সঞ্জীব ভট্টাচার্য
বাঁশি
গাছের তলায় বসে ক্রমাগত মাটির উপর তার ডান হাতটা দিয়ে আঘাত করে চলেছে অরুণ। কেন, কেন, কেন মারতে গেল সে?
বিয়ের প্রায় এক মাসের মধ্যেই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক তলানিতে। সম্পর্ক? বাসর রাত্রে ধূমপান করে ফিরতে ফিরতে অরুণ শুনে ফেলেছিল, তোর মত মেয়ের জুটলো বেঁটে বানর। চাকরিই সব? শ্রোতার উত্তর, কি আর করা যাবে।
তারপর থেকে অশান্তি। অবশ্য একপাক্ষিক। শেষে আজকে থাকতে না পেরে মাধবী বলে উঠলো, তুমি শুধু মাথায় খাটো না মনটাও খাটো। উত্তেজিত অরুণ সামনে প্লাস্টিকের চৌকিটা টেনে এনে মাধবীর দুগালে দুটো চড় কষিয়ে দিল।
সন্ধে হয় হয়। চোরের মত অরুণ ঘরে ঢুকে শুনতে পেল মায়ের গলা। অরুর মত ছেলে হয় না। কেন যে এমন করছে। তুই নতুন করে জীবন শুরু কর।
-আমি ওকে ছেড়ে বাঁচবো না মা।
অরুণ অনেকদিন পর তার প্রিয় বাঁশিটা বের করে বাজাতে শুরু করলো। হঠাৎ তার ঘাড়ের উপর নরম ছোঁয়া। সে বাঁশিটা নামিয়ে রাখলো। অন্য বাঁশি তখন তাকে ডাকছে।
🍂
আশ্রয়
অনেকদিন পর বেশ কিছুটা হালকা বোধ করছে প্রণয়। একই কথা শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছিল সে। কতদিন আর কতদিন এভাবে ভাড়া বাড়িতে থাকতে হবে। তারপর হাজার উদাহরণ- এর ওর তার। সকলেই কেমন গুছিয়ে নিয়েছে শুধু তার দ্বারাই কিচ্ছুটি হচ্ছে না।
এক সময় প্রণয়ও ভাবতে শুরু করেছিল, এ জীবনে তার দ্বারা আর হবে না,ঠিক তখনই এই ঘরটা খুঁজে পেল সে।
কেনার আগে বউকে নিয়ে এসেছে একবার ভালো করে দেখে নিতে। মালিকও সঙ্গে আছেন। ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ প্রণয়ের চোখে পড়ে মেঝের উপর পড়ে আছে একটা ভাঙ্গা ফোটো ফ্রেম। ভেতরে মুখোমুখি দুটি পাখি। নিচে লেখা, আমরা দুজনে ভাসিয়া এসেছি যুগল প্রেমের স্রোতে। বাড়ির মালিক এগিয়ে এসে বললেন, চিন্তা নেই ওসব আবর্জনা আমি বাইরে ফেলে দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।
ফেরার পথে বউ বলল ঘরটা বেশ যত্ন নিয়ে করেছে বলো। অবশেষে নিজেদের একটা আশ্রয় পাওয়া যাবে। প্রায় বেরিয়ে আসা একটা দীর্ঘশ্বাস চেপে সে শুধু বলে ওঠে, হ্যাঁ।
1 Comments
জীবনের গন্ধমাখা দুটি গল্পই ভালো লাগলো।
ReplyDelete