সজল কুমার মাইতি
পর্ব ১
বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল ২০২৫ এই বছরের ডিসেম্বর মাসে সংসদৃর শীতকালীন অধিবেশনে পার্লামেন্টে পেশ করা হয়। স্বল্প আলোচনার পর বিলটি যুক্ত সংসদীয় কমিটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে এই কমিটিকে তাদের রিপোর্ট আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের বাজেট অধিবেশনৃর সময় সংসদে পেশ করতে হবে। যার অর্থ হলো এই কমিটি সময় পাবে মেরে কেটে দু থেকে আড়াই মাস। আটচল্লিশ পাতার এই বিলে নয়টি চ্যাপ্টার ও পঞ্চান্ন টি ক্লজ আছে। এই শিক্ষা বিলে ভারতের সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসাবিদ্যা শিক্ষা বা মেডিক্যাল শিক্ষা ও আইন শিক্ষা এই বিলের আওতায় আসছে না।
বিলের ভূমিকা
বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিলের শুরুতে এর উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে:
দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে পঠন, পাঠন, গবেষণা ও উদ্ভাবনী বিষয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করতে সক্ষম ও ক্ষমতায়ন করা।
উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির শিক্ষা, গবেষণা, এবং বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠানগুলির মান নির্ধারণ করা।
সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে স্বাধীন ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের অধিকারী হতে সাহায্য করা।
স্বচ্ছ ও যোগ্যতম স্বীকৃতির মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব প্রাপ্তির প্রসার ঘটানো।
বিলের পরিধি
এই বিলটি পার্লামেন্টে পাসের পর এর পরিচিতি হবে বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান আইন ২০২৫। অবশ্যই এর জন্য সরকারি গেজেটে এর নোটিফিকেশন করা হবে। এই বিলটি নিম্নলিখিত প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য প্রযোজ্য।
১) ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রকের অধীন এবং পার্লামেন্ট অনুমোদিত আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত জাতীয় গুরুত্বের সকল প্রতিষ্ঠান।
২) পার্লামেন্ট দ্বারা অনুমোদিত ও কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক সরকারি গেজেটে বিজ্ঞাপিত জাতীয় গুরুত্বের অন্য সব প্রতিষ্ঠান।
৩) কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার অনুমোদিত সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি আয়োগ অনুমোদিত, কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রকের অধীন উচ্চ শিক্ষা বিভাগ বিজ্ঞাপিত অন্য যে সকল প্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম মর্যাদা (ডিমড ইউনিভার্সিটি) হিসাবে গন্য করা হয়েছে।
৪) এই আইনের অধীন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অভিভুক্ত কলেজ বা এরুপ অন্য সব উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
৫) ১৯৭২ সালের আর্কিটেক্ট আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান।
৬) সারা ভারত কারিগরি শিক্ষা পর্ষদ আইন, ১৯৮৭ এর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত সকল প্রতিষ্ঠান।
৭) ১৯৯৩ সালের শিক্ষক শিক্ষার জাতীয় পরিষদ আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান।
৮) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি আয়োগ অনুমোদিত মুক্ত ও দূরশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অনলাইন ও ডিজিটাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
৯) বিশিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (Institute of Eminence)
১০) কেন্দ্রীয় সরকার বিজ্ঞাপিত যে কোন পেশাদার পরিষদ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান।
১১) কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক বিজ্ঞাপিত অন্যান্য সব প্রোগ্রাম ও প্রতিষ্ঠানসমূহ।
এই আইনে উপরোক্ত বিষয়ে একটি ছোট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এই আইনের উদ্দেশ্য হলো উচ্চ শিক্ষা, মুক্ত শিক্ষা, দূর শিক্ষা, অনলাইন ও ডিজিটাল শিক্ষার মধ্যে সমন্বয় ও গুনমান বজায় রাখা। স্থপতি পরিষদের কোন কাজে হস্তক্ষেপের অভিপ্রায় এই আইনের নেই এবং কোন পেশাদারের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি ও এর উদ্দেশ্য নয়।
আসলে যতই ব্যাখ্যা দেওয়া হোক, প্রশ্ন তো উঠবেই? যখন অনেক পরিষদ তাদের সদস্যদের কাজ দেখা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে রয়েছে, সেখানে তাদের ক্ষমতা খর্ব হতে বাধ্য এই আইনের বলে। কারণ, এই আইন ঐসকল পরিষদের ওপরের নিয়ন্ত্রণকারী। প্রয়োজন যদি না থাকে তবে ঐসব পরিষদ ভেঙে দিয়ে একটিমাত্র প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা নিতে পারে। কিন্তু, সেখানে ও প্রশ্ন উঠবে। কারণ, প্রতিটি পরিষদের এবং তাদের অধীন সংস্থাগুলির কাজের ধরন ও প্রকৃতি আলাদা। একটি প্রতিষ্ঠানের দ্বারা এইসব বিভিন্ন প্রকৃতির কাজের গুনমান নির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণ সত্যিই কঠিন নয়, প্রায় অসম্ভব।
** চলবে
0 Comments