জ্বলদর্চি

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা : ২০১

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা : ২০১

চিত্র গ্রহণ : গৌতম সেন

সম্পাদকীয়                                                                                                                                      
ছোট্ট বন্ধুরা , আমি আজ থেকে তোমাদের নতুন বন্ধু হলাম । জ্বলদর্চি ছোটবেলা সংখ্যায় এবার থেকে তোমাদের সাথে প্রতি রবিবার কথা হবে । সবাই ভাল আছো তো ? গরমকাল পড়ে গেছে । বাইরে ভীষণ রোদ, সবাই খুব সাবধানে থেকো । বাইরে কোথাও খোলা জল,  সরবত,  খুলে রাখা ফল ভুলেও খেও না কিন্তু , জানো তো খোলা খাবার আর জলে জীবাণু থাকে । বাইরে বেরোলে অবশ্যই ছাতা নিয়ে বেরিয়ো । আর একটা কথা , তোমারাই বল নতুন কি বিভাগ তোমরা তোমাদের পাতাতে দেখতে চাও ?  আমাকে অবশ্যই জানাবে কিন্তু । সবাই ভাল থেকো , আনন্দে থেকো , আজ তাহলে আসি ।  টা টা । ইতি - তোমাদের নতুন বন্ধু স্বাগতা পাণ্ডে।

গগনজ্যোতি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচ 

পর্ব-১৭ 

রতনতনু ঘাটী 


বাড়ি থেকে অঙ্কের হোমওয়ার্ক করে না এলে দেবোপমস্যারের হাত থেকে কারও রেহাই নেই। স্যার ক্লাস এইট এ-সেকশনে ক্লাস নিতে ঢুকে প্রথমেই জিজ্ঞেস করলেন, ‘আজ সকলে অঙ্কের হোমওয়ার্ক করে এনেছ তো? সকলে টেবিলে খাতা জমা করে দিয়ে যাও! এটাই তো আজকের শেষ ক্লাস। এর পর আমরা চলে যাব খেলার মাঠে!’ 

   ছাত্রছাত্রীরা একে-একে হোমওয়ার্কের খাতা জমা করে দিয়ে যে-যার সিটে ফিরে গেল। স্যার বেশ খুশিই হলেন, তাঁর মুখ দেখে  মনে হল। গোটা ক্লাসটায় একবার চোখ বুলিয়ে নিয়ে স্যার কেমন করে যে বুঝে গেলেন, অঞ্জুমা খাতুন হোম ওয়ার্কের খাতা জমা দেয়নি! স্যার বললেন, ‘স্ট্যান্ড আপ অঞ্জুমা! তুমি হোমওয়ার্কের খাতা জমা দিয়েছ?’

   স্যারের এই একটা অদ্ভুত ক্ষমতা। এক পলক তাকিয়ে কেমন করে যেন বুঝে যান, কে কে হোমওয়ার্কের খাতা জমা দেয়নি। ক্লাসের সামনের সিটে বসে রোরো ভাবছিল, যাঁরা অঙ্কের ভাল টিচার হন, তাঁদের এরকম অনেক গুণই থাকে। 

   উঠে দাঁড়িয়ে দু’ দিকে মাথা নেড়ে মুখ নিচু করে অঞ্জুমা উত্তর দিল, ‘না স্যার! আমার হোমওয়ার্কের খাতাটা আনা হয়নি। আমি স্কুলব্যাগের কাছে অঙ্কের হোমওয়ার্কের খাতাটা রেখে খেতে বসেছিলাম। তারপর তাড়াহুড়োয় খাতাটা আর ব্যাগে ভরা হয়নি!’ 

   নিজের মুখে বিরক্তি ছড়িয়ে স্যার বললেন, ‘ভারী অন্যায় করেছ মঞ্জিমা। আজ একটা অঙ্ক দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে খাতায় অ্যানসার করবে। সিটে বসতে পারবেন না. কেমন? অঙ্ক ঠিক হলে সিটে বসতে পারবে! তুমি সতেরোর প্রশ্নমালার তেরো নম্বর অঙ্কটা চটপট করে ফ্যালো খাতায়।’

   অঙ্কের বইটা খুলতে খুলতে ঘেমে উঠছিল মঞ্জিমা। তক্ষুনি ওর মনে পড়ে গেল, এটা তো সেই কঠিন অঙ্কটা! যে কঠিন অঙ্কটা কাল সন্ধেবেলা পাঁচবারের চেষ্টায়ও কিছুতেই মেলাতে পারেনি সে। তবু চেষ্টা শুরু করল মঞ্জিমা। মনে-মনে ভাব, এ অঙ্কটা তাকে পারতেই হবে! অনেকক্ষণ ধরে অঙ্কটা করার চেষ্টা করল। কিছুতেই উত্তর মেলাতে পারল না।

    মুখ নিচু করে মঞ্জিমা বলল, ‘স্যার, অঙ্কটা পারছি না। কাল বাড়িতেও...’ 

   ‘কাল বাড়িতে কী করেছ আমি তোমার কাছে জানতে চাইনি মঞ্জিমা!’ তারপর রোরোর দিকে তাকিয়ে স্যার বললেন, ‘রোরো, ব্ল্যাক বোর্ডে এসে তেরো নম্বর অঙ্কটা করে দেখাও তো! যারা-যারা এই অঙ্কটা পারোনি, তারা দেখে নিয়ে খাতায় করে ফ্যালো!’

   দেখা গেল অনেকেই ওই অঙ্কটা পারেনি।  নিশ্চুপ ক্লাসে খাতায় অঙ্কটা লেখার খসখস শব্দ উঠল ক্লাসের চারদিক থেকে। এরপর দেবোপমস্যার বললেন, ‘যাক, সকলে অঙ্কটা দেখে নিয়েছ তো?’ সকলে যে সম্মতির ঘাড় নাড়ল, তা মনে হল না! স্যার সেদিকে খেয়ালই করলেন না। আজ যেন অন্যরকম আনন্দে বিভোর হয়ে আছেন দেবোপমস্য্যর। বললেন, ‘আমি একটা মস্ত বড় আনন্দের খবর এব তোমাদের! আমাদের জেলাশাসক কর্ণার্জুন পাল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নবীনগঞ্জ জেলার সব হাই স্কুলের ছাত্রদের নিয়ে একটা ইন্টার স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করবেন।’

   মেয়েরা উসখুস করে উঠল। মেয়েরা কেন যে উসখুস করছিল,  সেদিকে তাকিয়ে দেবোপমস্যার  ঠিক বুঝে গেলেন। মুখে হাসি ছড়িয়ে বললেন, ‘বুঝতে পেরেছি! মেয়েদের প্রশ্ন, তা হলে ডি এম সাহেব মেয়েদের নিয়ে ক্রিকেটের কথা কিছু ভাবলেন না! তবে আমি বলি, এতে মেয়েদের হতাশ হওয়ার কোনও কারণই নেই। কারণ, জেলাশাসক আমাদের হেডস্যারের প্রস্তাব মেনে নিয়ে তিনি নবীনগঞ্জ জেলার সব স্কুলের মেয়েদের নিয়েও একটা ইন্টার স্কুল গার্লস ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু করবেন। তার মানে, আমাদের গগনজ্যোতি স্কুল থেকে আমরা দুটো ক্রিকেট টুর্নামেন্টেই টিম দিতে পারব! হেডস্যার আমাকে ছেলেদের এবং মেয়েদের টিম সিলেক্ট করতে বলে দিয়েছেন। তোমরা তো জানোই, আমি হাতের কাজ কখনওই ফেলে রাখা পছন্দ করি না! তোমরা ক্লাস এইট এ-সেকশানের যেসব ছেলেরা এই টুর্নামেন্টে খেলার জন্যে নাম দিতে চাও, তারা এই ক্লাসের শেষে রোরো মজুমদারের কাছে নাম লিখে জমা করে দাও। আর যেসব মেয়েরা এই টুর্নামেন্টে খেলতে চাও, তারা ক্লাসের শেষে নাম লিখে জমা করে দাও তোমাদের ক্লাসের মায়ামি দেবের কাছে। আমি শুধু ক্লাস এইটের এ, বি, সি, এবং ডি সেকশানের ইচ্ছুক ছেলেমেয়েরই শুধু নয়, ফাইভ থেকে ক্লাস টেনের ছেলেমেয়েদেরও ক্লাসের মনিটরের কাছে নাম লিখে জমা করে দিতে বলব। এর থেকে টিম গড়ে ট্রায়াল ম্যাচ করে শেষে টিম ফাইনাল করব! সব ছাত্রছাত্রী নাম জমা দিলে আমরা এক রোববার ট্রায়াল ম্যাচ করব। সেখান থেকে ক্রিকেটার সিলেক্ট করব আমরা, কারা নবীনগঞ্জ জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে খেলবে।’

   ক্লাসে কিছুক্ষণের জন্যে হইহই শুরু হয়ে গেল। একটু পরে স্যার হাত তুলে সকলকে থামতে বললেন। মুহূর্তে নিশ্চুপ হয়ে গেল ক্লাস রুমটা! এর পর সতেরোর এক্সারসাইজের তেরো নম্বর অঙ্কটা ব্ল্যাকবোর্ডে করে দেখিয়েও দিলেন। মঞ্জিমার দিতে তাকিয়ে স্যার জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি অঙ্কটা বুঝতে পেরেছ তো মঞ্জিমা?’

   মঞ্জিমা উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘হ্যাঁ স্যার, এবার বুঝতে পেরেছি!’

   স্যার এবার ক্লাসের সকলের উদ্দেশে বললেন, ‘চলো, আজ তো মাঠে ক্লাস এইটের চারটে সেকশানেরই ক্রিকেট কোচিং। আজ মুকুলকৃষ্ণস্যারও আসবেন তোমাদের কোচিং দেখতে, মনে থাকে যেন।’

   ক্লাস এইটের অন্য সেকশানকেও ডাকতে হল না। ক্লাস শেষের ঘণ্টা পড়তে না-পড়তেই সকলে ক্লাস থেকে বেরিয়ে মাঠের দিকে হাঁটতে লাগল। কেউ-কেউ চলে গেল ‘ক্রীড়াকৌমুদী’ রুম থেকে উইকেট, ক্রিকেট বল এবং তিনটে ব্যাট আনতে।

   দেবোপমস্যার চললেন হেডস্যারের রুমে। গিয়ে দেখলেন, ওখানে আগে থেকেই এসে বসে আছেন মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতি! তাঁকে দেখে দেবোপমস্যার উৎফুল্ল হয়ে উঠলেন। জিজ্ঞেস করলেন, ‘মুকুলকৃষ্ণবাবু, আপনি কখন এসে পৌঁছে গেছেন? আমি জানতামই না।’

   ‘জানলে কী করতে?’

   ‘ক্লাস এইটের চারটে সেকশানের ছেলেমেয়ের নিয়ে এই ফাঁকে আপনার কাছ থেকে ক্রিকেটের একটা মজার গল্প শুনে নিতাম!’

   হেডস্যার বললেন, ‘চলুন না মুকুলবাবু, পিচের উপর দাঁড়িয়ে আপনার মুখ থেকে একটা মজার ক্রিকেটীয় গল্প শুনে নিই! তারপর শুরু হোক আমাদের ক্রিকেট কোচিং?’

   দেবোপমস্যারও ঘাড় নেড়ে সায় দিলেন। তিনজন এগিয়ে  চললেন কর্পূর গাছের নীচে বিকেলবেলার ছায়া মাড়িয়ে মাঠের মাঝখানে। হাঁটতে-হাঁটতে মুকুকৃষ্ণস্যার বললেন, ‘জানো দেবোপম, আমি যখন কলকাতায় থাকতাম...!’

   ‘ও, আপনার সেই মেসবাড়ির গল্প তো? ও তো ঢের শুনেছি!’

   ‘হ্যাঁ হ্যাঁ। আর একটা শোনোই না! অফিস ছুটির পর প্রতিদিন আমি ক্রিকেট মাঠের আশপাশে, নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে বাবুঘাটের গঙ্গার দিকে আকাশে মেঘের খেলা দেখতে দেখতে ক্রিকেটের গল্প খুঁজতাম। তুমি মেয়েদের ক্রিকেট খেলার কথা শুনে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছিলে না তখন? ডি এম সাহের নবীনগঞ্জ জেলার ইন্টার স্কুল মেয়েদেরও ক্রিকেট  টুর্নামেন্ট শুরু করবেন। শুনলে তুমি অবাক হবে, আমি ঘুরে-ঘুরে ক্রিকেটের নানারকম গল্প কুড়িয়ে বেড়াতাম। কলকাতায় কত যে ক্রিকেট –বিজ্ঞ মানুষ আছেন, তাঁরা ক্রিকেটের কত যে না-জানা গল্প জানেন, শুনলে অবাক হয়ে যাবে! আমাদের ইন্ডিয়ার টিমের জেমাইমা রড্রিগেজ আর স্মৃতি মান্ধানাকে তো জানো? দু’জনেই দারুণ বন্ধু ছিলেন। সেই বন্ধুত্বের গল্পটাই বলি! সেবার দু’ হাজার পঁচিশ সালের নভেম্বর মাসে সুরকার পলাশ মুচ্ছলের সঙ্গে স্মৃতি মান্ধানার বিয়ের ঠিক হয়েছিল। তারপর স্মৃতির বাবার কঠিন অসুখ হল। পিছিয়ে দেওয়া হল বিয়েটা। এ ছাড়া ব্যক্তিগত নানা কারণে তাঁর  বিয়েটা বন্ধ করে দেওয়া হল তখন। এই ঘটনায় স্মৃতি মান্ধানা খুবই ভেঙে পড়েছিলেন। জেমিমা রড্রিগেজ তাঁর পাশে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেন। স্মৃতির পাশে থাকবেন, বন্ধুর দুঃখকে লাঘব করতে বিগ ব্যাশ-এ খেলবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে দল থেকে নিজের নাম তুলে নিয়েছিলেন জেমিমা রডরিগেজ।’

   ‘আপনি তো শুধু খেলার খবরই রাখেন না দেখছি, মাঠের বাইরের নানা ঘটনা, জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতের সব আপনার জানা!’ হেডস্যার তারিফ করলেন মুকুলকৃষ্ণবাবুর।

   দেবোপমস্যার বললেন, ‘মুকুলকৃষ্ণস্যার, এসব ঘটনার কথা জড়ো করে আপনি একটা বই লিখে ফেলুন! বইটা ভালই চলবে কিন্তু! কেননা, এসব কথা অনেকেই জীনতে চায়।’

   মুখে বিনয় ঝরিয়ে মুকুলবাবু বললেন, ‘আমি কি লেখক, যে ফটাস করে একটা বই লিখে ফেলব?’

   ‘আমি আমাদের ক্লাস এইটে রোরো বলে একটি ছেলে আছে। তাকে দেব আপনার সঙ্গে। সে আপনার মুখ থেকে শুনে-শুনে বইটা লিখে ফেলবে! পৃথিবীতে অনুলিখন করে লেখা বিখ্যাত বই তো কম নেই স্যার?  যেমন, রবীন্দ্রনাথের অসুস্থতার দিনগুলিতে, বিশেষ করে জীবনের শেষ পর্যায়ে, রানি চন্দ সেবিকা হিসেবে তাঁর পাশে ছিলেন এবং কবির মুখের কথা লিখে নিতেন।

‘আলাপচারী রবীন্দ্রনাথ’ রানি চন্দের লেখা সেই বই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনের কথোপকথন ও সান্নিধ্য রানি চন্দ অনুলিখনের মাধ্যমে লিখে রাখতেন। সেটি তো একটি বিখ্যাত বাংলা বই?’

   ‘তা হোক দেবোপম, তুমি আমাকে শেষমেশ লেখক বানিয়ে ফেলো না ভাই। দোহাই তোমাকে! আমি ক্রিকেট অনুরাগী হয়েই জীবনটা কাটিয়ে দিতে চাই!’ জেদি কণ্ঠে কথাগুলো বললেন মুকুলকৃষ্ণবাবু।

   ততক্ষণে ওঁরা পৌঁছে গেছেন মাঠের মাঝখানে। তক্ষুনি ক্লাস এইট এ-সেকশনের ব্যাটার রোরো আর বি-সেকশনের উইকেট কিপার তামান্না ছুটে এল দেবোপমস্যারের কাছে। রোরো জিজ্ঞেস করল, ‘স্যার, আজ কি খেলা উইথআউট টসে শুরু হবে নাকি?’

   ‘টস নিয়েও অনেক মজার গল্প পাবে তোমরা আমার কাছে।’ বলে মুখটায় মজা ছড়িয়ে একবার ছেলেমেয়েদের মুখের দিকে তাকিয়ে নিলেন মুকুলকৃষ্ণবাবু। শানায়া তার হাতের ব্যাটটা মাটিতে ঠুকতে-ঠুকতে এগিয়ে এসে বলল, ‘এই ফাঁকে আমদেরকে টস নিয়ে একটা মজার গল্প বলুন না প্লিজ!’

   ‘গল্পের যদি এতই ডিমান্ড থাকে, তা হলে ক্রিকেট কোচিংয়ের আর দরকার কী? কোচিং ক্লাসটা বন্ধ করে শুধু ক্রিকেটের গল্পই হোক!’ বলে মুচকি হাসি হেসে হেডস্যারের মুখের দিকে তাকালেন দেবোপমস্যার।

   হেডস্যার বললেন, ‘তা হলে ডে এম সাহেবের কাছে আমাদের স্কুলের গর্বটা যে ঝিমিয়ে পড়বে? আমার তো টস নিয়ে মজার গল্পটা যেমন শুনতে ইচ্ছে করছে, আবার তেমনি কোচিংটাও শুরু হোক, এটাও চাই!’

   মুকুলবাবু বললেন, ‘আমি চট করে টসের গল্পটা বরং বলে নিই সংক্ষেপে স্যার! সেবার দু’ হাজার তেইশ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেকেন্ড ওয়ানডে ম্যাচে টস জিতে রোহিত শর্মা ভুলেই গিয়েছিলেন যে তিনি প্রথমে ব্যাটিং করবেন নাকি বোলিংটা বেছে নেবেন। টসের পর তিনি অনেকক্ষণ মন দিয়ে ভাবলেন। তারপর আম্পায়ারকে বললেন, ‘আমি ভুলে গেছি এখন আমাদের কী করতে হবে? টসে জিতেছি না হেরে গিয়েছি?’ শেষে টসে কী পড়েছিল তা না দেখে বোলিংয়ের সিদ্ধান্তই নিয়েছিলেন রোহিত শর্মা!’ 

   হেডস্যার হা-হা করে হাসিতে ফেটে পড়লেন। দেবোপমসার বললেন, ‘না, টসই হোক। আমিই টস করছি!’ রোরোকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কী নেবে টসে জিতলে?’

   রোরো বলল, ‘না। বি-সেকশানই বলুক ওরা কী নিতে চায়? ব্যাটিং না বোলিং?’

   বি-সেকশানের বিজন বসুরায় এগিয়ে এল টস করতে। বিজন টসে টেলই নিল। টসের পর দেখা গেল টেলই পড়েছে। বিজন বলল, ‘আমরা প্রথমে ব্যাটিং করব স্যার!’

   সঙ্গে-সঙ্গে ক্রিজে পজিশন নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল ব্যাট হাতে বি-সেকশানের শানায়া। অপর প্রান্তে ব্যাট হাতে এসে দাঁড়াল পড়ল বি সেকশানের ব্যাটার অতিমান কুণ্ডু। এ-সেকশানের তুখোড় বোলার মহিন দত্ত বল হাতে তুলে নিল।

   দেবোপমসার বললেন, ‘আজ একজন বোলার তিনটে করে বল করতে পারবে। তার মানে একটা ওভার হবে তিনটে বলের। আর একজন ব্যাটার তিনটে করে বল খেলবে। কেমন?’ এ কথা বলে হাত তুলে মহিনকে বল করার নির্দেশ দিলেন দেবোপমস্যার।

   প্রথম বলটা ফুলটস দিল মহিন। মহিন এমন একটা সাদামাটা ফুলটস বল করবে প্রথম বলটায়, সকলে হতবাক। সঙ্গে-সঙ্গে সপাটে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে দিল বলটা শানায়া। উচ্ছ্বসিত হাততালিতে ফেটে পড়ল দর্শকরা। চেয়ার ছেড়ে উঠে মুকুলকৃষ্ণবাবু নাচতে লাগলেন।

   পরের বলটা স্পিন দিল মহিন। চেষ্টা করেও খেলতে পারল না শানায়া। এবার এই ওভারের লাস্ট বলটা উইকেটের অনেকটা বাইরে ছিল। শানায়া খেলব কি খেলব না ভাবতে-ভাবতে ছেড়ে দিল।  তিন বলের ওভারে শানায়ার সংগ্রহ হল চার রান।

   এর পরই বোলিং বদলের ডাক দিলেন দেবোপমস্যার। এবার বল হাতে এগিয়ে এল দীক্ষা, এ সেকশানের বাঁ-হাতি বোলার। ক্রিজে এসে রোরো তার দাদুর কাশ্মীর থেকে এনে দেওয়া ব্যাট নিয়ে প্রস্তুত। 

   অমন সময় একটা কুবোপাখি শাঁ-শাঁ করে ক্রিজের উপর দিয়ে উড়ে চলে গেল হরেন ভাদুড়ীদের পদ্মপুকুরের দিকে। বল করতে গিয়ে দৌড় শুরু করেছিল দীক্ষা। সে হাত ঘুরিয়ে বলটা ছাড়তে গিয়েও ছাড়ল না। দেবোপমস্যার চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘এটি রানআপ মিসটেক!’

   কুবো পাখিটা ফের শাঁইশাঁই করে ফিরে এসে উড়ে গেল স্কুলের  গোল্ডেন জুবিলি বিল্ডিংয়ের উপর দিয়ে। এবারও পাখিটাকে দেখে বল করতে ভুলে গেল দীক্ষা। দর্শকরাও আকাশের দিকে তাকিয়ে ক্ষণেকের জন্যে কেমন যেন উদাস হয়ে গেল।      

(এর পর ১৮ পর্ব)


রায় সত্যজিৎ          
সঞ্জীব ভট্টাচার্য 
           
বাঘা সেদিন দিচ্ছিলো তাল 
গুপীর গলায় গান
 হীরক রাজা ঝিমুচ্ছিলেন
মন্ত্রীর মুখে পান, 

শঙ্কুবাবু বাতাস চিরে
 গুনে যাচ্ছেন তারা 
এগোচ্ছিলেন পেছোচ্ছিলেন
 আঙ্গুলে গাঁট ধরা 

কাণ্ড দেখে ভূতের রাজা
 ভয়েই জড়োসড়ো 
একবার মরে ভূত হয়েছে
 আবার মরোমরো!

ওদিকেতে কি দেখে যে 
তপসে গেছে চুপসে 
লালমোহনকে কাছে পেয়ে
 জাপটে ধরে কষে। 

ফেলুদাদা  নিজের মনে
 একলা ভাবে ছাদে 
কেমন করে খুঁজবে দোষী 
আনবে ধরে বেঁধে 

লজেন্স চুরির গোপন কথা
 জানতে পারলো তবে
 এখন তাকে কে বাঁচাবে!  
কোথায় লুকিয়ে যাবে? 

হঠাৎ করে হাল্লার রাজা
হল্লা করে ওঠে 
আধো চোখে দেখলো গাবলু 
বসে তারই খাটে, 

বাঁচাও বাঁচাও ফেলু দাদা
 বাঁচাও ভূতের রাজা
 একটা তুমি বর দাওনা 
করে দিই না গাধা 

বাবা তাকান মায়ের দিকে 
চোখে ভরা  ইঙ্গিত
 মুচকি হেসে মা যে বলেন
 রায় সত্যজিৎ।

🍂

ঝড় এলো ,এলো ঝড়
  মায়া দে 

ঝড় এলো রে,এলো ঝড়
ঝপ ঝপ ঝপ   আম পড়
টক টক টক      মিষ্টি 
এলো বুঝি         বিষ্টি।

এই যাঃ
আকাশ গেছে    ক্ষেপে
আয় বিষ্টি          ঝেঁপে।
টপ টপ টপ কুড়োই আম
কাদায় লেফে     লেফে।

সপ সপ সপ      ভিজে
নাচছি নিজে      নিজে 
হঠাৎ যে মা দুম দুমা দুম
মারলো পিঠে      কি যে!

আনলো টেনে    ঘরে
আচ্ছা দিলো         ধরে
মটাক করে আমের ডাল
ভাঙলো যেন      ঝড়ে।
কল্যাণময় চন্দ 
ক্লাস -৬  স্প্লেন্ডর হাই স্কুল, পশ্চিম মেদিনীপুর

Post a Comment

0 Comments