চিত্রা ভট্টাচার্য্য
মহামানবের সাগরতীর এই ভারতবর্ষের উন্মুক্ত পথে কালক্রমে বহু রাজাধীরাজ ,বিদেশি পথিক পরিব্রাজক ,ধর্মযাজক নানা সম্প্রদায়ের মানুষের পদার্পনে পূর্বপশ্চিম সভ্যতার ঐতিহ্যের ধারায় এসেছে অধিকারবোধ ও কায়েমী স্বার্থের সংঘাত। কালের পরিক্রমায় ভারতবর্ষে যে নবজাগরণ এসেছিলো সে আলোকপথের দিশারী ছিলেন বহু মনিষীদের সাথে অন্যতম পুরোধা কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবার ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। নোবেল জয়ী কবির কাব্যসঙ্কলন গীতাঞ্জলির প্রবাহে প্রভাবিত হয়ে রবীন্দ্রনাথের কাব্যসাগরে অবগাহন করে ঋদ্ধ হতে এবং ভারতবর্ষের প্রাচীন ঐতিহ্য সংস্কৃতি কে জানতে সারাবিশ্বের বহুজ্ঞানী গুণী জনের সাথে সুদূর ম্যাঞ্চেস্টার থেকে বিদেশি সাহেব উইলিয়াম স্ট্যানলি পিয়ার্সন এলেন কবির প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে, বন্ধুত্ব ও শিষ্যত্ব গ্রহণ করে তাঁর স্বপ্নের অন্তর্যামী উইলিয়াম পিয়ার্সন রবীন্দ্রজীবনে স্মরণীয় হয়ে রইলেন।
বাস্তবের আকাশে রবীন্দ্রনাথ ও পিয়ার্সন এই দুই উজ্জ্বল নক্ষত্রের মহামিলন, দুই মহান আত্মার অন্তরের আত্মিক যোগের গভীরতায় হৃদয়ের মিলনের তত্ত্বে বেজেছিল এক অন্তরঙ্গ সুর। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি ভারতবর্ষ কে ভালবেসে ছিলেন। তাইতো সুদূর বিদেশে ইতালীর হসপিটালে মৃত্যুশয্যায় শুয়েও যে মহান মানুষটির শেষ কথা ছিল 'আমার একমাত্র ভালবাসা 'ভারতবর্ষ"। মাত্র ৪২ বছরে দুর্ঘটনায় অকাল প্রয়াণ না ঘটলে রবীন্দ্র চেতনায় নিবেদিত প্রাণ মানুষটি জীবনের স্বাভাবিক সফর শেষে হয়তো আরোকিছুটা সময় ভারতবর্ষের মুক্তিসাধনায় রবীন্দ্র সান্নিধ্যে আনন্দে অনায়াসে থাকতেন।
১৯১২সাল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে সর্বত্র চলছে ' যুদ্ধের প্রস্তুতি। উত্তাল পৃথিবী রণদামামা বোমাবর্ষণ গোলা বারুদের বিষাক্ত গন্ধে রক্তের স্রোতধারায় সিক্ত। ইউরোপে তখন অরিয়েণ্টালিস্ট আন্দোলন চলছে। সৌম্য শান্ত কবি ঠিক সেই সময়ে পশ্চিমের কাছে ভারতের আধ্যাত্মিক দর্শন পৌঁছে দিচ্ছিলেন এবং সেই সেতুবন্ধনের কারীগরদের অন্যতম একজন হয়ে অক্সফোর্ডের ছাত্র উইলিয়াম পিয়ার্সন রবীন্দ্র কাব্যে অনুরাগী হলেন।গীতাঞ্জলির ১৫৭ টি 'শান্তি মৈত্রীর মূল সুর ত্যাগের বিনয়ের মন্ত্রে দীক্ষিত কবিতা নিয়ে কবি অতিথি হয়েছিলেন ইউরোপে। সে কবিতা ও ছন্দসুরের জাদু কোনো অহমিকা নয়, বিদ্বেষ নয়, যুদ্ধ বা হিংসা উন্মত্ত পৃথিবীর রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও নয়। তিনি শোনালেন সাম্য এবং সহাবস্থানের মর্মবাণী। ম্যাঞ্চেস্টারের তরুণ উইলিয়াম সে কাব্যপাঠে মোহিত হয়ে ইংরেজি ভাষায় গীতাঞ্জলির অনুবাদে মনোযোগ দিলেন।
🍂
কবির নোবেল জয়ের পর পৃথিবী ব্যাপী রবীন্দ্রআলোচনা তাঁকে ক্রমশঃ ভারতবর্ষে টেনে এনেছিল। রবীন্দ্রনাথের সাথে প্রগাঢ় বন্ধুত্বের পর স্থিরসিদ্ধান্ত নিয়ে ছিলেন বিশ্বমৈত্রীর সংকল্প নিয়ে গড়ে ওঠা শান্তিনিকেতনে ঐ আকাশের মত উদার মুক্ত প্রাণ প্রেমিক কবি সমীপেই তিনি সারাজীবন আত্মসমর্পণ করবেন।
"ভারতবর্ষকে ভালোবেসে তার ভিতরে থাকা প্রচ্ছন্ন ঐতিহ্য ও সম্ভাবনাকে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন পিয়ার্সন। তিনি আন্তরিক ভাবেই ভারতের একজন ইংরেজ বন্ধু যিনি দুই সভ্যতার এই সেতু বন্ধনের প্রতীক তপচারী , কল্যাণকর্মী ,আনন্দিত মুখশ্রী প্রকৃতির পূজারী। শত শতাব্দীর ভারতীয় নাম মালায় এমন শ্রেষ্ঠতর পুরুষের সন্ধান খুবই বিরল যিনি বিদেশী হয়েও সর্বদেশীয়।" মনস্বিতায় নির্ভীত সেবায় যার দান মহত্তর। মহাত্মা গান্ধীজী ও রবীন্দ্রনাথের সুহৃদ,মহাত্মা এন্ড্রুজ সাহেবের বন্ধু উইলিয়াম পিয়ার্সন। ভারতীয় সংস্কৃতির ভাব ধারায় প্লাবিত হয়ে রবীন্দ্র সান্নিধ্যে থেকে তাঁকে গুরুর আসনে প্রতিষ্ঠা করে নিজে শিষ্যত্ব গ্রহণ করলেন আধ্যাত্মিক ভারতবর্ষ কে জানতে।
প্রতক্ষ্যদর্শী রবীন্দ্রজীবনীকার ও সতীর্থ ক্ষিতিমোহন সেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও উইলিয়াম পিয়ার্সনের বন্ধুত্ব সম্পর্কে বলেছেন 'এই বন্ধুত্ব ছিল শান্তিনিকেতনের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যেখানে দুজন মানুষ ভিন্ন সংস্কৃতি ও ভূগোলের সীমা অতিক্রম করে একাত্ম হয়েছিলেন। কবির থেকে বিশ বছরের ছোট এই পরদেশী মিত্র উইলিয়াম হয়ে উঠলেন রবীন্দ্রনাথের একনিষ্ঠ ভক্ত ও সর্বক্ষণের ছায়াসঙ্গী।
উইলিয়াম শান্তিনিকেতনে এসে অবাক হয়ে দেখলেন নিরিবিলি আশ্রমের পথে সারিসারি ফলের গাছ এত পাখপাখালির কুজন এবং সবুজে ভরা এই উদ্যানগুলি উপাসনায় ধ্যানমগ্ন আত্মদর্শনের জন্য কেমন শান্ত সৌন্দর্যময় পরিবেশ রচনা করেছে। কবির শিষ্যত্ব গ্রহণ করে উইলিয়াম প্রেমে ভক্তিতে শ্রদ্ধায় কবির জীবন অধ্যায়ে বিশেষ মিত্র রূপে আবির্ভুত হলেন। শান্তিনিকেতনের অধ্যাপক পদে নিযুক্ত হয়ে শুরুহলো কবির সাথে নিত্য ওঠাবসা। এবং ছায়াসঙ্গীর মত তাঁকে অনুসরণ করা। কবির স্বপ্নের শান্তিনিকেতনের প্রসারতা কে বিশ্বব্যাপী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে আত্মনিয়োগ করলেন ।
সান্ধ্যআকাশে কালচেনীল আঁধারের গায়ে সোনার থালার মত চাঁদের আলোয় খোয়াইয়ের তীর প্লাবিত। '১৯১৩ সালের ১৩ই নভেম্বর 'বৈকালিক ভ্রমণে মানসিক চঞ্চল কবি তাঁর স্বপ্নের শিক্ষামন্দিরের উন্নয়নের চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়ে হাঁটছিলেন। বিদেশ থেকে তখনই অপ্রত্যাশিত টেলিগ্রাম বার্তা টি এসেছিলো 'এশিয়াতে প্রথম নোবেল পুরস্কার জয়ী হয়েছে অখ্যাত পরাধীন ভারতবর্ষের কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথের 'গীতাঞ্জলি। বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। '
শান্তিনিকেতন নিয়ে পিয়ার্সন তাঁর গ্রন্থে লিখেছিলেন ; ''ব্রহ্মচর্যাশ্রমের জীবনযাত্রা ছিল প্রাচীন ভারতীয় তপোবনের আদর্শে পরিচালিত। গুরু-শিষ্যের নিবিড় সাহচর্যে সরল অনাড়ম্বর জীবন। এই আশ্রমের পরিচালনায় রবীন্দ্রনাথের প্রধান সহায়ক ছিলেন ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়- একজন রোমান ক্যাথলিক বৈদান্তিক সন্ন্যাসী। ব্রহ্মবান্ধবই সর্বপ্রথম রবীন্দ্রনাথকে ‘বিশ্বকবি’ অভিধা দিয়েছিলেন। দীর্ঘকাল ধরে তাঁর মনের মধ্যে যে জীবনমুখী আদর্শ শিক্ষাব্যবস্থার কল্পনা বিরাজমান ছিল, তাকেই বাস্তবে রূপায়িত করেন শান্তিনিকেতন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে।' এই বিদ্যালয়কে তিনি একটি আদর্শ বিদ্যাপীঠরূপে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।
পরবর্তী পর্যায়ের বিশ্বভারতীর মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথ প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন বিশ্বের প্রতি ভারতের আতিথ্য, ভারতের চর্চা, জগতের সংস্কৃতিতে ভারতের ঔৎসুক্য, ভারতের নিষ্ঠা এবং মানবপ্রেম। শান্তিনিকেতন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় স্বদেশী যুগের সূচনায় এবং তা বিশ্বভারতীতে পরিণত হয় প্রথম মহাযুদ্ধের শেষে বিশ্বমৈত্রীর সংকল্প নিয়ে।
মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক নির্মিত শান্তিনিকেতন গৃহটি শান্তি ও ধ্যানের এক অভয়ারণ্য। খোয়াইয়ের তীর, কাশেরবন ,ভুবন ডাঙ্গার মাঠ প্রান্তর পেরিয়ে উন্মুক্ত নীল আকাশের তলে আম্রবীথিকা ,অমলতাস , সোনাঝুরি, অশোক,পলাশ,কৃষ্ণচুঁড়ার রক্তিম রাগ, ছাতিমতলা ,সপ্তপর্নির ছায়ায় শান্তিনিকেতনের আশ্রম। উদার আকাশ ধুঁধুঁ প্রান্তর সবুজ শ্যামলিমার সমারোহ ,পথের ধারে সার বেঁধে দাঁড়ানো অভ্রভেদি তাল তমালের আস্ফালন। এই আশ্রম বাড়িটি যেন মননশীল শান্ত স্নিগ্ধ রুচির জীবনযাত্রার পরিচায়ক।
স্বদেশীযুগের সূচনায় ১৯২১ সালে শান্তিনিকেতন "বিশ্বভারতী" রূপে প্রতিষ্ঠা পেলে এটি আন্তর্জাতিক শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হয়ে উঠলো।পরবর্তী পর্যায়ের বিশ্বভারতীর মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথ প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন বহির্বিশ্বের প্রতি ভারতের আতিথ্য, ভারতের সাংস্কৃতিক চর্চা, ভারতের ঔৎসুক্য, নিষ্ঠা ও মানবপ্রেম। ইউরোপ ও আমেরিকা জার্মানি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ছাড়াও পূর্ব এশিয়ার চীন, জাপান ও থাইল্যান্ড থেকে ছাত্ররা আসতে শুরু করেছিলো বিশেষত ভারতীয় দর্শন ও সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণার জন্য। শিল্প ও সঙ্গীত শিক্ষায় আকৃষ্ট হয়ে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ইরান তুরস্ক থেকে ও ছাত্র আসেন সংস্কৃত ও বাংলা ভাষা শিখতে। ভাষার বাধা অতিক্রম করে পিয়ারসন এবং অ্যান্ড্রুজ সাহেব ইংরেজি মাধ্যমে রবীন্দ্রচিন্তা চর্চা পাশ্চাত্যে ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করেছিলেন।
এই বিদেশি শিক্ষকরা রাবীন্দ্রিকদর্শনকে শুধু গ্রহণই করেননি, বরং তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পটভূমি থেকে সমৃদ্ধও করেছিলেন। পিয়ারসনের লেখায় এই দ্বিমুখী আদান-প্রদানের প্রমাণ মেলে, যেখানে তিনি কবির চিন্তাকে পাশ্চাত্যের শিক্ষাবিদদের কাছে ব্যাখ্যা করেছেন।আবার পাশ্চাত্য বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদের কিছু উপাদান শান্তিনিকেতনে নিয়ে এসেছেন।' রবীন্দ্র মিত্র পিয়ারসন ও অ্যান্ড্রুজ উভয়েই শান্তিনিকেতনকে "বিশ্বভারতী" রূপে গড়ে তুলতে সহায়তা করেছিলেন। তারা বিশ্বাস করতেন এটি হবে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে একটি আদর্শ সংযোগস্থল। পিয়ারসন তাঁর ডায়েরিতে লিখলেন "রবীন্দ্রনাথের সংস্পর্শে আমার জীবনের লক্ষ্যই বদলে গেছে। এখন আমি বিশ্বাস করি, প্রকৃত শিক্ষা হল আত্মার বিকাশ। '
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বারবার বলতেন শান্তিনিকেতন কেবল একটি স্কুল নয়, এটি প্রকৃতির কোলে মানবাত্মার বিকাশের তীর্থক্ষেত্র। তার প্রকৃতি, শিক্ষাদর্শ ও দার্শনিক ভাবনা নিয়ে কবির ছিল সুগভীর পরিকল্পনা।এবং তাঁর একান্ত আপন বন্ধু উইলিয়াম ও মনে প্রাণে সেই বিশ্বাসই রাখতেন। কবির শ্রীনিকেতন প্রতিষ্ঠায় বা সুরুল প্রকল্পে সে পরিচয় পাওয়া যায়-- ,'কৃষি কাজের মাধ্যমে মাটি চাষ করাই হলো প্রকৃতির প্রথম পাঠ। কবিগুরুকে অনুসরণকরে উইলিয়ামের ও ঐকান্তিক বিশ্বাস কবির সেই চিরন্তন বাণী, 'এখানে শিক্ষা দেয়া হয় না, শিক্ষা লাভ করা হয়—গাছের ছায়ায়, আকাশের নিচে।' (অতনুকুমার সিংহ" /আশ্রমের রূপ ও বিকাশ" )
উইলিয়াম ক্রমশঃ জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের গৃহশিক্ষক হয়ে পরমাত্মীয়ের মত থাকলেন সুখে দুঃখে রোগে শোকে রবীন্দ্রনাথের পরমপ্রিয় সুহৃদ হয়ে। তিনি মূলত পড়াতেন:রবীন্দ্র জেষ্ঠ্য পুত্র রথীন্দ্রনাথ কে বিজ্ঞান ও কৃষি এবং ইংরেজি ভাষা সাহিত্য। পিয়ার্সন তাঁকে শান্তিনিকেতনের খামার ও বিজ্ঞান গবেষণায় অনুপ্রাণিত করেন। রবীন্দ্রকন্যা রেণুকা কে ইংরেজি বিষয় ব্যাকরণ, পিয়ানোর মাধ্যমে সঙ্গীত শিক্ষা দিতেন। কবির কনিষ্ঠ্য পুত্র শমীন্দ্রনাথ কে গণিত ও অঙ্কন, এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান ,নাতি নীতীন্দ্রনাথ কে ইংরেজি ও প্রকৃতির পরিচয় দিতেন। পুত্রবধূ প্রতিমা দেবীকে ও ইংরেজি সাহিত্য(বিশেষত শেলি, কীটস) ও সমাজদর্শন পড়াতেন। তিনি ছিলেন ছোটদের পিয়ার্সন মামা।
তাঁর শিক্ষাদানের বৈশিষ্ট্য:ছিল, গাছের নিচে খোলা প্রাঙ্গণে। বিজ্ঞান শেখাতেন হাতে-কলমে পরীক্ষা করে যেমন: টেলিস্কোপে তারা দেখা, মাটির রসায়ন বিশ্লেষণ। ইংরেজি শেখানোর পাশাপাশি বাংলা সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের "নৈবেদ্য" কাব্যের ইংরেজি অনুবাদে সরাসরি সহযোগিতা করেছিলেন।
রবীন্দ্র জীবনীকার প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায়ের মতে 'এই বিদেশির বন্ধুত্ব শুধু ব্যক্তিগত নয়, বুদ্ধিবৃত্তিক ও বটে। তিনি ছিলেন এককথায় রবিকবির অনুবাদ আত্মা। রবীন্দ্রনাথের দর্শন ও শিক্ষাভাবনায় গভীরভাবে প্রভাবিত হয়ে শান্তিনিকেতনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আজীবন রবিকবির সংস্পর্শে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যা কবির প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধারই প্রতিফলন।'
অন্যতম রবীন্দ্র প্রবন্ধকার খগেন্দ্রনাথ মিত্র পিয়ারসন কে তাই রবীন্দ্রনাথের স্বপ্ন সহচর বলেছেন।
শঙ্খ ঘোষ রবীন্দ্রনাথ ও পিয়ার্সনের বন্ধুত্বের অমলিন সম্পর্কের উল্লেখ করে লিখলেন তিনি একই সঙ্গে বহিরাগত ও অন্তরঙ্গ হয়ে উঠেছিলেন।' যিনি ভাবনার স্রোতকে এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে বয়ে নিয়ে যান অনায়াসে। তাঁদের সম্পর্কে গুরু-শিষ্যের দূরত্ব ছিল না।' নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন রবিকবির আত্মার দোসর,আত্মীয় রূপে। কবির মানসিকতার সাথে তাঁর আত্মিকযোগ এত ঘনিষ্ঠ ও সুদৃঢ় ছিল যে তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক আশ্চর্য দ্বৈতসত্তার মানুষ ,রবীন্দ্রনাথের "অনুবাদ-আত্মা"। পিয়ার্সন খ্রিস্টান ধর্মে আস্থা হারিয়ে ভারতীয় অদ্বৈত দর্শনে শান্তি খুঁজছিলেন। রবীন্দ্রনাথের মতে " তিনি এসেছিলেন একজন সত্যান্বেষী হিসেবে। "
(তথ্যসূত্র--
রবীন্দ্রনাথের রচনা: "শান্তিনিকেতন" (প্রবন্ধসংকলন)।
প্রশান্ত কুমার পাল: "রবীন্দ্রজীবনী" (খণ্ড ৫-৬)।
বিশ্বভারতীর আর্কাইভ: বিদেশি ছাত্রদের নথিপত্র।)
রবীন্দ্র জীবন কথা /প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায়
শান্তিনিকেতনে প্রাথমিক পর্যায়ের বিদেশি ছাত্র (১৯০১-১৯২১):
0 Comments