রম্য কবিতা, পর্ব-১২/তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায়

রম্য কবিতা, পর্ব-১২

তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায়

(১)
একপাটি দস্তানা

বরফেতে ওপরেতে কার দস্তানা ওই?
পড়ে তাও একপাটি দেখেতো অবাক হই!
যেন কাটা হাত কারো, অনাদরে, অসহায়,
প্রভু অসতর্ক না এ হারানো তারই দায়!
আকাশের দিকে চাওয়া তালু তা’র যেন হায় -
অতি সত্বর কারো হাতে ধরা দিতে চায়।
আঙুলে জড়ালে তবে না জীবন ধন্য,
মানুষেরই দেওয়া রূপ, হাতেরই তো জন্য।
কে জানে আরেক পাটি ঘরে ফিরেছে কিনা!
নাকি এরই মতো সেও পড়ে আছে, শ্রীহীনা।
সেওতো এখন আছে এরই মতো একাকী,
সাথীহারা, করছে সে নীরব ডাকাডাকি।
বেহাত হোক না হোক, তারও প্রয়োজন শেষ,
একসাথে পড়া হলে, ছুঁয়ে থাকা যেতো বেশ।
যার দস্তানা আর এ পথে সে বাঁকবে?
ফের কুড়িয়ে কি তাকে পকেটেতে রাখবে?


(২)
ভাঙাভাঙি

পার ভাঙা নদীটার বাঁধের গায়ে যে গ্রাম,
লাগানি ও ভাঙানিতে খুব সে করেছে নাম।
পাইকার হয়নাকো খুচরো দোকানদার,
থোক টাকা টেকেনাকো, টাকে হাত সব্বার।
সম্পর্করা সেথা ভেঙে হয় খান খান,
তরতাজা প্রেমিকেরা পালিয়েই পার পান।
সে আকাশে ঢুকে মোটা মেঘ- ভাঙা ভাঙা হয়,
ঢোল, বোল ভাঙা ভাঙা, একটাও গোটা নয়।

ভাঙন ঠেকাতে চায় তবু কিছু সাধু লোক,
সতর্ক তারা, সারা গ্রামেই রাখছে চোখ।
“গোটা-পক্ষ” নামেতে খ্যাত তারা প্রহরী,
পার বাঁধিয়েছে যাতে না ভাঙে তা লহরী।
ভাঙন রুখতে ছোঁড়ে মিঠে কথা আঠালো,
কিলিয়ে পাকায় প্রয়োজনে আম-কাঁঠালও।
তবু ভাঙা-ভাঙা আসে তোতলার বাক্য,
জোড়া না লাগা কথারা থাকে নিরুপাখ্য।

যাইহোক, ল্যাজা-ভাঙা বাড়িটায় কখনো?
গেছো নাকি? সে কথাতো বলিইনি এখনো।
কাঁচভাঙা জানালার পিছে কানভাঙানি-
দিতে গিয়ে ধরা পড়ে খেয়েছে যে ঠ্যাঙানি,
তার দাঁত-ভাঙা বর গম ভাঙে বাড়িতে,
ভুল করে আটা ফেলে পাট-ভাঙা শাড়িতে-
গিন্নির মন-ভাঙে রোজ রোজ বহুবার;
মান ভাঙে কি না ভাঙে সে কথা ভাঙেনি আর।
ভাঙা কপালের জের আজো বয়ে চলেছে,
পাথর ভাঙত আগে- আমাকে সে বলেছে।
খুব ভোরে ভেঙে ঘুম, জলকাদা ভেঙে হায়,
যেতে হতো হাড়-ভাঙা খাটুনির যে ডেরায়-
ঘাড় ভেঙে শ্রমিকের সেথা প্রভু দিতো ডুব,
তাতেই ভাঙল গলা, স্বাস্থ্য ভাঙল খুব।
খাদানের তহবিল ভেঙে রাতে লুঠতে,
ক’জনেতে সিঁড়ি ভেঙে ওপরেতে উঠতে-
গিয়ে ভেঙে সিঁড়িটাই পা ভাঙতে গেলো কাজ,
জমা টাকা ভেঙে ফাঁকা হলো ব্যাঙ্ক ও দেরাজ।

বাপের নাম না ভাঙা, ভাঙাচোরা জীবনের,
কতো পথ ভেঙেছে সে অভাব-অনটনের।
আকাশ ভেঙে কখনো পড়েনিকো অর্থ!
চাকরি টিকতোনাকো, বারেবারে ব্যর্থ।
শিং ভেঙে বাছুরের দলে পরে দিলো যোগ,
রাজনীতি সোজা নাকি? সেখানেও দুর্ভোগ।
শুরুতে বুঝতো নাকো, ভয় ভেঙে তারপর,
ভাঙতে হয়েছে তাকে আইনও যে পরপর।
পরের গাছের ডাল, দিব্যি দেওয়াল কতো,
ভেঙেছে দলের হয়ে বুলডোজারের মতো।
সে দলই ভাঙতে পরে বাজ ভাঙে মাথাতে,
ভাঙাভাঙি পোষালো না সংসার পাতাতে।
বিষাদ যাবেনা নাকি বলেছিলো গুণিনেও,
জোড়া লাগলোনা ভাঙা কপাল এদ্দিনেও।
মনের গহীনে তবু গোটা আছে প্রত্যয়,
চলাই ধর্ম, হোক না হোক ভাগ্যোদয়।


(৩)
বারণ কোরো প্রেম করতে

এখন বয়স কোথা? মাধ্যমিকটা দিক!
নাকে দড়ি দেবে ফের উচ্চ-মাধ্যমিক।
এ বয়স কাঁচা খুব, ও বয়সে দোলাচল,
বাবা-মা যা বলে ভুল লাগে, মন চঞ্চল।
যে -‘মহাবিদ্যালয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ে,
রাজনীতি হয়, নয় লেখাপড়া’- সেই ভয়ে -
থাকি সর্বদা, তায় সহবাস, পরবাস,
বারমুখো হতে পারে- এতোই সমুচ্ছ্বাস।
বারোটা বাজবে প্রেমে খায় যদি ধাক্কা,
কি হবে? কি হতে চায়? কতো বায়নাক্কা!
দেখোই না চরাচরে স্ত্রীলোকেরই সরকার!
তাই বলি পেশা নিয়ে ভাবা তার দরকার।
দেখে-শুনে বিয়ে দিলে তবে যাবে বর্তে,
এখন বারণ কোরো প্রেম-টেম করতে।

পেজে লাইক দিন👇

Comments

  1. বারণ করোনা প্রেম করতে।

    ReplyDelete
    Replies
    1. বেশ, করবোনা বারণ।

      Delete
  2. খুব ভালো

    ReplyDelete
    Replies
    1. ধন্যবাদ।

      Delete
  3. সুন্দর

    ReplyDelete
    Replies
    1. ধন্যবাদ।

      Delete
  4. তিনটি কবিতায় দুর্ধর্ষ।

    ReplyDelete
  5. ধন্যবাদ।

    ReplyDelete

Post a Comment

Trending Posts

ড. সুকুমার মাইতি (গবেষক, শিক্ষক, প্রত্ন সংগ্রাহক, খড়গপুর)/ভাস্করব্রত পতি

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

খাঁদারাণী, তালবেড়িয়া, মুকুটমণিপুর ড্যামের নির্জনতা ও 'পোড়া' পাহাড়ের গা ছমছমে গুহা /সূর্যকান্ত মাহাতো

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সুন্দরবনের উপর গুচ্ছ কবিতা/ওয়াহিদা খাতুন