শ্যামলকান্তির কবিতা : আশ্চর্য স্বতন্ত্র এক পটভূমি /সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায়

শ্যামলকান্তির কবিতা : আশ্চর্য স্বতন্ত্র এক পটভূমি

সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায়

দূরদর্শনের সৌজন্যে ‘ডিসকভারি চ্যানেল' কিংবা 'এ্যানিম্যাল প্ল্যানেট'-এ যখন জন্তু জানোয়ারের শিহরণ জাগানো ছবি দেখি, সে-অভিজ্ঞতাটা আমার কাছে অন্তত সরাসরি, প্রত্যক্ষ, সটান। তার মধ্যে চোখ চালিয়ে লোমহর্ষক একেকটা ছবি ক্যামেরার লেন্সে বন্দি করা ছাড়া মানুষের ভূমিকা তেমন কিছু থাকে না। অবশ্যই জরুরি থাকে অকল্পনীয় সাহস! কিন্তু বাঘ সেখানে বাঘই, সাপও সাপ, ঘোড়া ঘোড়াই। কবির ক্যামেরার চোখে এরাই কিন্তু আরও অতিরিক্ত কিছু। তখন তাদের সেই সম্মিলিত বাতাবরণের ফাঁকে-ফোকরে কবি সঞ্চারিত করে দেন কিছু সংকেত, তার সঙ্গে ব্যঞ্জনা, হয়তো-বা প্রচ্ছন্ন কয়েকটি প্রতীকও। এবং তাদের সূত্রেই তিনি প্রাণীজগতের আড়ালে ছুঁয়ে ফেলেন চিরন্তন মানুষের জগৎ। বাঘ তখন আর শুধুমাত্র রক্ত মাংসের বাঘই থাকে না, হয়ে ওঠে হিংস্রতা ও ভয়ংকর প্রতাপের প্রতিমূর্তি, যা লক্ষণীয় একজন মানুষের মধ্যেও, ঘোড়া হয়ে ওঠে মানুষের জীবনযাপনের দ্রুতির প্রতীক। এসবের পাশে কীটপতঙ্গের জগৎ, রাজহাঁস-ঘুঘু শালিক- কাক-কবুতরের প্রসঙ্গ যখন উপজীব্য হয়ে ওঠে একজন কবির কাছে, আমরা খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করি বাড়তি কোনও অন্তর্দ্যোতনা, বলার বাইরেও কী বলতে চাইছেন তিনি, টান মেরে কতখানি এনে ফেলতে চাইছেন তাদের মানুষের একেকটা গুণাগুণের কাছে। রোমাঞ্চক ছবি তুলতে যে সাহস লাগে – বিশেষ করে রুক্ষ ভয়ংকর জঙ্গলের পটভূমিকায় - কেউ অস্বীকার করবে  না; একই সঙ্গে বোধ হয় এটাও মেনে নিতে হবে, যখন একজন কবি গার্হস্থ্য ভাবনায় বিষয় করে তোলেন ওই বাঘকেই : ‘বাঘের জন্য এখন আমি ঘর মুছি, আয়না পরিষ্কার করি, ঝুল ঝাড়ি,/আলনা গোছাই', তখন এই দুটি পঙক্তি নির্মাণের পেছনেও সাহস লাগে কিছু কম নয়।

 বিশেষ একটা পটভূমি থেকে জেগে ওঠা শ্যামলকান্তির কবিতার প্রেক্ষিতে ওপরের কথাগুলো আপাতভাবে অপ্রাসঙ্গিক বলে মনে হলেও, জরুরি বলেই মনে করি আমি। আর মনে করি বলেই বলতে হয় আমাকে যে, শ্যামলের কবিতা আর যাই হোক নিছক ডিসকভারি চ্যানেল নয়, এ্যানিম্যাল প্ল্যানেট নয়, সেখানে মুহুর্মুহু এসে দাঁড়িয়েছে মানুষ, অজস্র মানুষ, অনেক ধরনের মানুষ, এবং তাদের সুবাদেই যেন আমরা প্রত্যক্ষ করে নিতে চাইছি একেকটা প্রাণীকে, প্রাণীজগতের হাজার খানা বৈচিত্র্যকে। ধরে ধরে তাদের স্বভাবগুণকে স্থাপন করছি নির্বাচিত কয়েকজন মানুষের দৃষ্টান্তে, কোমলে-কঠোরে জেগে উঠছে তাদের চলন-বলন চরিত্র-চেহারা। প্রেক্ষাপট হিসেবে শ্যামল সেই কবে থেকে তাঁর পরিবেশনায় একদিকে ধরে রেখেছেন শান্ত গ্রামজীবন, তার স্নিগ্ধতা, তার নিভৃতি, তার লাবণ্য; আর অন্যদিকে এর বিপ্রতীপ অবস্থানে বরাবরই থেকে গেল ওই মনুষ্যেতর শ্বাপদ হিংস্র জগতের অনন্য অনুষঙ্গ, 
সূর্যাস্তের দিকে চুপচাপ তাকিয়ে থাকে রাজহাঁস।

যদি একটি দুটি আকাশ এখন তার দিকে হাত বাড়ায়, আর

যদি সারা জীবনের আনন্দ হয়ে ওঠে
একটি-দুটি তারা !

ভাবতে ভাবতে সরু রাস্তায় নিবিড় হতে থাকে রাজহাঁসের ছায়া ! (রাজহাঁস)

পিঁপড়েও আমাদের সঙ্গে সারাদিন কবিতার ভাষায় কথা বলছে,

অন্ধকারে দরকষাকষি করছে, ঘাড়ে টুসকি মারছে,
গালে গালে ঘষছে...

লক্ষ লক্ষ মরণজয়ী পিঁপড়ে আমাদের ঘুম ভাঙাচ্ছে, 
বলছে, ওঠো, দাঁড়াও।

জাগো, জাগ্রত হও। (পিঁপড়ে সংহিতা)
এই যে হাঁস-পাখি-পিঁপড়ের পরিমণ্ডল, এর মধ্যে শব্দহীন নিরিবিলি নির্জন এক গ্রাম পৃথিবীর গল্প বলা আছে, আর সে-গল্পের অসাধারণ কথক শ্যামলকান্তি স্বয়ং। কিন্তু ওরা কি শুধুমাত্র গোত্রপরিচয়েই হাজির আমাদের কাছে, আর কিছু নয়? ওই যে কবিতার ভাষায় কথা বলা, দরকষাকষি করা, গালে গাল ঘষা তুচ্ছ একটা পিঁপড়ে, ওকি শুধু ওইটুকুই? ওর মধ্যে মানুষের প্রতিচ্ছায়াও কি আমরা খুঁজে নিতে পারি না? আমরা না পারলেও শ্যামলকান্তি পারেন। আর পারেন বলেই একটা অনায়াস অর্থঘন ছবি মুহূর্তেই বেরিয়ে আসে তাঁর কলমের মুখ থেকে : 'এমন একটা দিন আসবে / যেদিন মেনি বেড়ালকে মনে হবে অবিকল বাঙালি গৃহবধূ।' আমরা যারা অরণ্যকে ভয়সঞ্চারী একটা ভূখণ্ড বলে ভাবি, সেই অরণ্যই যেন সশরীরে আমাদের সামনে চলে আসে শ্যামলেরই হাত ধরে 'আমরা মানুষ বলে কোনোদিন জঙ্গলে যাইনি/জঙ্গল মানুষ হয়ে অকস্মাৎ ঢুকে পড়ে ঘরে।' 'জঙ্গল মানুষ হয়ে', - অসাধারণ এই juxtaposition, যা এক পলকেই পক্তিটিকে দুই বিপরীত ছবির পাশাপাশি অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দেয় চোখের সামনে। দরাজ দু-হাতের সম্পন্নতায় তিনি এই ধরনের ছবি ছড়িয়ে দিতে পারেন তাঁর কবিতার পর কবিতায়। আবারও বলি, পারেন বলেই দৃষ্টিকে তিনি সাবলীল দক্ষতায় প্রসারিত করেন, এমন এক অরণ্যপ্রকৃতি ধরা দেয় তাঁর পরিবেশনায় যেখানে 'Nature red in tooth and claw, আর সেখানেও শ্যামল ভুল করেন না প্রতীকের অন্তরালে মানুষকেই আবিষ্কার করে নিতে,—

তুমি যদি সাপ হও, আমি তবে সাপের মতন আর কেউ দংশন করি না, তবে ছোবলের
গায়ে হাত রাখি ! (চতুর্থী/সাপ)

বাঘের কবিতা লিখতে লিখতে একদিন সত্যি সত্যিই 
আমি একটা তীব্র বাঘ হয়ে গেলাম,
আমার মর্মভেদী চিৎকার এখন থেকে বাংলা কবিতার 
অলংকার -

(বাঘের কবিতা লিখতে লিখতে)

উইলিয়াম ব্রেকের The Tyger এবং The Lamb – দুটি কবিতাই বহুপঠিত। কিন্তু এদের প্রত্যক্ষ বর্ণনা ছাপিয়ে এ-দুয়ের মধ্যে দিয়ে কি আসলে মুখ দেখিয়ে ফেলেনি মানুষ নিজেই?

কিংবা ডি.এইচ লরেন্সের 'The Mosquito'-পড়তে পড়তে মনে হয় একটা সময় হুল ফোটানো রক্ত শুষে নেওয়া মানুষের কথাই বোধ হয় বলতে চাইছিলেন তিনি। বাংলা কবিতায় সম্ভবত অমিয় চক্রবর্তীই প্রথম পিঁপড়েকে বিষয় মর্যাদা দিয়েছিলেন। তারও আগে কি রবীন্দ্রনাথ ? স্মরণীয় : 'পিপিড়া কাঁদিয়া যায় পাতে'। জীবনানন্দে ছিল বাদুর-চিল-শকুন মাছরাঙা-চড়াই-শালিখ-গঙ্গাফড়িং-কাঁচপোকা-দাঁড়কাক-লক্ষ্মীপেঁচা-হরিণ-চিতা-ইত্যাদি বনপ্রকৃতির অজস্র সম্ভার। নীরেন্দ্রনাথ মানুষের গলায় কুকুরকে দিয়ে বলাতে চেয়েছিলেন 'হ্যালো দমদম, হ্যালো দমদম, হ্যালো', শুনেছিলেন ঊর্ধ্বচারী মানুষের প্রতীকী অনুষঙ্গে কলঘরে চিলের কান্না। সুনীল কবিতায় কুকুরকে এনে ফেলতে চেয়েছিলেন মানুষের ভেতরকার কুকুরকে দেখাবেন বলে। আর ভাস্করকে বুঝে নিতে দেখেছিলাম জিরাফের ভাষা। কবিতায় জীবজগতের এই দীর্ঘকালীন ও ধারাবাহিক পরম্পরা থেকে এতটুকু দূরে দাঁড়িয়ে নেই শ্যামলকান্তির বিষয় ভাবনার জগৎ, বরং তা আরও বেশি ব্যাপক, আরও প্রসারিত, আরও অন্যমাত্রিক। কোন্ প্রাণী-পতঙ্গ নেই সেই ভিড়ে ? কাকে তিনি ছাড়পত্র দেননি তাঁর কবিতার চৌহদ্দির মধ্যে এসে পড়ার ব্যাপারে ? রসুইপুরের বাঘের দেখা তো মেলেই, উপরি পাওনা হিসেবে হাত মেলায় কল্পজগতের অ্যানাকোণ্ডা-বাইসন-ডাইনোসর, এমনকি উঁকি দিয়ে যায় রক্ত খেকো ভাম, বাদুর-ব্যাঙ-ভোঁদড়-বালিহাঁস-পায়রার সঙ্গে তুচ্ছাতিতুচ্ছ ‘দুইটা ফড়িং'-ও। সত্তর দশকের শ্যামলের সমকালীন আর কোনও কবির পরিবেশনায় এত অবিচ্ছেদ্যভাবে চর্চিত এমন একটা জগতের দেখা পাইনি আমরা, জোরের সঙ্গে বলতে পারি; বস্তুত আমি বিশ্বাস করি, অন্য আর সব বৈশিষ্ট্য ছেড়ে দিলেও এই আশ্চর্য স্বতন্ত্র পটভূমিই শ্যামলের কবিকৃতির সবচেয়ে জোরের জায়গা, প্রবল কর্তৃত্ব নিয়ে কথা বলার সবচেয়ে স্বতঃস্ফূর্ত মাধ্যম।

কিন্তু এখানেই কলম তুলে নেন না শ্যামল, এই পর্যন্ত এসেই দাঁড়িয়ে পড়তে দেখি না তাঁকে; পটভূমি রচনায় আরও কিছু সংযোজনের কথা নিশ্চয়ই তাঁর মাথায় ছিল, আর তারই ফলশ্রুতি হিসেবে আমরা পেলাম আরও এক অত্যাশ্চর্য অলৌকিক অভাবিত জগতের সন্ধান, প্রাণী ও জন্তুজগতের সঙ্গে যোগ করেন তিনি রাক্ষসের মায়াবী এক বাতাবরণ, যা তাঁর একান্ত নিজস্ব ভাবনায় জারিত, বাস্তব থেকে পরাবাস্তবের দিকে হেঁটে যাওয়ার সুবাদে। লৌকিক সংস্কার থেকে, পৌরাণিক ও মহাকাব্যিক অনুষঙ্গ থেকে এর উঠে আসা; কবির সঙ্গে অনায়াস সাক্ষাৎ ঘটে যায় এই রাক্ষসের, বংশ পরিচয় এবং গোত্রনিবাস সমেত যে রাক্ষসের কুহকী অস্তিত্বকে তিনি চিনে নিতে জানেন নিজের হাতের তালুর মতো। আর এই রাক্ষসের আদি আস্তানাও স্থির করে নেন তিনি অবিচল প্রত্যয়ের সঙ্গে : ‘রাক্ষসের বাড়ি যেন অপূর্ব মেদিনীপুর, ধনধান্য পুষ্পে ভরে আছে।' প্রিয়তম এই বিষয়ের দিকে মাঝে মাঝেই ফিরে আসেন শ্যামল, নাড়াচাড়া করেন অধিবাস্তবিক ফ্যান্টাসি নিয়ে, যেন ঘর করতে চান রাক্ষস-দত্যি-দানোর সঙ্গে, — অনেকদিনের তাদের বন্ধুত্ব, সম্পর্ক, আত্মীয়তা। একটার পর একটা অপার্থিব আলেখ্য নিয়ে এভাবেই তিনি গড়ে তোলেন তাঁর কবিতায় অন্যমেজাজী প্রেক্ষাপট,—

১.  রাক্ষস আমাদের বাবার বন্ধু। অনেকদিনের পুরনো।
সেই বন্ধুতা প্রতিদিন ঘষে মেজে
বাবা নতুন করে তোলেন
(বাবার বন্ধু)

২. এখনও আমি রাক্ষসের ছেলে
কাদায়-জলে আমার চোখ কাঁপে।
(রাক্ষসের ছেলে)

কী করে লেখো তুমি এমন পরিপূর্ণ কবিতা ?' শ্যামলেরই একটি কবিতার (ফুল ফোটাবার প্রণালী) লাইন। একই প্রশ্ন আমারও, তাঁর কাছে। রাক্ষসকে নিয়ে অনুভবে অবলোকনে এত পরিপূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় কি করে তাঁর পক্ষে ? চেতনে - নিশ্চেতনে কি তাঁর সঙ্গে কথা হয়, ঘুমে-জাগরণে সংলাপ বিনিময় হয় প্রহরে প্রহরে, আদানপ্রদান ঘটে পারস্পরিক সুখ দুঃখের? না হলে রূপকথা-উপকথা থেকে উদ্গত তাকে নিয়ে উচ্চারণের এত আয়োজন আসে কীভাবে তাঁর কলমের ডগায় ? দানবিক না হয়ে এ-রাক্ষসও কি একটা সময় মানবিক হয়ে ওঠে তাঁর কাছে প্রকারান্তরে আমাদের কাছেও? প্রশ্ন, প্রশ্নের পিঠে প্রশ্ন। উত্তর দেওয়ার কোনো দায় নেই আমাদের। সে দায় মিটিয়ে দেয় তাঁর কবিতাই, অন্য আর কিছু নয়।

শ্যামলের আপাতশেষ কবিতা বইয়ের নাম 'একলা পাগল'। এখন তিনি আরও পরিণত, আরও ঋদ্ধ, অনেকটা এগিয়ে নিজের থেকে যেমন, অন্যের থেকেও। বইয়ের পর বইয়ের ধারাবাহিক প্রকাশে তিনি হেঁটে যাচ্ছেন শ্যামল থেকে শ্যামলতর কবিতার দিকে, আর তাঁর হাতে আছে নিজস্ব মাতৃভাষার ওপর অবিসংবাদিত দখল, নানাগোত্রীয় ছন্দের ওপর অবাধ কর্তৃত্ব। এ-বইয়েরই একটি কবিতার ছিন্নাংশ উদ্ধার করে এ-লেখায় ইতি টানি। —

ভূতের মতো দেখতে হলেও আমি এখনও সেভাবে
 ভূত হয়ে যাইনি।
.......
ভূত হলে আমি কি পারতাম রক্তরাগসমন্বিত এই জীবনকে আগুনের মুখে ঠেলে দিতে, আর পারতাম কি কখনও 
কবিতা আর কবিতা আর কবিতা দিয়ে তোমার
 চারপাশকে এমনভাবে সাজিয়ে তুলতে !

পারতাম না। আর পারতাম না বলেই আমাকে মানুষের মধ্যে কখনও চাঁদ মনে হচ্ছে। কখনও অশরীরী।
(ভূতের মতো)

জ্বলদর্চি পেজে লাইক দিন👇


Comments

Trending Posts

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা -১০৯

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

পুঁড়া পরব /ভাস্করব্রত পতি

পতনমনের ছবি /শতাব্দী দাশ

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া