জ্বলদর্চি

তিনটি কবিতা /দিলীপ মহান্তী

তিনটি কবিতা 

দিলীপ মহান্তী 

বিষ

কতখানি হি‍ংস্র হলে মানুষ অন্যকে খুন করতে চায় 
কত পশুর রক্ত মিশে গেলে 
একজন মা বিষ দিয়ে মারতে চায় অন্যের সন্তান?

একটু খানি স্বার্থে আঘাত লাগলে
একজন প্রবীণা লাউডগা সাপ হয়ে যায়!

একজন কুৎসিত নারী নিজের হীনমন্যতা ঢাকতে 
পুরো পরিবারকে অন্যের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়
মিথ্যের পাহাড় বানায়
আগুন লাগায়!

একদিন সেই আগুনে নিজেই জ্যান্ত পুড়ে ছাই!


পিশাচ 

বাস্তব নতুন নয়, ভেঙে গেছে সেগুনের সারি
রাত অব্দি গলা জলে দাঁড়ায় নিয়তি 
কাছে টানে প্রাণবন্ত হাসি
ঈশ্বর সবই দেখেন 
তবু কেন ঘাসে ঘাসে সাপের ছোবল?

ভাঙেনা বিষ দাঁত, তীক্ষ্ণ নখ, চোয়ালের পেশি 
বদরক্ত জমা হয় বলে গর্ভগৃহে 
পিশাচিনীর পুত্র পিশাচই হয়।

মানুষও সবই দেখে
মানুষেরা ঘৃণা করে 
মানুষেরা অভিশাপ দেয় 

মানুষের অভিশাপে ঈশ্বরের সায়ে
ক্রমশ অসাড় হয়ে পাপীর শরীর!


হায়েনা 

মানুষের চোখ ক্রমশ হায়েনা হয়ে উঠছে।

বাড়িতে বাড়িতে, রাস্তায় রাস্তায় 
গড়ে উঠছে আস্ত জঙ্গল
কিন্তু সেখানে জঙ্গলের সবুজ নেই 
মন কেমন করা রহস্য ও আনন্দ নেই 

পশুদের হিংস্রতা আছে
খাবার নিয়ে কাড়াকাড়ি আছে
শুধু খাবারের সাম্রাজ্যের জন্য 
প্রতিনিয়ত রক্তের বন্যায় মাটি ভেজে
খাদ্য ও খাদকের আশ্চর্য ঘূর্ণন 
প্রবৃত্তি ও লোভের কারণে 
পারিবারিক অশিক্ষা ও কুশিক্ষায়
পাল্টে যায় তারা।

পশুগন্ধে হাওয়াও বিষাক্ত শরীর নিয়ে ভাসে...

🍂

Post a Comment

0 Comments