জ্বলদর্চি

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ২০২

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ২০২
চিত্রগ্রাহক - ডাঃ প্রবোধ পঞ্চাধ্যায়ী

সম্পাদকীয়। 

প্রিয় বন্ধুরা, 
কেমন আছো সবাই ? দেখতে দেখতে আবার একটা রবিবার চলে এলো, আর রবিবার মানেই তোমাদের সাথে কথা বলার দিন । আমি কিন্তু সারা সপ্তাহ অপেক্ষা করে ছিলাম তোমাদের জন্য । এই সপ্তাহ থেকে তোমাদের জন্য নতুন একটা বিভাগ শুরু হলো। তোমাদের উপযোগী ক্যুইজ বিভাগ। প্রতি রবিবার চারটি করে ক্যুইজ এর প্রশ্ন থাকবে , পরের রবিবার তার উত্তর দেওয়া হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে নিশ্চয় তোমরা সব কটা ক্যুইজ এর ই উত্তর নিজেরাই পেরে যাবে । গতকাল ছিল বিশ্বকবি  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন। তাই এই সপ্তাহের ক্যুইজ রবি ঠাকুর কে নিয়ে ই শুরু হলো । আর একটা কথা , তোমরা যদি নিজেদের কোনো ছোট (৩০০-৪০০ শব্দের মধ্যে) লেখা অথবা আঁকা কোনো ছবি প্রকাশ করতে চাও তাহলে অবশ্যই আমাকে পাঠিয়ে দিও সরাসরি। সবাই আমার অনেক ভালবাসা নিও । আবার আসব পরের রবিবার। টা টা । 
ইতি - তোমাদের স্বাগতাদি ।

গগনজ্যোতি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচ 

পর্ব-১৮ 

রতনতনু ঘাটী 

গগনজ্যোতি স্কুলের মাঠের মাথার উপর আকাশের অনেক উঁচুতে তিন টুকরো কালো মেঘ জটলা করছিল। সেদিকে ঘাড় উঁচু করে তাকালেন মুকুলকৃষ্ণবাবু। নবনীতস্যারও আকাশ দেখতে দেখতে মুকুলবাবুকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘মুকুলবাবু, কী মনে হয়, বৃষ্টি নামবে? এ ক’দিন প্রতিটি ক্রিকেট কোচিংয়ের দিন আকাশের মুখ ভার হয়ে থাকে। এক-একদিন বৃষ্টি শুরুও হয়ে যায়। এ ঝামেলা বলুন তো? এমন হলে ক্রিকেট কোচিংয়ের প্র্যাকটিস হবে কেমন করে? আমি দেবোপমকে বলছিলাম, আমাদের সাইকেলস্ট্যান্ডের শেডটাকে কোচিংয়ের জন্যে ব্যবহার করতে।’

   ‘তাতে কী আর হবে? বড়জোর বোলিংটা প্র্যাকটিস করা যেতে পারে। ইন্ডিয়া টিম যেভাবে নেট প্র্যাকটিক করে। কিন্তু ব্যাটিং হবে কেমন করে?’

   নবনীতস্যার বললেন, ‘আমি যদি অনেক টাকা পেতাম কোথাও থেকে স্কুলের ফান্ডে, তা হলে আমি একটা ছোট করে ইনডোর ক্রিকেট কোচিং মাঠ তৈরি করে ফেলতাম আমাদের মাঠের পাশে। আমাদের ছাত্রদের যখন অমন উৎসাহ দেখছি! কিন্তু তা তো আর সম্ভব নয়।’

    ‘আমি একটা কথা বলব?’

   মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতির মুখের কথা শেষ হতে না হতেই শুরু হয়ে গেল ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি। দেবোপমস্যার চেঁচিয়ে বললেন, ‘তোমরা সকলে সাইকেল স্ট্যান্ডের শেডের নীচে চলে যাও। মনে হয়, এক্ষুনি বৃষ্টি থেমে যাবে!’

   মুকুলকৃষ্ণবাবুর সঙ্গে নবনীতস্যারও দৌড়নোর ভঙ্গিতে তাঁর রুমের দিকে এগিয়ে চললেন। মুকুলকৃষ্ণবাবু পকেট থেকে রুমাল বের করে মাথা ঢাকার চেষ্টা করছেন। নবনীতস্যার বললেন, ওতে হবে না মুকুলবাবু! চলুন দৌড়ই!’

   ওঁরা দৌড়ে হেডস্যারের রুমে পৌঁছে গেলেন। আর তখনই দমকা বাতাস দিয়ে বৃষ্টি ঝেঁপে এল। মুকুলবাবু মাথার বৃষ্টির ফোঁটাগুলো রুমাল দিয়ে মুছতে মুছতে বললেন, ‘চলুন নবনীতস্যার, আমরা দু’জনে একটা ভেঞ্চার শুরু করি? জীবনে তো কিছুই করলাম না!’

   হেডস্যার হাত দিয়ে মুকুলবাবুকে সামনের চেয়ারে বসার ইঙ্গিত করে নিজের চেয়ারটা খানিক টেনে নিয়ে ধপাস করে বসে পড়লেন। তারপর জানতে চাইলেন, ‘কী নিয়ে যেন আপনি একটা ভেঞ্চার করতে চাইছিলেন মুকুলবাবু?’

     মুকুলবাবু গলাটা একটুখানি কেসে নিয়ে বললেন, ‘আমি কলকাতায় সারাজীবন চাকরি করলাম, কোথাও একফালি ফ্ল্যাট বা এক টুকরো বাড়ি অথবা জমি কিনলামই না। ক্রিকেট নিয়ে কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে কাটিয়ে দিলাম জীবনটা!’

   নবনীতস্যার হেসে বললেন, ‘কেউ-কেউ ঘোড়দৌড়ের মাঠে গিয়ে রেস খেলে, কেউ হোটেল-রেস্তরাঁয় খেয়ে উড়িয়ে দেয় টাকা! আপনি তো আর সেসব কিছু করেননি? শাঁখাপোতা গ্রামে আপনার পৈতৃক জমিজমা-পুকুর আর ছোট্ট বাড়ি নিয়ে তো কমটুকু নেই আপনার?’

   ‘আমার শাঁখাপোতার বাড়ির পাশ দিয়ে তিরতির করে বয়ে চলেছে ছোট্ট একটা নামের কুসুম নদী! একবার ভেবেছিলাম নদীর ধারে আমার অর্জিত সব টাকাপয়সা জড়ো করে ওখানে একটা রিসর্ট করব।’ তারপর খানিক থেমে বলতে শুরু করলেন, ‘আজকাল তো রিসর্ট খুব চলছে! রিসর্টটার একটা নাম দেওয়ার জন্যে একবার কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে অনুরোধ করেছিলাম। ভারী বাউন্ডুলে মানুষ ছিলেন তো। উনি তখন শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীতে বাংলা পড়াতেন। আমি এক বন্ধুর সঙ্গে শান্তিনিকেতনে বেড়াতে গিয়েছিলাম। ওখানে দেখি শক্তি চট্টোপাধ্যায় ছাতিমতলার পাশ দিয়ে হেঁটে চলেছেন একা। আমি গিয়ে ধরলাম। বললাম, ‘স্যার, আমি আমার গ্রামে গিয়ে রিটায়ারমেন্টের পর একটা রিসর্ট করব বলে ভেবেছি। আপনি একটা সুন্দর নাম ঠিক করে দিন না!’ 

   রাস্তার পাশের একটা ছোট চায়ের দোকান থেকে মাটির ভাঁড়ে চা নিলেন। একটা সিগারেট ধরালেন। চা খেতে-খেতে মুখ তুলে বললেন, ‘আপনার গ্রামে কোনও নদী নেই? নদী ছাড়া কি গ্রাম হয়? যেমন আমার জন্মস্থান বহড়ু গ্রাম। তার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কুলটি নদী!’

   আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, একটা ছোট নদী তো আছে আমার গ্রামে! নদীটির নাম কুসুম!’

   উনি মুখ তুলে হাঁটতে লাগলেন। একটু পরে আমার দিকে পিছন ফিরে বললেন, ‘রিসর্টটার নাম রাখুন ‘কুসুমবিলাস’!’ তারপর শান্তিনিকেতনের গাছগাছালির ছায়ায় হারিয়ে গেলেন শক্তিবাবু। সে সময়টা আমার কলকাতায় থাকার শেষের দিকটায়। তারপর ভাবলাম, অত খাটুনি আমার শরীরে কুলোবে না। ‘কুসুমবিলাস’ আর তৈরি করে উঠতে পারিনি!’

   নবনীতস্যার জিজ্ঞেস করলেন, ‘তা, এখন ‘কুসুমবিলাস’ নিয়েই কি ভেঞ্চারটা শুরু করতে চান?’

   মুকুলকৃষ্ণ প্রতিবাদ করে উঠলেন। বললেন, ‘না না! গগনজ্যোতি স্কুলের মাঠের মাথায় একটা ছায়ার ব্যবস্থা কোনও ভাবে যদি করা যায়, কেমন হয়?’

   নবনীতস্যার কৌতূহলী গলায় জানতে চাইলেন, ‘টাকা কোত্থেকে আসবে?’

   মুকুলকৃষ্ণ মুখে হাসি ছড়িয়ে বললেন, ‘আমি মন্দাকিনীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে শাঁখাপোতা গ্রামের আমার ভিটেবাড়িটা বিক্রি করে দিয়ে সে টাকায় গগনজ্যোতি স্কুলের ইন্ডোর ব্যাপারটা করে ফেলা যায় কিনা ভাবছি!’

   অবাক গলায় প্রশ্ন করলেন নবনীতস্যার, ‘কী বলছেন কী আপনি? পৈতৃক সম্পত্তি, বিক্রি করে দেবেন আমাদের স্কুলের জন্যে?’

   ‘বিক্রি করব একটা ভাল কাজের জন্যে তো? সে টাকায় কুলোবে না জানি! আমরা ডিএম কর্ণার্জুনস্যারকেও বলব।’

   ‘তিনি তো নবীনগঞ্জ জেলা জুড়ে ছেলেদের এবং মেয়েদের স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট করবেন। তাঁর উপর আর কি বড় চাপ দেওয়া ঠিক হবে?’

   তক্ষুনি দেবোপমস্যার আর ভূগোলের ভুবনস্যার এসে ঢুকলেন হেডস্যারের রুমে। তখনই বৃষ্টিটা আরও ঝেঁপে এল। ভুবনস্যার বললেন, ‘হেডস্যার, আজকের এ বৃষ্টি, দেখে মনে হচ্ছে, এ না-ছোড়।’

   ‘সেই নিয়েই তো মুকুলবাবুর সঙ্গে আমার কথা হচ্ছিল। চলুন, আমরা সকলে মিলে চেষ্টা করি! মুকুলকৃষ্ণবাবু তার শাঁখাপোতা গ্রামের পৈতৃক ভিটেবাড়ি বিক্রির কথা ভাবছেন আমাদের স্কুলের মাঠের উপর একটা শেড করা যায় কিনা!’

   দেবোপমস্যার ঝপাস করে উঠে দাঁড়িয়ে প্রণাম করলেন মুকুলকৃষ্ণবাবুকে। মুকুলবাবু বললেন, ‘আহা-হা, কী করছ তুমি দেবোপম!’

   ‘এত বড় আনন্দের খবরের রচয়িতাকে একটা প্রণাম করব না, তা কি হয়? এর পর বৃষ্টিতে আর আমাদের মাঠের ক্রিকেট কোচিং বন্ধ করতে হবে না! তেমন বড় করে যদি শেডটা আমরা করতে পারি, তা হলে এটাই হবে নবীনগঞ্জ জেলার প্রথম ইন্ডোর মাঠ! আনন্দে আমার এখন নাচতে ইচ্ছে করছে!’

   মুকুলকৃষ্ণ হাত তুলে থামালেন দেবোপমস্যারকে, ‘তুমি অত হুটোপাটি কোরো না। আমি বাড়ি গিয়ে আগে আমার স্ত্রী মন্দাকিনীকে কথাটা জানাই!’

   ‘তেমন হলে আমরা সকলে আপনার বাড়ি গিয়ে মন্দাকিনী কাকিমাকে বলব। তিনি রাজি না হয়ে পারবেন না!’ দেবোপমস্যার উৎফুল্ল হয়ে উঠলেন।

   মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতি মাথাটা তুলে বলে উঠলেন, ‘আমাদের স্কুলের এই ভেঞ্চারে আমরা আর এক কিংবদন্তি মানুষের কাছে গিয়ে হাত পাততেই পারি!’

   নবনীতস্যার বললেন, ‘কার কথা বলছেন মুকুলকৃষ্ণবাবু? আপনার ঠিক দরকারের সময় দরকারি কথাটাই মনে পড়ে দেখছি? কার কথা বলছেন স্যার?’

   মুকুলকৃষ্ণবাবু বললেন, ‘আমি একজন কিংবদন্তি ক্রিকেটারের কথা বলব! তিনি হলেন সচিন তেন্ডুলকর! করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য পঞ্চাশ লক্ষ টাকা দান করেছিলেন সচিন তেন্ডুলকর। ভারতীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ এই খাতে দান করছেন সচিনই। তোমরা শুনলে অবাক হবে তো বচেই, সচিনের শেষ টেস্ট ম্যাচে দুনিয়া জুড়ে স্লোগান ছিল একটাই— ‘ধন্যবাদ ক্রিকেট ঈশ্বর’!’

   মুকুলকৃষ্ণস্যার ক্রিকেট নিয়ে বলতে শুরু করলে চট করে থামেন না। কারণ, তাঁর ক্রিকেট নিয়ে তথ্যের ঝুলি মস্ত বড়! তিনি বললেন, রাজ্যসভা থেকে অবসরের পরেও ধন্যবাদ-বার্তা পেলেন সচিন তেন্ডুলকর খোদ প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে। সাংসদ হিসেবে ছ’ বছরের বেতন ও অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে পাওয়া প্রায় ৯০ লক্ষ টাকার পুরোটাই প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে সচিন দান করে দিয়েছেন। আরও কত কত যে উদাহরণ রয়েছে সচিনের, সে কথা বলতে গেলে আজ আকাশে মেঘ ঠেলে ফের চাঁদ উঠে পড়বে!’

   নবনীতস্যার বললেন, ‘কিন্তু আপনি আমাদের স্কুলের মাঠের উপরের শেড তৈরি প্রসঙ্গে আপনার কেন হঠাৎ সচিন তেন্ডুলকরের কথা মনে এল?’

   ‘লিটিল মাস্টারের মানবিকতার কত যে উদাহরণ আমার মনের ভিতর খলবল করছে, মন চাইছে তার সব যেন এক্ষুনি শুরু করি!

সচিন মহারাষ্ট্রের রত্নগিরি জেলার একটি আবাসিক বিদ্যালয়ে দৃষ্টিহীন শিশুদের সাথে দেখা করে এবং তাদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করেছিলেন। সবই আজও সচল।’

   ভূগোলের ভুবনস্যার বললেন, ‘আমি সচিনের এত কিছুর কিছুই জানতাম না। এখন বুঝতে পারছি, একজন মানুষ শুধু ক্রিকেটটাই নজিরবিহীন ভাবে খেলেছেন তা-ই নয়, তাঁর আরও অনেক জনহিতকর কাজ ছড়িয়ে আছে আমাদের পৃথিবীতে।’

   মুকুলকৃষ্ণ বললেন, ‘সচিন অন্ধ্রপ্রদেশের পুত্তামরাজু কান্দ্রিকা এবং মহারাষ্ট্রের ডোঞ্জা গ্রাম দুটিকে দত্তক নিয়েছিলেন। আমরা যেমন মানুষকে দত্তক নেওয়ার কথা শুনি, উনি এই গ্রাম দুটোতে স্কুল তৈরি, খেলার মাঠ তৈরি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে শিশুদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন।’ 

   এক নিশ্বাসে এত কথা বলে খানিক দম নিলেন মুকুলকৃষ্ণ। তারপর বললেন, ‘মুম্বইয়ের আর. সি. সি. চিলড্রেনস হাসপাতালে অসহায় পরিবারের শিশুদের চিকিৎসার জন্য তিনি আর্থিকভাবে বড় ধরনের সহায়তা করেছেন।’

   দেবোপম অবাক গলায় বললেন, ‘একজন মানুষ শুধু ক্রিকেটটাই সুন্দর করে খেলেননি, জীবনটাকেও সুন্দুর করে সাজিয়ে তুলেছেন মানুষের কল্যাণে।’

   মুকুলকৃষ্ণ বেশ বাহাদুরি নেওয়ার ভঙ্গিতে বললেন, ‘এবার বলি, নবনীতস্যার, আমি কেন আমাদের গগনজ্যোতি স্কুলের খেলার মাঠের উপর শেড তৈরির প্রসঙ্গে সচিনের কথা তুলে আনলাম কেন শুনবেন? সচিন ‘পরিবার’ নমের একটি সংস্থার সাথে যুক্ত হয়েছেম।  মধ্যপ্রদেশের সেহোর জেলায় প্রায় পাঁচশো ষাট  জনেরও বেশি সুবিধেবঞ্চিত আদিবাসী অনাথ শিশুদের শিক্ষা ও পুষ্টিকর খাবারের দায়িত্ব নিয়েছেন।’

   নবনীতস্যার মুগ্ধ কণ্ঠে জানতে চাইলেন, ‘আর? আরও কিছু বলুন?’

   মুকুলকৃষ্ণ বললেন, ‘এবার সচিনের যে কাজের কথা বলব, সেটি হল, ছত্তিশগড়ের নকশাল-প্রভাবিত ডানতেনওয়াড়া জেলায় অনাথ ও আদিবাসী শিশুদের জন্য পঞ্চাশটিরও বেশি খেলার মাঠ তৈরি করে দিয়েছেন। আর নিজে যেহেতু ক্রিকেটার, তাই এই  ক্রিকেট মাঠে যেসব ছেলেমেয়েরা ক্রিকেট খেলবে তাদের প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তা হলে আমরা যদি ঠিকমতো আমাদের স্কুলের ক্রিকেট কোচিংয়ের অসুবিধের কথা সচিনের কাছে চিঠি লিখে পৌঁছে দিতে পারি, তা হলে হয়তো ‘সচিন পরিবার’ আমাদেক স্কুলের মাঠের শেডের একটা সুরাহা হয়ে গেলেও যেতে পারে!’

   সকলে মগ্ন হয়ে শুনছিলেন সচিন তেন্ডুলকরের কীর্তির কথা। ভূগোলের ভুবনস্যার উঠে উঁকি দিয়ে দেখতে গেলেন এখনও বৃষ্টি পড়ছে কিনা। বললেন, ‘এবার একটু বৃষ্টি থেমেছে!’

   হেডস্যার নবনীতস্যার বললেন, ‘তা হলে, চলুন ঝাঁপ দেওয়া যাক!’

   ভুবনস্যার অবাক গলায় প্রায় চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘না না। ভিজে যাব সকলে!’

   হেডস্যার মুখে হাসি চেপে রাখতে পারলেন না! হাসতে-হাসতে বললেন, ‘না না! বৃষ্টিতে ঝাঁপ দেওয়ার কথা বলিনি। আমি আমাদের স্কুল মাঠের উপরে শেড তৈরির কাজ নিয়ে সকলকে ঝাঁপিয়ে পড়তে বললাম।’

   সকলে হো-হো করে হেসে উঠলেন। ঘন্টিদাদু সম্মতিচরণ বললেন, ‘এখনই সকলে উঠে পড়ুন! আকাশে যা মেঘের যাতায়াত দেখছি, কখন বলতে কখন নেমে পড়তে পারে!’

   ডেডস্যার তাঁর রুমের বাইরে বেরিয়ে মেঘে ঢাকা আকাশের ফাঁক দিয়ে আবছা চাঁদটাকে দেখতে পেয়ে গেলেন। বললেন, ‘চলুন সকলে, বাড়ি পৌঁছনো পর্যন্ত বৃষ্টি মনে হয় নামবে না!’

(এর পর ১৯ পর্ব)  


রবীন্দ্রনাথ যখন বন্ধু 

শাশ্বতী কর
নার্সিং তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী, অশোকনগর,উত্তর ২৪ পরগনা

ধূলো ঝেড়ে,ঝাপসা হয়ে যাওয়া ছবিটা আজ খুঁজে বার করলো মেয়েটা,মায়ের যত্নে তুলে রাখা  keypad ফোন থেকে ।এতো শুধুই ছবি নয় স্মৃতি.....সেদিন যখন বাড়ির কেউ অপ্রয়োজনীয় ভেবে ওর হাতে তৈরি সোলার ফটোফ্রেম আর  খবরের কাগজ থেকে কেটে লাগানো রবীন্দ্রনাথের ছবিটাকে দুটো টুকরোয় শেষ করেছিল তখন পর্যন্ত  ওর কাছে রবীন্দ্রনাথ মানে ছিল ছিল বইয়ের মাঝে বাগানের ফুল দিয়ে সাজানো একটা ছবির ফ্রেম মাত্র......সময়ের দাগ কেটে,ধীরে ধীরে মুহুর্তের সাথে বদলে ২৫ বৈশাখ আসে আজও তবে শুধু কবি থেকে কবে ' জীবন আমার যে অমৃত/আপন মাঝে গোপন রাখে/প্রতিদিনের আড়াল ভেঙে /কবে আমি দেখবো তাকে হয়ে উঠেছে বোঝেনি সে।লোকের বলা হাজার কথার মাঝে সেই রবীন্দ্রনাথই তার একমাত্র ভরসা,না না তথাকথিত ঐ সব depression, frustration,stress...... এর জন্য নয়....তিনি বিরাজমান ' আমার সকল দুখের প্রদীপ/জ্বেলে দিবস/গেলে করবো নিবেদন/আমার ব্যথার পূজা হয়নি সমাপন ' অর্থাৎ দুঃখের মাঝে জ্বলে ওঠা প্রদীপ।যুঝে চলা এই সমাজে তার একমাত্র বন্ধু তিনিই ...,হ্যাঁ ঠিক বলছি বন্ধু,কবি নয়,কবিতা নয় ,ভগবান নয় নিছক বন্ধু। মানুষের ভিড়ে তো তিনি নেই ...আছেন ' তখন স্মরিতে যদি হয় মন /তবে তুমি এসো হেথা নিভৃত ছায়ায় যেথা এই চৈত্রর শালবন '।

সমাজের দর্পণে এতোদিন চোখে চোখ রেখে তাকানোর পর আজ সমাজের অংশ প্রমাণ চায় তার পারদর্শিতার,প্রমাণ চায় সে সত্যি perfect কি না,মানাতে পারবে কি না,তাল মিলিয়ে চলতে পারে কি না..... এসবের ভারে ভারাক্রান্ত চোখ আর মন যখন অন্ধকার গলি ধরে নীরবে নিশ্চুপে ছাদের কার্নিশে জীবন আর মৃত্যু মাঝে ঝোলে তখন সুতোকে চেপে ধরে কবি বলে ওঠেন......"কোনোদিন কর্মহীন পূর্ণ অবকাশে,বসন্তবতাসে
অতীতের তীর হতে যে রাত্রে বহিবে দীর্ঘশ্বাস,ঝরা বকুলের কান্না ব্যথিবে আকাশ,সেইক্ষণে খুঁজে দেখো, কিছু মোর পিছে রহিল সে/  তোমার প্রাণের প্রান্তে; বিস্মৃতপ্রদোষে/ হয়তো দিবে সে জ্যোতি,/হয়তো ধরিবে কভু নামহারা-স্বপ্নের মুরতি"।


কিরণ দাদা 
রাজর্ষি মন্ডল

একটা নদী পেতাম যদি
খিলখিলিয়ে হাসে
সেই নদীটা যেতাম নিয়ে
আমার বাড়ির পাশে।

সেই নদীতে নৌকো বেয়ে 
দিতাম কোথা পাড়ি 
যেথায় আমার কিরণ দাদা
বিপদ বাধায় ভারি।

বিপদটা কি শুনবে বলো 
সবুজ গাঁয়ে এসো
আর কিছু না কিরণ দাদার 
বাঁশিই ভালোবেসো।

সেই বাঁশিতে কি সুর বাজে
নেই তো আমার জানা
ঘুমের দেশে ঘুরতে যেতে
কেউ করে না মানা।

অর্চন দাস
শ্রেণি : ষষ্ঠ,  বাঁকুড়া জেলা স্কুল

কুইজ
পর্ব - ১ 
বন্দনা পাণ্ডে ও সুলেখা পাণ্ডে

১| কোন কাব্যগ্রন্থের জন্য কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর "নোবেল" পুরস্কার পেয়েছিলেন ?  

২| রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি কি  ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন ? 
 
৩| রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় টির নাম কি? 

৪| রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর "নাইট" উপাধি ত্যাগ করেন কোন হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ? 

৫| কোন কোন দেশের জাতীয় সঙ্গীত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর লেখা ? 


(উত্তর সামনের রবিবার)
🍂


Post a Comment

0 Comments