জ্বলদর্চি

গুচ্ছ কবিতা /অশেষ বন্দ্যোপাধ্যায়

গুচ্ছ কবিতা 
অশেষ বন্দ্যোপাধ্যায় 


সুখ 

বুকের ভেতর গভীর ক্ষত
হৃদপিণ্ড কুরে কুরে খায়
এ এক ভীষণ চক্রান্ত।

হৃদয় জুড়ে কষ্টের নির্মম স্রোত
ফল্গু ধারার মতো নীরবে নিঃশব্দে
গোপন রক্তক্ষরণ।

অবশেষে কষ্টের অবসান
ঈশ্বরের যন্ত্রে
জীবনের হাত বদল।

এখন বুকের ভেতর শান্ত সমাহিত সুখ।


বাঁচা

কত কী যে মনে পড়ে যায়।
ফেলে আসা দিন
সদা রঙিন।
কত কথা
কত ব্যাথা
কত বেদনার
কত টুকরো সুখ।আনন্দ।ভালোলাগা।
কত ভালোবাসার মধুর পরশ।
সব মনে পড়ে। এই অলস মুহূর্তে।

ঘোমটার আড়ালে সজল আঁখি পাতে
অভিমানী অশ্রু ঝরে গোপনে।
ফিরে ফিরে আসে চেনা মুখ
ব্যর্থ প্রেমের নীরব আস্ফালন ঘিরে
নামে বেদনার করুন সুর মূর্ছনা
অসহায় জীবন তটে।

এখন  শুধু স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে থাকা।।


তান্ত্রিকতা 

করোটির সিঁদুর রাঙা মুখে
রক্তের আলপনা ঘিরে উদ্দাম নৃত্য
বিদেহী আত্মার উল্লাসে কামনার বিষ।

সুরা পানে আগ্রহ বাড়তে থাকে
হোম কুণ্ডের গণ্ডির বাইরে 
মদ্য পানের প্রতিযোগিতা নিয়ে
রাত গভীর হলে
শ্মশান ভূমি ভয়াল রূপ নেয়।

সারি সারি করোটির মুখ 
হাওয়ায় ভাসতে থাকে। 

পঞ্চমুন্ডির আসনে তান্ত্রিকের 
জীবন মরণ টানাপোড়েন।


ক্ষত 

বিরহ আঁকড়ে ধরলে হৃদয় সর্বস্ব
অসুখের মুখ উন্মুখ।

যন্ত্রণার ছোবল প্রতিনিয়ত আঘাত হানে
হু-হু করে ব্যথিত অন্তর।

তবুও এক চোরা সুখের অনুরণন ঘিরে
জীবন ভিন্ন খাতে বয়।

বিচ্ছেদের কঠিন কঠোর বিধান
ফালা ফালা করে অসহায় কলজে।

নিরন্ন পাঁজরে হাহাকার উঠলে
দীর্ঘস্বাসে ভরে রক্তাক্ত পথ।

সুখের ঘরে সিঁধ কাটে পরকীয়া প্রেম
প্রলোভনে সুখের সংসারে তীব্র ভাঙন।

একাকীত্বের অসহনীয় জ্বালা জীবনভর
হৃদয় গভীরে নিরন্তর রক্তের আলপনা।

ক্ষত বিক্ষত জীবন সর্বস্ব ।।


নদীজলে সুখের প্রতিবিম্ব 

নদী স্রোতে টুকরো টুকরো চাঁদ ভাসে 
রুপোলি আভায় ঝলমলিয়ে হাসে ।

হৃদয় উদ্বেল করা সুপ্ত প্রেম 
আলোকিত জ্যোৎস্নায় মোহময়ী হয়ে ওঠে 
গভীর গোপন ভালবাসার সুখ নির্যাস গড়ায়
শরীরময় লেপ্টে থাকে প্রেমের সুগন্ধী গোলাপ।

নক্ষত্র খচিত রাতের আকাশ সাক্ষী হয়ে জাগে
কখনও সখনও দু একটা তারা খসে পড়ে নিঃশব্দে
নদীজলে প্রতিবিম্ব চকিতে চমক লাগায়।

ভোরের আকাশে চাঁদ ডুবে গেলে
নদী স্রোতে উঁকি দেয় সোনালি আলপনা
সহস্র শতদল মাঝে প্রেম পূর্ণতা পেলে 
এই একলা জীবন বাঁচার মন্ত্র খুঁজে পায়।।
🍂

Post a Comment

0 Comments