ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ৯৫

 ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ৯৫


সম্পাদকীয়,
স্কুলে স্কুলে বিভিন্ন বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ পাচ্ছে। কাগজে টিভিতে সোশাল মিডিয়ায় ছাত্র ছাত্রীরা একশোতে একশো নম্বর পেয়ে অভিনন্দন পাচ্ছে। যারা একশ পাচ্ছে না তারাও সবাই প্রায় নব্বই শতাংশ নম্বর পেয়ে পাশ করছে। এত নম্বর কিন্তু এমনি এমনি কেউ পায় না। তারজন্য তাদের সারা বছর পড়াশুনা করতে হচ্ছে মনে রেখো। তোমরা টুকাইএর মতো ছোটোবেলায় স্কুলে যাবার নামে কাঁদতে নাকি? টুকাই কে?  আসগার কাকুর দোকানের কাছেই থাকে। সেটা কোথায়? মুক্তি জেঠুর গল্প পড়ে জেনে নিও। আরে শুধুমাত্র বোর্ড পরীক্ষায় একশো পেতে গেলেই যে সারা বছর পড়াশুনা করতে হয় তা কিন্তু ভেব না। তৃষ্ণা আন্টির লেখা জয়াবতীর গল্প পড়ে জেনে নিও যখন স্কুলে যাবার বালাই ছিল না তখনও বদ্যি বাড়িতে রাত জেগে পুঁত্থি পড়া হতো। না পড়লে ওষুধ বানাবে কেমন করে? এই যে জ্বলদর্চির ছোটোবেলা একশো তম প্রকাশের দিকে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে এল এটা তো সহজে হয়নি। তোমরা সবাই সাহিত্য বন্ধুরা লিখে এঁকে পাঠ প্রতিক্রিয়া পাঠিয়ে ছোটোবেলার দপ্তরে পাঠিয়েছ, অন্যদের লেখা পড়েছো তবেই না এটা সম্ভব হচ্ছে। প্রত্যেক আনন্দের পিছনে পরিশ্রম লুকিয়ে থাকে। যেমন অপু দাদার তোলা আজকের প্রচ্ছদের ছবিতেই দেখ না। এক চাষিভাই ভাল চাষের আশায় ধান জমিতে সার দিচ্ছেন। তবেই না তিনি অঘ্রান মাসে গোলা ভরে ধান তুলতে পারবেন। অঘ্রান শুনে মনে পড়ে গেল পিঠে খাবার কথা। খাবার কথায় মনে পড়ে গেল শতদ্রু জেঠুর খাই খাই ছড়ার কথা। খাওয়া আর বেড়ানোয় যে খুব মজা তা কিন্তু ভেব না। মলয় জেঠু সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়িয়ে তোমাদের গল্প বলেন। তাতেও কিন্তু যথেষ্ট পরিশ্রম আছে। বিনা পরিশ্রমে কিছুই মেলে না বুঝলে? পীযূষ আঙ্কেল এবারে যাঁকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তাঁর জীবনী পড়লেও একথা মানতে হবে তোমাদের। তাই বলি অনেকটা না হলেও একটু সময় দাও পড়া আর লেখায়। কী পড়বে? কেন, ছোটোবেলার লেখাগুলো। পড়ে রাইলীদিদির মতো আমাদের পাঠ প্রতিক্রিয়া পাঠাও। অথবা প্রণিধি দিদির মতো চেনা অচেনা বন্ধুর গল্প লিখে পাঠাও। কিংবা অনুশ্রুতি, সায়নী, প্রীতিলতার মতো ছবি এঁকে পাঠাও। কেমন? --- মৌসুমী ঘোষ।



ধারাবাহিক উপন্যাস
জয়াবতীর জয়যাত্রা
সপ্তবিংশতি পর্ব
তৃষ্ণা বসাক

৩১
 
এত ভোরে কোনদিন ওঠেনি ওরা।  সেই যে মা আর পিতাঠাকুরের অসুখের সময় ভোর রাতে ওরা শিবমন্দিরের কাছের জংগলে গেছিল ওষুধ তৈরির লতা আনতে, তার পর  আর কোনদিন অত ভোরে ওঠা হয়নি। এ বাড়িতে কেউ  খুব ভোরে ওঠে না। ঠাকমা একদিন বলেছিল ‘বামুনের বাড়ি তো  নয়, যে ভোরে উঠে অং বং চং করতে হবে।  এখানে আমার ছেলে, তোদের সেনমশাই অনেক রাত অব্দি পিদ্দিম জ্বেলে পুথি ঘাটে। তা সে কী করে কাকভোরে উঠবে? কত রোগ ব্যামো লোকের, এত বড় বদ্দিও ঘোল খেয়ে যায়। তারপর জানিস তো, এই যে আমাদের দেশ,   সেখানে তো একরকম লোকের বাস নয়। সারা পিথিমি থেকে লোক এসেছে এখানে। এই মুঘল, তার আগে পাঠান, শক হুন –কত রকম জাত, তারা মিশে গেছে এ দেশে, মেশা  কি আর আটকানো যায় মানুষে মানুষে?  তার ফলে নতুন নতুন রোগও এসেছে এ দেশে নতুন নতুন মানুষের শরীরে চড়ে’
পানু ফস করে বলে ওঠে ‘সব রোগের কথাই পুথিতে লেখা আছে, পিতাঠাকুরের কাছে কত মোটা মোটা পুথি আছে, দেখনি বুঝি?’
জয়াবতী অমনি বলে ‘এই তোদের দোষ পানু, নিজের চোখের থেকে সবসময় পুথির কথা বেশি বিশ্বাস করিস। অরে ঠাকমা কী বলছে সেটা মন দিয়ে শোন। বলছে আমাদের দেশে প্রতিদিন নতুন নতুন রোগ নিয়ে আসছে অন্য দেশের মানুষ। কেউ আসছে নদীপথে বাণিজ্য করতে, কেউ আসছে ঘোড়ায় চড়ে যুদ্ধ করতে। এই যে নতুন নতুন রোগের ক্থা কী করে চারশ পাঁচশ বছর আগে লেখা পুথিতে থাকবে? তাই তো মাঝেমাঝেই নতুন নতুন পুথি লেখা দরকার, যেখানে আগের না জানা সব ব্যামোর চিকিচ্ছের কথা লেকা থাকবে। তাই না ঠাকমা?’
ঠাকমা কী বলে তার অপেক্ষা না করে সে হঠাত চেঁচিয়ে ওঠে। ‘ভাল মনে করালে ঠাকমা। সেই যে পিতাঠাকুরের অসুক করল, সেই ব্যামোটাও তো হতে দেকিনি আগে। বুজলি পুণ্যি তুই সে ব্যামোর সব লক্ষণ, চিকিচ্ছে, পথ্যি- সব পুথিতে লিকে রাকবি, একটা নতুন পুথি লিকবি নতুন নতুন ব্যাম নিয়ে’
‘আমি লিকব? মেয়েমানুষে পুথি লিকবে?’
‘বলবি তো কে কবে শুনেছে মেয়েমানুষে পুথি লেকে? তাই তো? শোন আমি হাজার একটা উদাহরণ দিতে পারি, কিন্তু দেব না। শোন রে, পিথিমির সবচে কঠিন কাজ হচ্ছে বাচ্চা পেটে ধরা আর মানুষ করা। সে কাজ যে পারে সে সব পারে, বুজলি? যে পুথির কালি তৈরি করে মেয়েমানুষ, সেই পুথিতে দু চারটে কতা লিকে দেওয়া কী এমন হাতিঘোড়া কাজ?‘
 ঠাকমা মাথা নেড়ে বলে ‘সত্যি কতাই বলেছে জয়াবতী। তবে শোন একটা কতা বলি। আমার এই শ্বশুরকুলেই ছিলেন এমন এক মেয়েমানুষ। তাঁর নাম অনঙ্গমঞ্জরী। সাত বছর বয়সে এসেছিলেন বিয়ে হয়ে, গৌরী দান যাকে বলে। তাঁর পিতৃকুলও নামকরা বৈদ্য বংশ, জন্ম থেকেই শুনে এসেছেন, রোগ ব্যাধি, ওষুধ পালা। তিনি ছিলেন আমার শ্বশুরের খুড়োমশাইয়ের ইস্তিরি’
শুনেই জয়াবতীর মাথা ঝিমঝিম করে ওঠে। না হবে তো একশ বছরের কতা হবেই নিয্যস।
সে বলে ‘তা তিনি কী করেছিলেন ও ঠাকমা?’
‘বুঝতেই পারছিস, সাত বছরে বে হয়ে আসা অনঙ্গ মঞ্জরীর অক্ষর জ্ঞানও ছিল না। তাঁর শাশুড়িও ছিলেন ভারি কড়া। মেয়েমানুষের লেকাপড়া ছিল তাঁর দু চক্ষের বিষ’
‘কেন ঠাকমা কেন? তিনি নিজেও তো ছিলেন মেয়েমানুষ।‘  পুণ্যি বলে।
জয়াবতী বলে ‘ আসলে কী জানিস পুণ্যি, ওই যে পেরজাপতিকে আপিম খাইয়ে  চিতেয় তুলতে যাচ্ছিল, ওর তো কোন হুঁশই ছিল না, তেমনি এ দেশের মেয়েমানুষকে বেটাছেলেরা সারাজীবন আপিম খাইয়ে রেকেছে- মেয়েমানুষ  লেকাপড়া শিকলে নাকি বিধবা হয়, সংসারের অকল্যাণ হয়- এসব মাতায় ঢুকিয়ে দিয়েচে। সবচে অকল্যাণ যে মেয়েমানুষের লেকাপড়া না শেকায়, তা এদের মাথায় কে ঢোকায়? ধর বাড়িতে কেউ নেই, ছেলেপিলের অসুক করেচে, বদ্যি ডেকে আনতেই আনতেই তো শ্বাস উটে যাবে। কিন্তু ঘরের মেয়েরা যদি পুথি পড়ে ওষুদ দিতে পারত, এই যে পুণ্যি পুথি পড়তে পারত বলেই না সবাইকে বাঁচাতে পারলাম আমরা’
পুণ্যির মনে হল, বাব্বা, বকতে পারে বটে গঙ্গাজল। ওর বকুনির চটে এত ভাল গল্পটা আর শোনাই হবে না।
সে ধমকে উঠে বলল ‘তুই থামবি? ও ঠাকমা তুমি বলতো অনঙ্গমঞ্জরীর গল্প’
‘হ্যাঁ রে তিনি ছিলেন প্রাতঃস্মরণীয়া এক নারী’
বাব্বা কী শক্ত কতা। জয়াবতী জিগ্যেস করতে যাচ্ছিল এর মানে কী? পুণ্যি তার গংগাজলের আঁতের কতা ভালই বোজে। সে চট করে বলল ‘প্রাতঃস্মরণীয়া মানে যাদের নিত্য দিন প্রাতে মানে সকালে উঠে স্মরণ মানে মনে করতে হয়’
জয়াবতীর চোক গোল গোল  হইয়ে গেল সে কতায়।
ঠাকমা আবার শুরু করলেন ‘শাশুড়ির চোকের আড়ালে রান্নাঘরে বসে মেঝেতে কাঠকয়লা দিয়ে তিনি অক্ষর মকশো করতেন, এমনি করে তিনি ধীরে ধীরে পুথি পড়তে শিকলেন, আড়াল থেকে শ্বশুরের চিকিচ্ছে সব দেখতেন শুনতেন তিনি। একদিন একটা কচি ছেলে নিয়ে এল দূরের  গ্রাম থেকে, যন্তনায় কাতরাচ্ছে সে ছেলে, শশুর ওষুধ দিয়ে কিচুই করতে পারচেন না, চোকের সামনে ছেলেটা মরে যাচ্ছে দেকে আর থাকতে পারলেন না অনঙ্গ মঞ্জরী, তিনি ঘোমটা টেনে বাইরে এসে বললেন, সবাই ভিড় করে দাঁড়াবেন না, বাতাস আসতে দিন, ছোট ছেলে, কোথাও কি কাঁচা আনাজ পাতি মুখে দিয়েছিল? পেটে পকা হয়েছে’ এই বলে খল নুড়িতে কী যেন মেড়ে খাওয়ালেন, খানিক পরেই ছেলে চোখ মেলল। সবাই তো  তাজ্জব, চারদিকে ধন্য ধন্য পড়ে গেল। কিন্তু শ্বশুর মোটেই খুশি হলেন না। পরে ভেতরে এসে ছেলেকে খুব বকলেন বউকে এতদূর বাড়ানোর জন্যে। ছেলে তো কিছুই জানত না। শুনে সে আশ্চর্য হয়ে গেলেও বাবার কথার উত্তরে বলল মানুষের প্রাণ বাঁচানো তো পুণ্যের কতা পিতাঠাকুর। এতে এত রাগ কেন? তার কথায় শান্ত হলেন পিতাঠাকুর। আর উৎসাহ পেয়ে অন্ঙ্গ পুথি লিখতে শুরু করলেন’
‘সে পুথি কোতায় ঠাকমা?’
‘আছে তোদের সেনমশাইয়ের কাছে। এই দেকেই তো তোদের চিকিচ্ছে শেকানোর এত উৎসাহ তোদের সেনমশাইয়ের’
কী কতায় কী কতা। হচ্ছিল ভোরে ওঠার কতা। আসলে ঠাকমা বলেছিল এ বাড়িতে রাত জেগে পুথি পড়ে শোবার চল, তাই অন্ধকার থাকতে কেউ ওঠে না। তবে ঘুম ভেঙ্গে গেলে বিছানা আঁকড়ে থাকা খারাপ, তাতে শরীরে অসুখ বাঁধে।
ঘোড়ায় যেতে যেতে এসব মনে পড়ছিল জয়াবতীর।
হঠাৎ একটা শোরগোল উঠল।
পুণ্যি চেঁচাচ্ছে না? পেরজাপতি মুচ্ছো গেছে, কী হবে গো? মাগো বাবাগো করে চেঁচাচ্ছে আর হাঁউ মাঁউ করে কাঁদছে পুণ্যি। ঘোড়ার রাশ টেনে লাফিয়ে নামে জয়াবতী আর ছুটতে ছুটতে যায় পাল্কির দিকে। পেছন পেছন আসে উমাশশী। কী হল আবার পেরজাপতির? দেশ দেখার আনন্দে ঝলমল করছিল তো পাল্কিতে ওটার সময়।


কান্না কেন
মুক্তি দাশ


‘ও আসগারকাকু, ছাগলটাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে টানতে টানতে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ গো?’

জমজমাট বাজারের মধ্যে আসগার আলির মাংসের দোকান। টুকাইদের বাড়ির সামনে দিয়ে প্রায় রোজই সে দোকানে যায়। শীতসকালের নরমরোদ গায়ে মেখে বারান্দায় বসে বসে ব্রেকফাস্ট সারছিল টুকাই। আজ রবিবার। ছুটির দিন। পড়াশুনোর বালাই নেই। সুতরাং ব্রেকফাস্টটা বেশ আয়েস করে খাওয়া যেতেই পারে। 

এমনসময় নজরে পড়ল বেশ পুরুষ্টু নধর একটা ছাগলের গলায় দড়ি পরিয়ে প্রায় হ্যাঁচড়াতে হ্যাঁচড়াতে নিয়ে যাচ্ছে আসগারকাকু। কোথায় যাচ্ছে?

আসগার বলল, ‘দোকানে যাচ্ছি গো টুকাইবাবু। আজ রোব্বার তো, বেজায় ভিড়ভাট্টা হবে। বাবাকে নিয়ে বেলার দিকে একবার চলে এসো না আমার দোকানে, তোমার পছন্দের মাংস দিয়ে দেব…মেটে, কিমা - যা তুমি চাইবে!’

বেয়াদপ ছাগলটা কিছুতেই যেতে চাইছে না। জোর করে টেনে নিয়ে যেতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে গোঁয়ারের মত রাস্তায় চার-পা সোজা করে দাঁড়িয়েও পড়ছে। আর সেইথেকে ক্রমাগত ব্যা ব্যা ব্যা ব্যা…!

টুকাই জানতে চাইল, ‘তো অমন ভ্যা ভ্যা করে কাঁদছে কেন গো ছাগলটা?’

নিষ্পাপ শিশুমনের সরল প্রশ্নে কসাই হয়েও খানিক বিব্রত বোধ করল আসগার। তারপর বলল, ‘ওকে যে একটুবাদেই কেটে ফেলা হবে, বেচারা বুঝতে পেরে গেছে বোধহয়! তাই...’

ঠোঁট উল্টে টুকাই বলল, ‘বাব্বা! তার জন্যে এত কান্না! আমি তো ভাবলাম, ইস্কুলে নিয়ে যাচ্ছ বুঝি!’


খাই খাই 
শতদ্রু মজুমদার 


খালি পেটে জল খায়  
ভরা পেটে ফলা 
মুখ খায়  মধু খায়  
খায়  কাঁচকলা !
মদ বেচে দুধ খায় 
দুধ বেচে মদ্য 
 গোল্লা খেয়ে বিষপান 
 কী নিদারুন  খাদ্য !
সাপ -ব্যাঙ -পোকা মাকড় 
অনেকের খাদ্য 
মনিপুরের হোটেলে বিড়াল বরাদ্য l
 গুল গুটকা  পান জরদা 
নেশার ঝোঁকে খায় 
এই  তালিকায় সাপের ছোবল 
কাল নেশা হায় !


ঘুষ খায় ঘুষি খায় 
কেউ খালি পেটে চাল 
দোল খায় খোকাখুকু 
টাল খায় মাতাল l  
ধোঁকা  খায় ধোঁয়া খায় 
খায় ডিগবাজি 
নুন খায় গুন গায় 
মহাজনের  কাজী !
ফল সহ খই দই 
খাদ্যের কী বাহার 
অনেকেই খেয়েছেন 
আদত ফলাহার !
গালি খায় গুলি  খায়
খায় হাবিজাবি 
কিল খায় খিঁচুনি খায় 
আরও যে খায় খাবি !

ধাক্কা -হোঁচট  -ঘুরপাক  
কত কী যে খায়
সবিস্তারে লিখেছেন 
সুকুমার রায় !

চেনা- অচেনা
প্রণিধি সাহা
নবম শ্রেণী
কালনা হিন্দু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
পূর্ব বর্ধমান


অনেকদিন আগে একটি গ্ৰাম ছিল। গ্রামের নাম ছিল সোনাঝুরি।গ্ৰামটি খুব ছোটো হলেও গ্রামের মানুষগুলোর মন ছিল খুব ভালো। সেই গ্ৰামে থাকত আকাশ‌‌ ও রিনিতা। তারা ছিল একে অপরের প্রিয় বন্ধু। আকাশের বাবা ছিলেন গ্রামের প্রধান আর রিনিতার বাবা ছিল শহরের বড়ো পুলিশ। আকাশ ও রিনিতা দুজনেই খুব মেধাবী ছিল। তারা সবসময়য় স্কুলে প্রথম স্থান অধিকার করত। তাদের এই মিষ্টি বন্ধুত্বের সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়াল রিনিতার বাবার চাকরির বদলি। তার বাবা বদলি হয়ে দিল্লীতে চলে যাবেন সঙ্গে রিনিতা ও তার মা ও যাবেন। আকাশের খুবই মন খারাপ হয়ে গেল এই সব শুনে। তারা দুজনে একসঙ্গে  একটা‌ বট গাছ লাগালো এবং সেই‌ খানে দাড়িয়ে শপথ নিল যে ," ‌পনেরো বছর পর আবার তারা এই  গাছের নীচেই দেখা করবে। " এরপর রিনিতা গ্ৰাম ছেড়ে চলে গেল। মাঝে কেটে গিয়েছে বেশ কয়েক বছর। গ্ৰামের সেই ছোটো বট চারাটাও এখন বৃক্ষে পরিণত হয়েছে।  রিনিতা এখন দিল্লী মেডিক্যাল কলেজে চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী। কিন্তু আকাশের জীবনে বয়ে গেছে অনেঅ বড় ঝড়।রিনিতারা এখান থেকে চলে যাওয়ার মাস ছয়েকের মধ্যেই আকাশের বাবাও মারা যান‌। সংসারের হাল ধরতে গিয়ে  পড়াশোনাও ছাড়তে  বাধ্য হয়। তারপর সে একটা ছোট্ট মুদিখানার দোকান খোলে।  আকাশের দোকানটা ছিল‌ সেই বট গাছটার পাশে। ইতিমধ্যেই  পনেরো বছর পূৰ্ণ হয়েছে৷ রিনিতা আজ গ্ৰামে এসেছে সঙ্গে তার এক বান্ধবী।  আকাশ‌ রিনিতাকে দেখার জন্য খুবই উৎসুক ছিল। আকাশের দোকানের পাশে একটা চায়ের দোকান ছিল। রিনিতা সেইখানে আকাশের জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। দু ঘন্টা কেটে যাওয়ার পরেও আকাশ এলো না। রিনিতার বান্ধবী তাকে বলল যে হয়তো " আকাশ‌ তোকে ভুলে গিয়েছে বা ওরাও এখানে থাকে না "। রিনিতা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিল না তার বান্ধবীর কথা। তারপর সে আশেপাশের লোকজনের কাছে আকাশের খোঁজ করতে লাগল। খোঁজ করতে করতে সে আকাশের দোকানে গিয়ে পৌঁছালো। সে আকাশকে বলল ," এই গ্রামের পুরোনো প্রধানের ছেলেকে চেনেন"? এই কথা আকাশ নিজের পরিচয়‌ দিল‌‌ রিনিতার কাছে। আকাশের পরিচয় শুনে রিনিতা খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়ল। আকাশ‌ও খুব খুশি হলো। এরপর তারা দুজনে মিলে একসঙ্গে অনেক গল্প করতে লাগল। আকাশ‌ রিনিতাকে  তার সাথে ঘটে যাওয়া সমস্ত  কিছু খুলে বলল।রিনিতা সব শুনে খুবই  কষ্ট‌ পেল। তারা একসঙ্গে  অনেক গল্প করল কিন্তু রিনিতা তার প্রিয় বন্ধু আকাশ‌কে যেন খুঁজে পেল না তার সামনে বসে থাকা আকাশের  মধ্যে। তার মনে হল ," পনেরো বছরে যেমন‌ বট চারাটাও বৃক্ষে পরিণত হয়েছে ঠিক তেমনই  তার চেনা বন্ধুটিও আজ তার কাছে অচেনা হয়ে গিয়েছে"। সে মনে মনে ভাবল যে হয়তো আকাশের বাবার  এই হঠাৎ চলে যাওয়াই হয়তো আকাশের পরিবর্তনের কারণ।


ধারাবাহিক ভ্রমণ
হিমবাহের ঘাড়ের উপর
পর্ব ৩

মলয় সরকার


শেষে দেখলাম,একটা  জায়গার পরে আর গাড়ি যেতে দেওয়া হবে না বলে লেখা আছে।সেখানে গাড়ি রেখে টিকিট কাউণ্টারের কাছে গিয়ে টিকিট কাটতে হল। এখান থেকেই দেখা যাচ্ছে দূরে আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্যের উপস্থিতি।

আমরা গিয়েছিলাম যে হিমবাহটা দেখতে তার নাম মাতানুষ্কা হিমবাহ বা মাতানুষ্কা গ্লেসিয়ার। 

কবে থেকে বইয়ে পড়েছি হিমবাহের কথা। আসলে এটা যে কি বস্তু, সেটা সম্বন্ধে সঠিক ধারণাটা কিন্ত আমার ছিল না।
তোমাদের কার কার আছে জানি না। আগে বলে নিই, আমি কি ভাবতাম।
শুনেছিলাম হিমবাহ হল, বরফের নদী।তাই আমি ভাবতাম, পাহাড়ের দেশে যে সমস্ত ঝরণা বা নদী শীতকালে জমে যায়, তাদেরই বুঝি গ্লেসিয়ার বলে। পাহাড়ের রাস্তায় পাহাড়ের গায়ে, দূর থেকে বা কাছ থেকে এরকম অনেক জমা ঝরণা বা নদী দেখেছি। ভাবতাম, সেগুলোই বুঝি গ্লেসিয়ার। দেখি, সব ভুল।সব ভুল।আমার সব ধারণা ভেঙ্গে চৌচির!!

প্রথমে বলি, হিমবাহ বা গ্লেসিয়ার কি, যা আমি বুঝলাম। গ্লেসিয়ার হল, একটা বরফের গভীর নদী। পাহাড়ের গা দিয়ে যেমন ,এখান ওখান থেকে গড়িয়ে আসা জল একসঙ্গে হয়ে ধারা বড় হতে হতে ঝরণা হয়ে এগোতে এগোতে নদীতে পরিণত হয়, এটা মোটেই তা নয়।আবার এটা, রাইন কি ভল্গা বা ওহিও নদীর মতও নয় যে শীতে জমেছে, গরমে আবার গলে জল হয়ে যাবে।এই সব গ্লেসিয়ার কবে তৈরী হয়েছে বলা মুস্কিল।এগুলো এই ভাবেই সেই, সৃষ্টির আদিম যুগ থেকে, বরফ যুগ থেকে তৈরী হয়ে আছে, একটা বয়ে চলা বরফের নদী। 

 তোমরা বলবে, জমা বরফ আবার চলে নাকি! হ্যাঁ, সত্যি সত্যিই চলে। জমা অবস্থাতেই ও চলছে। নদী যেভাবে এগোয়, সে ভাবেই এঁকে বেঁকে এগোচ্ছে। আর সামনে যা কিছু পাচ্ছে, তাকে এর প্রচণ্ড চাপে আর শক্তিতে ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে সমান করে চাপা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।যা ওর পায়ের তলায় বা নীচে পড়ে, এত চাপের চোটে তা সমান হয়ে যায়। ফলে, আজকের পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গার যা গঠন, তা অনেক কিছুই অতীতের গ্লেসিয়ারের এগিয়ে চলার চাপে তৈরী হয়েছে। আমেরিকার নিউ ইয়র্কের কাছে ছোট বড় মিলিয়ে এগারোটা লম্বা লম্বা লেক আছে, যাদের একসঙ্গে বলে' ফিঙ্গার লেক' (হাতের আঙ্গুলের মত দেখতে), সেগুলোও নাকি অতীতে এই গ্লেসিয়ারের এগিয়ে চলার চাপে পড়েই তৈরী হয়েছিল।

 এবার বলি, এই বরফের নদীর গতি কেমন। গতিবেগ কিন্তু খুব খারাপ নয়।এই মাতানুষ্কা হিমবাহের গতি প্রতিদিন প্রায় একফুট। অর্থাৎ এক বছরের মধ্যে ও পৌঁছে যাবে ৩৬৫ ফুট দূরে। রাস্তায় সমস্ত জিনিস, তা পাথর, ঘর বাড়ি, গাছপালা যাই থাকুক, এক বছরের মধ্যে তাকে পিষে সমান করে সেখানে এগিয়ে যাবে।সবাই সব সময় যে এই গতিতেই চলে তা নয়। এরা তো মাধ্যাকর্ষণের ফলে এগোয়।এবার সেটা যেখানে যেমন, সেখানে তেমন ভাবেই হয়।তবে এই সমস্ত গ্লেসিয়ারের সাধারণ গড় গতিবেগ দিনে এক মি বা তিন ফুট মত হয়। তবে এমনও গ্লেসিয়ার রয়েছে গ্রীণল্যাণ্ডে যার গতিবেগ দিনে ৭০-৮০ ফুট পর্যন্তও হতে পারে। এই গতিবেগের জন্য ও এর বিশাল চাপের ফলে কোন কোন জায়গায় ভূমিকম্প পর্যন্ত হতে পারে।

 নদী, যেমন, তোমার সামনে এগিয়ে আসছে, সেরকমটা তুমি দেখতে পাও না; ওটা বয়ে চলেছে দেখতে পাও, এটা কিন্তু তা নয়।এর মুখে আমরা হাজির হয়েছিলাম, যেদিকে ও এগোচ্ছে সাপের মত, ঠিক সেই খানে; ঠিক যেন সাপের মুখের সামনে হাজির হয়েছি।
এটা চলেছে এর খুশীমত, পাহাড়ের ফাঁক দিয়ে নিজের সুবিধা মত রাশি রাশি জমা বরফ নিয়েই।খুব ধীরে ধীরে এই বরফ গলছে আর সেই গলা জল এর সামনে থেকে বেরিয়ে এসে তৈরী হচ্ছে নদী।একটা নদী যেমন তিন চার মানুষ বা বেশি গভীর হয়,সেরকম এটাও অনেক গভীর। অর্থাৎ মাটি থেকে এর বরফের উচ্চতাও অনেকখানি। আমেরিকাতে অবশ্য আরও অনেক হিমবাহ আছে। আর একটা কথা জানলে হয়ত আশ্চর্য লাগবে যে, পৃথিবীর মধ্যে মেরু প্রদেশ বাদ দিলে পাকিস্তানেই আছে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি হিমবাহ, ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় সাত হাজারেরও বেশি।



 এবার আসি মাতানুষ্কা গ্লেসিয়ারের কথায়, যেটার মুখে হাজির হলাম,  টিকিট কেটে গাড়ি রেখে।টিকিট কাউন্টারের পরে টিকিট দেখিয়ে একটা ছোট ঘেরা পেরিয়ে নেমে এলাম মাতানুষ্কার পায়ের তলায় বা মুখের সামনে। তখনই মনে হল, আর কয়েক বছর পরেই ও এগিয়ে এসে এই টিকিট কাউণ্টারও তো ভেঙ্গে এগিয়ে যাবে।তার আগেই হয়ত টিকিট ঘরও সরে যাবে।মাতানুষ্কার মুখের সামনেই রয়েছে আরাম করে বসে চা বা খাবার খেতে খেতে সামনের দিকে তাকিয়ে এর সৌন্দর্য্য উপভোগ করার জন্য সুন্দর টেবিল চেয়ার।

 (ক্রমশ)


স্মরণীয়
(গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য)
কলমে - পীযূষ প্রতিহার

    ১৮৯৫ খ্রীষ্টাব্দের ১লা আগষ্ট বর্তমান বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার লোনসিং নামক গ্রামের এক দরিদ্র ব্রাহ্মন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য। তাঁর পিতা ছিলেন অম্বিকাচরণ ভট্টাচার্য ও মাতা শশীমুখী দেবী। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে পিতাকে হারিয়ে অসীম দারিদ্রের মধ্যে শৈশব কাটান। ১৯১৩ সালে গ্রামের লোনসিং বিদ্যালয় থেকে জেলার মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে আই এ ক্লাসে ভর্তি হলেও অর্থের অভাবে পড়াশোনা সম্পূর্ণ করতে পারেননি। এরপর লোনসিং স্কুলেই কিছুকাল শিক্ষকতা করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি বিভিন্ন পালাগান ও সারিগান জাতীয় লোকসঙ্গীত রচনার মাধ্যমে সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে পদার্পণ করেন। এ সময় তিনি কয়েকটি হাতে লেখা পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। ১৯১৭ সালে 'শতদল' নামক একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতে শুরু করেন তিনি। তিনি বিজ্ঞান ক্লাব গড়ে তুলে হাতেকলমে বিজ্ঞান শিক্ষায় জোর দিতে চেয়েছিলেন।
    ১৯১৮ খ্রীষ্টাব্দে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সময় 'জ্যৈবদ্যুতি' নামক একটি প্রবন্ধ 'প্রবাসী' পত্রিকায় প্রকাশিত হলে তা জগদীশচন্দ্র বসুর নজরে আসে। তিনি গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্যকে তাঁর সদ্য প্রতিষ্ঠিত বসুবিজ্ঞান মন্দিরে নিয়োগ করেন।

    ১৯৩২ খ্রীষ্টাব্দে গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্যের উদ্ভিদের জীবনের উপর লিখিত প্রথম প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। এরপর নানা ধরনের প্রবন্ধ লিখে প্রকাশ করার পাশাপাশি তিনি আলোকচিত্র গ্রাহক হিসেবে নানারকম কীটপতঙ্গের ছবি তোলার কাজে দক্ষ হয়ে ওঠেন। ১৯৪০ খ্রীষ্টাব্দ থেকে কীটপতঙ্গের নানান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিখুঁত ভাবে খুঁটিয়ে পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন। এইসব পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা বিষয়ক বাইশটি গবেষণা পত্র ন্যাচারাল হিস্ট্রি সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ১৯৫১ খ্রীষ্টাব্দে ভারতবর্ষের সামাজিক কীটপতঙ্গের ওপর তাঁর গবেষণা সম্বন্ধে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য প্যারিসের ইন্টার ন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর দ্য স্টাডি অব সোশ্যাল ইনসেক্টস নামক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ডাক পান। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তেমনভাবে না থাকায় নানাবিধ বাধাবিপত্তির সম্মুখীন হন।

    ১৯৪৮ খ্রীষ্টাব্দে গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে 'বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ' প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করেন। পুলিন বিহারী দাসের সঙ্গে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে বিজ্ঞান জনপ্রিয় করার কাজে যোগ দেন। ১৯৫০ সালে তিনি বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদের পত্রিকা 'জ্ঞান ও বিজ্ঞান' এর সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি 'ভারতকোষ' নামক বাংলা ভাষায় একটি বিশ্বকোষ রচনাতেও সহযোগিতা করেন। 

    বিজ্ঞান সাধনার পাশাপাশি বিজ্ঞান বিষয়ক লেখালেখিতেও গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য ছিলেন সিদ্ধহস্ত। এখনো পর্যন্ত তাঁর ১৬টি প্রকাশিত বই এর নাম জানা যায়। 'জ্ঞান ও বিজ্ঞান' পত্রিকার গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য স্মরণ সংখ্যার তথ্যমতে তাঁর মোট লেখার সংখ্যা হাজার খানেকের মতো। প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- 'আধুনিক আবিষ্কার', 'বাংলার মাকড়শা', 'করে দেখ'(১ম ও ২য় খন্ড), 'বাংলার কীটপতঙ্গ', 'আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু', 'মনে পড়ে'(আত্মজীবনী), 'পশু পাখি কীট পতঙ্গ' ইত্যাদি।

    গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য ১৯৬৮ সালে তাঁর লেখালেখির জন্য আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন। 'বাংলার কীটপতঙ্গ' বই টি রচনার জন্য ১৯৭৫ খ্রীষ্টাব্দে রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন তিনি। ১৯৮১ খ্রীষ্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সাম্মানিক ডি এসসি ডিগ্রি প্রদান করে। ২০০৫ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিজ্ঞান জনপ্রিয় করার জন্য গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য স্মৃতি পুরস্কার চালু করে।
    ১৯৮১ সালের ৮ এপ্রিল এই মহান পতঙ্গবিদ, গবেষক ও লেখক মানুষটির জীবনাবসান হয়।


পাঠ প্রতিক্রিয়া
(ছোটোবেলা ৯৪ পড়ে রাইলী সেনগুপ্ত যা লিখল)

শুনো শুনো শুনো সবে, শুনো দিয়া মন,
যদি চাও শৈশব, করো এবার পন,
রাঙা হাসি,আলো মাখা ছোটোবেলা নিয়ে,
জ্বলদর্চিকে আবারো দিয়েছে সাজিয়ে।
হাতে নিয়ে ম্যাগাজিন,পেলে টিকিটখানি,
একছুটে ছোটোবেলা,বেড়িয়ে আসতে জানি।
'জয়াবতীর জয়যাত্রা'য় ঘুরে ফিরে এসে,
সতর্কতা জানান দিল, রঙের ক্যানভাসে।
তারাদের দেশ থেকে মাকে ডেকে এনে,
জল ছিপছিপ মনটি কেবল মায়ের কোল চেনে।
মনকেমনের মেঘ সরিয়ে, হাজির হলেন গণেশ ,
সাথে তার রামধনু রং আর খুশি খুশি আবেশ।
জলের খেলায়, মেঘের ভেলায়, হাসির জড়িবুটি,
পড়তে গিয়ে আবার হবে,
স্মৃতির লুটোপুটি।
জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে হিমবাহের ঘাড়ে,
শব্দেবর্ণে ভেসেই গেছি,আলাস্কার পাড়ে।
'বায়োস্কোপের বাক্স' ঘিরে অরূপ সে মুখ ভাসে,
শব্দসুতোর শ্রদ্ধা গাঁথায়, মহাশ্বেতা দেবী হাসে।
ছোটোবেলা উঁকি দেয়, সুদীপ্তা'র লেখায়,
ভালোবাসার আঁখর থাকে, জ্বলদর্চির পাতায়।

সবশেষে বলি আবার,শুনো দিয়া মন,
যদি চাও ফিরে পেতে 'ছেলেবেলা'র ইস্টিশন,
হাতে নিয়ে জ্বলদর্চি আর আঁজলা ভরা দুখ,
দু'হাত ভরে পাবে ফিরে, খুশির পেনশন।

অফুরান শুভেচ্ছা রইলো। অসংখ্য ধন্যবাদ জ্বলদর্চি'র সম্পাদিকাকে....


আরও পড়ুন 
জ্বলদর্চি পেজে লাইক দিন👇
 

Comments

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

মহাভারতের স্বল্পখ্যাত চার চরিত্র /প্রসূন কাঞ্জিলাল

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা -১০৯