সুকমল ঘোষ
উদ্বাস্তু জলের আত্মকথা
শেষ পর্যন্ত জল গড়িয়ে গেল। জল নদী হলো,ঘোলাটে এবং তেলে জলে মিশে তেলরঙ। ওরা নিজেদের মধ্যে শারীরিক পরিবর্তন করল– জলছবি, স্যাঁতস্যাঁতে দেওয়ালের ছোপ,ফুটো টিনের চাল থেকে চুঁয়ে পড়া জল;আরো কতকিছু। ওদের ঘর সংসারে মেঘের ছবি, বৃষ্টির জলকণা;জলকামান শিশিরবিন্দু অনুজল পরমাণু বাষ্পকণা।ওদের ইচ্ছে ছিলো,হেঁসেলঘরে প্রবেশ করার। সৌভাগ্যের বিষয়– সেখানে ঘটি হাতা বাটি খুন্তি গেলাস হাঁড়ি বা কোনো বালতি ছিলো না। একটা হেঁসেলঘরের যা যা প্রয়োজন ছিলো; তার বিন্দুমাত্র অস্তিত্ব না দেখে জলেরা একটা ছেঁড়া ন্যাকড়ায় রাখা ধান ও চালের কাছে গেল। জলের বড্ড খিদে পেয়েছিলো;কিন্তু আগুনেরা গণ অবস্থানে থাকায়, সর্বশেষে চালের সঙ্গে মিলেমিশে স্নান করে মাথায় ঘোমটা টেনে ধানজল হলো।
জলেরও একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকে।
🍂
ন্যূনতম আস্ফালন
সেদিন থেকেই গোপাল ঠিক করেছিলো-আর কিতকিত খেলবে না। নদীর ধারে আকবরী মাঠে পড়ে আছে ছেঁড়া ওড়না,টুকরো ব্রেসিয়ার,রক্তমাখা প্যান্টি,হ্যান্ডব্যাগ এবং নোটবুক। হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়ালেও;তাদের মালিককে খুঁজে পায়নি গোপাল। নদীর কাছে ছুটে গিয়ে বলেছিলো–‘ও নদী,তুমি কি জানো!’নদী বললে–“না,শুধু মাছেরা ক্যামন উথাল পাথাল লাফাচ্ছিলো। তুমি একবার বালুকণা ও নুড়িদের জিজ্ঞেস করো;ওরা,হয়তো বা কিছু জানে কিংবা না।” বালুকণা এবং নুড়িপাথর বলে উঠল –হ্যাঁ,বড্ড লেগেছিলো আমাদের গায়ে। একটা ঝাঁকুনি,একটা শব্দপতন; তারপর, ভাসতে ভাসতে ভাসতে ভাসতে; হয়তো বা তার বাড়ি ফিরে গ্যাছে। নয়তো বা ফেরেনি সে।” সেদিন থেকে গোপাল ঠিক করেছিলো,সে আর কিতকিত খেলবে না। নদীর ধারে গিয়ে জলেদের, বালুকণা,নুড়ি পাথর; সবার দিকেই চিৎকার করে বলত:-“আমায় ফিরিয়ে দাও,সেইসব দিন। তোমার আমার সবার জন্যে যা।
1 Comments
সুকমল ঘোষের কবিতা দুটি ভালো লাগল।
ReplyDelete