ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা : ২০০
সম্পাদকীয়,
দুইশত পর্বে পৌঁছাতে গেলে যত গুলো বছর পেরিয়েছে ছোটোবেলা ততদিনে আমার ছোটোবন্ধুরা অনেকেই তোমরা অনেক অনেক বড় হয়ে গেছ। কেউ ওয়ান থেকে সেভেনে উঠে গেছ, অনেকে সিক্স থেকে টুয়েলভে। আমি কিন্তু সেই একই বয়সে থেমে গেছি ছোটবেলার প্রতি রবিবারের গল্প ছড়া পড়ে পড়ে আর তোমাদের আঁকা দেখে দেখে। আমার কথা শুনে তোমরা বলবে, ধ্যাৎ এমন আবার হয় না কি? আমি বলব হয় বন্ধু হয়। ছোটবেলার আগের পর্ব গুলো এপ থেকে ওপেন করে করে তোমরা পড়ে দেখ,তোমরাও সেই ওয়ানে বা সিক্সে ফিরে যাবেই। এই ছোটোবেলা আমাকে ইদানিং শৈশবে নিয়ে গিয়ে আর ফিরিয়ে আনতে ভুলে যাচ্ছে। আমিও মহা আনন্দে ছোটোবেলার এপ ওপেন করে শৈশবে চলে যাবার খেলাটা খেলি। তোমরাও যদি চাও এই আনন্দ পেতে ওপেন করো জ্বলদর্চি ছোটোবেলার পুরোনো সংখ্যাগুলো। তারপর কী হল আমাকে লিখে জানিও কিন্তু। ---- মৌসুমী ঘোষ।
ধারাবাহিক উপন্যাস
গগনজ্যোতি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচ
পর্ব ১৬
রতনতনু ঘাটী
দেবোপমস্যার গিয়ে হেডস্যারের রুমে ঢুকলেন। হেডস্যার বলে উঠলেন, ‘এসো, এসো দেবোপম। আজ ডি এম সাহেবের সঙ্গে যে আলোচনা হল, সে কথা তোমাকে বলা দরকার।’
তারপর মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতিকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘মুকুলস্যার, আপনিই ডিটেইলে ব্যাপারটা বলুন না।’
নির্মল হাসি ছড়িয়ে পড়ল মুকুকৃষ্ণবাবুর মুখে। ক্রিকেট নিয়ে মুকুলকৃষ্ণবাবুকে কিছু বলতে বললে, তিনি আনন্দে সতেরোখানা হয়ে ওঠেন। ছোট ছেলেদের মতো খুশি হয়ে ওঠেন। এখনও তাই হলেন। বললেন, ‘সে যদি অনুমতি দেন স্যার, তা হলে না হয় আমিই বলি।’ বলে দেবোপমস্যারের দিকে তাকিয়ে থাকলেন মিনিট খানেক। তারপর মুকুলকৃষ্ণবাবু শুরু করলেন, ‘বুঝলে দেবোপম, বলা যেতে পারে, আজই নবীনগঞ্জ জেলার স্কুল-ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বাপারটা ফাইনালই হয়ে গেল।’
হেডস্যার খেই ধরিয়ে দিলেন, ‘শোনো দেবোপম, আমাদের স্কুল ক্রিকেটের কথা কত দিকে যে ছড়িয়ে পড়েছে, শুনলে অবাক হয়ে যাবে। ডি এম সাহেবকে আমি অনুরোধ করলাম, সরকারি সাহায্যে যখন স্কুল ক্রিকেট টুনার্মেন্ট হবে, তখন শুধু স্কুল-বয়েজ ক্রিকেট টুর্নামেন্টই বা হবে কেন?’
কথার ফাঁকে দেবোপম জিজ্ঞেস করলেন, ‘তা হলে?’
‘আমি বললাম, ডি এম সাহেব, আমাদের ভারতের মহিলা ক্রিকেট টিম এবার যখন মেয়েদের বিশ্বকাপ ক্রিকেট জয় করেছে, আজ গোটা বিশ্বের নজর কেড়েছে! তখন, নবীনগঞ্জ জেলার মেয়েদের নিয়েও একটা ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু করুন না কেন! আমার গগনজ্যোতি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচে তাই মেয়েদেরও আমি যুক্ত করে নিয়েছি। তাতে মেয়েদের মধ্যে উৎসাহ দেখার মতো। আপনি যদি একদিন সময় করে আমাদের স্কুল মাঠে ক্রিকেট কোচিংটা দেখতে আসেন, তখন দেখতে পাবেন।’
🍂
‘আমার এ কথা শুনে ডি এম কর্ণার্জুন পাল সাহেব ঘাড় নাড়তে নাড়তে বললেন, ‘আপনার প্রস্তাবটি ভারী সুন্দর নবনীতস্যার! আমি একদিন নিশ্চয়ই সময় করে যাব গগনজ্যোতি স্কুলে। আপনার স্কুলে কি প্রতিদিনই ক্রিকেট কোচিং হয়?’
হেডস্যার একটু থেমে থেকে বললেন, ‘আমি বললাম, না না। স্যার! আমাদের ক্রিকেটের পুরো ব্যাপারটা আমি দায়িত্ব দিয়েছি আমাদের ম্যাথস টিচার দেবোপমস্যারের উপর। তিনি এখন প্রত্যেক সপ্তাহে শনিবার করে ক্লাস এইটের এ, বি, সি এবং ডি সেকশানের ছেলেমেয়েদের নিয়ে ক্রিকেট কোচিং করাচ্ছেন! আপনি যে–কোনও শনিবার দুটোর পর চলে আসতে পারেন। আপনি আগেভাগে খবর পাঠালে আমি তেমন হলে আমাদের ভূগোলের ভুবনস্যারকে পাঠিয়ে দেব আপনাকে রিসিভ করে স্কুলে নিয়ে আসতে।’ ডি এম সাহেবের মুখ দেখে মনে হল, উনি তার মানে মনে-মনে মেয়েদের ক্রিটেট টুর্নামেন্টে সায় জানালেন। জানো তো দেবোপম, আমার সঙ্গে আমাদের মুকুলকৃষ্ণস্যার ছিলেন তো! তখন আমাদের মুকুলকৃষ্ণস্যার যোগ করলেন, আমাদের দেশের ক্রিকেটে মেয়েদের উত্থানের কথা।’
‘উত্থানের কথা মানে, আমি ডি এম সাহেবেকে মনে করিয়ে দিতে চেয়েছিলাম, আমাদের মেয়েদের ক্রিকেটের সূচনার কথাটা। উনিশশো তিয়াত্তর সালে সোসাইটিজ অ্যাক্টের আন্ডারে লখনউতে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট সমিতি গড়ে ওঠে। প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মহেন্দ্রকুমার শর্মা।’
দেবোপমস্যার ঘাড় নাড়লেন মুকুলকৃষ্ণস্যারের কথায়। মুকুলকৃষ্ণবাবু বললেন, ‘দ্যাখো দোবোপম, তুমি তো ক্রিকেট নিয়ে মেতে থাকো! আমাদের ভারতের ক্রিকেটার মিতালি রাজের কথা আমরা কখনও ভুলতে পারব কি? রাজস্থানের যোধপুরে একটি তামিল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মিতালি। তাঁর বাবা দোরাই রাজ ভারতীয় বিমান বাহিনীর একজন ওয়ারেন্ট অফিসার ছিলেন। দশ বছর বয়সে মিতালি ক্রিকেট খেলা শুরু করেন। হায়দরাবাদের কিস হাই স্কুল ফর গার্লস থেকে পাশ থেকে সেকেন্দ্রাবাদের কস্তুরবা গান্ধী জুনিয়র কলেজ ফর উইমেন থেকে বিএ পাশ করেন। যখন মিতালি প্রাইমারি স্কুলে পড়তেন, তখন বড় দাদা মিথুন রাজের কাছে ক্রিকেট প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন।’
হেডস্যার মুকুলকৃষ্ণবাবুর কথার ফাঁকে বললেন, ‘ভাবা যায়, দশ বছর বয়সে আমাদের বাড়ির মেয়েদের ঘুম থেকে ডেকে-ডেকে তুলতে হয়।’
‘না না। আমাদের বাড়ির মেয়েদের মতো মিতালিও ছোটবেলায় অলস প্রকৃতিরই ছিলেন। বেশ দেরি করে ঘুম থেকে উঠতেন। বাবা দোরাই রাজ মেয়ের এই অভ্যাস বদলাতে একদিন ভাবলেন, মেয়েকে নিয়ম এবং অনুশাসনের মধ্যে রাখা দরকার। বাবা মিতালিকে নিয়ম করে ক্রিকেট ক্যাম্পে নিয়ে লাগলেন। তিনি চাইতেন, মিতালি একজন অ্যাথলিটের মতো পরিশ্রমী হয়ে উঠুক। মিতালি ছেলেবেলায় ছেলেদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতেন। পরে মিতালি তাঁর সাধনা এবং চেষ্টার জোরেই তো বিশ্ব ক্রিকেটে ‘লেডি শচীন’ পরিচিতি পেয়েছিলেন।’
দেবোপমস্যার কাঁচুমাচু মুখে বললেন, ‘আমি কিন্তু মিতালি রাজের এই পরিচিতির কথা আগে শুনিনি!’
গলায় বেশ জোর এনে মুকুলকৃষ্ণবাবু বললেন, ‘যেদিন থেকে ক্রিকেটে মেয়েটির সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল, আমি সেদিন থেকে মিতালিকে নিয়ে লেখা বই কলেজ স্ট্রিট থেকে খুঁজে খুঁজে পড়তাম। এখন মনে পড়ছে, ঐশ্বর্য ত্রিপাঠী ও শৈলী জৈনের লেখা ‘দ্য মিতালি রাজ’ বইটি মিতালি রাজের জীবন এবং ভারতীয় ক্রিকেটে তার অসামান্য অবদানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে লেখা। বইটা এখনও আমার লাইব্রেরিতে মনে হয় আছে। আমি বাড়ি গিয়ে খুঁজে দেখব। পেয়ে গেলে তোমাকে পড়তে দেব, এই বলে রাখলাম দেবোপম!’
দেবোপমস্যার জানতে চাইলেন, ‘মিতালি রাজকে নিয়ে একটা বায়োপিকও তৈরি করেছেন কেউ, নামটা এখন মনে করতে পারছি না।’
মুকুলকৃষ্ণস্যার বললেন, ‘কিন্তু একটা বায়োপিকের কথা জানি, ‘শাবাশ মিতু’! মিতালি রাজের জীবন নিয়ে তৈরি একটি বিখ্যাত সিনেমা। শ্রীজিৎ মুখার্জী পরিচালিত এই ছবিতে তাপসী পান্নু মিতালির চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তবে সিনেমাটি আমার দেখা হয়নি।’
যখন ক্রিকেট নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন মুকুলকৃষ্ণবাবু, তখন সিনেমার পরদায় যেমন করে আমরা কাহিনি আসতে দেখি, অমন করে তিনি ফের বলতে শুরু করলেন, ‘মিতালি রাজ একজন বড় বইপড়ুয়া। ভারতীয় দল যেখানেই যেত, তাঁর স্যুটকেসে একটি বই সব সময় থাকতই। বই পড়ার অভ্যাসটা তাঁর সব চিরদিনই ছিল। কিন্তু সেবার যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত দু’ হাজার সতেরো সালে মেয়েদের বিশ্বকাপের সময় মিতালি রাজের এই বই পড়ার ব্যাপারটি প্রথম ক্রিকেট-ভক্তদের নজরে আসে।’
মুকুলকৃষ্ণ বললেন, ‘সেবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে ব্যাট করার জন্য নিজের পালা আসার অপেক্ষা করছিলেন মিতালি রাজ। তখন তাঁর বয়স উনচল্লিশ। অধিনায়ককে শান্তভাবে একটি বই পড়তে দেখে সাংবাদিকদের নজর এড়িয়ে গেল না। সে ছবি পরের দিন খবরের কাগজে ছাপাও হয়েছিল। মিতালি রাজ একজন বইপ্রেমী। ভারতীয় দল যেখানেই যেত, তাঁর স্যুটকেসে একটি বই থাকতই। বড় মুহূর্তের আগে স্নায়ুর চাপ কমাতে মিতালি ক্রিজে নামার আগে বই পড়তেন।’
হোডস্যার এ কথা শুনে বললেন, ‘এই ব্যাপারটা আমাদের শুধু মেয়েদের ক্রিকেট খেলার সময় স্নায়ুর চাপ কমাতে কাজে লাগবে যেমন, শুধু তাই নয়, ছেলেদের ক্রিকেট খেলার সময়ও কাজে লাগতে পারে।’
দেবোপমস্যার বলে উঠলেন, ‘ঠিক বলেছেন স্যার। আমি ক্রিকেট কোচিংয়ের সময় এবার থেকে স্নায়ুর চাপ কমাবার অভ্যেস করাব ওদের!’
মুকুলকৃষ্ণবাবু বললেন, ‘আমি কোনও একটি জায়গায় মিতালির একটি সাক্ষাৎকার পড়েছিলাম। মিতালি সেখানে বলেছেন, ‘যেহেতু তখন কিন্ডল ব্যবহারের অনুমতি চালু হয়নি, তাই আমাকে ফিল্ডিং কোচের কাছ থেকে বই ধার করতে হয়েছিল একবার। তিনি আমাকে রুমির জীবনের অপরিহার্য বিষয় নিয়ে লেখা একটি বই ‘দ্য এসেনশিয়াল’ পড়তে দিয়েছিলেন। আমি প্রচুর বই পড়ি। এমনকী ব্যাটিংয়ে নামার আগেও আমি সব সময় কিন্ডল বা বই সঙ্গে নিয়ে যাই। কারণ, বই আমাকে শান্ত করে, ব্যাটিংয়ে নামার আগে ব্যাটসম্যানদের যে অস্থিরতা কাজ করে, সেটাও এতে কমে যায়!’
‘খুব সুন্দর কথা শোনালেন মুকুলকৃষ্ণবাবু। আপনি সঙ্গে থাকলে ক্রিকেটের কত অজানা কথা যে জানা হয়ে যায়!’ হেডস্যার একটু থেমে ঘন্টিদাদুকে চায়ের ব্যাবস্থা করতে ইঙ্গিত করলেন। তারপর মুকুলকৃষ্ণবাবুকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, ‘আচ্ছা স্যার, আমাদের মেয়েদের নিয়ে ডি এম সাহেব যদি সত্যিই একটা ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চালু করেন এবং সেখান থেকে হয়তো মিতালি রাজের মতো দু’-একজন মহিলা ক্রিকেটার উঠে আসতেও তো পারে?’
মুকুলকৃষ্ণ বললেন, ‘নয় কেন? আমাদের স্কুলের মেয়েদের যে ক্রিকেট টিম গড়বেন আপনি, সেই টিমের মেয়েদের মনোবল বাড়ানোর সঙ্গে-সঙ্গে স্নায়ুর চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশলের অনেক গল্প ওদের শোনাব! আমি বরং সেসব গল্প জোগাড় করতে শুরু করে দিই কাল থেকে?’
সঙ্গে-সঙ্গে ঘন্টিদাদু চা পরিবেশন করলেন। হেডস্যার চায়ে একটা লম্বা চুমুক দিয়ে আয়েশ করে বসলেন চেয়ারে।
মুকুলকৃষ্ণবাবু দেবোপমস্যারকে বললেন, ‘তুমি নবনীতস্যারকে দিয়ে ক্রিকেট নিয়ে কিছু ভাল-ভাল বই তোমাদের স্কুল লাইব্রেরিতে আনিয়ে নিও। শুধু আনালেই হবে না, ছাত্রছাত্রীদের সে বই পড়তে বোলো। তবে তো বড় হওয়ার প্রেরণা পাবে তারা! নিজের মনে বড় হয়ে উঠবে! নিজের মতো করে বড় হয়ে উঠবে। যেমন তোমাকে এক্ষুনি একটা বইয়ের কথা বলতে পারি, ‘আনগার্ডেড, অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’—মিতালি রাজের লেখা আত্মজীবনী। বইটি আমি ন্যাশনাল লাইব্রেরি থেকে ইসু করে এনে পড়েছিলাম। তুমিও বইটা পড়ে নিও!’
হেডস্যার এবং দেবোপমস্যার চুপ করে গেলেন। বৃষ্টির মেঘ ছিঁড়ে অস্তপারের মেঘ রাঙা হয়ে উঠছে পশ্টিম আকাশে। আজকের ক্রিকেট উন্মাদনা মনে মেখে সব ছাত্রছাত্রীরা কখন বাড়ি ফিরে গেছে। যেসব অভিভাবকরা ক্রিকেট কোচিং দেখতে এসেছিলেন, তাঁরা খানিকটা অতৃপ্তি নিয়ে ফিরে গিয়েছেন।
হেডস্যার বললেন, ‘দেবোপম, আমাদের স্কুল থেকে স্কুল-বয়েজ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের টিম তৈরি করে ফ্যালো! সেই সঙ্গে স্কুল-গার্লস ক্রিকেট টুর্নামেন্টে টিমও তৈরি করো! প্রথম বছরই আমাদের স্কুল থেকে যেন আমরা ছাত্রদের এবং ছাত্রীদের ক্রিকেট টিম পাঠাতে পারি!’
মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতির চোখ দুটো উজ্জ্বল হয়ে উঠল। মুখে হাসি ছড়িয়ে পড়ল তাঁর। বললেন, ‘নবনীতস্যার, আমি তা হলে এখন থেকেই ছাত্রছাত্রীদের স্নায়ুশক্তি বাড়ানোর মন্ত্র শেখানোর কাজটা শুরু করে দিই, কী বলেন? যাতে ওরা বড় মুহূর্তের আগে স্নায়ুর চাপ কমাতে শেখে, কী ক্রিকেটে, কী লেখাপড়ায়, কী জীবনের উপরে ওঠার সিঁড়ির প্রতিটি ধাপে!’
তিনজনেই হো-হো করে হেসে উঠলেন। হেডস্যারের রুমের বাইরে থেকে কর্পূর গাছের গন্ধ মেখে একটা জোনাকি জানলা দিয়ে ঢুকে পড়ল! হেডস্যার ঘন্টিদাদুকে সম্বোধন করলেন, ‘এই যে সম্মতিচরণ, তুমি জোনাকিসুদ্ধ আমার রুমের জানলাগুলো বন্ধ করে দিও না যেন! ওকে রাতের অন্ধকার মাখতে দিও!’
অনেক দিন পরে হেডস্যার ঘন্টিদাদুকে ‘সম্মতিচরণ’ নামে ডেকেছেন। সেই আনন্দে ঘন্টিদাদু গুনগুন করে গান ধরলেন---‘ধায় যেন মোর সকল ভালোবাসা--প্রভু তোমার পানে, তোমার পানে, তোমার পানে।’
(এর পর ১৭ পর্ব)
শৈশবকে বাঁচতে দাও
দেবার্ঘ্য ঘোষ
একাদশ শ্রেণি, বিদ্যাসাগর শিশু নিকেতন, মেদিনীপুর
মাটির উঠোনে সেদিন বিকেলের আলোটা ছিল ম্লান, যেন কোনো বিষণ্ণ স্মৃতির অবশেষ। হালকা হাওয়ায় শুকনো পাতার খসখস শব্দ ছাপিয়ে ঘরের ভেতর জমে ছিল এক অদৃশ্য স্থবিরতা। দীর্ঘ দু’বছর পর বাড়ি ফিরেছে রাকেশ, তেরো বছরের এক কিশোর, যার কাঁধে সময়ের আগেই চেপে বসেছে সংসারের অকাল বৈধব্য।
দরজার চৌকাঠে মা দাঁড়িয়ে ছিল পথের পানে চেয়ে। কপালে ঘামের রেখা, হাতের তালু রুক্ষ, একশো দিনের কাজের প্রকল্পে ইট-পাথর বইতে বইতে মাতৃত্বের কোমলতা সেখানে ঢাকা পড়েছে কঠিন শ্রমে। হঠাৎ উঠোনের ধুলো উড়িয়ে সামনে এসে দাঁড়ালো এক চেনা ছায়া।
“মা…” - একটি ক্ষীণ, প্রায় অস্ফুট স্বর।
মা প্রথমে চিনতে পারেনি। নিজের গর্ভজাত সন্তানকে চিনতে মুহূর্তকাল দ্বিধা হওয়া যে কোনো মায়ের জন্য সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। রাকেশ এতই শীর্ণ যে তার গাল দুটো বসে গেছে, আর চোখ দুটো কোটরাগত, সেখানে শৈশবের চঞ্চলতা নেই, আছে অতল ক্লান্তি। পরক্ষণেই চেনা স্পর্শে সব বাঁধ ভেঙে গেল - মা ও ছেলে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠলো।
রাতের খাবারের পর কুপির টিমটিমে আলোয় বসে রাকেশ শোনালো তার প্রবাস জীবনের আখ্যান। তার কণ্ঠে কোনো উচ্ছ্বাস ছিল না, ছিল এক যান্ত্রিক নিস্পৃহতা।
“ওখানে সকাল হয় না মা…শুধু রাতটা একটু কম অন্ধকার হয়।”
সে বর্ণনা করলো সোনার গয়নার কারখানায় তার রোজনামচা। ভোর হওয়ার আগেই শুরু হয় যজ্ঞ। আগুনের লেলিহান শিখার সামনে বসে সূক্ষ্ম কাজ করতে করতে চোখ জ্বালা করে, নিশ্বাস আটকে আসে বিষাক্ত ধোঁয়ায়। সামান্য ভুল হলেই জোটে অকথ্য প্রহার।
“খেতে দেয় খুব সামান্য,” রাকেশ নিচু স্বরে বললো। “ক্ষুধার চেয়েও বেশি শরীরটা যখন আর বইতে চায় না, তখন মনে হয় কাজ থামিয়ে দিই। কিন্তু থামলেই দাদন শোধ হবে না।”
বলতে বলতে তার চোখে ভেসে উঠলো বন্ধু শ্যামলের মুখ। এক রাতে প্রচণ্ড ক্ষুধার কথা বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়া শ্যামল আর কোনোদিন জাগেনি।
“ওকে কেউ ডাকলো না মা। শুধু মালিক বললো- ‘আরেকটা ছেলে নিয়ে এসো’।”
ঘরের নিস্তব্ধতা যেন কুপির শিখার মতো কাঁপছিল। রাকেশ একটু থেমে যোগ করলো—
"বাবা থাকলে হয়তো এসব হতো না, তাই না মা?”
রাকেশের বাবা - গ্রামের সহজ-সরল মানুষটি তেরো বছর আগে এক গণ-উন্মাদনার শিকার হয়েছিলেন। কোনো অপরাধ না করেও ভুল বোঝাবুঝির বলি হয়ে পৃথিবী ছাড়তে হয়েছিল তাকে। সেই অন্যায়ের দায়ভার আজও এই পরিবারটি বয়ে বেড়াচ্ছে। তেরো বছরের কিশোর বুঝে নিয়েছে, পৃথিবীতে তার জন্য কোনো নিরাপত্তা নেই।
মা কাঁপাকাঁপা হাতে ছেলের মাথায় হাত রাখলো। ফিসফিস করে বললো -
"তুই তো এখনও বাচ্চা রে…”
রাকেশ ম্লান হেসে উত্তর দিল-
“ওখানে বাচ্চা বলে কিছু নেই মা। ওখানে সবাই স্রেফ একেকটা হাত।”
বাইরে রাত গভীর। আকাশে নক্ষত্ররাজি জ্বলছে ঠিকই, কিন্তু সেই আলো এই জীর্ণ কুটিরে প্রবেশের পথ খুঁজে পায় না। সাত দিন পর রাকেশকে আবার ফিরে যেতে হবে সেই অন্ধকার গহ্বরে, যেখানে শৈশব পোড়ানো আগুনে তৈরি হয় অন্যের অলঙ্কার।
কুপিটা নিভে আসতেই ঘরটা অন্ধকারে ডুবে গেল। সেই গাঢ় অন্ধকারের বুক চিরে একটি অনুচ্চারিত প্রশ্ন ভাসতে থাকলো - এই চক্রব্যূহের শেষ কোথায়?
পথের ধারে আনন্দমেলা
সৌমেন রায়
এখন বসন্তকাল। চারিদিকে তাকালেই দেখবে প্রকৃতি খুশিতে ভরপুর। আর দেখতে শিখলে তোমার মনও ভরে যাবে আনন্দে।পথের ধারেই মেলা - আনন্দ মেলা ! হ্যাঁ আনন্দও খুঁজে নেওয়া শিখতে হয় কিন্তু।
এই সময় চারিদিক দেখবে সবুজে সবুজ। নিম, অশ্বত্থ, শিমুল, কাঞ্চন শিশু, মেহগিনি সবাই কচি পাতায় সেজে উঠে। তবে ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখবে সবার সবুজ কিন্তু এক নয়। অশ্বত্থ গাছের কচি পাতাগুলো প্রথম একটু লালচে, তারপর সবুজের শেড পাল্টায় দুবার। পথের ধারে অনেক অজানা গাছও কচি পাতায় সেজে ওঠে। কুসুম গাছ যেন সিঁদুর মেখে বুড়ো পাতা ঝরিয়ে দেয়।
পলাশ গাছ লালে লাল হয়ে ওঠে। এটা সবাই জানো। পলাশ এখন সেলিব্রেটি। লাল কৃষ্ণচূড়া আর হলুদ অমলতাস ফুটবে আর একটু পরে। রোদ যত চড়বে এদের রং যেন ততোই খুলবে। শিমুল সেও কিন্তু কম যায় না । তবে তার কদর একটু কম। বেগুনি জারুল যেন একটু আলাদা অন্যদের থেকে । শিরীষ এর ফুল ফোটে ঠিক যেন ব্রাশ! এরা তো তাও চেনা। পথের ধারে কত যে ছোট ছোট গাছ এই সময় পল্লবিত হয়ে ওঠে তার হিসাব কে রাখে! এই তো সেদিন রাস্তায় যেতে যেতে দেখলাম পথের ধারে বরুন গাছ নিজেকে ফুলে ফুলে সাজিয়ে বসে আছে। এই সময় ফুটে ভাট ফুল ( ঘেটু)। চমৎকার মিষ্টি গন্ধ। গঠনটিও একটু অন্যরকম। চারিদিকে ফুটতে শুরু করে লজ্জাবতী, হাতিশুড়, কালকাসুন্দা, দাদমর্দন ,শেয়াল কাঁটা, পুটুস আরো কত কি! হাওয়ায় মাথা নাড়ে উলু ঘাস, ঠিক যেন কাশের ভাই। জলা জায়গাগুলো আলো করে থাকে কচুরিপানা। ঘরের আশেপাশে কাড়িয়াপাতার গাছ থাকলে দেখবে সেও ফুলে ভরে গেছে। একটা হালকা মিষ্টি গন্ধ ভোরের দিকে পাবে। নিম বা আকড় গাছের পাশ দিয়ে পেরোলে গন্ধে টের পাবে যে তারা ফুটে আছে। শালবনের পাশ দিয়ে গেলে চোখ বন্ধ করেও বুঝতে পারবে।
এখন যে দিকে তাকাবে আনন্দই আনন্দ। শুধু গাছপালা নয় পোকামাকড়, প্রজাপতি ,পাখিরাও বেশ আনন্দে থাকে এই সময়। আর একটু কালবৈশাখী হয়ে গেলে তো কথাই নেই। যেন উৎসব পড়ে যায় দিকে দিকে। তাকিয়ে দেখবে সবাই তোমার অপেক্ষায় আছে ।
পাঠপ্রতিক্রিয়া
দোলনচাঁপা তেওয়ারী দে
১৯৯ সংখ্যক জ্বলদর্চি ছোটবেলা পত্রিকাটি উৎসবে এবং আঙ্গিকে সবদিক থেকে সুন্দর। মৌসুমী দির লেখা সম্পাদকীয় যে অসাধারণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আমড়া খাওয়ার গল্প” মানসী গাঙ্গুলীর
এই লেখাটি এক জন সাধারণ গৃহবধূর দৈনন্দিন জীবনের সূক্ষ্ম অথচ গভীর ছবি তুলে ধরে। সুমিতার চরিত্রের মাধ্যমে লেখিকা দেখিয়েছেন একজন মায়ের নিরলস পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
গল্পের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর বাস্তবতা। সংসারের ছোট, ছোট ঘটনা বাচ্চাদের খাওয়ানো,তাদের বায়না সামলানো, গল্প বলে ঘুম পাড়ানো,এসব খুব পরিচিত এবং সহজেই পাঠকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে মেয়ের মাছ ফেলে দেওয়ার ঘটনাটি বা ছেলের বারবার গল্প শোনার আবদার,এই মুহূর্তগুলো গল্পকে জীবন্ত করে তোলে।
এখানে মাতৃত্বের ত্যাগ খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। সুমিতা নিজের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা ভুলে শুধুমাত্র সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছে। তার ক্লান্তি, মাথাব্যথা, ঘুমের অভাব,সবকিছুর মাঝেও সে থেমে থাকে না। এই দিকটি পাঠকের মনে সহানুভূতি ও শ্রদ্ধা জাগায়।
রতনতনু ঘাটীর লেখা গগন জ্যোতি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচ এই পর্বটিতে গল্পের গতি ও পরিবেশ নির্মাণের দিক থেকে বেশ জীবন্ত ও স্বাভাবিক লেগেছে। কয়েকটি দিক বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যেমন,
প্রথমত, গ্রামের সামগ্রিক আবহটি খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। শুধু একটি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচ নয়, আশেপাশের একাধিক গ্রামের মানুষের আগ্রহ, উপস্থিতি,সব মিলিয়ে ঘটনাটিকে একটি সামাজিক উৎসবের রূপ দেওয়া হয়েছে। অমূল্য ধর, অভিরূপ দলুই, নিরাপদ মাইতি,এদের মতো চরিত্রগুলো গল্পে বাস্তবতার ছোঁয়া এনে দিয়েছে।
দ্বিতীয়ত, অভিরূপ দলুইকে ঘিরে যে অংশটি লেখা হয়েছে, সেটি বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। আইপিএল দেখার প্রতি তাঁর আগ্রহ, বোনের বাড়িতে গিয়ে ম্যাচ দেখা—এই ছোট ছোট তথ্যগুলো চরিত্রটিকে জীবন্ত করে তোলে। তাঁর কথোপকথনের মধ্য দিয়ে তাঁর স্বভাব, আগ্রহ এবং পারিবারিক সম্পর্ক,সবই ধীরে, ধীরে পরিষ্কার হয়।
তৃতীয়ত, নবনীতস্যারের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনে গল্পে একটি ভিন্ন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। এখানে শুধু ক্রিকেট নয়, পড়াশোনার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে—যা গল্পটিকে আরও বাস্তব এবং ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলে। গ্রামের শিক্ষাব্যবস্থা ও অভিভাবকদের ভূমিকার একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিতও পাওয়া যায়।
“রহস্যময় দরজা”র লেখক অন্বেষা বেরা, গল্পটি একটি সুন্দর কল্পনাপ্রবণ ও রহস্যঘেরা রচনা। লেখার শুরুতেই জংধরা, লতা-পাতায় ঢাকা দরজার বর্ণনা পাঠকের মনে কৌতূহল জাগায়। মনে হয়, দরজার ওপারে নিশ্চয়ই কিছু অজানা ও আকর্ষণীয় রহস্য লুকিয়ে আছে।
লেখিকার কল্পনার জগতে প্রবেশের অংশটি খুবই জীবন্ত ও মনোমুগ্ধকর। রঙিন ফুল, সবুজ ঘাস, ঠান্ডা হাওয়া, পাখির কিচিরমিচির,সব মিলিয়ে এক স্বপ্নিল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ঝরণা ও নদীর বর্ণনাও লেখাটিকে আরও সুন্দর করে তুলেছে। এখানে লেখিকার প্রকৃতিপ্রেম ও কল্পনাশক্তি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। গল্পের শেষে দরজাটি আর খুঁজে না পাওয়ার ঘটনাটি রচনাটিকে আরও রহস্যময় করে তোলে। এই অসম্পূর্ণতার মধ্যেই গল্পের আসল সৌন্দর্য যা,পাঠকের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে এবং ভাবতে বাধ্য করে, আদৌ দরজাটি বাস্তবে ছিল, নাকি শুধুই কল্পনার সৃষ্টি।
তবে কিছু জায়গায় বাক্যগঠন আরও সহজ ও সাবলীল করা গেলে রচনাটি পড়তে আরও আরামদায়ক হতো। পাশাপাশি, শেষ অংশে অনুভূতির প্রকাশ একটু বেশি হলে গল্পের প্রভাব আরও গভীর হতে পারত।
আঁকা ছবিগুলো অসাধারণ সুন্দর।
মলয় সরকারের (১৯৮) পাঠ-প্রতিক্রিয়াটি অত্যন্ত আন্তরিক ও ব্যক্তিগত অনুভূতিতে ভরপুর। লেখক মলয় সরকার ‘জ্বলদর্চি ছোটোবেলা’ পত্রিকার সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। শুরুতেই পত্রিকা ও সম্পাদিকার প্রতি তাঁর আত্মীয়তার অনুভূতি পাঠককে আকৃষ্ট করে।
পত্রিকার ১৯৮ সংখ্যার বিভিন্ন বিষয়বস্তুর বিশ্লেষণে লেখক সাবলীল ভাষা ব্যবহার করেছেন। প্রচ্ছদের বিড়ালটির বর্ণনায় শিশুমনের কৌতূহল ও সরলতাকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অর্থিতা মণ্ডলের ‘গুলতি’ গল্পের হাস্যরসাত্মক দিকটি ভালোভাবে তুলে ধরা হলেও, হঠাৎ পটপরিবর্তনের সমালোচনাও যথাযথভাবে করা হয়েছে,যা লেখাটিকে ভারসাম্যপূর্ণ করেছে।
রতনতনু বাবুর ক্রিকেট প্রসঙ্গটি তথ্যবহুল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা শিশুদের শিক্ষামূলক দিককে সমৃদ্ধ করে। অস্মিতা ঘোষের লেখার প্রশংসায় লেখক ভবিষ্যতের সম্ভাবনার দিকটি তুলে ধরেছেন, যা উৎসাহব্যঞ্জক। পাশাপাশি অনুশ্রুতি মণ্ডলের আঁকার উল্লেখও পত্রিকার বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দেয়।
লেখক পত্রিকার আরও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন এবং ছোটদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন,যা একটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।
0 Comments