চারটি কবিতা / শুভশ্রী রায়
সোনা, মা ও ক্ষিদে
সোনা, এখন তোর পেটে কী অনেক ক্ষিদে?
জানি যখনতখন এরকম পেলে অসুবিধে!
সোনা, তোর সামনে যদি রেখে দিই পৃথিবী,
বল দেখি, ঠিক কী কী দিয়ে দুনিয়াকে খাবি?
সোনা, তুই কুড়িয়ে রেখে দে মশলা বাজারী,
আমি ভিক্ষে করে দুনিয়াকে করব হাজিরই।
ফিরে মা-সন্তান পৃথিবীকে পাক করব সুস্বাদু,
পেটে চুলো, ক্ষিদে আগুন আর রান্নার জাদু!
দিনের ভাঁজ
মুদ্রিত বর্তমানের ভাঁজ খুলি,
হাতে রক্ত লেগে যায়, লম্বা নিশ্বাস ছাড়ে শোকার্ত যুগ,
শিরোনামে চোখ বুলোই-
মানুষকে বিশ্বাস করব না কি করব?
ভাবি.....
তারই মধ্যে খবরের বাইরে থেকে
একটা পাখী ঘরে ঢুকে পড়ে,
তার দৈব ডানায় আতঙ্ক বলে কিছু নেই,
জানলা দিয়ে চোখে পড়ে হই হই আলোর মধ্যে
পেছন দিকের কদম গাছের ডালে
প্রজাপতি দিব্যি দোল খাচ্ছে;
এত হিংসা সমস্ত দিকে, কিচ্ছু জানে না এরা।
এই পাখী এই প্রজাপতির মতো হাল্কা মুহূর্তগুলো
রাজনীতি বহির্ভূত,
শিরোনামে নেই ।
দিনের ভাঁজ খুলি, চোখ এই সব পড়ে.......
বেঁচে থাকাকে জীবন মনে হয়।
অনির্ণেয়
নির্ণায়ক সময় এলে
মন্দ না ভালো,
কোন বিভাগে রাখবে আমাকে?
বুকে সারি সারি ক্ষত,
যারা নুন ছিটিয়েছে তাদের জন্যই শীতলতম পানীয়
বারবার তৈরি করে নিয়ে গেছি,
গলায় পাঠিয়ে তারা আমারও স্বাদ ধার্য করতে চেয়েছে,
গায়ের রঙ দিয়ে বাঁধতে চেয়েছে আমার অনন্ত আত্মাকে; জানো কি এ সব তুমি?
প্রজল্পবিলাসী জীবন, আমাকে তুমি কতখানি চিনেছ !
ধারাবাহিক যন্ত্রণা ঢাকি লোকসম্মত হাসি দিয়ে,
নিজের অন্ধকার জ্বালানি করে আলো জ্বালি,
শূন্যবার তুমি প্রদীপ ধরেছ সামনে;
আলেয়া অসংখ্য।
ভ্রমজীবন
স্বপ্নে পাওয়া বেদনা, তাকে কষ্টে পালন করি,
সাপের মতো সিঁড়ি বেয়ে উঠি নামি তড়িঘড়ি।
পূর্বাপর ইচ্ছে বিছিয়ে থাকেই সচল পথ হয়ে,
মার্গের ওপর হাঁটাচলায় পদক্ষেপ যায় ক্ষয়ে।
অয়ন যেখানে আরম্ভ সেখানে বসে থাকে ধূসর,
পথ কোথাও শেষ হয় না এমন বিস্তৃত পরিসর!
মোহদৃষ্টি সদাসঙ্গী ইচ্ছেপথ দিয়ে হাঁটার সময়,
গন্তব্যে পৌঁছে গিয়ে দেখি আমার অভীষ্ট নয়!
আবার হাঁটা শুরু, ইচ্ছে পেয়ে গেছে জন্ম ফের,
ভ্রমজীবন ইচ্ছা থেকে ইচ্ছান্তরে যাতায়াত ঢের।
2 Comments
শুভশ্রী রায় এর কবিতা গুলো খুব মন ছুঁয়ে গেল!
ReplyDeleteশুভশ্রী রায় এর লেখা গুলো মন ছুঁয়ে গেল!
ReplyDelete