জ্বলদর্চি

দুটি কবিতা /দুলাল কুমার দে

দুটি কবিতা 

দুলাল কুমার দে


বন্ধন

পৃথিবীতে ভালোলাগার, ভালোবাসার বস্তু অনেক,
প্রকৃতির অপূর্ব সাজ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে,
প্রকৃতির কত না জীব - জন্তুকে আমরা ভালবাসি,
দেখার সাথে সাথে তাদের নানান কীর্তিকলাপ
 মনোরঞ্জন করে, আনন্দ পাই।
 পছন্দ বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন ।
এই  নৈসর্গিক ভালো লাগায় ,ভালোবাসায় 
থাকেনা কোন দেয়া নেয়া, কোন বাধ্যবাধকতা,
থাকে শুধু উপভোগ, উপলব্ধি।
থাকেনা দায়িত্ব বোধ, 
থাকেনা কাছে পাওয়ার, কাছে থাকার অধিকার।
কিন্তু...
পারস্পরিক জাগতিক সম্পর্কে থাকে সামাজিকতা
থাকে দায়িত্ববোধ, থাকে দেয়া - নেয়া
থাকে সাহায্য, সেবা, সহানুভূতি।
পরস্পরকে কাছে পাওয়ার, কাছে থাকার আকুতি
থাকে আইনত অধিকার বোধ।
মা - বাবা, ভাই - বোন, সন্তান - সন্ততি ,
স্বামী ও স্ত্রী, আত্মীয় পরিজন
সবাই মিলে তৈরি করে এক সুষ্ঠু সমাজ।
সেখানে শুধু থাকেনা ভালোলাগা, ভালোবাসা
থাকে এক অপূর্ব  সামাজিক বন্ধন,
আবদ্ধ রাখে স্নেহের মায়াজালের অক্টোপাসে।
আবর্তিত হয় জন্ম - মৃত্যুর চিরন্তন চক্র,
চলতে থাকে আসা - যাওয়ার খেলা,
থাকে সুখ, থাকে দুঃখ, থাকে ব্যথা, বেদনা
আশা - নিরাশা , পাওয়া - না পাওয়া, হার - জিত।
থাকে মেনে নেওয়া ও মানিয়ে নেওয়া
তৈরি করে জীবনের অটুট বন্ধন।


🍂

বিচ্ছেদ

ছেড়ে চলে যাওয়া মানেই 
সব ভুলে যাওয়া নয়।
 পুরানো স্মৃতির অনু পরমাণুকে নিয়ে
আমৃত্যু বয়ে চলা।

কেবল অতীত স্মৃতিগুলো সততই 
 জন্ম দেয়, ব্যথার, অভিমানের;
কিন্তু শত চেষ্টায়ও মুছে ফেলা যায়না।

শুধু ঢাকা থাকে
মনের অপর প্রান্তে, আড়ালে,
অমাবস্যায় চাঁদের মত।

Post a Comment

0 Comments