জ্বলদর্চি

গুচ্ছ কবিতা/ যুবক অনার্য



গুচ্ছ কবিতা 
যুবক অনার্য 


পতাকা দেবো না

যদি চাও বর্ষাঘন মেঘ হবে
যদি চাও ভুলে যাবো রঙিন শৈশব 
কুসুম কোমল ব্যাথার বাহাদুরি
ভুলে যাবো একদা রাষ্ট্র মানেই বুঝতাম রক্ষাকারী 
যদি চাও ভালোবাসা ফিরে যাক
১০০ গোলাপ নিয়ে হাতে
আমি রাজপথে মিছিলে বুনে দেবো 
শুদ্ধাচারী গোলাপের প্রাণ 
যাবো না জলজ সৌগন্ধ নিয়ে মধ্যরাতে 
ঝড়ের শরীরে অনিদ্রিত ঘরে
কথা দিলাম আকাশে উড়াবো 
আমারই মতন এক ফেরারি ফানুস 
যুক্তিসম্মত অকারণে ভুলে যাবো জন্মের শোক
স্বপ্ন নয় দুঃস্বপ্ন সাথী করে পারি দেবো
নিরুদ্দেশ রাত্রিতে গহীন পাথার
এক অন্য লোকালয় জুড়ে
সুখ নয় দুঃখ ভালোবেসে মরে যাবো 
অকাল কোনো ভোরে
নিবিড় নিবিড় করে নিজেকে বাসবো না ভালো 
যেরকম ভালোবাসি প্রিয়তমা স্বদেশ আমার 
যদি চাও নিজেকে খুন করে 
তোমার সকাশে রেখে যাবো 
অফুরন্ত  মহুয়া-মাতাল করা ঘ্রাণ 
সব কিছু লিখে দেবো তোমারই ডাক নামে 
প্রকাশ্যে এবং সংগোপনে
শুধু পতাকা দেবো না 
আজন্ম স্বপ্নসাধ মৃত্তিকার বাসনা-ত্রাস 
এই পতকা দেবো না

🍂

তোমাকে ভালোবাসবার পর

তোমাকে ভালোবাসবার পর সবকিছু বদলে যাবে অধুমপায়ী আমি হবো চেইনস্মোকার অবলীলাক্রমে 
চির আনস্মার্ট আমি ডাকসাইটে স্মার্ট বনে যাবো রাতারাতি 
তোমাকে ভালোবাসবার পর প্রিয়তমা স্বদেশ আমার 
পাললিক সুষমায় শকুন্তলা হবে
অমাবশ্যার রাতেও জোছনারা উকি দেবে
আড়ালে আবডালে
ভাত না ছড়ানো উঠোনেও কাকেরা জমাবে ভিড়
ক্ষুধা দেওলিয়া হবে 
তোমাকে ভালোবাসবার পর- হ্যাঁ- সবকিছু 
বদলে বদলে যাবে
রূপময় রমণীর চোখে প্রেম 
নির্দ্বিধায় বলে দেবে -'সব ঝুট হ্যায়'
গহীন গোপন বিষাদেরা গর্ভবতী হবে
অলকানন্দা সুখে
তোমাকে ভালোবাসবার পর মনে হবে-
ভালোবাসা বলে কিছু নেই


প্রেম

প্রেম অচেনা সুরের মতো কিছু নয়
আবার খুব চেনা কোনো দূরত্বের মতনও নয়
প্রেম নতুন কিছু নয়
প্রাগৈতিহাসিক কালের মতোই পুরনো- প্রাচীন 
প্রেমের মধ্যে ছলনা থাকে ছলাকলা থাকে 
থাকে শিল্পের মতো সুডৌল ব্যঞ্জনা
প্রেমে মধ্যে প্রেম থাকে
থাকে সুদৃঢ় প্রত্যাখ্যান
প্রেমিক প্রেমিকা
আর সঙ্গে খলনায়ক

এক থেকে যেতে পারে
প্রেমের মধ্যে ব্যাখ্যাতীত কতো কিছু থাকে
তবু প্রেম নিজেই একদিন নিজে নিজে মরে যায়


সুখ

আমার কপালে সুখ বলে কিছু নাই
কেবলি দুঃখ শুধু আছে
আমাকে যারা ঘৃণা করে তারা আমাকে দুঃখ দেয়
যারা ভালোবাসে তারাও আমাকে দুঃখ ছাড়া 
সুখ দেয় নি কোনোদিন
দোষটা সম্ভবত আমারই
আমি ভালো তো  দূরের কথা বরং যথেষ্ট মন্দই বলা চলে
এর প্রধানতম কারণ হতে পারে
দুঃখের বিনিময়ে আমি মানুষকে সুখ দিয়ে 
ঋণ পরিশোধ করে দেই
যেমন আমাকে যারা একদিন খুন করেছিলো
আমি তাদেরকে খুন না করে দিয়েছিলাম 
বেঁচে থাকবার পরিপূর্ণ অধিকার
যেমন আমি যখন তোমাকে ভালোবাসি না 
তখনো তোমাকেই ভালোবাসি



উনমানুষ 

সমগ্র শব্দভান্ডার খুঁজে 
বার বার একটি শব্দই বেছে নেই- ব্যর্থতা 
হে অসীম
এতোটা ক্ষুদ্র করে বানালে কেনো মোরে
অথচ আমি চেয়েছিলাম - আমি না-
আকাশ ছোঁবে আমাকে
সেই আমাকেই এতোটা বামন বানিয়ে রাখলে যে আকাশ নামের অই অদ্ভুত বিশালতা
আমার হাত ছাড়া হয়ে গেলো
সমগ্র শব্দ ভান্ডার সেঁচে 
একটি শব্দ দিয়েই আমাকে বুঝে নেয়া যায়

মানে হলো আমার সবচেয়ে বড়ো ব্যর্থতা - 
আমি সফল হতে চেয়েছিলাম

____________________
লেখক পরিচিতি : যুবক অনার্য। জন্ম :২৫ ডিসেম্বর ১৯৭৮ র‍্যাংকিন স্ট্রিট ঢাকা বাংলাদেশ। লেখাপড়া : ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়)। 
পেশা: শিক্ষকতা।
অধিবাস: ৬ নং সেকশন মিরপুর ঢাকা ১২১৬ বাংলাদেশ। 

Post a Comment

0 Comments