অনামিকা তেওয়ারী
কুহকিনী
শেষ রাতের শিথিল ঘুমে ডেকে ওঠে অনির্বাণ, “পিউ, জলের বোতলটা দেবে? পিউ!" দ্বিতীয়বারের ডাকটা কেড়ে নেয় অনির্বাণের বাকি ঘুমটুকুও । সচকিত হয়ে বিছানায় উঠে বসে পাশেই উনিশ বছর ধরে আরেকটা মানুষের শোয়ার জায়গাটার দিকে তাকাতেই একরাশ শূন্যতা পুনরায় ঘিরে ধরে অনির্বাণের সমস্ত মনকে । বাকি রাতটা ঘুমের সাথে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। একমাত্র ছেলে এখন হোস্টেলে। ভোরের আলো ফুটে ওঠার সাথেসাথে নিয়মমাফিক বেজে ওঠে অ্যালার্ম। অভিশপ্ত ট্রেন দুর্ঘটনার পর থেকে কয়েকমাস হল পিউ আর ডেকে তোলেনা অনির্বাণকে।
খোলা জানালার গ্রিলের ফাঁক গলে এক ফালি রোদ এসে লুটিয়ে পড়ে মেঝেতে। আলোর প্রতিফলনে ঝলমল করে ওঠে পশ্চিমের দেয়াল জুড়ে পিউয়ের হাসিমাখা ছবিটি।
🍂
প্রয়োজন
“তারপর বলো, কিছু দরকার ছিল?” কথোপকথনের মাঝেই ফোনের ওপার থেকে মিষ্টি গলায় অনিমা বলে , “ প্রয়োজন ছাড়া কি ফোন করতে নেই বিপুল দা? এখানে এসেছো শুনে এমনিই ফোন করলাম।”
দীর্ঘসময় যাবৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় অনিমার সাথে একান্ত আলাপচারিতায় মেতে ওঠে বিপুল।
তথ্য সংস্কৃতি আধিকারিক হিসেবে অনিমার শহরে এসেছে মাস কয়েক আগেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সাথে অনুরাগের পর্বটি অসম্পূর্ণ রেখেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিল অনিমা।
বিপুল জানতে চায়, “ কী করো এখন?”
অনিমা বলে ওঠে, “ নাচের স্কুল খুলেছি। আসছে মেলায় একটা সরকারি অনুষ্ঠান পেতে পারি?”
অনিমার মুখের ওপর হ্যাঁ-না কোনোটাই বলতে পারেনা বিপুল। শুধু বলে, “ অফিসে এসো, দেখছি”।
0 Comments