শ্যামাশিস জানা
শস্যদেবীর প্রতি
তুমি বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়লে
এই দেহকে বানাই এক ভ্রান্ত সাঁকো
লুকিয়ে রাখি একে অপরের সমস্ত আত্ননাশ
অদৃশ্য অক্ষরগুলো অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হেঁটে যায়
অনুভব করি দুঃখের মত এক শুকনো নদী,
যার শুকিয়ে যাওয়া ঢেউ আমাকে নিয়ে যায়
এক অদ্ভুত মরুভূমির ঋতুহীন স্বপ্নের ভেতর
সেখানে তুমি কেবল এক শস্যদেবী নও
বরং তোমার প্রতিটি অভয়মুদ্রা
মানুষের ভেতর লুকিয়ে থাকা প্রতিদিনের জন্মান্তর
আসলে, আমরা বুঝিনা কিছুই;
আমরা কি আদৌ কিছু বুঝি?
আমরাই প্রত্নজীব, ফসিলদেহে হেঁটে বেড়াই নিজের মত,
এখনও আমাদের কোনো ইতিহাস লেখা হয়নি
🍂
বিনির্মাণ
পাহাড়ী নদীটি হঠাৎ খরস্রোতা পাগলিনী
তার বুকে অনন্ত গতি, কণ্ঠে বজ্রধ্বনি
সে পথ পাল্টায়, মানচিত্রের রেখাগুলি ছিঁড়ে দেয়
তার নীল শিরা-উপশিরায় রক্তের মত জল:
অগ্নিজল, শ্বাসজল, মৌনজল, শান্তিজল...
বন্যা এসে লিখে দেয় নতুন ইতিহাস
চেয়ে দেখি জল ঢুকছে জঙ্গলের ধ্যানস্থ অন্ধকারের ভেতর
কত মুণ্ডহীন পক্ষীদেহ উড়ে যায়, গাছের মূল উপড়ে পড়ছে;
পাহাড়ের শরীর থেকে ধ্বসে পড়া মাংসপিণ্ড গড়িয়ে আসছে,
ভেসে যায় অন্ধকারে কেটে রাখা কাঠের গোপন ভাণ্ডার
ভাঙা সংসারের টুকরো, লুকানো লোভ, মানুষের অহংকার
এভাবেই নদী ও পাহাড় একদিন সমস্ত অধিকার ফেরত নেয়
যেন কেউ বহু শতাব্দীর অন্তহীন অবমাননার পর
0 Comments