছড়ে পড়বে হৃদয়। যেখানে আমি বসতে পারি ভূমিকাহীন। তুচ্ছ জ্ঞান ও সময় একাকার। নিরীহ মুখের পাশে এই আমার হাত। চণ্ডীতলার তুলসী মাটি, নামাজ জল। কী-ই বা আর দিতে পারি বেহুলা সম্বল! সুতরাং পাপ ও হৃদয়বৃত্তির কথা লিখে ফেলতে চাইছি। অথচ দৃশ্যপট বদলে যাচ্ছে। স্নিগ্ধ বিকেল নীল মেঘ! কোথায় দাঁড়াই বলো! তোমার আমার কপাল বিন্দু; স্বপ্ন জাগে সারা রাত। নিভৃত পাখি জানে সে সব কথা-রাত! তোমার আমার দূরত্ব ভাঁজে ভাঁজে সকাল পাখি এসে বসে। দুঃখ নেয় দুঃখ দেয়...! আমি এখন পূর্ণচ্ছেদের বিপরীতে, পরিচয়হীন 'আমি' নামক সর্বনাম পদ। গুচ্ছ গুচ্ছ শোকগাথা হাতে ঘর গেহস্থালি ভাসিয়ে শহর পেরিয়ে গ্রামে ফিরে যাচ্ছি। সেখানে জমে আছে সমূহ চিঠিবীজ। দুঃখ পলিমাটিকে একমাত্র অবলম্বন করে আমার মা গড়ে তুলেছেন নিয়মবদ্ধ জলসেচ। ইচ্ছেস্বভাবে গ্রামের অন্য অন্য নাম। সমাহিত সেই গ্রামের প্রান্তে সূর্য ডুবছে। স্বর্গীয় দৃশ্য দেখে নিতে চাইছে শেষবারের মতো আমার বাবা! এই সব কথা শব্দে ধরা পড়ে না প্রকৃত।

  সুতরাং চাই পরিমার্জন, ভূমিকা বদল এবং অনুবাদ।

জ্বলদর্চি পেজে লাইক দিন👇



Comments

Post a Comment

Trending Posts

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা -১০৯

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

পুঁড়া পরব /ভাস্করব্রত পতি

পতনমনের ছবি /শতাব্দী দাশ

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া