তারাশংকর দে
তোমার কলমের আজও জেগে ওঠে গান
যখন শহরের ভিড়ে হারিয়ে যায় মানুষের মুখ,
তখনই মনে পড়ে— তোমার লেখা সেই গ্রাম,
যেখানে মাটির গন্ধে ছিল প্রাণের উষ্ণতা,
আর কলমে ছিল এক অনমনীয় প্রতিবাদ।
অনিল ঘড়াই— তুমি কেবল কবি নও,
তুমি এক লড়াই, এক আগুনের ভাষা,
যেখানে অন্যায়ের সামনে মাথা নত হয় না,
যেখানে প্রতিটি শব্দ হয়ে ওঠে শপথের রেখা।
তুমি বলেছিলে— কবিতা মানেই জীবন,
আর জীবনের মানেই প্রশ্ন করা সাহস।
তাই আজও তোমার অক্ষর ঝলসে ওঠে,
প্রতিটি নিরবতায়— প্রতিটি রুদ্ধশ্বাসে।
তুমি গিয়েও গেলে না—রয়ে গেলে
হাওয়ায়, গাছের পাতায়, মানুষের কণ্ঠে,
রয়ে গেলে সেই কালি মেশানো সত্যের পাশে,
প্রতিটি দুঃখকে তুমি রূপ দিয়েছো দীপ্তিতে।
তুমি নেই তবু আছো অন্তরে,
তোমার কলম আজও জ্বলে—
বঞ্চনার বুক চিরে, জেগে থাকে মুক্তির আলো।
তুমি আছো— প্রতিটি সাহসী স্বপ্নে,
বাংলা সাহিত্যের অন্তরে— অনিল ঘড়াই হয়ে।
তোমার কলমে আজও জেগে আছে আলো,
তোমার কণ্ঠে আজও ধ্বনিত হয় মানুষের ডাক,
যতদিন অন্যায় থাকবে, ততদিন তুমি থাকবেই—
প্রতিটি হৃদয়ে, প্রতিটি উচ্চারণে,
অমর হয়ে— মানুষের কবি হয়ে।
🍂
তোমার আলোয় জ্বলে আজও প্রাণ
যখন সময় থমকে যায়,
অন্ধকারে ঢেকে যায় দিগন্ত,
তখনই শুনি— তোমার কলমের শব্দ,
যেন বজ্রকণ্ঠে বলা এক নতুন ভোরের প্রতিশ্রুতি।
তুমি গেলে— অথচ গেলে না,
অক্ষরে অক্ষরে ছড়িয়ে রেখেছো নিশ্বাসের রেশ,
পাতার পর পাতা জুড়ে বেঁচে আছে
তোমার হাসি, তোমার কান্না, তোমার জীবনদৃষ্টি।
তোমার শব্দে আছে মাটি, আকাশ, নদীর গন্ধ,
যেন শিশিরভেজা সকালের মতো নির্মল।
তুমি বলেছিলে— মানুষই শ্রেষ্ঠ কবিতা,
তাই তো আজও তোমার মানুষ বাঁচে, তোমার ভাষায়।
তোমার জন্মদিন মানে শুধু তারিখ নয়,
এ এক নবজন্ম— আমাদের ভাবনায়, আমাদের রক্তে।
আজও আমরা তোমার আলোয় খুঁজি পথ,
তোমার ছায়ায় পাই দিশা।
তুমি আছো— সময়ের ওপারে,
অমর অক্ষরের জ্যোতিতে,
যেমন সূর্য প্রতিদিন অস্ত যায়,
তবু ফুরোয় না তার আলোর দান।
তোমার আলোয় জ্বলে আজও প্রাণ—
প্রতিটি কবির কলমে, প্রতিটি পাঠকের চোখে
জেগে থাকে তোমার নাম—
0 Comments