আষাঢ়ে গল্পের আল ধরে -দুই / তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য

        

আষাঢ়ে গল্পের আল ধরে -দুই 

তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য 
          
নানা রঙের মানুষ 


নিজের অন্তরের ভেতরে যে মানুষটি লুকিয়ে থাকে ,যে আমাকে চালনা করে ,মাঝে মাঝে তাকে শাবাশ শাবাশ  ধন্যবাদ এমন বলি।বাইরের কারোর প্রতি খুব একটারাগ হয় না। ,নিজের প্রতি মাঝে মধ্যেই অসহ‍্য হয়ে পড়ি!!যেমন এই সেদিন বিধান নগর রথের মেলায় গেলাম।আমি এমনিতে গ্ৰাম‍্য মেলায় ঘুরতে পচ্ছন্দ করি,...এই সব ফান্টুসি মেলা আমার ভালো লাগেনা তেমন।তবুও এখানে আছি তাই গেলাম।দেখি স্টেজে ছোট বাচ্চারা নাচছে হিন্দি ফিল্মী গানের উপর বেশ ভালো ই করছে।তার মধ্যে একটি মেয়ের মুদ্রা খুব পরিষ্কার দেখে বড় ভালো লাগলো একটু ধরে শিখলে হাত, অভিব‍্যক্তি খুব সুন্দর হবে।ওদের দেখেই খালি মনে হচ্ছে এরা খুব নিম্ন বিত্ত পরিবার থেকে এসেছে।ঐ মেয়ে টি নাচ চালিয়ে যেতে পারবে তো? না কী একটা দুটো শো করে ছেড়ে দেবে।মেয়ে, বর বড্ড বিরক্ত হচ্ছিল আমার কথাতে।কিন্তু আমার জানতে ইচ্ছা করছিল ওদের পরিবারের নিশ্চয় কেউ আছেন গ্ৰীনরুমের দিকে।বাচ্চা গুলো সুন্দর সেজেছে ,ভাল নাচছে কিন্তু আমি এসব কেন ভাবছি?এ ভাবেই বা মানুষ কে কেন বিচার করবো বাইরের চেহারা দেখে? মানুষ   কে না  জেনে তার গেয়ে কেন লেবেল দেব? তবুও একটু পেছনে গিয়ে দেখলাম ওদের মায়েদের।তারাও বেশ সুন্দর সেজেছে কিন্তু সব পোশাকের আড়ালে ওদের  আসল চেহারা ,অভাব দারিদ্র্য সব ধরা দিল আমার চোখে।নিজেকে খুব খারাপ লাগলো এই prediction সঠিক হবার জন‍্য।আমার মন চোখ দুটোই এই শিশুদের নিয়ে বৈষম্য করছে? লোককে দেখে আমরা ভাবি এ শিক্ষিত অশিক্ষিত ,বড় লোক ,ধনী ,দরিদ্র একটু মানুষ ভাবতে পারিতো!সেই বনফুলের" দুধের দাম" গল্পটা মনে পড়ে গেল।অনুষ্ঠানের ওখানেই দুজন বৃহন্নলা  আমি ওদের চিনি তখন আর গল্পগুজব করিনি।ওরা এত উৎসাহ নিয়ে বাচ্চা গুলোর কত ছবি তুলছে।হাসছে আর বলছে কী  মিষ্টি বাচ্চা ,কী সুন্দর নাচছে ,আদর করতে ইচ্ছে হচ্ছে!! বৃহন্নলাদের মুখে যেন বিদ্যুৎ খেলে বেড়াচ্ছে।আমার প্রশ্ন ওরা কি মা নয়? ওদের হৃদয়ে মায়ের থেকে ও বড় মায়ের দরদী আসন পাতা।ঋতুমতী হলেই কি মা হওয়া যায়?  আসলে যার হৃদয়ে মাতৃত্ব আছে সেই মা।যার হৃদয়ে মনুষ‍্যত্ব আছে সেই মানুষ।

        সত‍্যিই ফেসবুক টা ছিল তাই ছাপ্পড়  ফাড়কে কতকথা ই না বলা যায় !কেউ রাগেন ,কেউ হাসেন ..কেউ বা ভাবেন ফালতু একটা কিচ্ছু জানে না !তবুও সকলকে ই আমার দারুণ ভালোলাগে।কারণ আপনারা যে এক একজন হীরে মানিক  বড়ো বড়ো দোকানের সো কেসে থাকে ....খানিকটা হলেও অনুভব করতে পারি।আপনাদের   উজ্জ্বল মুখ গুলো দেখতে ভীষণ ভালোলাগে। "অনেক পাওয়ার মাঝে কবে কখন একটুখানি পাওয়া সেইটুকুতেই জাগায় দখিন হাওয়া"  ...জীবনে কতো কিছু পেলাম !অথবা পেলামনা! অথবা ইচ্ছে গুলো  হাওয়ায় বুদবুদের মতো মিলিয়ে গেল। কিংবা কাঠখোলা তে অজস্র খই এর মতো ফুটতে থাকলো....সাদা সাদা থোকা থোকা জুঁই হয়ে। সৌরভে ভরে গেল দেহ মন। আজ পায়ে  একটু ব‍্যথা নিয়ে একটু বেরোতে হয়েছিল।ফেরার পথে দেখি একটি টেবিলে একজন দোকানি নানা রকম চুড়ি, দুল, হার পায়েল এসবের পসরা সাজিয়ে বসেছে। 

আমি যতই খেঁদি পেচি হই না কেন সাজতে বড়ই ভালবাসি ...যথারীতি দাঁড়িয়ে পড়ি মনের সুখে সেসব কিনতে থাকি। এরই মধ্যে কখন গুন গুন করে গাইতে শুরু করেছি "চুড়ি নেহি মেরা এ  দিল হ‍্যায়  দেখো দেখো   টুটে না " হঠাৎ দোকানির চোখ পড়ে সামলে নিই।তারপর ও শুরু করে "জামানা দিবানা হোগায়া" ....অনেক দিন পর  এমন হাসলাম ...মনে হলো শরীর থেকে কতো টক্সিন বেরিয়ে গেল।ভাবুন তো একবার বউটির হৃদয়ে কি সুন্দর প্রেমাবেগ আহা! কি সুন্দর একখানি হৃদয়।বললো দিদি এমন হেসে খেলে ভালোবেসে বাঁচতে হবে কষ্ট কে সাইড করে। কি অসম্ভব জীবন দর্শন।সঙ্গে সঙ্গে বেশ সুদর্শন একজন হাজির ...চোখের ভাবেই বুঝে গেলাম সে তার অক্সিজেন। বউটি  বললো এই দিদি দারুণ মানুষ ! আমি বললাম  এইটুকু তেই বুঝলে কি করে ..?উত্তর দিল যা তারপর শুধু চুপ করে থাকতে হয় কিছু বিশেষ বলা যায়না । বললো "মন দিয়েই মন বোঝা যায়"।  শিক্ষা ,বর্ণ,ধর্ম, দেশ বিদেশ... সবই একটা মিথ‍্যা আভরণ।" হৃদয়ের চেয়ে বড়ো কোনো মন্দির কাবা নাই"। বাঁচার জন‍্য  হৃদয় কে চাই আর একটা বিশ্বাসের হাত জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যে বলবে "ভাল আছো তো"?      ক্রমশ......

জ্বলদর্চি পেজে লাইক দিন👇

Comments

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি