কয়েকটি রম্য কবিতা /শুভশ্রী রায়

কয়েকটি রম্য কবিতা
শুভশ্রী রায়


রাত-জাদু

কত কী যে ব্যাপার মজার ঘটে রাতবিরেতে
সামনেই স্পষ্ট হয়ে খেলা করে ভূতপেরেতে!
মোটা মতো বেড়ালটা সেই বড্ড চেনা
জানত কে তারও এমন জাদু জানা!
নিজের শরীরটাকে দশ ফুট শূন্যে ভাসায়
দেখে বিস্ময়ে তো আমার শ্বাস আটকে যায়!
মেঘের হাত ছাড়িয়ে চাঁদ সুখের মুখ বাড়ায়
কিরণ দিয়ে খানিক খানিক আঁধার তাড়ায়।

বেড়ালের ভেতর থেকে বার হয় দশটা আরো
এ সব দেখেও তুমি না লিখে থাকত পারো?
ছিঁচকে চোর পালাচ্ছে কী চুরি করে
নিয়েছে কার যেন মন ঝোলায় ভরে!
এক সময়ে রাত্রি-জাদুর ঘনঘটা সীমা ছাড়ায়
সে সব অনুভবেই থাকে, কলমে এলেই হারায়।
রাতবিরেতে কত কী যে জাদুঠাসা ব্যাপার ঘটে,
বলতে পারি দিব্যি করে, ঘটনার কমই রটে!


কিপ্টের সেরা  

লোক তো খারাপ নন তবে বাড়াবাড়ি কিপ্টে
টাকা বাঁচানোর উপায় তাঁর কাছে হয় শিখতে
ছ' মাসে এক বার আনেন তিনশো কাটাপোনা
সর্বদা চিন্তিত মুখে বসে টাকাকেই হয় গোনা।

বছরে একটি দিন চিনি দিয়ে খান চা
সেটুকুর জন্যও আপসোস কত না!
অতিথি পড়লে ঢুকে দেন না তো জল
পাছে সাথে দিতে হয় মিষ্টি বা ফল!

লাখ লাখ টাকা আছে তবু পোষাকটি ছিন্ন
সব্জিটব্জি কেনেন কই রোজ দু'টি আলু ভিন্ন?
এই পন্থায় বানালেন বাহারী বাড়ী বাড়াবাড়ি
পাড়ায় দাঁড়িয়ে আছে গর্বিত উঁচু মাথা তারই।

শেষ কবে গিয়েছেন ব্যাপারের বাড়িতে?
উপহার কেনার ভয় পারেন না ছাড়িতে।
আর কার আছে বল এমন বিরাট ভবন
ভূভারতে কে আর ঠিক এতটাই কৃপণ?



সবুজ মুক্তি         

বনজঙ্গল গভীর, প্রায় মানুষ সমান ঘাস
তবে সভ্যতা নয়, প্রকৃতির রাজত্ব সে খাস!
শুনেছি তুই যখন তখন সেথায় ঘুরতে যাস
সন্দেহ নেই, ওপরওয়ালার আশীর্বাদ পাস
বন যেখানে বড়ই গভীর আঁধার-হরিৎ মিশে
সেখানে দেখবি পরম তাঁকে, দৃষ্টিতে-বিশ্বাসে।


এবার আমার জন্য আনিস বনের গাঢ় সবুজ
ওটুকু পেলেই খুশী আমার মনের অ-বুঝ
সেই সঙ্গে তিরতিরে ওই নদীর বুকের পাথর
কয়েকখানা নিস, নুড়ির তরেও আমি কাতর
মাখিয়ে নিস বনের মায়া তোর সবুজ জামায়
তারপরে দু' হাত ভরে উপহার দিস আমায়।
জানিসই তো, আমি একটা বিশ্রী ফ্ল্যাটে বন্দী,
পরোক্ষ মুক্তি পাওয়ার করেছি এই ফন্দী!



আমার মেঘ-ভাবনা   

বৃষ্টি হয়ে আমার মাথায় যে মেঘ ঝরে
ভাবছি এবার তাকেই নেব বন্ধু করে
তার কাছেই বলব আমার মনের কথা
সে হ'বে আমার বকবকের নিত্য শ্রোতা।

কিন্তু সে আমার সখী হতে হবে রাজী?
না কী বলবে, তোমরা মানুষ, দুষ্টু, পাজী
এই যে আমি একেক ঋতু একেক সাজি
দেখে না কবি, কাব্যে আমিই গরহাজির!
কবিরা আগে আমায় নিয়ে কত লেখালিখি,
আমায় দূত বানিয়ে অনুপম সে মহাকবি
লিখলেন অমর কাব্য মেঘদূত কালজয়ী,
এখন আমায় নিয়ে লেখা হয় ক'খানা বই?

হবে কী অভিমান মেঘের, ভাবি কল্পনাতে!
হয়তো বা তার অশ্রুও পড়বে কথার সাথে
কী জানি, মেঘ এ সব বলবে না কী হাসবে
কিম্বা সখী হয়েই আমার কাছে আসবে!



সোহমের ঘর

সংখ্যা দিয়ে মোড়া সোহমের নীল ঘর
জানলায় এসে বসে থাকে ইচ্ছের পাখী!
পড়াশোনা করে নেয় শিশু মন দিয়ে
পড়ায় সে কখনোই দেয় না তো ফাঁকি।

ইচ্ছেের পাখী সোহমকে বলে, আয়
আমার মতন উড়ে যাবি তুই দূর দূর!
ঘরকুনো হওয়া ভালো নয় একদম
ঘুরিস অনেক, শুনিস নতুনের সুর।


পেজে লাইক দিন👇


Comments

Post a Comment

Trending Posts

ড. সুকুমার মাইতি (গবেষক, শিক্ষক, প্রত্ন সংগ্রাহক, খড়গপুর)/ভাস্করব্রত পতি

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

খাঁদারাণী, তালবেড়িয়া, মুকুটমণিপুর ড্যামের নির্জনতা ও 'পোড়া' পাহাড়ের গা ছমছমে গুহা /সূর্যকান্ত মাহাতো

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সুন্দরবনের উপর গুচ্ছ কবিতা/ওয়াহিদা খাতুন