জ্বলদর্চি

দুটি কবিতা /মলয় জানা

দুটি কবিতা
মলয় জানা


অক্ষয় ললাট

তোমাকে প্রথম দেখা
খাজুরাহো পথে।
শিবিকার সারি,
এক ঝাঁক সুন্দরী,
নিলামে উঠেছে যারা,
কিনেছেন রাজা বিদ্যাধর।
শূরসুন্দরী হবে,
নগ্নতা ঢেকে যাবে
চোখের ইশারায়।
মিথুনে বাধ্য হবে
রাজার নির্দেশে।
পাথরে ফুটবে তুমি
ইতিহাস হবে।

রাজা মহারাজা
বাদশাহ সুলতান,
সে সব পেরিয়ে এলো
তন্ত্রের যুগ।
তন্ত্র মানেই বিবিধ মন্ত্র,
মানবতা, জাতীয়তা,
উদারতা, সম্প্রীতি। 
তোমার কপাল দেখি
মন্ত্রের অসাধ্য।

পুরোহিত পালটায়,
মন্ত্রের ঝড় ওঠে,
ললাট অক্ষয়।
নিলামের হাটে আজো
চোখাচোখি হয়।

🍂


কবিতা পারি না কেন!!

সম্পাদকের কড়া হুকুম
কবিতা চাই বেড়ে।
অমনি সটান হামাগুড়ি, 
শব্দ কুড়োই ঝুড়ি ঝুড়ি।
ছন্দ খোপে শব্দ গুঁজি,
পয়ার নুপুর মন্দ পায়ে
ঝুনুক ঝুনুক তান তোলে।

সোম আর ফাঁকের মাঝে দেখি
শব্দগুলো ছবি আঁকে।
মলিন শিশু মুখ,
মায়ের বুকে আগুন জ্বলে 
আগুন ছেলের পেটে,
চোখের তলায় জলের দাগ,
এবার তবে!!!!!

এক পলকেই অন্য ছবি।
স্বপ্ন দেখে তাজা তরুণ,
বইয়ের পাতায় স্বপ্ন দেখে
বাপ মা জেগে স্বপ্ন দেখে।
স্বপ্ন ভাঙার শেষের সেদিন
এক শিশিতেই তিনজনে শেষ। 

শবগুলো ছবি আঁকে।
রাতের বাসে একলা মেয়ে।
গরম বাতাস! হায়না হাজির,
মান বাঁচাতে নেমেই পড়ে।
অন্ধকারে বন্ধ দোকান,
ঝোপের পাশে ওরা কারা??
ঢুকরে কাঁদে পাগলি আমার।
বুক ভিজিয়ে প্রশ্ন করে,
" নিজের মতো  বাঁচতে চাওয়া
একলা পথে চলতে চাওয়া
দোষ কি আমার? 
দোষ কী আমার???

শব্দগুলো ছবি আঁকে,
ছবির পরে ছবি,
বুক ভাঙা সব ছবি।
কাব্য তুমি ছাড় আমায়,
একটু আগুন খুঁজি।।

Post a Comment

0 Comments