জ্বলদর্চি

দুটি কবিতা /স্বপন কুমার দে

দুটি কবিতা 
স্বপন কুমার দে


ইতিহাস 

মানুষ ইতিহাস গড়ে, 
ইতিহাস মানুষ তৈরি করতে পারেনি। 
একলব্যের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ট কুরুক্ষেত্র থামাতে পারেনি। 
অর্জুনেরও প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল স্পর্ধিত স্পর্ধায়। 
এক আঙুলের বলিদান এতটা শক্তিশালী?
শেষ পর্যন্ত দ্রোনাচার্যও অর্জুনের শত্রুপক্ষ!
তবুও ইতিহাস কাঁদেনি। 

অশোকের শিলালিপি, পঞ্চশীলে আস্থা, 
আকবরের সর্বধর্মসমন্বয়, 
অজস্র মহামানবের ত্যাগের আদর্শ। কোথা গেল?
জ্বলন্ত প্রদীপ শিখাও নিভেছে বারবার।
রক্তস্নাত ভূমি । কলঙ্কিত। 
ইতিহাস নির্মম, নির্বাক দর্শক। 

মানবতা ফিকে নয়, ফিকে আজ মানুষের মন। 
তীব্র কালকূট গায়ে মেখে 
উগরে দেয় হিংসা, লোভ, ঘৃণা। 
ইতিহাস কথা বলে না,
অথবা মানুষ ইতিহাস পড়ে না। 

🍂

          
হৈমন্তী 
   
পুজোর গন্ধ সবে শেষ হয়েছে, 
সবাই যে যার নিজের কাজে ব্যস্ত। 
ঘাসের ডগায় শিশির কণা, 
নরম আলোর সকাল বেলা, বেশ তো।

পাতা খসার দিন যে এল, 
গাছ গাছালির পাথর চোখে কান্না। 
এমন দিনের বিকেল বেলায় 
তোমার দেখা। হঠাৎ সুখের বন্যা। 

আকাশ খুঁজি, গোধূলি বেলা 
লাল চেলিতে মানানসই। 
আঁচল তোমার বিকেল হাওয়া
মুগ্ধ চোখে স্তব্ধ হই। 

সময় গেছে জলের স্রোতে, 
পথ বেঁকেছে চলার তালে।
সোনার স্মৃতি আবছা হয়েও 
মনকে দোলায় আবডালে।

Post a Comment

0 Comments